Skip to main content

Full text of "Gitar Jougik Bakhya"

See other formats


উপনিষদ রহস্য 
বা 





১ম ও ২য় অধ্যায় 


এ /41/৬ বশমার্ণ 





১ম ও ২য় অধ্যায় 





মূল্য ৩২ টাক।। 


ক ৫- 
শ্রীকুমুদররগ্জন চটে।পাধ্যায় 
জ্ীগুরুমন্দির--- . 
উপনিষদ্রহস্ত কার্যালয় 
কোড়ার বাগান, হাওড়া । 


নিন্ছেকল ॥ 


গীতার যৌগিক ব্যাধ্য! প্রকাশিত ভইতেছে দেখিয়া কেহ যন মনে না করেন 
যে, ইহ। উপনিষদ রহস্য কাধ্যালয়ের অন্যতম নৃহন ত্রা্থ | বস্তুতঃ ১৩১৬ সালে এই 
তরন্থখ।নি ধার।বতহিক রূপে পঞ্চম অধ্যায় পথ্যন্ত বাহির হইয়াছল | তৎপরে নানাবিধ 
ঘটনাচক্রে পুস্তকখাণির মুদ্রণকাম্য এযান স্থগিত ছিল, অধুনা সহদয় গ্রাহক ও 


হুধীত্তক্রবৃন্দেন ধিশেষ অনুরেধে গা পুর্ব প্রকাশিত হইতেছে । 


ত- 


শ্রীকুমুদরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় 


শীগ্ুরুমন্দির-_হাওড়া। | 


+্খ11 


মাত পুজা ভিথি--১০ই পৌষ, ১৩৩৯। ] 


উতৎ্নর্গ। 


৭টি 
মে 
ঁ 


আমার । 
আমি গীতাকে নমস্কার করি। 
আমার গ্গীতাকে আমারই করে সমর্পণ করিলাম | 
যে আমাকে চিনিয়াছে, তাহারই জন্য গীতা, আান্যের জন্য মছে। 


আমি । 


ভুমিকা । 


গীতা লইয়া ধন্মজগতে হুলস্ুল পড়িয়া গিয়াছে । কেহ ধলেন, গীত। 
ইতিহাসের আদর্শ ধশ্মভাঁবযুক্ত একটা অপুবব ঘটন| | কেহ বলেন, গীতা! 
এঁতিহাসিক ঘটনা নহে, ইহা সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান_রূপক ছলে লিখিত । 
কেহ বলেন, গীতা কবির আদর্শ কল্পন। | কেহ বলেন, গীতা একখানি 
যোগশান্ত্র। নানা চক্ষে গীতা জগতের সমচ্ছে নানারূপে রঞ্জিত । 

বিনি আমায় গীত। গুনাইয়াছেন, তিনি আমার এ ধাগ্বিতণ্ডা হইতে রগা 
করুন। 

গীতা কি-আমি জানি না। ভাধায় গাতার সম্পূর্ণ বর্ণনা! করিতে আমি 
অক্ষম। যতটুকু শক্তি পাইয়াছি, দুই চারি জন সাধকের আগ্রহে তাহাই প্রকাশ 
করিলাম । 

গীতা এতিহাসিক আদর্শ ধর্্মভাবযুক্ত ঘটনা-ইহাও সত্যা। গীতা 
আধ্যাত্মিক যোগবিজ্ঞান--ইহাও সত্য | কুরুক্ষেত্ররণাঙ্গনে যাহা ঘটিয়াছিল, তাহা 
বিরাট্‌ পুরুষের একটা বিরাট লীলা | যোগণঙ্গুপ্সন বাক্তি যেমন আপনার শরীরের 
মধ্যে সমগ্র ব্রহ্মাণ্ডের প্রতিবিস্ব দেখিতে পান, মনুযাদেহতে যেমন বিরাট ব্রহ্মা্ডের 
একটা ক্ষুত্র আদর্শ বলিয়া চিনিতে পারেন; বস্তুতঃ বিরাটে ও দেহ-্রদ্ধাণ্ডে 
যেমন পরিমাণগত তারতম্য ছাড়া অন্ত কোন ও£ভেদ নাই, তেমনই গীতাসম্বলিত 
কুরুক্ষেত্র-রণাঙ্গনের ঘটনা, এবং বিরাট ত্র্ধাণ্ডের মুক্তির দিকে বিরাট গতি ও 
জীবমাত্রের ব্যক্তিগত মুক্তিপথে সঞ্চারণ--এ তিনেও কোন প্রভেদ নাই। 

বিরাই পুরুব শ্রাকৃষ্ণরূপে ধরণীতে অবতীর্ণ হইয়া কুরুক্ষেত্ররণাঙ্গনে এমন 
একটা অপুব্ব লীল। দেখাইয়া গিয়াছেন, যাহ! প্রত্যেক পরমাণুতে ব্যস্থিভাবে এবং 
সমগ্র ত্রদ্মাণ্ডে সমষ্টিভাবে অভিনীত হইতেছে । জীব ধীরে ধারে যে প্রকারে 
মুক্তির দিকে অগ্রসর হয়, সমগ্র ব্রন্মগ্ড যে প্রকারে মুক্তির দ্রিকে অগ্রনর 
হইতেছে, সাধক প্রবর অর্জুনকে কুরুক্ষেত্রূপ আদর্শ-রণাঙ্গনে আদর্শ পুরুষ 
তাহারই একখানি আদর্শ-ছবি দেখাইয়া গিয়াছেন । 


ইহাই গীতা । রস্থকার। 


আহ্বান । 


6851 
এস.--এস রে করুণা প্রার্থী 
আনু, দীন, ছুঃন্বপ্রপীড়িত, 
পথশ্রান্তি,--এস চিরসাধী 
এস সখা, এস প্রিয়, এস প্রবঞ্চি । 

(২) 
এস লুক্ধ চিন্-স্হচর 
এস ভীত, পূলি- বিলুষটিত 
এস শ্কুল। স্নেতেন দোসর 
এস মবতমেপণ পন চির আপিলিকহাত | 

নত) 


1 বাতি করলি তপন 


৫ স্ব 


শায়াচ্ছ" অৎশটকু মোর 

এস আছি অপেক্ষায় তন 

কত কালি, কত কলে, মুগ যুগাঙ্থব ! 
(৪) 

এস ফিরি আনন্দ-মন্দিলে 

নঙ্কারিত প্রণবের মাতদ ; 

উচ্ছ্বসিত জ্যোতিব সাগরে 

ধৌত্ত করি হৃদয়ের ছুনন্ত বিষাদে । 
(৫) 

হের-- 

চন্দ, স্ধা, তারকা অন্ধ 

চির মোরে করে প্রদক্ষিণ ; 

হের--জ্যোতিঃমপ্ডতিত দিগন্ত 

উচ্ছলি চরণে ঢাহল জ্যেতিঃ চিরদিন । 


৯/০ 
€$ ৩১ 


খন 

অমরের চির-ভ্তোত্রশীতি 

সিদ্ধধির ওক্কার গর্জন 

ভকতের হদিভরা তি 

প্রেমে পুজে অবিরাম পদ অন্ুুক্ষণ | 
(৭) 

হের-_ 

ব্রহ্মা, বিষু্, মহেশ্বর কত 

চরণে ল্ুটায় নতশির-_ 

হের__বিশ্ববিন্দ্ু শত শত 

পদ আশে সুহর্তেক নহেক সুস্থির | 
(৮) 

এত এশ্বাষ্যের মাঝে আমি 

আঅন্দবাতজির বাজরাজেশ্বর, 

ভুলি নাই, ভুলি নাই তোরে 

তুই মোর এতট,কু চিরনহচর । 
(৯) 

ল*য়ে হৃদিভরা ভালবাসা।' 

অাখিভরা প্রীতি অশ্রুজল, 

অপেক্ষায় আছি তোর তরে-_ 

চাহি প্ুখ, মরষ্ের বাঞ্থিত সুন্দর | 
€ ১০) 

এত ডাকি শুনিতে না পাও £ 

মায়াঘোরে এত কি ুঙ্গাও ? 

দিব ছাড়ি নিজ সিংহাসন 

এস হদে ক্ষুদ্র জীব হাদয়ের ধন । 


টিনিযনীত 


উপনিষদ্রহস্য 


হীভাল ০মীিন্ক ব্যাঙ্যা ॥ 


ব্রন্াখণ্ড | % 


সর্বেবোপণিযদে! গাবে। দোদা গোপালনন্দনহ। 


গার্ধো বমঃ স্থধার্ভোক্তা ছুগ্ধং গীতায়তং মহৎ 


বেদের সার-উপনিষং, উপনি 
সমস্ত রব নিহিত ই 


সভা 


আছে) গীত 


5 গা।তায় 


বদের সারাংএ-গাত 
শ্রেষ্ট, গীতা আধ্যাত্মিক জগ 


| । স্উপনিষদে যে 
ভাই রতুহারাকারে শ্রথিত | গীতা মহং, গ 
তের দীপশিখা | 


1 


7 


) 1 


7এ 
! 


মতা 
গীতা নিতা, গীতা আপৌরুষেয়, গীত! অনাদি কাল বরা অনাদিহৃদয়ে 


উচ্্মসিত। যেখানে জীব, যেখানে মুক্তিবদ্ধনরূপ জীবন-মরণ সংগ্রাম, সেইখানেই 


ভগবানের আবির্ভাব, সেইখানেই সাধকের অভীষ্টসিদ্ধি। সেইখানেই গীতা 
ভগবৎকণ্ে ধ্বনিত। ভুমি শুনিবে কি ? 
গীতা ভগবানের মুখের 


আশ্বীসবাদী, গীতা--জগন্মাতার স্তনধারা, 
গাতা-_শ্রীকৃষ্ণের পাঞ্চজন্ত-শঙ্খনাদ, গীতা --জীবের জীবন-প্রবাহের পথপ্রদর্শক, 
গীতা-_দীপ্ত আলোকশিখা, ভবার্ণবের দিকৃ-নিদর্শনযন্ত। 


গীতায় আছে কি ? গীতায় ভগবান্‌ কি শিক্ষা দিয়াছেন? কোন জীব 
ভগবদ্লাভের জন্য প্রকৃত ব্যাকুল হইলে, ভগবাঁন্‌ তাহাকে তাহারই হৃদয়াভান্তরে 


ঈ 1 
থাকিয়া, যে যে প্রকার কর্মন্তরের ভিতর দিয়া লইয়া গিয়া আপন অঙ্গে 
25555221522 ৯2০৯425১2 
হ্ইবে। 


বর্ীধ্ড নামে শীতার মশ্টুকু প্রথমে আছেচিভ হইবে। তারপর বাখ্যায় স্বোকের যৌগিক অর্থ প্রকাশিত 


$ 


২ উপনিষদ্রহত্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


মিশাইয়া লয়েন, গীতায় তিনি তাহাই বলিয়াছেন! প্রতোক জীবাত্বার হৃদয়ে 
থাকিয়৷ সেই বিরাট বিশ্বসারথী, বিশ্বকল্পনা বা মায়ার ভিতর দিয়া ঘুরাইয়া 
ঘুরাইয়া তাহাকে বিরাট করিয়! তুলিতেছেন। ইহারই নাম বিশ্বরচনা ! জীবকে 
নিজের স্বরূপ বুঝাইবার ্ সৃষ্টি-চক্র কল্পিত। আত্মা যতক্ষণ নিজের নিত্য, 
বিশীলত্ব,র অপরিণামিত্ব এবং একই বুঝিতে না পারে, ততক্ষণই তাহার 
জীবভাব। ইহারই সাধারণ নাম বন্ধন বা মাধ বা ভ্রান্তি ॥ বুঝিতে পারিলেই 
জীব শিবহ লাভ কবে--ইহাবই নাম যুক্তি। বন্ততঃ বন ৰা মুক্তি বলিয়। 
কিছু নাই। 

ঘাহা হউক, এই অজ্ঞান অবস্থা হইাতে জ্ঞীনময় অবস্থায় 
যাইতে হইলে, যে যে স্তর দিয়া যেমন করিয়। যাইতে হয়, তাহাবই 
নাম যোগ-সাধনা। জম্ম মৃত্যু দেহাবস্থান, নানা যোনি ভ্রমণ, অনস্ত 
যুগ ধরিয়! বিশ্বে বিশ্বে ছুটাছুটি--এ সমস্তই যোগসাধনা মাত্র । চৃষ্টি-_ 
যৌগমন্দিব ব্যতীত আাঁব কিছুই নহে । প্রতি আণু গবমাণু- ইহার 
সাধক, বিবাট বিজ্ঞানময় পুকষ-_ইভাব দেবতা । যোগ আর্থে_বিবাট্‌ 
্রীনময় পুকষে যুক্ত হওয়া বা নিত্যযুক্ততা পলি কৰা । পাঠক | একবার 
মাঁমস দর্পণে এই বিরাট ঘোঁগ-মন্বিরেব কল্পুন। ফুটাইয়া ভোল একবার কল্পনাব 
চক্ষে দেখ__ধুকিকণা। হইতে আবরন্ত করিয়া, ধুলিকণ! কেন--ব্যোমপরমাণু হইতে 
সুচনা করিয়া বিরাট নুর্ধা, এবং কু কীটাণু হইতে সিদ্ধষি পধ্যস্ত সকলেই 
এক চিদ্ঘন, বিদ্ঞানময় যোগেশ্বাবের হত সংযুক্ত হইবাব জনা তাহাবই শক্তির 
মঙ্গলনয় আবর্তনের তালে তালে ঘ্ুবিয়া, তাহাকে প্রদক্ষিণ করিতে করিতে, 
তাহারই অঙ্গে লিপ্ত হইবাঁব জন্য) তীহারই সহিত সংযুক্ত হইবাব জন্ত, 
ভাঁগারই সহিত একত লাভ করিবার জন্ত, তাহারই ইঙ্গিতে, তাহাবই শক্তির 
আকর্ষণে শ্লোতে তৃণের মত ভাহীরই দিকে চলিয়াছে, উঠ্িতেছে, 
পড়িতেছে, মিলাইয়! যাইতেছে, আবার ফুটিয়া উঠিতেছে । কখনও 
হর্ষে। কখনও বিষাদে, কখনও বিশ্বরণে, কখনও জ্বানে_স্বপেঃ জীগিরণে? 
নৃষুপ্তিতি,-বিকাশে, স্থিতিতে, লয়ে”_এই ভাবে জীবমগ্ডলী যুক্ত হইতে 
চলিয়াছে। বিরাম নাই, বিচ্ছেদ নাই, বিশ্রীন্তি নাই, বুঝি বা এ 
মহাহোগ্ের অবসান নাই। এই যে গতি, ইহাব নাম যোগ 
নাধনা। 


বিষাদযোগ। ৬ 


তবে যতক্ষর্ণ আমর! একত্ব বুঝি না, ততক্ষণ আমর! নিরুদেশ্যভাব 
জগতের ধুলিতেই জীবনের চরিতার্থতার উপলব্ধি করি। বস্তুতঃ, যোগী হইলেও 
তত দিন আমর! সাধারণ কথায় যোগিপদবাচ্য হই নাঁ। মনুষ্যজন্ম এ অবস্থার 
শেষ সীমা । যখন মানুষ হই তখন সেই বিরাট যোগেশ্বরের আকর্ষণ অনুভব 
করি। তখন জীব আর অপেক্ষ। করিতে না পারিয়া ভগবদালিঙ্গনে বন্ধ 
হইবার জন্য কাদিয়া উঠে। সাঁধারণ কথায় ইহাই যোগের প্রথম সুচনা বা 
যোগজ্ঞানের প্রথম বিকাশ। এই স্থল হইতে যে যে ভাবান্তরের ভিতর দিয়া, 
ভগবান জীবকে আকর্ষণ করেন, সাধারণ কথায় তাহাই যোগ বলিয়া উল্লিখিত। 
এত দিন বিশ্বজননীর ক্রোড়ে তাহারই স্তনছুঞ্ধে পুষ্ট হইতে হইতে ঘুমাইয়া 
যাইতেছিল, 'এইবার জাগিয়া দেখিতে দেখিতে চলিতে শিখিল। এইখান হইতে 
তিনি প্রত্যেক হৃদয়ে তীর্থ-প্রদর্শকের মত অনস্ত এশ্বর্ধ্যভাগ্ডার দেখাইতে 
দেখাইতে এবং মধুরুত্ধরে বলিতে বলিতে লইয়া! যান। এইথান হইতে যাহা 
বলেন--যাহা করেন এবং করান) তাহাই গীতা । ভগবংলাভের জন্য প্রাণের 
বিষাদময় ভাব হইতে ুচন। করিয়া সংযুক্তভাব অবধি গীতা | বিষাদ হইতে 
সুচন! করিয়। মুক্তি পর্যন্ত যে যে ভাব-পরম্পর! দ্বারা জীব পরিচালিত হয়, 
শনীতায় তাহাই এক একটি যোগ নানে অভিহিত হইয়াছে । কিন্তু বুঝবিও, এই 
মহাভাবরপ আকর্ষণশ্রেণী বাজ্জয় হইয়া মন্ুষ্য-হৃদয়ে পর পর প্রতিধ্বনিত 
হয়। যখন জীব শুনিতে পায় তখন সে বুঝিতে পারে, তার আর অধিক 
বিলম্ব নাই। 


বিষাদযোগ । 


বস্তুতঃ ভগবানের জঙ্ক। সর্বপ্রথম প্রাণ যখন ব্যাকুল হইয়া উঠে, তীব্র 
বৃশ্চিকদংশনবৎ জীব ষখন সর্বপ্রথম ভগবদ্বিরহ উপলব্ধি করে, বৃথা জীবন 
অতিবাহিত হইতেছে ভাবিয়া, জীবের প্রাণ যখন হতাঁশের দীর্ঘনিশ্বাস ছাড়িতে 
থাকে, সেইটা জীবের জীবনের একটা মহাসন্ধিক্ষণ। 


উপনিষদ্রহম্ত ব! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


সেই সময়ে কুরুক্ষেত্র-সমরাঙ্গনে অজ্ুনের মত, তাহার হৃদয়রপ রখক্ষেত্রের 
মধ্যস্থলে দিড়াইয়া এক পার্থে সংসার-সংস্কারশ্রেণী স্ত্রী, পু, পিতা, মাতা, 
আত্মীয়-স্বজন, দেশ প্রভৃতি পঞ্চেক্দ্িয-সঞ্চিত ভাব বা মায়ার মূর্তিরাজি এবং 
অপর পার্থে হুতসর্ধন্থ রাজ্যচ্যুত আত্মশক্তিকে পর্যবেক্ষণ করে। ধীর, বিবেচক, 
বীর-সাধক সেই সময়ে একবার নিজের অবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে আলোচনা করিতে 
গিয়া কিংকর্তব্যবিমূঢ় হইয়! পড়ে। এক দির্কে প্রাণাকুল পিপাসা, অন্য দিকে 
মায়ার সুদৃঢ় বন্ধন,_ এক দিকে আত্মলাভ আশার উজ্জ্বল আলোক, অন্ত দিকে 
পরার্থে আত্মত্যাগের কমনীয় ক্ষীণ জ্যোতীরেখা,_*এক দিকে প্রভাত, অন্ত দিকে 
সন্ধ্যা, সাধক এই ছুই দিক্‌ দেখিতে দেখিতে নিস্তেজ হইয়া পড়ে। তাহার 
উদ্ভমের ধনু খসিয়। পড়ে, শরীর অবসন্ন হইয়া আইসে, ক শু হয়, সে মায়ার 
ফাসে রুদ্ধক হইয়। পড়ে । 

অনস্ত জীবনের মায়ার বন্ধন ছেদন করিতে গিয়া, এইরূপে মায়ার ফাস যখন 
শেষবারের মত তাহাকে জড়াইয়৷ ধরে, তখন তাহার সেই দুর্বলতা বিজ্ঞতার 
ছদ্পবেশ প্ররিধান করিয়া অজ্জঞুনের মত ভগবান্কে বলেস্পআমার ভালবাসার চির 
অধিকারী এই সমস্ত আত্মীয়গণকে হৃদয় হুইতে উচ্ছেদসীধন করিতে হইবে 
বুঝিয়া, আমি খির হইতে পাঁরিতেছি না, আমি সমস্ত বিপরাত দেথিতেছি। 
ইহাদের উচ্ছেদমাধনের আবশ্যকত্ক। কি--আমি বুঝিতে পারিতেছি না । উহাদের 
জন্ত আত্মমঙ্লে অলাঞ্জলি দিলে, সে মহাত্যাগের কি মহাফল নাই? 
সংসার পালনরূপ মহাকর্তব্য পালনে--এমন মহা ন্বার্থত্যাগে কি মনুম্তজীবনের 
চরিতার্থতা হয় না? পিতা, মাতা, ভ্রাতা, ত্র, পুত্র, আত্মীয়-স্বজন, হুদয় হইতে 
ইহাদের উচ্ছেদসাধন করিলে আমাতে কি মহাপাপ অর্শিবে না? না---না-_ 
আমি পারিব না--আমি আত্মমঙ্গললাতরূপ স্বার্থসাধনের জগ্ঠ স্বার্থত্যাগরূপ 
মহাধন্মকে উপেক্ষা করিতে উদ্ভত হইয়াছিলাম, আমি মহাপাপে লিপ্ত হইতে- 


ছিলাম ! সংসার-ধন্ম পালনে যদি আমার জীবনাস্ত হয়, তাহাও শ্রেয়ঃ-তাহাও 
আমার হিতকর | 


সাধকের প্রাণ লর্ধপ্রথম এইরূপ ভাবাস্তর ব| তগবদাকর্ষণে আন্দোলিত 
হয়। দদ্দেহ-দোলায় তাহার প্রাণ এইরূপে কাপিয়া উঠে। সংসার ছাড়া 
কর্তব্য, কিম্বা সংসার-ধণ্ম প্রতিপালনই শ্রেষ্ঠ, এই চিন্তায় তাহার প্রাণ 
ব্যাকুল হয়। 


বিষাদীযে।গ । 


বিষাদে, সচ্দদহে, আশঙ্কায় যথার্থ যখন সাধকের প্রাণ এইরূপে দিশাহারা 
হইয়া যায়, তখন আর ভাবিতে না পারিয়া৷ তার বিষাদভরা ক্লাস্ত হৃদয়টুকু 
লইয়া সে ভগবানের দ্বারস্থ হয়। জীবন-মরণের সঙ্গমস্থলে, মৃত্যুনত্রণার মত বা 
ততোধিক যন্ত্রণায় কাতর হইয়া সে ভগবানের উপর ভারার্পণ করে। তাহার প্রাণ 
কাদিয়া কীদিয়া, ফুলিয়া ফুলিয়া বলিতে থাকে,--পতিতের পরিত্রাণ! আর 
ভাবিতে না পারিয়া তোমার উপর নির্ভর করিলাম, জগন্নাথ! দাও, পথ দেখাইয়া 
দাও। স্থার্থময় সংসারমরু মাঝে আর ত কাহাকেও খুজিয়া পাই না-সব যে 
স্বার্থান্ধ। দীননাথ ! স্বার্থের মদিরায় সব যে অচেতন। একা এ দুরন্ত 
মরুর মাঝে, উদ্ধ আকাশের দিকে হতাশ চক্ষু ফিরাইয়া দিগত্রান্ত, অনাথ, 
শরণাগত, বহু দিন পরে আজ তোমায় আশ্রয়স্থল বলিয়া চিনিতে পারিয়া 
কাতরে তোমায় ডাকিতেছি ; আর ভাবিব না, আর কিছু করিব না। 
তুমি পথ দেখাইয়া দাও, তুমি আমার কর্তব্য নিদ্ধারণ করিয়া দাও । তোমার 
উপর সমস্ত ভার অপপণ করিলাম ।” 

“বল-__সংসার ত্যাগ করিব, কি সংসাব-ধর্্ম প্রতিপালন করিব? বৈরাগ্য 
অবলম্বন করিয়া হ্বদয়রাজা হইতে পিতা, মাতা, স্ত্রী, আত্মীয় স্বজন উচ্ছেদন করিয়া 
দিয় আস্করাজ্যের প্রতিষ্ঠা করিলে তবে আমি সুভ্িলাভ করিব)-কিন্বী আমার 
জীবনের সমস্ত স্বার্থ তাহাদের জন্য জলাঞ্জলি দিয়া, জীবনের সমস্ত উদ্দেশ্য, 
ভগবৎসাধনরূপ জীবনের মহাকর্তব্য,-তাহাদের চরণে বলি দেওয়ায় 
স্বার্থত্যাগরূপ মহাধন্ম সংসাধিত হইতেছে ভাবিয়া নিশ্চিন্তমনে মরণের জন্য 
অপেক্ষা করিলেই শান্তি পাইব ?” * 

এইরূপে সেই মহামুতুত্তে ছর্বলের একমাত্র রক্ষক, আন্তের ভরসা, বিপন্নের 
পরিত্রীতা, অনাথের বন্ধু, শরণাগতের চিরসখার শরণ লইতে হয়। জীব! তুমি কি 
সংসারমোহ ছেদনে উদ্যোগী হইয়াছ? তুমি কি আপনাকে আত্মীয়স্বজনের 
দ্বারা লুষ্টিতসর্ববন্থ ভাবিয়া আত্মরাজ্য উদ্ধারের জঙ্য' সমরায়োজনে উদ্যোগী 
হইয়াছ ? এ সোনার সংসার তোমার চক্ষে কি লুন ও ছলনার লীলাভূমি 
বলিয়া প্রতিফলিত হইতেছে? পত্বীর প্রেমধারা হলাহল বুৰিয়া তুমি 
কি আপনাকে বিষজর্জরিত তাবিতেছ ? পুত্রন্নেহের হৃদর়গ্রাহী কমনীয়তা 
পাষাণের মত্ত তোমার বুকে কি বাঁজিতেছে ? আনম্বীর় স্বঞ্জনের কলকণ্ 
ভোমার শ্রব্ণকুহরে কি বজধ্যনির মত ঘর্থরিত? তুমি কি এ মস্ত্রণার 


৬ 


উপনিষদ্রুহন্ত ব। গীভার যৌগিক ব্যাধ্য।। 


বোধা বহিতে একান্ত অন্বীকৃত ? আপনার জীবন বুথ! বাঁ দেখিয়া তুমি কি 
ব্যাকুল? ভীষণ মায়াবর্তের তরঙ্গ হইতে আপনাকে রক্ষা করিতে অশক্ত ভাবিয়া 
তুমি কি নিরাশ হইয়াছ ? মায়ার সমর-প্রাঙ্গণে মায়াহননে উদ্োগী হইয়া তুমি 
কি মায়ার ছলনায় আবাঁর ভূলিতেছ ? তবে দাও, তোমার ইল্িয়-অশ্বযোজিত 
হদয়-রথের রজ্জু বিশ্বসারধীর হস্তে দাও । একবার রণক্ষেত্রের মধ্যস্থলে স্তব্ধ- 
হৃদয়ে দাডাইয়া, নিজের বর্তৃতবরূপ ধন্থু পরিত্যাগ করিয়া, করযোড়ে জ্যোতির্ময় 
সারধীর নিকট কীদিয়া বল--গ্রভূ ! সখা ! আমি বিপন্ন, আমি মায়ামূঢ, আমি 
সংসারমায়া হনন করিতে ইচ্ছুক হইয়াও পারিতেছি না । আমি স্ত্ীপুত্রের মোহের 
বন্ধন কাটিতে অশক্ত--আমায় রক্ষা কর, অমায় পথ দেখাও, আমার কর্তব্য 
নির্ধারিত করিয়া দাও । 

দেখিবে, শুনিবে, তিনি নিজে স্বরূপে প্রকাশ হইয়া তোমার বিষাদ মোচন 
করিয়া! দ্রিবেন। গম্ভীর মন্ত্রনিনাদে তোমার হৃদয়ের অভ্যন্তরে সেই অনাথের 
নাথ বলিয়া উঠিবেন,__“ভীত হইও ন1, তোমার দৌর্র্বল্য পরিত্যাগ কর, আমি 
তোমার সহায়»-- | 

ইহাই বিষাদযোগ | অর্জনের প্রাণে সর্বপ্রথম এই ভাব উদ্দিত হইয়াছিল । 
সীধকমাঞ্জরেরই প্রাণে সর্বপ্রথম এই ভাব উদিত হয়। তবে অজ্ঞুনে ও অন্তান্য 
সাঁধকে প্রভেদ কি ? মহাসাধক অর্জুন--সাধকের আদর্শ, তাই অজ্জুন ভগবানকে 
অন্নময় বা স্ুলকোষে বা জড়দেহে উপভোগ করিয়াছিলেন, জড়দেহে শ্রীকৃষ্ণ 
কুরুক্ষেত্র-রণাঙ্গনে দাঁড়াইয়া তাহার এই বিষাদ সব্বপ্রথম বিন করিয়াছিলেন । 
আর অন্যান্য সাধক--সাঁধকমান্ত্র ; তাহারা গুদ্ধ মনোময় কোবে ভগবান্কে 
এইরপে সম্ভোগ করিতে পায়। ভগবানের গীতা মনোময় ক্ষেত্রে মাত্র শুনিতে 
পাঁয়। আদর্শ সাধক ন। হইলে স্থল কোষে ভগবৎসন্তোগ সচরাচর ঘটে-না। 


[বষাদযোগ সমাণ। 


পাখ্যযোগ। 

সব্বপ্রথম সাধকের প্রাণে যখন এইরপ প্রশ্ন উঠে, তখন তাহাতে তাহার 
মায়ার গন্ধ থাকে, সেই জন্ত ভগবান্‌ অগ্রে নিত্য এবং অনিত্য সম্বন্ধে চক্ষু ফুটাইয়া 
দেন। সমস্ত ব্রহ্মাণ্ডের বহুরূপত্ব ঘুচিয়া গিয়া! তাহার চক্ষে প্রধানত; ছুইটা 
বিষয় প্রত্যক্ষীভূত হয় অর্ধাং ব্রহ্মাণ্ডট| ছুই ভাগে বিভক্ত বলিয়া তাহার 
ধারণা হয়। প্রত্যেক পদার্থে প্রত্যেক অণু পরমাণুতে ছুই প্রকারের উপলবি 
তাহার প্রাণে ফুটিয়। উঠে। যেকোন বন্ধ তাহার ইন্দ্রিয়গোচর হয়, তাহারই 
মধ্যে তাহার প্রাণ ছুইটি স্তর উপলব্ধি করিতে প্রয়াস পায় । কোন ভাব ব৷ বস্ত 
মনে প্রতিফলিত হইলে, তাহার্তে নিত্য কতটুকু এবং অনিত্য কতটুকু, এই বিচারে 
তাহার প্রাণ বাস্ত থাকে। সে জগতের সনন্ত বিষয়, সমস্ত পদার্থ উষ্টাইয়া 
পাল্টাইয়!, চিরিয়া চিরিয়া তাহার ভিতর নিতা কতটুকু, বাহির করিতে প্রয়াস 
পায়। প্রত্যেক পদার্থের ভিতর তাহার প্রাথ ভগবান্‌কে অন্বেষণ করে। প্রত্যেক 
পদার্থকে তাহার ইন্ড্রিয়সকল পদার্থ বলিয়া যেমনি উপভোগ করে, অমনি তাহার 
প্রাণ মৃত্তিমান্‌ ভগবান্‌কে তাহারই মধ্যে অন্বেষণ করে। প্রাকৃতিক শোভা! দর্শনে, 
কুম্বম আভাণে। সুকুমার পুত্র আলিঙ্গনে, জননীর নেহ-সম্ভাবণে অথবা মধুর 
রমাম্বাদনে, সর্বত্র তাহার প্রাণ কীরদিয়া বলে,_-“কই প্রভু ! কই জগন্নাথ ! তুমি 
কোথায় ? কোথায় তুমি নিত্য সর্বব্যাপী মহাপুরুষ ? কোথায় তুমি বিশ্বপ্রসবিনী 
জননী? ইহাতে তোমার অধিষ্ঠান কই ? আমি তোমায় দেখিতে পাইতেছি না 
কেন? জানি তুমি ইহাতে আছ --জানি তুমি সব্বভূতে বিরাঞজিত, শুনিয়াছি 
তমি ভূতে ভূতে প্রতিষ্ঠিত, তবে আমি তোমায় চাক্ষুষ দেখিতে পাইতেছি না কেন? 
জানি তুমি স্ত্রীতে আছ, জানি তুমি পত্রে আছ, কিন্তু আমি স্ত্রীপুত্ণ মাত্র দেখিতেছি 
কেন? আমি যে কেবল পঞ্চভৃতসম্তি মাত্র দেখিতেছি? তুমি মৃত্তিমতী হইয়! 
স্জন্নি! কেন আমার ইন্দ্রিয়গোচর হইতেছ না? ফুলটিকে ফুল বলিয়া 
আমার ইন্দ্রিয় চিনিতেছে কে মা? আমার লালায়িত প্রাণ ইহাতে ৫ 


৮ উপনিষদ্রভ্ম্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথ্যা। 


তোমাকে অধিষ্ঠাতা দেখিতে চাহে, তবে কেন আমার ইক্দিয় তোমাকে 
প্রত্যক্ষীভূত করাইতে পারে না? ফুলে ফুলে কই তুমি মা? পল্লবে পল্পবে, 
বক্ষে বৃক্ষে, পর্ববতে, অরণ্যে, চন্দরে, সূর্যে, আকাশে, পুজ্রে, কলছে, উরগে শ্বাপদে। 
জলে, স্থলে, অনলে, অনিলে কই তুমি মা ! শীতে, উষ্ষে, আলোকে অন্ধকারে, 
রোগে, সন্তোগে কই তুমি মা? শবে, স্পর্শে, রূপে, রসে কই তুমি মা? 
সুখে, হুঃখেসম্পদে, বিপদে. সন্তাপে, শান্তিতে কই ভুমি মা? সন্দেহে, বিশ্বাসে, 
সংশয়ে আশয়ে__হতাশে, আশ্বীসে, কই--কই তুমি মা ? আমার ইন্দ্রিয় তোমায় 
খুঁজিয়া পায় না কেন?” এই ভাবে তাহার প্রাণ কাদতে থাকে ; অর্থাৎ যেমন 
একটী পল্লব দেখিবামাত্র তাহার বৃত্ত ও পত্র ভিন্ন ভিন্ন রূপে বুঝিতে পারা যায়, 
সেইরূপ সে প্রত্যক পদার্থে কোন্টুকু ভগবান্-_ইন্ড্রিয়ের দ্বারা খজিয়া বাহির 
করিতে চেষ্টা করে। কেবল মাত্র পদার্থে নে, ক্রমশঃ সে পদার্থের শক্তিতে 
ও মানসিক ভাবের মধ্যে ভগবানকে দেখিতে প্রয়াস পায়। ভগবানকে পাইবার 
জন্য অধীর হইয়া উঠে। 
তখন ভগবান্‌ ভাহার চক্ষু আরও একটু উন্মীলিত করিয়া দেন। জগৎ ছাড়িয়! 
আপনার দিকে তাহার লক্ষ্য পড়ে । এক অভিনব বিশাল ব্যাপার তাহার হৃদয়ে 
আসিয়া উপস্থিত হয়। মায়ার কেন্দ্র কোথায়? মায়াৰ উচ্ছেদ সাধন করিতে 
হইলে, কার্ধাতঃ কত দূর উচ্ছেদিত হয় ? মায়া কত _কত দূর বিস্তৃত, তাহ! সে 
জানিত না। এই সদ্ধিক্ষণে সে দেখিতে পার, সংসার ত্যাগ করিলেই মায়ার 
উচ্ছেদ হয় না। মায়া বাহিরে নহে, মায়া ভিতরে | বহির্জগতে মায়া বলিয়া 
কিছুই নাই, মাঁয়ার ক্ষেত্র তাহারই অন্তরে ৷ ইন্দ্রিয়সকল বহির্জগণ্ হইতে যে 
সমস্ত জিনিষ আনিয়। তাহার অস্তুরে সংস্কারাকারে সাজাইয়া দিয়াছে, সেই 
স্কারগুলির সহিত তাদাত্বাভাব মায়া । মায়ার উচ্ছেদসাধন অর্থে--এই 
তাদাঝ্যুভাবের উচ্ছেদ। এইরূপ বুঝিয়া সে ারও কাতর হইয়া উঠে। তবে 
আমি কি লইয়া থাকিব? ইন্দ্িয়াদি বিষয়-সকল উচ্ছেদিত হইলে, আমার 
আমিতের অন্তিথ কত দূর সম্তবপর,_-এই মহাপ্রশ্ন তাহার হৃদয়ক্ষেত্রকে বিশৃঙ্খল 
করিয়। ভুলে। দে আপনাকে আপনারই ভিতর খু'জিতে থাকে। তন্ন তন্ 
করিয়া আপনাকে চিরিয়া, তার আমিতটুকু কোথায়-__দেখিতে চেষ্টা করে। 
এইরূপ কিছু দিন অন্বেষণ করিতে করিতে সে সঙ্গে সঙ্গে বুঝিতে পারে, এ 
জগতের সমস্ত পদার্থ আর কিছুই মহ, কৃবূল এক মহাশক্তির দাত্বাব তারতম্য 


সাঙ্যযোগ । টা 


মাব্। সমস্ত ব্রক্াণ্ড প্রথমতঃ শব, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ, এই পাঁচ প্রকার তন্মাত্রার 
সমষ্টি মাত্রে পরিণত হয়। তারপর জ্ঞান উপলব্ধির আরও উচ্চ স্তরে আরোহণ 
করিলে সে বুঝিতে পারে, এই পাঁচ প্রকার উপলবিও বস্তুত; পাঁচ প্রকার জিনিষ 
নহে, একটা অনন্তব্যাপিনী শক্তিত্তরঙ্গের ইতরবিশেষ স্পন্দনমাত্র। যেমন সমুদ্রের 
গ্রে ও বৃহৎ তরঙ্গের মধ্যে বস্তুগত কোন পার্থক্য নাই, কেবল ম্পন্দনের ইতর- 
বিশেষ, তদ্রপ জগতের শব্দ? স্পর্শ ইত্যাদি বিভিন্ন অনুভূতিও কেবল কপন্দনের 
ইতরবিশেষ মান্ত্। 
সাধক বুঝিতে পারে, যেমন সূর্ধ্য হইতে জ্যোতিস্তরঙ্গরাশি অনস্ত যোজন 
ব্যাপিয়! চারি ধারে অহনিশ তরঙ্গের পর তরঙ্গে প্রধাবিত হইতেছে, জ্যোতির 
তরঙ্গে তরঙ্গে ঘাতপ্রতিঘাত পাইয়া যেমন অসীম, অনন্ত, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তরঙ্গবিভাগে 
ব্যোমমণ্ডল অবিরত তরঙ্গময় হইয়! রহিয়াছে, বস্ততে বস্তুতে সুর্যের সে তরঙ্গ- 
রাশি প্রতিহত হইয়া! যেমন অনন্ত প্রকারের বর্ণরঞ্জনার অপূর্ব স্থাষ্টবৈচিত্র্য সংঘটিত 
হইতেছে, একই স্থর্যালোক যেমন প্রতিরোধ বা আঘাতের তারতম্যে বিতিন্ন 
বর্ণে প্রতীয়মান হইতেছে,_-যেমন জগতের লাল, নীল, পীভ, হরিৎ, ইত্যাদি ভিন্ন 
ভিন্ন বর্ণবিস্তান বস্ততঃ; আর কিছুই নহে, একই ঘুরধ্যালোকরাশির নান। গান্তার বা 
নানা প্রকারের তরঙ্গ ভঙ্গমা ব্রঁ-অর্থাৎ একই সূয্যালোক নানা বস্তুতে তল্পবিস্তর 
মাত্রার তারতম্য নানাপ্রকারে প্রতিহত হইয়া যেমন বিভিন্ন বর্ণরাশি জগতের চক্ষে 
ফুটাইয়া তুলিতেছে, তেমনই কোন এক অব্যক্ত কেন্দ্র হইতে একপ্রকার জ্পন্দনে 
এক মহাশক্তি অহন্নিশ স্ষুরিত। তাহার হৃদয়ে কোথায় কোনু দূর অব্যক্ত কেন্তর 
হইতে শক্তির স্পন্দন অহনিশ স্কুরিত হইয়া, তাহার সংস্কাররাশিতে প্রতিঘাত 
পাইয়া অনন্ত প্রকারের তরঙ্গভঙ্গ স্ছজন করিতেছে-_অনম্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ অপূর্ব 
জড় জগদ্ভ্রাত্তি বা জীবত্বান্ভৃতি এই প্রকারে তাহার হৃদয়ে অহনিশ রচিত 
হইতেছে । 
গুধু শব্দ-স্পর্শ-রূপ-রস-গন্ধময় জড়জগৎ নহে--কাম, ক্রোধ, লোভ, ভক্তি, 
করুণা, প্রীতি ইত্যাদি মানসিক বিকারসমষ্টিও বা মনোময় জগৎও বিভিন্ন 
প্রকীরের স্পন্দনমান্র বলিয়। সে চিনিতে পারে । জ্ঞানে ও বর্ধরতায়, ভক্তি ও 
বিভৃষ্ণায়, করুণা ও নিষ্ঠুরতায়, দয়। ও কার্পণ্যে, অথবা কামে, ক্রোধে ও লোভে 
বা ভক্তি, ন্েহ ও প্রেমে,-সে বস্তুগত কোন তারতম্য দেখিতে পায় না। 
কেবলমাত্র প্রতিঘাত বা স্পন্দন বা মাত্রার তারতম্য বলিয়া উপলব্ধি হয়। যেমন 


। ৪5 উপনিষদ্রহশ্ট বা গীতার যৌগিক ব্যাথা!। 


সমুদ্রের একই জলে ছোট বড় তরঙ্গ, যেমন সুর্যের একই আলোকে গীত 
লোহিত ইত্যাদি বিভিন্ন মালার তরঙ্গ--তেমনই এ সমস্ত মানসিক সি নেই 
একই শক্তির বিভিন্ন মাত্রার স্পন্দন বলিয়া পরিলক্ষিত হয় । 
বস্তুতঃ, আমর! যাহা কিছু দেখি, শুনি বা অনুভব করি, সে সমস্ত বাহিরে 
নহে--ভিতরে ; আমার নিজের হয়ে কোন এক অব্যক্ত স্থানে সে সমস্ত উপলব্ধি 
হয়। সাধারণতঃ আমাদের মনে হয়--বহিজ্জগৎ যেন আমর! বাহিরে দেখিতেছি, 
শুনিতেছি, স্পর্শ করিতেছি, আঘ্রাণ করিতেছি বা আস্বাদন করিতেছি ; কিন্ত 
বস্তত; হইতেছে কি ? বহির্ঘ্গং আমার চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা গুভৃতি ইন্জিয়- 
বর্গে স্পৃ হইয়া আমার সংস্কারপুঞ্জে গিয়। ধাকা! দিতেছে । সেই ধাক্কায় আমার 
'স্কারচক্র নান! প্রকারে স্পন্দিত'হইতেছে । সেই নান! প্রকারের স্পন্দন রূপ, 
রস, শব্দ, গন্ধ, স্নেহ, ভক্তি, প্রীতি, পাপ, পুণ্য ইত্যাদি নানা প্রকার অনুভব জন্মা- 
ইয়া দিতেছে । ন্েেহ, প্রেম, ভক্তি বা ক্রোধ, কাম ইত্যাদি ষেমন বাহিরে নহে, 
ভিতরে,- তেমনি শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস ইত্যার্দিও বাহিরে নহে ভিতরে। তাহা 
যদি না হইত, তবে একই বস্ত বিভিন্ন হৃদয়ে বিভিন্ন প্রকারে অনুভূত হইত না । 
তুমি তোমার ম্বীয় হযে এক্‌ প্রকারে, পুত্রের হ্বদয়ে এক গ্রকারে, আম্ীয়-সদয়ে 
অন্ত প্রকারে, শক্র-হদয়ে অন্ত এক প্রকারে প্রতিফলিত হও কেন? তোমার স্ত্রী 
তোমায় দেখিলে তাহার হৃদয়ে তোমার সন্বন্ধীয় ষে সংস্কাররাশি গ্রচ্ছর হইয়া 
আছে, সেইগুলি ফুটিয়া উঠিয়া স্বামিত্ের অনুভূতি ফুটাইয়। তোলে । তোমার 
পু্ের হৃদয়ে তোমার সম্বন্ধীয় যে সংস্কাররাশি প্রচ্ছন্ন আছে, তোমার দর্শনে সেই- 
গুলি পিতৃ-অন্ুভূতি ফুটাইয়া দেয়। এইরূপে একই ভুমি বিভিন্ন হদয়ে সংস্কারের 
তারতম্যে কোথাও পিতা, কোথাও জাতা, কোথাও শক্র, কোথাও মিত্র ইত্যাদি 
বিভিন্ন ভাবে ফুটিয়া উঠ। এইরূপ সমস্ত--ত্রহ্মা্ড উপলব্ধি এইরূপে হয়। 
বাহিরে কিছু নাই, কেবলমাত্র এক বিশাল শক্তির নামরূপক্রিয়াময় তরঙ্গভঙ্গ 
আছে। আর সেই শক্তিতরঙ্গরাশি, সেই শক্তিসমুদ্রের আবর্তননকল মনুষ্য, পণ্ড, 
পক্ষী, কীট, পতঙ্গ প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন সংস্কারপুঞ্জে বা জীবভাবে প্রতিহত হইয়! 
ভিন্ন ভিন্ন রূপে অনুভূত হইতেছে মাত্র । 
এইরূপে মে সাধক আপনার হদয়াভ্যন্তরে কেন্দ্রের বা নিজের স্বরূপের ঈষৎ 
আভাপ পায়। সে নিজের ভিতরে এক অব্যক্ত আদি সনাতন অথচ কেন্ত্র"” 
আর তাহার উপর চেতনার ব1 চৈতগ্যশক্তির অবিশ্রাম স্ষুরণ-ম্সেই নিজ ঠেতস্থ- 


সীঞ্্যযোগ। | ১১ 


স্ষুরণের সহিষ্ত বহির্জগতের বিরাট স্ষুরণের ঘাতপ্রতিঘাত-_-সেই উভয় তরঙ্গ- 
সংঘাতের ফলম্বরূপ নিজের ঠেতম্থতরঙ্গের বিভিন্নপ্রকার আন্দোলন ও 
তাদাত্ম্যবোধ--তাহাতে জগংরূপ নানা দৃশ্যের বিকাশ-_পিতা, মাতা, ভ্রাতা, 
পুত্র, মিত্র,শত্র ইত্যাদি নানা কল্পনা-বৈচিত্র্ের মৃূর্তের ব্যক্তভাব,- এবং ক্গণকাল 
পরে সে কল্পনারা শর অব্যক্তে মিশাইয়া যাওয়া---এইগুলির ধা'রে ধীরে আভা 
পাইয়া থাকে। 

কিন্ত সহসা যেন বিছ্থ্যতের মত আর একটা অপূর্ব জ্যোতি? তাহার হৃদয়ে 
ঝলসিয়া উঠে । জন্ম-মৃত্যু-অবস্থান, এ সমস্ত কিছুই নহে--বসন পরিবর্তনের মত 
কেবল শক্তি বা সংস্কারের পরিবর্তন মাত্র! পিতা, মাতা, স্ত্রী, পুত্র, এ সব চিত্তের 
ভাববিপধ্যয় ছাড়। কিছুই নহে। কি আশ্চর্য্য ! এ ভাবের প্রহেলিক৷ নিত্য 
জন্মাইতেছে, নিত্য লুপ্ত হইতেছে, ছুটিতেছে, নিবিয়া যাইতেছে, ইহার জন্য শোক 
কি? ইহাতে চিন্তার বিষয় কি আছে ? আমি এই জ্ঞানে যুক্ত হইয়া থাকি না কেন? 
স.সার ছাড়ি বা সংসারে থাকি-_-তাহাতে আমার আসে যায় কি? এ কি--এ 
আবার কি সমস্তা ! আমার আবার মুখ ছুঃখ কি ? লাভ অলাভই বা কি? মায়ার 
উচ্ছেদসাধন করিলে) সংসাররণকেত্রে থাকিয়। ইন্জ্িয়-সংগ্রামে বিজয়ী হইলে, 
আমার আত্মরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হইবে সত্য, যাহাদিগকে ত্যাগ করিতে কাতর হইয়া- 
ছিলাম, সে সকল ক্ষণস্থায়ী ইন্দ্িয়বিকারের উচ্ছেদসাধনে আমার কোন ক্ষতি 
নাই সত্য, সিদ্ধি বা অসিদ্ধিতে সমান ভাবিয়া, আমি আত্মজ্বানের উপর নির্ভর 
করিয়া, ইন্দ্রিয়গণের উচ্ছেদ্সাধনে যত্বপর হইতে পারি সত্য; কিন্তু তাহাতে 
আমার থাকিবে কি? অনাত্ম পদার্থই আত্মীয়রূপে প্রকাশ পাইতেছে-- 
ইহাদিগের উচ্ছেদ অবশ্যই সংসাধ্য। কিন্তু এ সব ছাঁড়িলে আমার যাহা 
থাকিবে, তাহাতে সখ কি -আত্মন্বরূপে এমন কি প্রাপ্তি আছে, যাহার জন্ত এত 
প্রত্যক্ষ সুখময় আমিত্বকে উচ্ছেদিত করিব ? 

আত্মানাত্মবিচারকালে অজ্ঞানাচ্ছন্ন জীবের আত্মমহিমা জানা ন৷ থাকায় 
এইরূপ সমস্তা। উদ্দিত হইতে থাকে । 


সাধ্যযেগ সমাধু। 





ত্ড 


ও 


শনীন্বন্ভঙ্গান্যদ্সীভা ৷ 
বিষ।দযোগ । 


ধৃতরাষ্্রী উবাচ। 
ধণ্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে মমবেতা যুযুৎ্সবঃ। 
মামকাঃ পাগুবাশ্চৈব কিমকুর্ববত সঞ্জয় ॥ ১ 


ধৃতরাষ্ট্র কহিলেন,_সঞ্জয় 1  মৎপক্ষীয়গণ এবং পাগুবের! যুদ্ধার্থী হইয়া 
ধর্ক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সমবেত হইয়া! কি করিলেন ? 

শ্রীমন্তগবদগীতা __ 

ভগবদগীতা কি ?--ভগবানের গান। অনম্ত অফুরস্ত সঙ্গীতলহরী। 

এ বিচিত্র ব্রহ্মাগুমগ্ডল এক অপূর্ব সঙ্গীতের বঙ্কার ব্যতীত আর কিছুই নহে | 
সে অপূর্ব্ব সঙ্গীতক্রোত অনন্ত কাল ধরিয়া সপ্তুলোকের দিন্দিগন্ত ব্যাপিয়া ধ্বনিত 
অনন্তের পরমাণুতে পরমাণুতে উচ্দ্রসিত। সে জঙ্গীত মহাশক্তির প্রথম 
অভিব্যক্তি। নাম তাহার প্রণব _আকর্ষণ তাহার নর স্যগ্রিবিকাশ তাহার 
মুচ্ছনা__লয় তাহার ভাব ব। লয়। শৃত্র, বৈশ্য, ক্ষত্রিয় তাহার তিনটা তাল-_ 
্রাহ্মণ--শৃন্ত বা মান। 

সে আকর্ষণ বা সুর ষড়জ, ধষভ আদি সাত ভাগে বিভক্ত । মেই সাত ভাগে 
উ* তুব» স্বঃ আদি সপ্তলোক রচিত, প্রতিষ্ঠিত, অনুপ্রাণিত। স্মষ্ি-স্থিতি-লয় 
তাহার মাত্রা । 

€ততামরা সে গানের মোহন ঝঙ্কার শুনিবে কি? 

সে গান প্রতি মন্তুয্য-হৃদয়ে শুনিতে পাওয়। যায়;--সে গানের অমৃতত্রাধ 
প্রত্যেক জীবকে অহনিশ অভিষিক্ত করে; তবে মনুস্ত-হৃদয়ে তাহা সুটতর। 
€ন গানের মোহন বন্ধার একবার শুনিলে-_মুররেখা একবার কামে গিয়া 


২ উপনিষদ্বহন্ত বা গীহাঁর যৌন্সির বাখা। 


বাজিলে-_আর জীব থাকিতে পারে না। চুষ্বকাকৃষ্ট লৌহের মৃত জীব কেন্দ্রের 
দিকে ধাবিত হয়। কেন না, আকর্ষণই সে ম্থুরের ধন্ম। কোন গৃহে কতক- 
গুলি তারের যন্ত্র এক রকম নুরে বাঁধিয়। রাখিয়া, একটী যন্ত্রে বঙ্কার দিলে, 
যেমন সমস্ত যন্ত্রে সে বঙ্কার প্রতিধ্বনিত হয়, তেমনই ভগবানের সে অপূর্ব 
বাণার বঙ্কার বা গান কুরুক্ষেত্ররূপ প্রতি মনুষ্যদ্ধদয়ে অহপনিশ প্রতিধ্বনিত। 

তুমি সে বঙ্কীর শুনিয়াছ কি! 

সে বস্কারের রূপ আছে-_সে বঙ্কার জ্যোতির্ময়! সহত্র বিজলি আলোক 
একত্রে দীপ্তি পাইলেও তাহার তুলনা হয় না; সুর্মালোক তাহার ম্লান অংশমা র। 
জ্যোতি:ই সে নুরের প্রাণ। বাঝুর তাড়নায় যেমন সাগরবারিরাশি বিশাল 
তরঙে আন্দোলিত হয়, নুরের তালে তালে সে জ্যোতির সাগর তেমনই দল্‌ দূল্‌ 
আন্দোলিত। তরঙ্গে তরঙ্গে অপূর্ব চাকৃচিক্যময় অনন্ত বর্ণের বিকাশ। 
স্রোতে যেমন জল চক্রাকারে আবর্তিত হয় সে জ্রোতিবিস্তারে তেমনই 
আবর্তনে আবর্তনে শুভ্র, গীত, হরিৎ, লোহিতাদি কত অপূর্ব বর্ণবিশিষট 
হূর্ধারাশি প্রস্কুরিত ; _ফুটিতেছে, থাকিতেছে মিলাইয়। যাইতেছে । সব সেই 
একই নুরের তালে তালে! 

তোমর। সে জ্যোতির সাগর দেখিবে কি? তবে অবহিতচিন্তে গীতা বুঝিতে 
চেষ্টা কর। 

আবার বলি--গীত সেই জ্যোতির্ময গান। ইহা! তোমার হৃদয়াকাশে 
গীত -ধ্বনিত। প্রতি ঝঙ্কারে তোমার হৃদয় জ্যোতির্নয় হইয়া উঠিতেছে,_ 
প্রতি বঙ্কারে তোমার প্রাণশক্তি উজ্জীবিত হইয়া উঠিতেছে। অথবা! সেই 
বস্কারই তোমার প্রাণ, তাই ভূমি জীবিত। জীব! দেখ! দেখ! শুন! শুন! 

পূর্ধ্বে বলিয়াছি, সে গানের স্থুর আকর্ষণ। কা'র আকর্ষণ, কিসের অন্ত 
আকর্ষণ__স্থুল কথায় বুঝাইবার চেষ্টা করি। 

নূর্য্যমগ্ডল হইতে স্ফুলিঙ্গবং জ্যোতিষ্কমগ্ুলমকল চারি ধারে প্রক্ষিপ্ত হইয়া 
গ্র্থ উপগ্রহ আকারে যেমন তাহারই আবর্ধণে ঘুরিতেছে, এক বিরাট আকর্ষণ- 
শক্তির দ্বারা! যেমন গ্রহচন্র সুর্ধেযর সহিত সম্বদ্ধ, তেমনই চৈতন্তরাজ্যে চৈতত্যম়ী 
মায়ের আমার শ্ুলিঙ্গরূপ আমরা, তাহারই ইচ্ছায় তাহ! হইতে গ্রক্ষিপ্ত 
ছইইয়া, তাহারই আকর্ষণে তাঁহার চারি ধারে প্রদক্ষিণ করিতেছি । চৈতন্তের 
্ুত্যেক পরমাণুতে পরমাগুতে নিজের বিরাট্ত্ব উপলব্ধি করাইবার জগ্তা, নিজের 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার গৌগিক ব্যাখা । ৬ 


অপূর্ব এ্ব্ধ্যস্বোভ। ফলাইয়! ভূঁলিবার জন্য, আপন অঙ্গ হইতে বিকর্ষণশক্তি বা. 
প্রবৃত্তি-প্রভাবে প্রক্ষিপ্ত করিয়া, সঙ্গে সঙ্ষে আকর্ষণশক্তির দ্বারা মা আমার 
জীবসকলকে ধারণ করিয়া! আছেম। ম1 যেমন শিশু সন্তানকে আনন্দিত করিতে 
উর্দে ছু'ড়িয়া দিয়া, হাত ছুইটী পাঁতিয়! তাহাকে পরিবার জন্য অপেক্ষা করে, ঠিক 
তেমনই ভাবে বিশ্বজননী আমাদিগকে বিকর্ষণশক্তি-প্রভাবে বিক্ষিপ্ত করিয়া, আবার 
ক্রোড়ে ধারণ করিবার জন্য আকর্ষণশক্তির্প কর পাতিয়া অপেক্ষা করিতেছেন । 
বিকর্ষণশক্তি ফুরাইলে আবার আমরা আকর্ষণশক্তিপ্রভাবে মাতৃ-অস্কে সংযুক্ত 
হইব। সারা ব্রদ্মাগ্ুমগ্ডলে এই আকর্ষণ ও বিকর্ষণশক্তির ক্রীড়া চলিতেছে । 
এই ছুইটী শক্তির সাধারণ নাম প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তি বলা যাইতে পারে। | 

কিন্তু বুঝিও, বিকর্ষণশক্তি কিছুক্ষণ কার্ধ্যকরী হইলেও আকর্ষণশক্কি তাহার 
ভিতর দিয়াও প্রবাহিত । আকর্ষণশক্তির বিরাম নাই ।-আ্োতের জল যেমন ধাক্কা! 
বা রোধ প্রাপ্ত হইলে, ফুলিয়। উঠিয়া, আবার স্রোতে মিলাইয়া যায়, তেমনই 
বিরাট ঠচতন্যময়ী মায়ের আমার চৈতন্তকণ। যেখানে যেখানে অহংজ্ঞানের 
প্রতিরোধ প্রাপ্ত হয়, সেইখানে'সেইখানে মে চৈতন্ভ জীবাকারে ফুলিয়া উঠিয়া, 
আবার সে রোধশক্তির অবসানে চৈভন্যন্দ্োতে মিশিয় যায়। মায়ের আকর্ষণ- 
শক্তির শ্রোত এইরঃস অবিরত প্রবাহিত । 

পুর্বে বলিয়ছি, এ আকর্ষণশক্তিই গীতা । 'প্রণবের বঙ্কার জীব-হদয়রূপ 
কুরুক্ষেত্রে গীতাঁরূপে বাজিয়া উঠে। আকর্ষণশক্তি, প্রণব, মুর, নিবৃতি--এ 
সব প্রায় একই কথা। এবং এই আকর্ষণ 'ও বিকর্ষণশর্তির বা নিবৃত্তি ও 
প্রবৃত্তির সংঘর্ষণই ঝুরুপাণগ্ডবের যুদ্ধ । 

প্রতি জীব-হ্ৃদয়ে প্রণব ধনিত। গীতা--এই প্রণবের বিশ্লেষণ। জীব- 
হৃদয় যখন যথার্থ কুরুক্ষেত্র-রণাঙ্গনে পরিণত হয়, তখন হইতে এ প্রণব 
বিশ্লেষিত হইয়া কতকগুলি বাহ্য় শ্রেণীবদ্ধ ভাবরাশিতে ফুটিয়া উঠে। সেইগুলি 
গীতাঁয় পর পর অধ্যায় আকারে বিভক্ত । 

অর্থাৎ জীব যখন আপনাকে সাধক বলিয়া চিনিতে পারে, তখন সে সর্ধ- 
প্রথম এই প্রণব বা অনাহত নাদ শুনিতে পায়। সেই নাদ শ্রুতিগোচর হইবার 
পর হইতে প্রথমে বিষাদভাব, তারপর সাংখ্য বা নিত্যানিত্য বিচার বা প্রকৃতি- 
পুরুষ-বিচার-ভাব ) এই সকল ভাবশ্রেণী পর পর ফুটিয়া উঠিতে থাকে, তাহার 
প্রাথ সেই সকল ভাবে মগ্ন হইয়। যায়। সে আপনাকে এরূপ ভাবসমদ্রি মাত 


উপনিষদূরহশ্ব ব। গীতাঁর যৌগিক বা1২)। 


বলিয়া প্রত্যক্ষ করে। সে অনাহত নাঁদ যেন গীতারপ শব বা সুরতরাদ 
বিশ্লেষিত হইতে থাকে । বঙ্কারের পর বন্কার তাহার প্রাণকে মাতাইয়। তোলে । 
ভগবরদাকর্ষণের প্রবল বন্থায় সে ভাষিয়া বিরাটে গিয়া পৌছায়, বিরাট্রূপ 
দর্শনে কৃতকৃতার্থ হয়। গীতার প্রথম এগারটি অধায়ে এই অবধি মআছে। 

তারপর--তারপর, সমুদ্রে বিশ্বক্ফোটনের মত ধীরে ধাঁরে সে লিদ্ধ সাধক মাতৃ- 
অঙ্কে মিলাইয়া যায়। গ্বীতার দ্বাদশ অধ্যায়, হইতে অবশিষ্ট অংশটুকু এই 
মিলনের স্রোত । 

আবার বলি--জীব! তোমার হুদয়বীণাকে বাধ। রে মিলাইয়া তস্ত্রীগুলি 
ক করিয়া! যদি বীধিতে পার, ভগবানের আঁকর্ষণ-গান তোমার বুকের ভিতর 
বঙ্কার দিয়। উঠিবে। গুনিবে,-যে গানের অন্ৃতধারায় বিরাট ত্রঙ্গাণ্ড প্লাবিত, যে 
গানে ত্রদ্ধা, বিষণ, মহগ্বর অনন্ত যুগ সমন, সেই গান তোঁমার প্রাণ গাহিতেছে !!! 

ঘৃতরাষ্র_ 

ধুতরাষ্ট্রী কে? যাহার দ্বার! রাষ্ী ধৃত ব। অধিকৃত, তাহ্থাকেই ধৃতরাষ্ট 
বলে। পূর্বে বলিয়াছি, এ বিশাল জগতে দুইটা শক্তির ক্রিয়া চলিতেছে । 
একটা আবর্ষণীশক্তি--যাহ! গীতাঁরুপে মনুয্যধ্দয়ে মধুর বঙ্কারে ধ্বনিত হয় 
এবং অপর্টা বিবর্ষীশক্তি, যা প্রত্যেক জীবাহ্থাকে বা ভগব্দংঅকে জ্ঞানৈশর্্য 
লীতের জন্ত ভগবান্‌ হইতে দূরে কিছু দিনের জন্য প্রক্ষিপ্ত করে। ভগবানের 
প্রত্যেক অথুতে অথুতে অহংজ্ঞান যত ফুটিয়। উঠিতে থাকে, তাহার ইচ্ছাশক্তি 
নিজের যোগৈশ্বরধ্য দেখিবার জন্য তত লালায়িত হর। রাজ যেমন নিজের 
রাজ্য পরিদর্শন করে, তেমনি ভাবে ভগবানের প্রত্যেক ক্ষুত্র ক্ষুদ্র অংশ বা 
্ীবাঁত্স। নিজের অনস্ত মহিমা, অপূর্ব যোগশক্তি দেখিবার জন্য বিরাট চৈতত্তময়ী 
ভগবৎশক্তির দ্বারা নিরঞ্জনভীব হুইতে ভাবরঞ্নাযুক্ত সন্তার্ণ অহংজ্ঞানের 
সাকার দীমার ভিতর প্রবেশ করিতে থাকে । এই যে ভাবশন্ত অবস্থা হইতে 
চৈতস্তময় তাঁবরাজ্যে প্রবেশ, ইহা ভগবানের বা জীবাস্থার বিক্ষেপশক্তির দ্বারা 
হইয়। থাকে । ইহারই নাম প্রবৃত্তি বা ধৃতরাষ্ী। এই অন্ধ প্রবৃত্তি অহংজ্ঞানের 
সন্কীর্ণ সীমায় চৈতন্শক্তিকে ক্রমশ; সন্থৃচিত করিয়া সাকার জড় উপাধি- 
বিশিষ্ট জীবে পরিণত করে। “আমি আছি”, “আমি আছি”, ইত্যাকার জ্ঞান 
জীবের হুদয়ে অহগ্সিশ ক্ফুরিত হয়। “আমি আছি”, "আমি আছি” বা এই 
আমিত্বজ্রান যতই ক্রমশঃ স্ফুটতর হইতে থাকে। ততই বঙ্গে মঙ্গে “আমার? 


উপনিষদ্রহম্ত বা ঈীভাঁর ফৌ(গক ব্যাথা]। ৫ 


“তোমার” ইক্যকার জ্ঞান পরিবর্ধিত হয় । ততই জীব. উদ্ভিদ, ক্রিমি, কীট, 
পতঙ্গ, পশু, পক্ষী ইত্যাদি জন্মস্তরের ভিতর দিয় পর্ণ আমিত্ের দিকে ছুটিতে 
থাকে । তাহার আমিত্বের তৃযা! প্রবল হইতে প্রবলতর হইতে থাঁকে-- চৈতন্য 
উজ্্বল হইতে উজ্জ্লতর হয়। 

এইরূপে শেষ জীব নরাকারে পরিণত হয়। এইখানে আমিত্বের পূর্ণবিকাশ 
ও বিশ্লেষণ । যেমন শিল্পী, প্রস্তরখণ্ড হইতে ইচ্ছামত কোন মূর্তি খোদিত করিয়া 
লইয়া! অবশিষ্ট অংশ দূরে প্রক্ষিপ্ত করে, তদ্রুপ এত দিন ধরিয়া জীব আমিত্ব- 
ভাবের ঘে একটী সপ সঞ্চিত করিয়া! আসিতেছিল, মঞ্ুষ্যজন্মে তাহা হইতে 
নিজের প্রয়োজন ব৷ প্রবৃত্তি অনুযায়ী একটা বিশিষ্ট আমিত্বকে খাঁড়া করে এবং 
অবশিষ্ট অংশ দূরে প্রক্ষিপ্ত করে । এইটী আমার, এইটী আমার নহে, ইত্যাদি 
ধারণ! মনুষ্য-হৃদয়ে পূর্ণভাবে কার্যকরী হয়। 

জড়দেহের সাহাযো জীৰ আমিত্বকে ঘনীভূত করিয়া তুলিতে থাকে 7 
তাহার চৈতন্ক্ষেত্রে একটী আমিতের স্থায়ী প্রতিষ্ঠা হইতে থাকে । প্রথমে এই 
মনোময় ক্ষেত্রে বা মনে--যেখান হইতে আমাদের ইন্দ্রিয়সকল স্ষুরিত - সেইখানে, 
তারপর বিজ্ছানময় কোষে বা জ্ঞানবুদ্ধির কেন্দ্রে এই আমিত্বের প্রতিষ্ঠা হয়। যখন 
ইন্দ্রিয়সকল নিরোধ করিয়া আমিত্বের অনুভব করিতে জীব সক্ষম হয়, তখন 
বুঝিতে হইবে, তাহার মনোময় দেহ তৈয়ারি হইয়াছে । সাধারণ মনুষ্য ইন্দ্রিয় 
নিরোধ করিয়া যোগন্থ হইতে গেলে ঘুমাইয়া পড়ে ; তাহার কারণ, মে এখনও 
ইন্দ্রিয়ের রা তার আমিহের অনুভব করিতেছে মাত্র, মনোময় ক্ষেত্রে এখনও 
সর্বাঙ্গ পুষ্ট হয় নাই। গর্ভে যেমন শিশু থাকে, তৈমনই তার মনোময় কোষে সে 
এখনও শিশু। ইন্দ্রিয় সাহায্যে পুষ্টিলাভ করিয়া ক্রমে এই আমিত্ব বদ্ধিত, পুষ্ট 
ও সব্বাঙ্গসৌষ্টবযুক্ত হইতে থাকে । ইহাও বলিয়া রাখি, এমন কতকগুলি প্রক্রিয়া 
আছে, যাহার দ্বারা এই আমিত্ব শীত্র সবল ও প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন ব্যায়ামের 
ছারা শরীর সবল হয়, তেমনই সেই সব মানসিক ব্যায়ামের দ্বারা মনোময় 
“আমি” সবল হইয়। উঠে। সাধারণ কথায় সেগুলিকে যৌগিক ক্রিয়া বলে। 

যাহা হউক, যত দিন ন! এইরূপে আমিত্ের প্রতিষ্ঠা হয় তত দ্রিন অন্ধ প্রবৃত্তি 
বা তৎপুত্র মন সমস্ত ইক্দরিয়ক্ষেত্র অধিকার করিয়া, তাহার উপর আধিপত্য করে। 


ক্রমে যখন মনোময় কোষে তাঁর আমিত্ব ঘনীভূত ও সর্ববাঙ্গ হুন্দর হইয়া উঠে, 
তখন বিরাটচৈতম্থময়ী আকর্ষণীশক্তি তাহাতে প্রতিঘাত প্রাপ্ত হইতে থাকে। 


৬ উ-নিষদ্রহন্ট বা গীভাঁর যৌগিক ব্যাধ্যা। 


আঁধর্ষদীশক্তি এত দিন যে ছিল না, তাহা নহে ; সে শক্তি সমানভাঁবে বহিতেছিল, 
তবে যেমন বীণা বা সেতারের তার গ্লথ থাকিলে তাহাতে স্বরতরঙ্গ ধ্বনিত হয় না 
-_ু্চারুরপে তারগুলি বাধিলে তবে তাহা হইতে মধুর বঙ্কার ছুটিতে থাকে, 
তেমনই এই আমিত্ব এত দিন পরে সেই অনাদি-প্রবাহিতা আকর্ষনীশক্তি বা প্রণবের 
প্রতিঘাতে বঙ্কার করিয়া উঠে, গীতা-লহরী ফুটিয়া উঠিবার সুচনা হয় 
হিত এবং অহিত, এই বিচাররূপে নিবৃ ট্াক্তি প্রথম ঝঙ্কার দেয় 
হদয়-রাজ্য ছুই ভাগে বিভক্ত হইয়া যায়; অর্থাৎ পাগুবেরা যেন ইন্তপরস্থরূপ 
রাজধানী প্রতিষ্ঠা করে। কুরুক্ষেত্রের এক অংশ কৌরবের বা প্রবৃত্তির এবং 
এ্রক অংশ পাশুবের বা নিবৃত্তির শামনাধীন হয়। 

নিরৃত্বির জ্ঞানরাজ্য ক্রমে, গৌরবাদ্ধিত হইয়া উঠিতে থাকিলে প্রবৃত্তি পক্ষ 
তখন এক ভীষণ ছলমার ফাদ পাতিয়া একবার নিবৃত্তিপক্ষকে রাজ্যট্যুত করে। 
জীব ধর্শরাজ্য প্রতিষ্ঠ। করিতে গেলে প্রথমে একবার তার প্রবৃত্তি সিদ্ধিলাভের 
ভীষণ ছলনায় তাহাকে প্রতারিত করে। নিবৃত্তিপক্ষ রাজ্াচ্যুত ও নির্বাসিত 
হয়। সিদ্ধির আশায় মুগ্ধ হইয়া জীব প্রবৃত্বির দ্বারা প্রতারিত হয় ও মুক্তির 
পথ হইতে আবার দূরে গিয়া পড়ে । | 

তারপর নানা প্রকার বাঁধ! বিদ্ব অতিক্রম করিয়া, বিরাট্‌ চৈতন্তের সাহায্যে 
যখন স্বরূপে সে নিবৃত্তিপক্ষ পরিস্কুট হইয়া উঠে, তখন পুনরায় কুরক্ষেত্রে 
প্রবৃত্তির সহিত ভীষণ সংগ্রাম চিত হয়। ইহাই কুরু-পাগুবসমর বা জীবের 
ধর্দুদ্ধ বা আকর্ষণ ও বিকর্ষণশক্তির অপূর্ব রণাবর্ত। 


ধন্মকেত-৮ 


ধর্নক্ষেত্র কাহাকে বলে? ধু ধাহুর অর্থ ধারণ কর|। যে চৈতগ্ময়ী 
মাডৃক্তি ষ্টিবূপ অনন্তুকোটি ত্রক্গাশ্ডমগ্ুলকে গ্জন করিয়া, ধারণ করিয়া 
পলহিয়ীছেন_তাহার নাম ধর্ম; অর্থাৎ পূর্ব্বে যে আকর্ষণী শক্তির কথ! বলিয়াছি, 
তাহাই ধর্শ ॥ প্রণবই ধর্ম। আর যে ক্ষেএ্রকে ধারণ করিয়া রহিয়াছেন, যে 
ক্ষেত্রে সেই শক্তির অপূর্ব্বলীলার নিত্যানুষ্ঠান হইতেছে, শ্থগ্িচক্রূপ সেই 
পুশ্বাওসম্্িকে ধর্ক্ষেত্র বলে। 

অনস্তৃকোটি সূরধ্য-চ্দ্র-তারকায় শৃশ্কমণ্ডল পূর্ণ । প্রণব সেই অনস্ত জ্যোতিক্- 
মলের প্রাণ) আর (নই নূর ত্দ্র-তারকাপুগ্জ সেই প্রাণশক্তির ইন্দিয়ুগ্রাহ্ 


উপনিষদ্রহন্ত ব1 ঈর্তার যৌগিক ব্যাঁণ্যা। ৯ 


বিকাশমাত্র বাঁ দেহ। আকাশে যেমন তড়িৎশক্তি বিছ্াাকারে বলসিয়! 
উঠিয়া আমাদের প্রত্যক্ষীভৃত হয় তেমনই: আকর্ষণী ও বিকর্ষপী শজির ঘর্ষণে 
্হ্মাগুমণ্ুল অগ্রিক্ুলিঙক্ষের মত ফুটিয়া উঠিয়াছে মাত্র। স্রধ্য-চন্দ্র-তরিকাদাশি 
আমার মায়ের লাবণ্যময় রূপতরঙ্গ | 

আনন্দময়ী মায়ের আমার আনন্দ ফুটিয়া উঠিয়। জ্যোতির আকারে 
ঝরিতেছে। সেই আনন্দের প্রশ্রবণ স্থানে স্থানে আবর্তিত হইয়া. সূর্য, চক্র 
তারকাকারে বিরাজিত। বাধুর আঘাতে যেমন অগ্নি হইতে স্ষুলিঙ্গরা্গি 
প্রক্ষিপ্ত হয়, তেমনই প্রবৃত্তির উচ্ছ্বাসে আনন্দময়ীর আনন্দলাবণ্য উচ্চুষ্ত 
হইয়া স্ষুলিঙ্গ আকারে চারি ধারে ছড়াইয়া পড়িয়াছে--অনন্তযোজনব্যাপী, 
বহ্মাগ্ডমণ্ডল রচিত হইয়াছে । এই আনন্দবিস্তৃতি বা ব্রহ্ধামগুল-সমগ্িকে 
ধর্মক্ষেত্র বলে। 

এই বিরাট জগংই ধর্মমক্ষেত্র। 


কুরুক্ষেত্র -- 

যে ক্ষেত্রে “কুরু”--“কুরু” অর্থাং “কর” “কর” রব প্রতিনিয়ত ধ্বনিত, 
তাহাকে কুরুক্ষেত্র বলে। 

মন্ত্যের প্রবৃত্তি অহর্নিশ মন্ধুয্যকে কর্মে “কুরু”_ “কুরু” বলিয়! নিযুক্ত 
করিতেছে । কুরুপক্ষের দ্বারা বা প্রবৃন্তির দ্বারা মনুষ্যন্ছদয় সাধারণত; 
অধিকৃত-_ইন্দরিয়ক্ষেত্রের উপর প্র্তির পূর্ণ অধিকার । 

সেই জন্য যৌগিক কথায় মন্যদেহকেই কুরুক্ষেত্র বলে। 

বস্তুতঃ মমুস্তহৃদয় ভগবানের লীলাভূমি--জীবাত্ম। ও পরমাত্মার পুর্ণ মিলনের 
হিরগ্ময় মন্দির--বিরাটী জগতের একটী আদর্শ ক্ষেত্র। বিরাটে যাহা! আছে, 
মনুষ্যদেহে তাহাই পূর্ণরূপে প্রতিফলিত । মাতৃশক্তির প্রত্রেক স্ফুরণ, প্রত্যেক 
বঙ্কার মনুষ্য-হৃদয়ে স্কুরিত হয়। ফটোযন্ত্রের ক্ষুদ্র কাচখণ্ডে যেমন বিশাল 
: আকাশের ছায়া পড়ে, তেমনই বিশাল জগতের প্রতিচ্ছায়া মন্ুষ্য-হদয়ে প্র্চি- 
বিদ্বিত। লক্ষ লক্ষ ক্রোশ্শ, বিস্তৃত বিশাল নূর্য্য যেমন আমাদের চক্ষে একখানি 
ষ্জ নুবর্ণচক্রের মত প্রতিফলিত হয়, তেমনই ভু তুবঃ ন্বঃ আদি সথল্োক 
মনুষ্য হদয়ে, প্রতিবিদ্বিত । | 

যদিও জীবমাত্রেরই হদয়ক্ষেত্র অহন উত্তেছ্ছিত 'হয়। কিন্ত মহুন্ধাযদয়েই 


৮ উপনিষণ্রহন্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


তাহার পূর্ণ বিকাশ। অন্যান্য জীব-দেহে ইন্রিয়সকল পূর্ণভাবে অভিব্যক্ত 
নহে বলিয়া ইন্ডরিয়ের উত্তেজনাও পর্ণভাবে হইতে পায় না। 

পাঠক। এ কুরুক্ষেত্র যদি বুবিতে চাও, তবে একবার স্থিরচিত্তে নয়ন 
মুদ্দিত করিয়া উপবিষ্ট হও। ভাব-_এক বিশাল আকাশ ব্যতীত আর কিছুই 
নাই। উদ্ধে। নিয়ে, সম্মুখে, পশ্চাতে, পারে, চারি ধারে যত দূর দৃষ্টি চলে, 
তোমার কল্পনার চক্ষু যত দূর তোমায় দেখাইতে পারে, ভাৰ-_কিছুই নাই, 
কেবল শুন্য! শূন্য ! শূন্ত! অনন্ত অফুরন্ত আকাশ অনন্ত দিকে বিস্তৃত, আর 
কিছুই নাই! পৃথিবী, জল, স্থল, বৃক্ষ, পশু, পক্ষী, মনুষ্য কিছুই নাই কেবঙগ 
শন্য, শূন্য _-আর সেই শুণ্যে তুমি ভাসমান। আকাশে যেমন কপোতাদি 
উড়্িতি উড়িতে এক একবার বায়ুসমুদ্দের উপর ভর দিয়া স্থির হইয়া থাকে, 
মন্দশ্রোতের তৃণের মত যেমন সে পক্ষী বারুসমুদ্রের উপর ভাসিতে ভাসিতে। 
ধীরে ধীরে যায়, মনে কর-_তুমিও তেমনই এ আকাশ-সমূদ্রে ভাসিতেছ। 
আর জলন্তরোতের আন্দে।লনে যেমন তৃণখণ্ড তালে তালে আন্দোলিত হয়, 
তেমনই তুমি সেই বিশাল আকাশ-সমুদ্রে তরঙ্গে তরঙ্গে আন্দোলিত। যদি 
একবার এই ভাবে শৃন্য কপ্পনা করিয়া, কল্পনায় শৃহ্ছে উপবেশন করিয়া, মন হইাতে 
ভাঁবতরঙ্গরাশি মুছিয়। ফেলিতে পার, তবে দেখিবে-তোমার চিদাকাশে বিরাট 
জগতের ছায়া পড়িয়াছে। স্থির জলে চন্দ্রসধ্যের প্রতিবিম্বের মত তোমার 
চিদাকাশ ভূঁঃ, ভূব; আদি সপ্তলোকের প্রতিবিম্বে বিশ্িত। 

দেখিবে, তোমারই হৃদয়াভ্যন্তরে ব্রদ্ধা। বিষণ, মহেশ্বরাদি দেবতা যোগাঁসনে 
বসিয়া, মায়ের অনন্ত বিশাল বিরাট শক্তিতে সংযুক্ত হইয়া, হ্মপ্টি-স্থিতি-লয়াদি 
মাতৃকার্য সম্পাদন করিতেছেন--সব যোগে মগ্ন। বিরাটে যেমন সূর্ধ্য, চন্দ্র, তারকা 
ফুটিয়া উঠিতেছে, আবার নিভিয়! যাইতেছে, তোমার হৃদয়েও তেমনই জ্যোতির 
স্ুরণসকল উঠিতেছে, থাকিতেছে, মিলাইয় যাইতেছে । তারহীন বার্তীবহ যন 
যেমন ঈথার বা ব্যোম-সমুদ্রের তরঙ্গে আন্দোলিত হয়, তেমনই তোমার মনোময় 
ক্ষেত্র বিরাট শক্তিস্ষুরণের তালে তালে আন্দোলিত হইতেছে । তোমার 
মনোময় ক্ষেত্রের এ সমস্ত তরঙ্গ আন্দোলনের নামই মানসিক বৃত্তি। এ তরঙ্গ- 
প্গন্দনসকল চক্ষু, কর্ণ, নাসিকাকারে প্রচ্থত হইয়া তোমাকে অহনিশ কর্মে 
নিযুক্ত করিতেছে । সেই জন্য জীব এক মুহূর্ত কর্ণ ছাড়িয়া থাকিতে পারে না। 
সেই জন্ দেহকেই শাস্ত্র কুরুক্ষেত বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন । 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথা । ৯ 


সমবেত। মুযুৎসবঃ মামকাঃ পাণ্ুৰাশ্চৈৰ _ 

যুদ্ধেচ্ছু হইয়া সমাগত । মামকাঃ--অর্থাৎ প্রবৃত্তিপক্ষ এবং পাগুবাঃ অর্থাৎ 
নিবৃত্তিপক্ষ। প্রবৃত্তিপক্ষ অর্থে--বিকর্ষণীশক্তি যাহা পূর্বে বলিয়াছি। পাগুবাঃ-- 
নিবৃত্তিপক্ষ, আকর্ষণীশক্তি । 

পুর্বে যে প্রণব বা আকর্ষণীশক্তির কথা বলিয়াছি, তাহাই নিবৃত্তি বা আত্মাভিমুখী 

শাক্তি। প্রবৃত্তি বা বহিন্দুখী চাঞ্চল্য বিগত হইলেই উহ সম্যক্ভাবে প্রকাশ পায়। 
সেই শক্তির দ্বারাই জীব পুনরায় শক্তিময়ী মায়ের আমার চরণে যুক্ত হয়। সেই জদ্য 
উহাকে জীবের আক্মশক্তি বলে । এ বিকর্ষণীশক্কি ব৷ প্রবৃত্তি বা জীবভাবীয় স্বসতীা- 
বোধ যত দিন প্রবল থাকে, তত দিন জীব আত্মরাজ্যের প্রতিষ্ট। করিতে পারে না । 
জীবাস্ম। আত্মরাজ্য প্রতিঠা বা মাতৃ-অঙ্কে যুক্ত হইবার আকাঙ্গায় চেষ্টিত থাকে, 
মায়ের অঙ্কে উঠবার জন্য লালায়িত হইয়া অহন্নিশ বিকর্ষনীণক্তিকে উচ্ছেদিত 
করিতে প্রয়াম পায়। প্রবৃত্তির ছলনার মোহে মুগ্ধ হইয়া সময়ে সময়ে জীবকে 
নিশ্চেই বলিয়া মনে হয় সত্য, কিন্ত জীবের অন্তরে অন্তরে অহনিশ পূর্ণ মিলনের 
প্রবল আশ! উদ্দীপিত থাকে । পাগুবের নির্র্বাসন বা অজ্ঞাতবাস ফুরাইলে আবার 
জীবাস্বার আত্মশপ্ডজি স্ষুরিত হইয়া উঠিয়া! প্রবৃত্তিকে ধ্বংস করিতে প্রয়াস পায়। 
সাধারণ মনুষ্য পাগ্ডবের নির্বাসিত অবস্থার মত প্রবৃত্তির দ্বারা আত্মরাজ্য হইতে 
নির্বাসিত হইয়া আছে । তদপেক্ষা ধাহারা ঈষৎ উন্নত, তাহারা নির্ববান অবস্থ। 
হইতে অজ্ঞাতবাস অবস্থায় আসিয়া পৌছিয়াছেন অর্থাৎ নিত্যানিত্য-বিবেক 
হইয়াছে, কিন্তু নিত্য আত্মসন্ত। তখনও উপলব্ধ হয় নাই--অন্ঞাতই আছে। বাহার! 
তাহাদিগের অপেক্ষা উন্নত, তাহাদ্িগের হৃদয়ক্ষেত্রে সমরায়োজন সুচিত 
হইয়াছে । এই অবস্থায় জ্ঞানত; যোগের স্ৃচন। হয়। 

পূর্বে বলিয়াছি, আকর্ষনীশক্তি, প্রণব, নিবৃত্তি, এ সমস্ত একই কথা। এ 
আত্মশক্তি শরীরস্থ পঞ্চ কোষে পাঁচ ভাগে বিভক্ত । তাহার্দিগকে সাধারণ কথায় 
পঞ্চ প্রাণ বলে। পঞ্চ পাণ্ডব এই পঞ্চ প্রাণ; তন্মধ্যে যে অংশটুকুর নাম প্রাণ, 
জীবের আত্মশক্তি তাহাতেই পূর্ণভাবে বিরাজিত । এই জন্ত জীবাত্মাকেই 
অর্জন বলিয়া উল্লেখ কর! হইয়াছে । 

বস্ততঃ, প্রবৃত্তি ও নিবৃত্তির সংগ্রাম অর্থে--ওবাণ বা হৃদয় ও মনের সংগ্রাম । 
প্রাণপ্রতিষ্টাই এ সমরের উদ্দেশ্া। হায় ! এখনও গৃহে গুছে প্রতিমা আসে-_-এখ' 
নও গৃহে গৃহে দেখিতে পাই--মাতৃপুজার আয়ে/জন হয়, এখনও গৃহে গৃহে মায়ের 

২ 


১, উপনিষা্রহশ্ত বা নীতার যৌগিক বাধ্যা। 


(চি 

মঙ্গল-ঘট সংস্থাপিত হয়, এখনও গৃহে গৃহে "মা মা” রবে সকরুণ ৪ টি 
ফুটিয়া উঠিতে শুনিতে পাই, গৃহে গৃহে কোথাও দশতুজা--কোথাও চতুষ জা 
কোথাও দ্বিভূজা--কোথাও সিংহবাহনে-কোথাও শবাসনে-_ কোথাও পন্মাসনে 
মায়ের আমার প্রতিমা নির্মাণ করিয়া মাতৃদর্শনাকুল সন্তান মাকে এখনও দেখিতে 
প্রয়াস পায়। কিন্তু মায়ের প্রাণপ্রতিষ্ঠ। হয় কি? সাধক আত্মপ্রাণ প্রতিষ্ঠা 
করিতে না পারিলে, প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্টা করিতে পারে না। প্রাণ প্রতিষ্ঠা 
না হইলে, মা প্রতিমাতে ফুটিয়া উঠিয়া দেখ! দিতে পারেন না, আহুত। হইয়াও 
অনাহৃতার মত দ্বার হইতে মা আমার ফিরিয়া যান। কিন্তু সে অন্য কথা_ 

পূর্বে বলিয়াছি, সাধারণতঃ জীব নির্ব্বাসিত অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ তাহার 
চিৎ বা চৈতন্তরাজ্যের উপর মনের আধিপত্য থাকে । প্রাণশক্তি অরণ্যে অজ্ঞাত- 
বাসে অবস্থান করে। যোগ অবস্থার সুচনা হইলে জীব, মনকে-_বহিশ্গুখী গতিকে 
চৈতম্যরাজ্য হইতে দুরীকৃত করিয়া, আস্মশক্তিকে বা প্রাণশক্তিকে চৈতন্ত-রাজ্যে 
অধিষ্ঠিত করিবার প্রয়াস পায়। ৃ 

আবার বলি, প্রণব ব। আকর্ষণীশক্তি বা গ্রাণশঞ্তির সমুদ্রে জীব মগ্র হইয়া 
আছে। জীবের সংস্কার সে প্রাণশক্তিত্রোতকে অবরুদ্ধ করিয়া, সে 
শর্জিকে বিক্ষিপ্ত করিয়া দেয়, ভিতরে গুবেশ করিতে দেয় না। কিন্তু 
জীবের সংস্কারের আবরণের ভিতর নিজের প্রাণশক্তিটুকু আছে, সেইটুকু এ বিরাট্‌ 
প্রাণশক্তিকে আকর্ষণ করিতে প্রয়াস পায়। মন ব! প্রবৃত্তিপক্ষ মধ্যে থাকিয়া 
তাহা করিতে দেয় না। নিরাট্‌ প্রাণশক্তির আঘাতে ক্ষুব্ধ হইয়া মানসিক বৃত্তির 
আকারে মন ফুলিয়! উঠে এবং নিজে বিরাট জগৎকে উপভোগ করে। এই জৈব 
মনের অবরোধ ভাঙ্গিয়া, জীবরপ ক্ষুদ্র ত্রদ্ধাণ্ডের প্রাণশক্তিকে বিরাট বিশ্বজননীর 
প্রাণশক্তিতে মিলিত করিবার চেষ্টার নামই কুরুপাগুব-সমর। 

কিমকুর্বত সপ্তীয়-_ 

জীবাত্মা এই যোগ-সংগ্রামের সুচনা হইতে আরম্ভ করিয়া, বিষাদ আদি নান! 
ভাব বা যোগের স্তরের ভিতর দিয়! শেষ যখন বিরাট বিশ্বশ্ডিকে দেখিয়া 
কৃতকৃতার্থ হয়, যখন দেখে-_বিশাল ব্রদ্মাণ্ডের অণু পরমাণু সে বিরাট কেন্দ্রের 
দিকে ছুটিতেছে, সমস্ত উপাধি ভাঙ্গিয়া লয় প্রাপ্ত হইয়া এক বিরাট শক্তিতে 
মিলাইয়া যাইতেছে, দেখিয়া যখন তাঁহার সমস্ত সন্দেহ মিটিয়া যায়, তাহার 
প্রাণের আকুল 'পিগাসা মখন পূর্ণ পরিতৃপ্ত হয়, অপূর্বব জ্যোতির দিগ্দিগস্তব্যাপী 


উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখা | ১৬ 


শ্রবণ দর্শনে হখন সে অগাধ নৃুগ্তির মত পূর্ণ শান্তি প্রাপ্ত হয়, তখন তাহার 
প্রবৃত্তি প্রজ্ঞাকে পে অপূর্ব দর্শনের ব্যাপার জিজ্ঞাস! করে; অর্থাৎ যোগস্থ হইয়া 
বিশ্বরূপ দর্শনের পর, জীবাত্বা যখন আবার জীবভাবে ফিরিয়া আসে, তখন সে 
দর্শনের যে ঈষৎ আভাস স্মতিরূপে বর্তমান থাকে, অন্ধ প্রবৃত্তি সেইটুকু শুনিবার 
জন্য ইচ্ছুক হয়। যোগাবস্থার পর জীব মনে মনে আবার সেই বিষয়ে আন্দোলন 
করে। তার প্রবৃত্তি ধেন প্রগ্ন করে এবং স্মৃতি যেন. সে দর্শনের আভাসটুকু 
সবিস্তারে বর্ণনা করিতে থাকে । প্রথম শ্লোকের ইহাই মন্ার্থ। 

এই অবধি যাহা বলিলাম, তাহার সারাংশটুকু আবার একবার বর্ণন। 
করিতেছি । কেন না) বিষয় বড় জটিল। প্রথমের এই স্ুচনাটুকু উত্তমরূপে 
হৃদয়জম করিতে না পাঁরিলে, গীতার ভিতর কেন প্রবেশ করিতে পারিবেন না। 

কুরুপাগুব-সমর অর্থে মন ও প্রাণের সংগ্রাম বুঝায় | মন ও প্রাণ এ ছটা 
বস্ততঃ ভিন্ন ভিন্ন শক্তি নহে, প্রাণশক্তির বহিম্মুখী অবিদ্ঠারূপ জীব-সংস্কারের সন্কর- 
বিকল্পাত্মক কর্মামর গতিকেই মন বলিতেছি। প্রণব, আকর্মণীশক্তি ও প্রাণশক্তি 
যেমন একই কথা, সেইরূপ সেই প্রণ ববা আকর্ষনীশক্তি ব৷ প্রাণশক্তি জীবের 
সংগ্রারাচ্ছ্ন হৃদয়ে প্রতিরোধ পাইয়া বহিশ্মুখী যে গতি প্রাপ্ত হয়, তাহারই নাম 
বিকর্ষণীশপ্তি, বিক্ষেপশক্জি, প্রবৃত্তি বা মন। এ কথ পুর্বেব সবিস্তারে বলিয়াছি। 

যখন কেহ যোগস্থ হইয়া ভগবানে যুক্ত হইতে প্রয়াস পায় অর্থাৎ চৈতন্তরাজ্যে 
& প্রাণশক্তির প্রতিষ্ঠা করিতে ইচ্ছুক হয়, তখন তাহাকে মনেব সহিত সংগ্রাম 
করিয়া, তাহাকে উচ্ছেদিত করিতে পারিলে, তবে সে নিজ প্রাণপ্রতিষ্ঠায় কৃতকার্ধ্য 
হইতে পারে। এই প্রাণপ্রতিষ্টার নামই কুরুপাগুবের সমরে কৌরবের সংহার 
এবং পাগ্বের রাজ্য প্রতিষ্ঠ! ৷ 

প্রাণশক্তি অর্থে এখানে কেহ বায়ু মনে করিবেন না। চৈতম্যশক্তির টা 
গতির নামই এখানে প্রাণশক্তি । 

তাহা হইলে মোটের উপর পাইলে কি? তুমি একটি জীব, মায়ের আমার 
বিশাল শক্তিক্ষেত্রের বা ধর্মক্ষে তের মধ অধিষ্ঠিত। তুমি জীবাত্বা বা বিশাল 
মাতৃশক্তির একটা ক্ষুদ্র সংস্কারাচ্ছন্ন অংশ নির্বাসিত পাগুবের মত প্রবৃত্তির ছলনায় 
আত্মরাজ্য হইতে বঞ্চিত। তোমার যথার্থ ব্বরূপে তুমি প্রকাশ হইতে পারিতেছ 
না।. .ইন্দ্রিয়রাশিসমন্ধিত মন তোমার চৈতন্তাজো প্রতিষিত।. মা তোমায় 
ডাকিতেছেন ; বিশ্বজননী মা আমার প্রণবরূপ. অমৃতময় ন্নেহসম্তাযণে অহমিশ 


১২ উপনিষদ্রহত্ত বা গীভার যৌগিক ব্যাখ]| । 


: তোমায় ডাকিতেছেন। কিন্ত সে মাতৃআাহ্বান তোমার প্রবৃত্তি ও মন কর্তৃক 
বিক্ষিপ্ত হইয়া, জগদাকারে সাজিয়া, অনাথ জগদৃতাগ গ্রহণ করিয়া, তোমার চক্ষে 
প্রতিফলিত হইতেছে । মায়ের আমার স্ষেহুময় সম্ভাষণ, জড় ফল ফুল, বৃক্ষ লতা, 
চন্দ্র সূর্য্য ইত্যার্দিরূপে তোমার হৃদয়ে প্রতিফলিত হইতেছে । 
বস্তত জড় বা অনাত্ম স্বতন্ত্র জগৎ বলিয়া কিছু নাই; ব্রহ্মাণ্ড বলিয়াও কিছু নাই, 
এ সমস্ত বিরাটেরই কল্পনামৃত্তি। সেই কল্পনায় মুগ্ধ হইয়া, মাতৃ-অংশরূপ আমরা 
যখন মাকে হারাইয়া ফেলি তখন হইতে এ বিরাট ত্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক পরমাণু 
অর্থাৎ আমর! “ম! মা” করিয়। কাদিতে থাকি, আর তাহার প্রত্যুত্তরম্বরূপ মা 
আমার প্রণবাকারে উত্তর দেন,আমরা বুঝিতে পারি না--আমরা মায়ের সে উত্তর 
শুনিতে পাই না,--মায়ের হলে আহ্বান আমাদের শ্রবণকুহরে আসিয়া পৌছায় 
না। তাই মা আমার নানাপ্রকারে আহ্বান করেন--যাহাতে শুনিতে পাই, এমনই 
করিয়া সে আহ্বানকে আমাদের ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যরূপে পরিণত করিয়া, ফল ফুল আদি 
নান সাজে সাজাইয়া, আমাদের প্রাণের ভিতর সে আহ্বানের তরঙ্গ ফুটাইয়। 
তুলিতে প্রয়াস পান। 
তোমার প্রাণ প্রত্যেক পদার্থের উপর ছুটিতেছে, প্রত্যেক পদার্থের উপর 
চলিয়া পড়িতেছে, মায়ের আহ্বানবাণীর আকর্ষণে প্রত্যেক পদার্থে মাকে অন্বেষণ 
করিতেছে, কিন্তু তোমার মন মাতৃ-আহ্বান বলিয়। পদার্থ নিচয়কে চিনিতে দিতেছে 
না; সে মাতৃ-আহ্বানের উপর মাত্র ফল, ফুল, বৃক্ষ, স্ত্রী) পুত্র ইত্যাদি নানারূপ 
এন্্জালিক ছদ্মবেশ পরাইয়৷ তোমার চক্ষে প্রতিফলিত করাইতেছে ৷ ভ্রমে 
পতিত হইয়া তোমার প্রাণ বুঝিতেছে--উহা! মায়ের ডাক নহে, উহ! ফল ফুল, 
স্ত্রী পুত্র ইত্যাদি ব্বতন্ত্র স্বতন্ত্র অনাত্ম বস্তব | 
এ যে একটা হুন্দর ফুল দেখিয়া তোমার চিত্ত মুগ্ধ হইল, তুমি অশেষ প্রকার 
যত্বে ফুলটা সংগ্রহ করিতে লাগিলে, যেন এ ফুল ছাড়া আর জগতে তোমার 
কোনও প্রিয় বস্তু নাই। এমনই ভাবে কিছু দিন সেই ফুল উপভোগ করিলে ; 
তারপর দেখিলাম, আর নে ফুলের জন্য তোমার স্পৃহা নাই। 
কেন এমন হইল ? যথার্থ তোমার প্রাণ কি ফুলটা দেখিয়। মুগ্ধ হইয়াছিল ? 
ভবে যে ফুল পাইতে একদিন তুমি প্রাণ পধ্যন্ত পণ করিয়াছিলে, আজ আর 
তোমার কাছে তাহার আদর নাই কেন? তাহার সে আকর্ষণ কোথায় গেল ? 
তোমার প্রাণকে আর কেন সে আকৃষ্ট করিতে পারে না ?--তাহা! নহে। 


উপনিষদ্রহন্ত বা গীভার যৌগিক ব্যাধ্যা। ১৩ 


তোমার প্রাণ নূতন ফুল দেখিয়া মুগ্ধ হয় নাই। মাতৃ-অন্বেধী মৃগশিশুর মত 
তোমার প্রাণ মাকে অহনিশ অন্বেষণ করিতেছে । মায়ের অমৃতময় আহ্বানধ্বনি 
চারি ধার হইতে তোমার প্রাণকে টানিতেছে। চারি ধারে তোমার প্রাণ মাতৃ- 
অঙ্কে উঠিবার জন্য “মা” “মা” করিয়া ছুটিতেছে। মাতৃ-চরণলাভরূপ রাজ্য 
প্রতিষ্ঠার জন্য তোমার প্রাণ চমকিতভাবে অহনিশ অপেক্ষা করিতেছে । যখনই 
কোন নৃতন বস্তু তোমার ইন্দ্রিয় আনিয়া! তোমার প্রাণে উপস্থিত করে, অমনই 
তোমার এ1ণ “এ বুঝি মায়ের আহ্বান বলিয়া, তাহার উপর ঝণপাইয়া৷ পড়ে। 
কিন্ত হায়! তোমার প্রাণ যে মনের দ্বারা আচ্ছাদিত! সে আচ্ছাদন সে 
জিনিষটাকে মাতৃ-আহ্বান বলিয়। চিনিতে দেয় না। সে তাহার সংস্কার বা অজ্ঞানান্ু- 
যায়ী সেটাকে অচিৎ জড় ফুল বলিয়া তোমার প্রাণের চক্ষে প্রতিফলিত করে। 
মনরূপ আচ্ছাদনটী অনাতুজ্ঞানরূপ আর একটা আচ্ছাদন শ্ছজিত করিয়! তোমার 
প্রাণের চক্ষের উপর একটা সুদৃঢ় আবরণ ফেলিয়। দেয়। আর তুমি মাতৃ-আহ্বান 
বলিয়া সেটাকে চিনিতে পার না । তোমার প্রাণ, “তবে বুঝি ইহ! মাতৃ-আহ্বান নহে; 
বলিয়া,সে দিক্‌ হইতে ঘুরিয়া দাড়ায়। সাধারণ লোকে দেখে__ফুলের উপর আর 
তোমার স্পৃহা নাই, ফুল নৃতনত্ব হারাইয়া তোমার চক্ষে পুরাতন হইয়া গিয়াছে । 

এইরূপে মনের দ্বারা প্রত্যেক পদার্থে তোমর৷ প্রবঞ্ধিত হইতেছ। যেখানে 
নৃতন, যেখানে মনের ছারা তোমার চক্ষু অন্ধ নহে, নেইখানেই তোমার প্রাণ 
ছুটিতেছে--সেইখানেই তোমার ক্ষুধার্ত প্রাণ মাতৃ-স্তনধারা পান করিবার জন্য 
ঝাপাইয়া পড়িতেছে। কিন্ত হায়! গোপাল যেমন গোবংসের মুখে জাল 
পরাইয়া ছাড়িয়া দেয়, তেমনই ভাবে ভোমার প্রাণ মনের দ্বারা আবৃত । তুমি 
সে নৃতন পদার্থটি নাড়িয়া চাড়িয়া, কিছু দিন তাহাতে মাতৃঅন্কুসন্ধান করিয়া, 
তারপর নিরাশচিত্তে তোমার মন কর্তৃক প্রবঞ্চিত হইয়া ফিরিয়া পড়, আর 
তাহাতে তোমার স্পৃহা থাকে না। 

শুন | গুন | জীব! এ মা আমার তোমায় ডাকিতেছেন ! যাহা দেখিতেছ-- 
যাহা গুনিতেছ-_যাহা আন্বাদন করিতেছ-_যাহা কিছু ইন্জিয়ের দ্বারা উপভোগ 
করিতেছ, সে সমস্ত আর কিছুই নহে, আনন্দময়ী মায়ের আমার স্পেহময় আম্বান। 
বিকারাচ্ছ্ন সন্তানকে তাহার মন অনুযায়ী প্রিয় জিনিষের নাম করিয়া, শয্যাপার্্ে 
অনিমিষ লোচনে বসিয়া, মা যেমন বলেন, “বৎস ! একবার চাহিয়া দেখ ! তোমার 
প্রিয় বস্তু আনিয়াছি, একবার--একবার মা বলিয়া আমায় সম্ভাষণ কর” কিন্বা 


১৪ উপনিষ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক হাখা। 


প্রিয় জিনিষের নাম করিয়া, যেমন তাহাকে গুষধধ পান করান, তেমনই ভাবে 
তোমার মন অনুযায়ী অনাক্সরবিলাস ধরিয়! মা তোমায় ডাকিতেছেন, জ্ঞানৌষধ পান 
করাইতেছেন। গুন ! দেখ ! চন্দ্র--চন্দ্র নহে,-মাতৃআহ্বান, সূর্য্য--শৃষ্য নহে,” 
মাতৃ-আহ্বান, জগং__-জগৎ নহে)--মাতৃ-আহ্বান। মাত! পিতা, শ্রী পুত্র-- 
মাতা-পিতা্ত্রী-পুত্র মাত্র নহে-_মাতৃ-আহ্বান । ঈর্ধা-ঈর্ধা নহে-_মাতৃ-আহ্বান, 
ভলিবাঁস--ভালবা! নহে, মাতৃ-আহ্বান, করুণা--করুণ! নহ্ে-.মাতৃ-আহ্বান, 
স্নেহ--সেহ নহে--মাতৃ-আহ্বান, হিংসা-_হিংসা নহে-_মাতৃ-আহ্বান। অনন্ত দিক্‌ 
হইতে অনস্তরূপে মা তোমায় ডাকিতেছেন--অনস্ত দিক্‌ হইতে সে আহ্বানের সঙ্গে 
সঙ্গে প্রাণশক্তিরূপ স্তনধারা ঢালিয়। দিতেছেন। মাতৃ-অন্বেধষী শিশু ! মায়ের 
আমার রক্তচরণে কে শির লুটাইতে চাহ-ছুটিয়া আইস ! মাতৃস্তনধারা কে পান 
করিতে চাহ-_ছুটিয়া আইস ! মায়ের অস্কে কে যুক্ত হইতে চাহ-__ছুটিয়া আইন । 

কিন্ত মন তোমায় সে আহ্বান গুনিতে দিতেছে নামন তোমায় সে আহ্বানের 
অমৃতময় আশ্বাদন হইতে প্রবঞ্চিত করিয়া রাখিয়াছে--মন সে আহ্বানকে নিজ 
ইচ্ছান্ুযায়ী উপভোগ করিতেছে ; তোমাকে সুচ্যগ্রও দিতেছে না। এ মনকে 
দমিত কর--মনের বিপক্ষে সমর ঘোষণ! কর; তুমি জয়ী হইবে। মায়ের বিশ্বরূপ 
দর্শনে কৃতার্থ হইবে । 

তখন তোমার অন্বপ্ররৃত্তি তোমার সঞ্চিত জ্ঞান ব৷ স্মৃতিকে সাগ্রহে অথচ 
বিষগ্নচিত্তে, বিষাদে অথচ সবিম্ময়ে জিজ্ঞাসা করিবে, 

ধরম্মক্ষেত্রে কুরুক্ষেত্রে সঘবেতা যুযুৎসবঃ। 
মামকাঃ পাগডবাশ্চৈব কিমকুর্বত সঞ্জয় ॥ 

রণস্থলের সংবাদ বল ত? আত্মপ্রতিষ্টালাভের জন্য পাগ্ডবরূপ প্রাণশক্তি, 
আমার পুত্র ছুর্য্যোধনাদির বিপক্ষে যে সংগ্রাম সুচনা করিয়া, দেহরূপ কুরুক্ষেত্র 
সমবেত হইল--হুইয়া। করিল কি? প্রাণ যখন যোগস্থ হইবার জন্ত চেষ্টা করিল, 
এবং মন তাহাতে বি্ব প্রদানে অগ্রসর হইল, তখন উভয় পক্ষের মধ্যে কি 
ঘটিল? দেহরপ কুরুক্ষেত্ররণাঙ্গনে পঞ্চ প্রাণরূপ পঞ্চ পাগুবই বা কি করিল, 
এবং মনরূপ ছুর্ব্যোধনই বা কি করিয়াছিল? 

এখানে আবার বলি, কেহ যেন মনে ন|! করেন, গীতা পুরাণের রূপকচ্ছলে 
লিখিত 'একটা যোগবিজ্ঞান মাত্র; বস্তত; বুঝি কুরুপাপ্বযুদ্ধের কোন 
এতিহানিক ভিত্তি নাই। কুর্পাগুবসংগ্রাম একটা জপ্পূর্ণ সত্য এঁতিহাসিক 


উপনিষম্রছত্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ১৫ 


ঘটনা । ধু" সত্য নহে, একটি চিরসত্য, সনাতন, এশ্বরিক নিয়ম, আদর্শ 
এঁতিহাসিক ঘটনারূপে সংঘটিত হইয়াছিল । ভগবান্‌ প্রত্যেক জীবকে মুক্তির' 
দিকে লইয়া! যাইবার জগ্ঠ তাহার হৃদয়ক্ষেত্রে অবতীর্ণ হইয়া, জীবাত্বার সারথ্য 
স্বীকার করিয়া যেমন তাহাকে লইয়া যান, তেমনই ভাবে তিনি কুরুক্ষেত্ররণাঙ্গনে ' 
অবতীর্ণ হইয়া, অর্জুনের সারথ্য স্বীকার করিয়া, পাগুবপক্ষকে কৃতকৃতার্থ 
করিয়াছিলেন । কুরুপাগুব-সমর কল্পনা নহে। পাঠককে ভূমিকা দেখিতে 
'অনুরোধ করি। 

একটা জীব যে এরশ্বরিক নিয়মে মুক্ত হয়, সমগ্র ব্রদ্মাণ্ড সেই একই নিয়মে 
মুক্তিলাত করে। গুধু তাহা নহে, জীবের প্রত্যেক কাধ্যটি বিশ্লেষণ করিয়া! 
দেখিলে, চ্গুম্থান্‌ ব্যক্তি তাহার ভিতর সেই একই নিয়মপ্রবাহ দেখিতে পান। 
কুরক্ষেতেও মেই নিয়ম এ্রতিহানিক ঘটনারূপে ফুটিয়। উঠিয়াছিল। 


সঞ্জয় উধাচ। 
দৃক্ট1 তু পাগুব'শীকং ব্যঢং ছূর্েযোধনন্তদ। | 
আচাধ্যমুপসঙ্গম্য রাজ! বচনমব্রবীৎ ॥ ২ 


সঞ্চয় কহিলেন,তখন রাজা ছুর্যোধন পাগুবগণকে ব্যুহিত দেখিয়া, 

আচার্যের নিকট গমন করিয়া কহিলেন । 
0171129াল হাউাা টাাটাতাছাকে 

ছু্যোধন-- ১৩, 05555585551 85775544% 

যাহার সহিত যুদ্ধ কর! ছুঃসাধ্য, তাহাকে ছুষ্যোধন বলে। হুর্য্যোধন অর্থে 
--মন। মনকে জয় করার মত হুঃসাধ্য কন্ম নাই বলিলেও অস্্যুক্তি হয় না। 
রণক্ষেত্রে একজন বীর শত শন্্রধারীকে পরাজিত করিতে পারে, সেরূপ বীর- 
কাহিনীতে মন্ুষ্তের ইতিহাস পরিপূর্ণ ; কিন্ত মনকে জয় করিয়াছে, এরূপ বীরের 
পরিচয় অতি অল্পই শুনিতে পাওয়া যায়। জগতের সব্বকম্ম অপেক্ষা! মনোজয়ই 
সমধিক ছুরহ। মনের শরীর লৌহময়। এবং জীবের হুদয়ক্ষেত্রে মনরূপ 
ছুর্ষ্যোধনেরই একাধিপত্য । এই মন বা ছুধ্যোধনকে মারিবার একটা মাত্র 
কৌশল আছে। সে কৌশল-_তাহার উরুভঙ্গ কর! বা চলচ্ছক্তি রহিত করা। 
দুর্য্যোধনের উরুভঙ্গেই ভারতযুদ্ধের অবসান হইয়াছিল। মনের চলচ্ছক্তি রোধ 


কনিতে পারিলেই জীবের হৃদয়রূপ কর্ণাকষেত্রের মহাযুদ্ধের অবসান হয়। 
(5 জন 18 পাটপত ১৮1৮ নিতাহা 


উপনিষদ্রহত্ত ব| গীতার যৌগিক ব্যাখা 


১৬ 

বস্তুত: মনের মত চঞ্চল আর কিছুই নহে! মনের চঞ্চলতা যত দিন ন! রোধ 
হয়, যত দিন না মন ভগ্রপদ হইয়া চলচ্ছক্কিহীনভাবে হৃদয়ক্ষেত্রে নিস্তেজ হইয়া 
পড়িয়া থাকে, তত দ্দিন পাগুবের বা প্রাণশক্তির সমরবিজয় সম্পূর্ণরূপে সংসাধিত 
হয়না । মন যত দ্রিন না স্থির হয়, তত দিন জীবের আত্ম প্রতিষ্ঠা সুদুরপরাহত। 
মন স্থির হইলে বা মনকে ভগ্নপদ করিতে পারিলে, আপন। হইতেই সে মৃত্যুমুখে 
পতিত হয়। লৌহময় মনের মৃ হ্যু--চরণে |! উরি ভাজিতে না পারিলে, মন 
মরে না । মনকে মারিতে হইলে, তাহার উরুদেশ বা তাহার গতিশক্তির উপর 
আঘাত করিতে হয়। 

চঞ্চলতাই মনের জীবন। এ চঞ্চলতা যতক্ষণ না রোধ হয়, ততক্ষণই 
কুরুক্ষেত্র সংগ্রাম । সাধনার থে অগ্রসর হইতে হইলে. সর্বপ্রথম সাধকের 
ইচ্ছাশক্তিকে মনের গতি রোধ করিবার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় বদ্ধ করিতে হয়। 
লাঞ্িতা দ্রৌপদী রাজসভায় ছুর্য্যোধনের উরুভঙ্গের জঙন্ত ভীমকে প্রতিজ্ঞাপাশে 
বন্ধ করিয়াছিলেন । ভীম--উদাননামক কণস্থ উর্ধাভিমুখী প্রাণশক্তি। এই 
কঠন্থ প্রাণশক্তির জপব্ূপ গদ। বা অন্ত্রের আঘাতে মনরূপ দুর্ধ্যোধনের উর 
তাঙ্গিতে পারিলে তবে ছূর্য্যোধনরূপ মন মৃত্যুমুখে পতিত হয়। 

সাধক! যদি আত্মপ্রতিষ্ঠ৷ লাভ করিতে চাহ, তবে যেন তোমার ইচ্ছা- 
শক্তিরূপ দ্রোপদীর উত্তেজনায় কঠস্থ উদ্াননামক প্রাণাংশ, জপরূপ গদাঘাতে 
মনকে ভগ্মোর করিবার জন্ত প্রতিজ্ঞাপাশে বদ্ধ হয় । সমরহ্চনার পূর্বে 
মনের উরুভঙ্গের জন্ত দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হও । কিন্তু জপ্রহস্থয পরে বলিব। 


পাগুবানীকং বৃঢঢং দৃষ্ট1_ 

পাগুবসৈন্যদিগকে বুহিত দেখিয়া । 

পুরে বলিয়াছি, আমাদিগের প্রাণশক্তি পঞ্চ কোষে পাঁচ ভাগে বিভক্ত-_-সেই 
পঞ্চ প্রাণকেই বা! প্রাণের অংশকেই পঞ্চ পাণ্ডব বলে। যুধিটির, ভীম, অর্জুন, 
নকুল, সহদেব, পাগুবের! যেমন এই পাঁচ নামে পরিচিত, তেমনই আমাদের 
প্রাণশক্তির পাঁচ বিভাঁগকেও যথাক্রমে ব্যান, উদান, প্রাণ, সমান ও অপান নাম 
দ্বাও। অপান ও সমান নামক অংশদ্বয়কে 'অশ্বিনীকুমারদ্ধয় বা নকুল সহদেব 
বলিয়া অভিহিত কর । প্রা নামক হৃদয়স্থ অংশ অর্জুন, উদান নামক কণ্ন্থ 
তংশ ভীম, এবং ললাটকেন্দরস্থু ব্যান নামক অংশের নাম যুধিষির | 


উপনিষদ্রহচ্ত.বা'লীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ১৭ 


সাধারণ কথায় ব্যান, উদান, প্রাণ, সমান ও অপান নামক পঞ্চ বায়ু বা 
মম্য্যদেহের পীচ প্রকারের স্বাবুপ্রবাহকেই পঞ্চ প্রাণ বলা হয়। কিন্তু আমরা 
এখানে ঠিক সে ভাবে লইতেছি না। মুখ) প্রাণশক্তির সুক্ম হইতে স্থুল প্রকাশ 
অবধি অবস্থানবিভাগ লক্ষ্য করিতেছি । চিতিশক্তির গতিই প্রাণ এবং উহ প্রথম 
ব্যাপ্তি, পরে উর্ধামুখী, পরে উদ্ধনিম্নাকারে প্রবহমান, পরে উদ্ধীধভাববিহীন আবর্তন 
ও পরে নিন্মমুখী--এইরপ ক্রিয়াশীল! থাকে ; উহাই এখানে লক্ষ্য করিতেছি । 

আমি পূর্বে বলিয়াছি, সাধারণ মন্তুষ্ের প্রাণশক্তি নির্বাসিত অবস্থায় 
অবস্থান করে; অর্থাৎ অন্তররাজ্য হইতে মনের দ্বার প্রবঞ্চিত হইয়া শরীরের 
স্ুলাংশ অবলম্বন করিয়া থাকে । যত দ্বিন সেই নির্বাসন অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ 
যত দিন মনুষ্য যোগস্থ হইতে না পারে, তত দিন প্রাণশক্তিগুলি এ সাধারণ 
্নাযুপ্রবাহরূপে পরিচিত থাকে । এবং এই জন্তই “কলির জীব--অন্নগত প্রাণ” 
বলিয়া পরিচিত আছে । ব্যান বাঝুও সর্ব শরীরে ব্যাপ্ত বলিয়া পরিচিত, কিন্তু 
সাধনাপথে অগ্রসর হইলে এ প্রাণ্শজ্িগুলি স্ব স্ব কেন্দ্রে পুনরধিকার লাভ করে। 
এবং ব্যান নামক অংশ ললাট-সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয় । 

ক্ষিতি, অপৃ. তেজ, মরুৎ, ব্যোম ও মন, এই ছয়টা তত্বের মূলাধার, স্বাধিষ্ঠাব, 
মণিপুর, অনাহত, বিশুদ্ধ ও আজ্ঞা, এই ছয়টা চক্র বা কর্মকেন্দ্র। শব, স্পর্শ, 
রূপ, রস, গন্ধ, এই পঞ্চ তন্াত্রা লইয়া মন ললাটস্থ চক্রে বসিয়া, অর্থাৎ যুধিষ্ঠিরের 
ন্ঠায্য প্রাপ্য সিংহাসনে বসিয়া ভোগ করে। মন-_মূলাধার ছাড়া 'অন্তান্থ 
পাঁচটা চক্র হইতে পঞ্চ প্রাণকে বহিঃশরীরে নির্বাসিত করিয়া দিয়া, আপনি 
উপভোগ করিতে থাকে । কেবল মূলাধারে প্রাণশক্তির অন্ত একটা অংশ স্বতঃ 
ক্রিয়াশীল থাকে । সেটার নাম কর্ণ। কর্ণ--প্রীণশক্তিরই-অংশ, পঞ্চ পাগবেরই 
সহোদর ; কিন্তু মনের পক্ষে থাকিয়। কার্য করে। -প্রাণশক্তির এই একাংশের 
সহিত মনের সখ্যতা না থাকিলে, মনের উপভোগরূপ ক্রিয়া সাধিত 
হইতে পারিত না। জমগ্র অন্তররাজ্যের মধ্যে মূলাধার নামক অক্রাজ্যটুকু 
প্রাণশক্তষির একটা অংশ অধিকার করিয়। থাকে । এবং মনকে আত্মরাজ্য অধিকার 
করিয়া রাখিবার পক্ষে সহায়তা কর। মূলাধারকে অঙ্গরাজ্য বলিবার কারণ-_ 
জীবদিগের অঙ্গাদির.উপর এই অংশ.সমধিক কার্ধ্যকারী । 

কিন্তু আমাদিগের এ সমস্ত চিতিশঞ্জির বিষ্ভাময় ও আববস্াময় প্রকাশ 
বিশ্লেষণের 'এখন তত প্রয়োজন নাই। স্কুলভাবে'শুধু মন এবং প্রাণ, এই 

গু 


১৮ উপনিধদ্রছস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


উভয় পক্ষ বুবিয়া গেলেই গ্লীতা বুবিবার পক্ষে আমাদিগের যথেষ্ট হইতে পারে । 
শুধু সাধকদিগের কৌতৃহল নিবৃত্তির জন্য একটু আভাস দিলাম। 

এ পঞ্চ প্রাণশক্তি বা পঞ্চ পাণ্তব একমাত্র দ্রৌপদীর বা ইচ্ছাশক্তির 
প্ররোচনাতেই আত্মরাজা ফিরিয়া পান । দভ্্রৌপদী-জীবের উদ্ধ বা 
অস্তযুখধী ইচ্ছাশক্তি। দ্রুপদরাজার কন্তাকেই দ্রৌপদী বলে । দ্র” অর্থে 
উর্দ, পদ -গতি। উর্দমুখী গতির নামই দ্রপদ ; এবং তৎকন্যা উদ্ধ বা অন্তমুথী 
ইচ্ছাশক্তির নাম দ্রৌপদী । 

জীব উন্নতিলাভের জন্য প্রয়াসী হইলে দ্রপদরাজার লক্ষ্য ভেদ করিয়া, 
অর্থাৎ অন্তর্গতি লক্ষ্য করিয়া, ইচ্ছাশক্তিকে সহধর্শিণীরূপে গ্রহণ করিতে হয়। 
উন্নতির সর্বপ্রথম উপাদার্ন-উচ্চ লক্ষ্য । লক্ষ্যহীন মনুষ্জীবন পশুজীবন 
বলিলেও অতুযুক্তি হয় না । সাধারণ মন্ুষ্যমণ্ডলী লক্ষ্যহীন বলিয়াই সংসার এত 
বিষাদাপ্লুত _ছুঃখের কাহিনীতে সংসার পূর্ণ । উচ্চ লক্ষ্যে প্রাণকে বাধিতে পারিলে 
আর সংসারকে হুস্তর বলিয়া বোধ হয়না । সংসারে শত সহত্র ঝঞ্চাবাত 
অবলীলাক্রমে অবহেল| করিয়া জীব নিজ গন্তব্য পথে অগ্রসর হইতে পারে। 
উদ্ধলক্ষ্য স্থির হইলে, তবে জীব অস্তমুখী ইচ্ছাশক্তি লাভ করিতে সমর্থ হয়। 
সেই ইচ্ছাশক্তিকে সমগ্র প্রাণটুকুর একান্ত প্রিয় করিয়া তুলিতে হয়। তাই 
পাণ্ডবের! পঞ্চ ভরাতাতেই দ্রোপদীকে বিবাহ করিয়াছিলেন । অন্ত লক্ষ্জাত 
প্রবল ইচ্ছাশক্তির সাহায্য না পাইলে, কি লইয়া জীব জীবনের চরিতার্থতা লাভ 
করিতে সমর্থ হহবে? সাধক! যদি উন্নতিলাভে অগ্রসর হইতে চাহ, তবে 
মীনরূপী ভগবান্‌কে লক্ষ্য করিয়া, তোমার উদ্ভম-ধনুতে কর্ম-শর যোজন! করিয়া) 
তাহার দৃষ্টির দিকে লক্ষ্য স্থির কর। সে মতস্তের নিয়ে তাহার বিরাট মায়াচক্র 
বিদবর্ণিত। মীনরূপী ভগবানের চক্ষ্রূপ দৃষ্টির দিকে প্রাণের লক্ষ্য স্থির কর। 
তিনি উদ্ধে মায়াচক্রের অন্তরালে অবস্থিত, নিম্গে সংসাররূপ মায়াজলাধারে 
ঠাহার মায়া-চক্রের গুতিবিষ্ব প্রতিফলিত । সেই মায়াচন্রের কেন্দ্রের ভিতর 
দিয়া তাহার চক্ষু তোমার দিকে অনিমিষে চাহিয়া আছে, তুমি সংসাররূপ 
মায়াচক্রের কেন্দ্র অন্বেষণ কর, দেখিতে পাইবে । কাতরপ্রাণে অতি দীনভাবে 
তাহার শরণাগত হইয়া, সেই চক্ষু-প্রতিবিদ্বের গতি চাহিয়া, কাদিয়া বল, 
দীননাথ | দীনের লক্ষ্য স্থির করিয়। দাও, এ অনাথের জীবনপ্রবাহ তোমার 
'লম্ষেহ দৃষ্টির দিকে যেন স্থির লক্ষ্য রাখিতে পারে। মায়াচক্রের আবর্তনে 


উপনিষদ্রছন্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। ১৯ 


ঠেকিয়া, আমার কর্ম-শর যেন তোমার দৃষ্িত্র্ট হইয়া! ফিরিয়া না পড়ে। 
সংআারাধারে গ্রতিবিদ্বিত মাতৃদৃ্টির দিকে চাহিয়। কাতরভাবে এমনই করিয়। বল; 
দেখিবে--সবিম্ময়ে দেখিতে পাইবে-_মায়ের আমার নবঘনশ্যাম ব্রহ্মগোপাল রূপ 
সেই মতস্তের উপর আবিভূতি। তোমার উদ্ভম ধন্থু হইতে কর্ম্ম-শর আপনি 
চুটিয়া মায়াচন্ররূপ হ্ুদর্শনের কেন্দ্রের মধ্য দিয়া, * মীনরূগী আত্মার দৃষ্টিতে যুক্ত 
হইয়া যাইবে । তোমার সকল ৰন্ম ভগবানের চক্ষুর উপর সংসাধিত হইতেছে 
বলিয়া মনে হইবে। যখন তুমি অন্তর্দিকে মুখ ফিরাইবে তখনই দেখিতে 
পাইবে-_বিশাঁলাক্ষী মায়ের আগার বিশীলায়ত নেত্র হইতে স্নেহজ্যোতিঃ ঝর্‌ ঝৰ্‌ 
বারিয়া, অনবরত তোমায় অভিযিত্ত করিতেছে । তোমার কর্মক্লান্তি দূর হইবে । 
নব উৎসাহে, নব আনন্দে, নবশক্তিতে তোমার কর্ব্লাশি আনন্দ ময়ীর দিকে ছুটিতে 
থাকিবে। উর্দী বা অন্তমুখী দ্রৌপদীরূপিণী ইচ্ছাশক্তি আসিয়া. তোমার 
গলদেশে বরমাল্য অর্পণ করিবে। 

সাধক হইতে হইলে এইরূপে সর্বাগ্রে ইচ্ছাশক্তিকে সংগ্রহ করিতে হয়। 
এই ইচ্ছাশক্তি আমাদিগের সাঁধনাপথে একমাত্র সহধর্মিণী । 

যাহ! হউক, সাধারণ মানুষমাত্রেই লক্ষ্য করিয়। থাকিবেন, সময়ে মনরে এমন 
মানসিক অবস্থা ঘটে, যখন প্রাণ কোন কাজ করিতে না চাহিলেও সংস্কারাচ্ছন্ 
মন আমাদিগকে সেই কার্ষ্যে নিষুক্ত করিয়া ফেলে। সেই মুহূর্তের মানসিক 
অবস্থা বিশ্লেষণ করিয়া দেখিলে, ছুর্য্যোধনের রাজসভায়, অক্ষক্রীড়ায় পাগুবের 
পরাজয়--দ্রৌপদীর লাঞ্থন! এবং দলিতফণা! ফণিনীর মত দেই সভামধ্যে তাহার 
লোমহর্ষণ ভীষণ প্রতিজ্ঞার প্ররতিচিত্র, গ্রাণের ভিতর দেখিতে পাওয়া যায়। সময়ে 
সময়ে প্রত্যেক মানুষেরই হৃদয়ে এইরূপ ঘটে। প্রাণকে ছলনায় ভুলাইয়৷ মন 
যখন নিজ অভ্যাসানুযায়ী অকর্তব্য কার্ধ্যে আমাদিগকে নিযুক্ত করে, আমাদিগকে 
ইচ্ছাশক্তি তখন একাস্ত রোধ করিলেও আস্মাভিমানরূপ ছুঃশাসনের দ্বারা 
লাঞ্ছিতা ও অবমানিতা। হয় ; এবং মনকে ধিক্কার দ্রিতে দিতে আমরা সেই সময়ে 
যেন আল্মাভিমানের ধ্বংমের জন্য ইচ্ছুক ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞায় বদ্ধ হই। দ্রৌপদীর দারুণ 
অবমাননা এবং তজ্জনিত তাহার ভীষণ প্রতিজ্ঞাই__কুরুক্ষেত্রসমরের একটা প্রধান 


এ+ এস 


* আমাদের প্রণপ্রবাহে আত্মা ঝপ ভগবান্‌ মীনক্ূগে বিচরণ করিতেছেন। প্রাখীযামের দ্বারা উহার দিকে লক্ষ্য 
স্থির হয়। প্রাণায়াম অর্থে-_কেহ হঠ-প্রাখায়াম বুঝিবেন ন) | এ কথা পরে সবিস্তারে আলোচিত হইবে। পূর্ববোন্ত 
প্রাণ-বিভাগের কথা সেইখানে বিশদভাবে বলিবার ইচ্ছা! রহিল। 





পনি অং 
এ. ০০০ পাশা পাস আপা পা 
পপ ০৫ চি ১ 





২৪ উপনিষারভত ব। গীতার যৌগিক ব্যাখা) । 


গৌণ কারণ। তেমনই সাধক-হৃদয়ে ইচ্ছাশক্তির এইরূপ অবমনিনা এবং তাঁহার 
আম্ঘাভিমান নাশের ভীষণ প্রতিজ্ঞাই তাহার আত্মরাজ্য লাভের একটা প্রধান 
কারণ বলিতে হইবে। 

ইচ্ছাশক্কি অমৌঘ। ইচ্ছাশক্তিকে সমগ্র প্রাণের সহিত প্রণয়স্থত্রে আবদ্ধ 
করিতে না পারিলে, জীব কখনও উন্নতিলাভ করিতে পারে না। সাধন-সংগ্রামে 
প্রবিষ্ট হইতে হইলে, আগে প্রবল ইচ্ছাশক্তি সংগ্রহ করিতে হয়। সে কথা পূর্বে 
বলিয়াছি। 

যাহ! হউক, মনুষ্য যখন ইচ্ছাশক্তির সাহায্যে ভগবল্লাভের জন্য সচেষ্ট হয়-_- 
যখন তাহার প্রাণে সমস্ত বিষয়ের উপর বৈরাগা আসিয়া উপস্থিত হয়,-ভগবান্‌ 
ছাড়া যখন অন্য জিনিষকে তাহার প্রাণ চাহে না-যখন তাহার প্রাণ, তাহার 
হাদয়স্থ কোন গৃঢ় নির্জন স্থানের অন্বেষণ করে--শাস্তি বা আত্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার 
জন্ত যখন তাহার প্রাণ ইচ্ছাশক্কির প্ররোচনায় চারি দিক্‌ হইতে কুঞ্চিত হইয়া, 
আপনা আপনি বুকের ভিতর ঢুকিতে প্রয়াম পায়, তখন তাহার মন নিজ 
সংস্কারানুযায়ী নানাপ্রকারে তীহার সে শান্তিলাভে বিদ্ব ঘটায়। তাহার মন তখন 
দ্রোণাচাধ্যের অর্থাৎ কর্মকাণ্ডের শরণাগত হয়। 


আঁচাধ্যমুপসন্গম্য রাজ ব্চন্মত্রবীু। 
দ্রৌণাচীধ্য » 


ইনি কে? যজ্জাদি শীস্ত্রীয় কম্মকাণ্ড। কৌরব এবং পাণ্ডব বা মন এবং প্রাণ 
উভয়েরই শিক্ষাগ্ডর । আমাদিগের বর্শকা্ড যদিও আমাদিগের আতিক উন্নতির 
আকাজ্ষা করে, কিন্ত মনের দাসত্ব করাই তাহার অভ্যাস। তাহার আত্তরিক উদ্দেশ্ট 
না হইলেও, তাহাকে বাধ্য হইয়! মনের প্ররোচন। অনুযায়ী মানসিক বৃত্বিসকলেরই 
চীলনাকাধ্যের নায়কত্ব করিতে দেখিতে পাই। দ্রোণাচার্ধ্য উভয় পক্ষের গুরু 
হইলেও ছুর্ধ্যোধনেরই সেনানায়করূপে নিযুক্ত ছিলেন । কিন্তু যজ্ঞাঁদি ক্রিয়ীকাণ্ডের 
নিকট হইতেই সর্বপ্রথম আমাদিগের প্রাণ সমরকৌশল বা আত্মোক্সতি লাভের 
জ্ঞান শিক্ষা করে। যজ্ঞাদি ক্রিয়াকাগুজ্জানের শিক্ষাই আমাদিগের আত্মরাজ্য- 
লাভের পথে প্রথম সহায়। র 

সাধকের মন যখন দেখে--ভাহার প্রাণ আত্মরাজ্যলাভের জন্য উদ্যোগী 
হইয়াছে, তখন সে যজ্ঞাদি ক্রিয়াকাণের মায়ায় তাহাকে জড়াইয়া রাখিতে প্রয়াস 


উপনিষদ্রহন্ত ব1 গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। ২৪ 


পায় অর্থাৎ শুধু স্ত্রী, পুত্র, আত্মীয় স্বজনের মায়া যখন সে সাধককে ভুলাইয়া 
রাখিতে পারে না, তখন মন ক্রিয়াকাণ্ডের মায়ার অন্তরালে আত্মীয়-স্বজনাদি 
সংসারের মায়! সাঁজাইয়া প্রাণশক্তির বিপক্ষে--সাঁধকের 'আশীর বিপক্ষে দণ্ডীয়- 
মান হয় 7 অর্থাৎ সাধকের মন তখন যেন এই রকম বুঝীইতে চেষ্টা করে-- 
সংসারাশ্রমে থাকিয়া সংসারাশ্রম-সংশ্লিষ্ট ধর্ম অর্থাৎ সংসার প্রতিপালন এবং 
শাস্ত্রীয় ক্রিয়াকাণগ্সাধন, শুধু ইহাতেই ভগবল্লাভ হইবে বা হইতে পারে। মন 
যেন ক্রিয়াকাণ্ডের মায়ার নিকটে গিয়া নিয়লিখিতরূপে উভয় পক্ষের অনুকূল ও 
প্রতিকুল শক্তি বিশ্লেষণ করিয়া দেখাইতে থাকে । 


পশ্যৈতাং পাওুপুত্রাণামাচা্্য মহৃতীং চমূম্‌। 
ব্যাং দ্রুপদপুত্রেণ তব শিষ্েণ ধীমতা ॥ ৩ 


আচার্য | তব ধীমতা শিল্বেণ দ্রপদপুত্রেণ ব্যুঢাং পাগুপুত্রাণাং এতাং মহতীং 
চমূং পশ্য। | 
হে আচাধ্য ! আপনার ধীমাঁন্‌ শিষ্য দ্রপদপুহ রর দ্বার! রচিতব্যৃহ পাণ্ুবদিগের 
মহতী জেনা দর্শন করুন| 
দ্রুপদপুত্রেণ অর্থে সঙ্ক্পের ছারা । সর্ববপ্রথমে সাধক রণসৃচনার অর্থাৎ মনের 
সহিত সংগ্রীমের শ্রীরস্তে আত্মশক্তিকে সঙ্কান্নর ছ।রা ব্যুহিত করে, অর্থাৎ আমি 
আত্মরাজ্য প্রতিষ্ঠার জন্য যত্ববান্‌ হইব, এইরূপ দৃঢ়সঙ্কাল্লে সংবদ্ধ হয়। ইচ্ছাশক্তির 
সহোদর--সঙ্কল্প । দ্রেপদপুত্র-_দ্রৌপদীর ভ্রাতা । 
সকল কম্মের অব্যবহিত পূর্বে সঙ্কল্পের একান্ত প্রয়োজন। সন্কল্পের গণ্ডির 
ভিতর শক্তি স্থচারুরূপে সমবেত না করিলে, কোন কার্যে অগ্রসর হওয়া যায় ন1। 
এ জন্য শাস্ত্রে পূজা, ব্রত, যজ্ঞাদি অনুষ্ঠানের পুর্বে সন্কল্পের বিধান আছে। যে 
সাধক যত আগ্রহ সহকারে এবং মুচাকভাবে সঙ্কল্প করিতে সক্ষম হইবে, তাহার 
কাধ্য তত ম্ুসম্পন্ধ হইবে। শাস্বীয় স্বল্প ঞ্ণালীর ভিতর আত্মশক্তি 
চালনার কৌশল নিহিত আছে। এখনও পুজা, ব্রতাদি কার্য্যের পুর্ব সক্বল্প 
পঠিত হয় সত্য, কিন্তু উহ! প্রাণহীন মৃতদেহের মত ; ন্ুতরাং ফলও প্রায় তত্রুপই 
হইয়া থাকে । শুধু বাচনকি সঙ্ক্পে কাজ হয় না, এ কথ ইদানীস্তন পৃজকেরা 
একেবারে বিশ্াত। যে সঙ্কল্পের উপর নির্ভর কবিয়া পুব্রে ব্রাঙ্মণেরা তগবান্‌কে 
'যজক্ষেত্রে মৃত্তিমান্‌ হইয়! অবতীর্ণ করাইতে সক্ষম হইতেন, ষে সঙ্কল্পের প্রভাবে 


উপনিষদ্রহসথা বা গীতার যৌগিক ব্যাথা 


টিপি 

দেবতাগণ সাধারণ লোক-চক্ষু সমক্ষে স্বন্বরূপে প্রকাশ হিয়া সাদার রা 
করিতেন, এখনও সঙ্কল্পের সেই মন্ত্র বা বাক্যবিন্যাস আছে, কিন্তু সাকারে দেবতার 
আবির্ভাব হয় কি? হায় | আমরা পক্ষী ছাড়িয়া দিয়া শুধুপিঞর ধরিয়া বসিয়া 
আছি। কিন্তু সে অন্ত কথা । 

যাহা! হউক, যখন সাধকের প্রাণ এইরূপে সন্কল্পবন্ধ হয়ঃ তখন দুর্ম্যোধন বা 
মন, কর্মকাণ্ডের মায়াকে লক্ষ করিয়া প্রাণশক্তি কিরপ দৃঢ় সন্কলে আত্মরাজ্য 
প্রতিঠায় অগ্রসর, সেইটা বর্ণনা করিতে থাকে; এবং সংসারের স্ত্রী-পুত্রের মায়ায় 
মুগ্ধ নহে দেখিয়া, সংসার প্রতিপালনাদি শীল্ত্ান্থমোদিত কর্মকাণ্ডের মায়ায় 
তাঁকে ভূলাইয়া রাখিতে প্রয়ামী হয়। দৃর্য্যোধন বা মন যেন দ্রোণাচার্য্যের 
বা ক্রিয়াকাণ্ডের শরণাগত হয়। 

পূর্ব বলিয়াছি, ক্রিয়াকাণ্ড হইতে জীব যদিচ আত্মোক্পতি লাভ করে, 
কর্মমার্গ যদিও জীবের শিক্ষাগ্ডরু, কিন্তু সাধারণতঃ সংসার-দায়াচ্ছন্ন মনের 
অধীনরূপে উহ। অবশ্থিত। অর্থাৎ সংসার পাল্ন ও সংসারাশ্রমের কন্মাদি যেন 
এরূপ কার্ধানুষ্টান মাজ, উহার অন্ত কৌন অন্তলক্ষ্য নাই, এমনই ভাবে 
সাধারণতঃ অনুষ্ঠিত হয়। সাধকের প্রাণ যখন ভগবানকে অন্বেষণ করে, তখন 
তাহাকে এ কন্মীংশের সহিত সংগ্রাম করিতে হয়। অর্থাৎ কর্মের ভিতর 
কর্ম্মাংশ বস্তত, কিছুই নহে, জ্ঞানাংশই উহার সার--কর্মাংশ তাহার রক্ষণী মাত্র ; 
সাধককে এইরূপ বুঝিতে হয়। যতক্ষণ না বুঝিতে পারে, ততক্ষণই কর্মাংশ 
তাহার বিপক্ষে দণ্ডায়মান থাকে । সাধকের প্রাণ শুক্ষ কর্মে মুগ্ধ থাকিতে চাহে 
না। তাই যেন মন, আচার্ধ্য বা ক্রিয়াকাগকে লক্ষা করিয়া বর্ণনা করে, কিরূপ 
সন্কলে সাধকের প্রাণ তাহাদিগের হননে উদ্যোগী হইয়াছে । এই কর্মাংশ ৰা 
ক্রিয়াকাণ্ডের মায়া জীবকে অতি কঠোরভাবে আবদ্ধ করিয়া রাখে এবং 
অন্তমুখী দৃঢ় সঙ্কল্প না জন্মিলে, ইহার হাত হইতে পরিত্রাণ পাওয়া যায় না। 
মহ!ভারতে আছে, দ্রেপদ রাজা দভ্রোণাচাধ্যের বধের জন্য যজ্ঞ করিয়াছিলেন । 
সেই যঙ্ঞাগ্রির মধ্য হইতে ধৃষ্টছান্ ও কৃষ্ণা বা দ্রৌপদী জন্মগ্রহণ করিয়াছিল | 
এবং সেই সময়ে টদববাণী হইয়াছিল এই ধুষ্ছ্্টই ভ্রোণীচার্ধ্যকে বধ করিবে, 
এবং কৃষ্ণা হইতে কুকুকুল ধ্বংস হইবে | 

বস্তুতঃ উর্ধমুখী গতিরপ দ্রুপদ রাজার কন্যা, ভ্রৌপদী বা অস্তমূ্থী ইচ্ছাশক্তি 
হইতেই জীব আত্ম প্রতিষ্ঠা লাভ ক্র, ইহা পুর্বে বলিয়াছি। এবং অন্তর 


চ 


উপনিধদ্রহন্ত বা গীতার যৌসিক ব্যাখ্যা । ২৩ 


দৃসন্কল্পরূপ ষছা না হইলে, যজ্ঞাদি ক্রিয়াকাণ্ডের বাহা বা কন্মাংশরূপ 
দ্রোণাচাধ্য নিহত হয় না। জীবের অস্তমূ্ধী গতি এবং যজ্ঞাদি ক্রিয়া বা 
কর্মমার্গ, ইহারা পরক্ষপর সখ্যভাবাপন্ন হইলেও--অরি। জীবের অস্তমু্খী গতি 
হইতেই কর্মমার্গের প্রতিষ্ঠা হয়, আবাঁর এ অন্তমূখী গতিজাত দৃঢ় সন্কল্পের দ্বারাই 
নৈক্বম্ম্য লাভ হয়। মহাভারতে দ্রোণাচার্ধ্য ও দ্রপদরাজকে এই জন্য প্রথমে 
সখ্যভাবাপন্ন এবং পরে অরিভাবাপন্ন দেখিতে পাই । 

অন্র শুরা মহ্ঘাসা ভীমার্জুনসমা যুধি | 

যুযুধানে! বিরাটশ্চ ভ্রুপদশ্চ মহারথঃ ॥ ৪8 

ধুকেতৃশ্চেকিতানঃ কাশীরাজম্চ বা্ধ্যবান্‌। 

পুরুজিৎ কুস্তিভোৌজশ্চ শৈব্যশ্চ মরপুক্গবই ॥:৫ 

যুধামন্যুশ্চ বিক্রান্ত উত্তমৌজাশ্চ বাঁধ্যবান্‌। 

সৌভদে। দ্রৌপণেয়াশ্চ সর্ব এৰ মহারথাঃ ॥৬ 


অত্র শুরা; মহেঘা সাঃ যুধি ভীমার্জুনসমা?, যুযুধান% বিরাটশ্চ মহারথঃ দ্রপদশ্চ 
ধষ্টকেতৃঃ চেকিতানঃ বীধ্যবান কাশিরাজশ্চ, পুরুজিৎ কুস্তিভৌজশ্চ নরপুঙ্গবঃ 
শৈব্যম্চ, বিক্রান্তঃ যুধামন্থ্যশ্চ বীধ্যবান্‌ উত্তামীজাশ্চ সৌভদ্রঃ দ্রৌপদেয়াশ্চ সর্ব 
এব মহারথা? 18-৬ 
পাণ্বগণের এঁ ব্যৃহমধ্যে ভীমাজ্ছনসমান মহা ধনুর্ধর বীরস্কল, সাত্যকি, 
বিরাট, মহারথী ক্রপদ, ধুষ্টকেতু, চেকিতান্‌, বীর্ধ্যবান্‌ কাশিরাজ, পুরুজিৎ, 
কুস্তিভোজ, নরশ্রেষ্ঠ শৈব্য, বিক্রমশালী যুধামন্ত্ু, বীধ্যবান্‌ উত্তমৌজ্ঞাঃ অভিমত 
এবং ভ্রৌপদীতনয়গণ--ইহারা সকলেই মহারথ। 
যুযুধান__ 
যুযুধান অর্থে সাত্যকি। সাত্যকি--শ্রীকৃষ্ণের সারথী, সত্য অন্বেষণই-_. 
সাত্যকি। সত্যই ভগবানকে বহন করে। ভগবান জীবের সারথী; 
সত্য--ভগবানের সারথী। যেমন বিদেশধাত্রা করিতে হইলে যান বা 
বাহনের প্রয়োজন হয়, তদ্রুপ এই সংসারক্ষেত্র উত্তীর্ণ হইতে হইলে 
ভগবান্রূপ সারথীর প্রয়োজন। তিনি ছাড়া দন্যুসন্থুল মায়াক্ষেত্রের পথভেদ 
করিয়া কেহ আমাদিগকে লইয়া যাইতে পারিবে না । আবার তাহাকে আনিতে 
হইলে সত্য অন্বেষণরূপ সারথী ছাড়া আর কেহ পারে না। সত্য-. সাধকের 


২৪ উপনিষদ্রহ্স্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


একান্ত সহায়। সত্যাম্বেষণই সাধনার মূলমন্তর। সত্যন্বরপ ভগবানকে আনে 
বলিয়াই, সত্যান্বেষণের নাম সাত্যকি। 
বিরাট -- 

বহিজ গৎ-_বিরাট নামে অভিহিত। এই বিরাটের গুহেই জীবের অজ্ঞাতবাস 
হয়। অর্থাৎ সাধক বা প্রাণশক্তি-সম্বলিত জীবের আত্মরাজ্যচ্যুত হইয়! 
নির্ধাসিতভাবে অবস্থান করিবার পর ও সাধনাপথে অগ্রসর হইবার স্ুচনায় 
তাহাকে কিছু দিন অজ্ঞাতভাবে বাস করিতে হয় । মনের ছলনায় যত দিন আমরা 
প্রবঞ্চিত হইয়। আত্মরাজ্য প্রতিষ্টার চেষ্টায় বঞ্চিত থাকি, তত দিনই আমাদের 
নির্বাসন, ইহা পূর্বে বলিয়াছি। ইহাই সাধারণ জীবের অবস্থা । তারপর 
ক্রমশ; যখন প্রাণের অন্তমু'খী, গতি আরম্ভ হয়, ভগবল্পীভের জন্য প্রাণ যখন 
বিচঞ্চল হইয়া উঠে, তখন সে সাধক বিরাট জগংচিস্তায় নিবিষ্ট হয়। অনস্ত স্থষ্টি- 
বৈচিত্র্য, স্থষ্টির অনন্ত বিশাল ভাব, তাহাকে আত্মহারা করিয়া ফেলে । বিশাল 
পৃথিবী, সমুদ্রের অসীম জলবিস্তার, প্রাণশক্তির আধার বিরাট্‌ বারুমণ্ডল, বিরাট্‌ 
আকাশ, বিরাট চন্দ্রসূর্ধ্য, বিরাট তারকাপুণ্জ, হ্থষ্টিশক্তির বিরাট মহিমরাশি__ 
এই সমস্ত চিন্তায় ভাহার প্রাণ নিযুক্ত থাকে, সে আপনাকে সেই বিরাট চিন্তা- 
সমু্রে হারাইয়। ফেলে। বিরাটের অনস্ত মহিমায় তাহার নিজ অস্তিত্ব যেন 
ছড়াইয়া পড়ে । বিরাটশক্তির বিরাট উদার বিস্তৃতির মধ্যে, সে আপনাকে সেই 
বিরাট চিন্তাসমুদ্রে হারাইয়া ফেলে। বিরাটের অনস্ত মহিময় তাহার নিজ 
অস্তিত্ব যেন ছড়াইয়। পড়ে । বিরাটশক্তির বিরাট উদার বিশ্কৃতির মধ্যে, সে 
আপনাকে সেই বরাটের তুলনায় অতি দীনহীন, বিরাটশক্তির ক্রীড়নক বলিয়া 
অনুভব করিতে থাকে । তাহার উগ্ভম-ধন, কর্ম-শর ইত্যাদি অস্্রশত্ত্র প্রচ্ছ্ 
রাখিয়া, সে সেইরূপ কিছুদিন বিরাট চিন্তায় বিভোর থাকে । প্রাণে উৎসাহ থাকে 
না, কর্মে উদ্যম থাকে না, আত্মচেষ্টা বলিয়া তাহার প্রাণে কোন ভাব স্থান 
পায়না । সে বিরাটশক্তির বিরাট স্ফুরণে মুহ্ুমুছু আপনাকে বিরাটশক্তি- 
আৌতের একটা তৃণখণ্ড বলিয়।৷ উপলব্ধি করে-_ইহাই অন্ত্রশ্ত্রপ্রচ্ছরভাবে রাখিয়। 
বিরাটের গৃহে পাগুবের অভ্ঞাতবাস বলিয়া প্রসিদ্ধ । 

অর্থাৎ যথার্থ সাঁধন-সংগ্রাম নুচনা-হইবার পূর্বের, জীব স্থুলঞ্জগতের বিরাট, 
বিশাল ভাবে মুগ্ধ হয়। স্থুলজ্গতের বিরাট 'বিশাল ভাব প্রাণের ভিতর 
ঢুফিয়া তাহার প্রাণকে উদার « বিশাল করিয়া 'তুলে। 'স্ুল জড়ুশঞ্ির 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। ২৫ 


বিশালতায় যখন সে এইরপে আপনাকে হারাইয়া ফেলিতে থাকে, 
জড়শক্তির কাছে, যখন সে শক্তিহীন নগণ্য বলিয়া আপনাকে বিবেচনা করে, 
সেই সময়ে, প্রাণের দেই ছুর্র্বলভাবাপন্ন অবস্থায় এক অভূতপূর্ব 
ঘটনা তাহার প্রাণের ভিতর ঘটিয়া যায় । নাস্তিকতা আসিয়া তাহার 
ইচ্ছাশক্তিকে গ্রাস করিতে উদ্োগী হয়,_-ইহাই কীচককর্তৃক দ্রৌপদীর 
লাঞ্ছনা । | 

খুলিয়া বলি।_জীব যত শক্তিকে উপলব্ধি করিতে থাকে, শক্তির অন্তু 
মহিমায় যত তাহার প্রাণ বিভোর হইতে থাকে -এক বিশাল শক্তির দ্বারাই 
সষ্টিকাধ্য সমাধা হইতেছে বলিয়া, যতই তাহার প্রাণ সে শক্তিচর্চায় ছড়াইয়া 
পড়ে, যতই ত।হার বুদ্ধি, শক্তি-বিজ্ঞানের ভিতর ঢুক্নিতে থাকে, ততই ধীরে ধীরে 
তাহ।র অজ্ঞাতভাবে নাস্তিকতাঁরপ একটী দন্দ্যভাব উজ্জীবিত হয় । “এই জড়শক্তি 
ছাড়া স্বতন্ত্র ঈশ্বর আবার কি? চৈতন্য বলিয়া আমরা যাহা অনুভব করি, ইহাও 
বুঝি, এই জড়শক্তিজাত একটা অস্থায়ী বিকাশ” এইরূপ ভাব তাহার প্রাণের 
ভিতরে ঢুকিতে থাকে । “শক্তির বিশাল রাজ্য শাক্তর অতীত আবার চৈতন্য 
বলিয়। কোন নিত্য জিনিব কি করিয়া থাকিতে পারে %£ অনন্থ মহিমময়ী বিরাট, 
শক্তির চৈতন্যস্কুরণও একটা অস্থায়ী উন্মেষ মাত্র । যেমন একাধিক দ্রব্যবিশেষ 
একত্র মিশ্রিত করিলে, তাহাতে অগ্সি উৎপাদন হয়, চেতন্তও বুঝি তেমনই শক্তি- 
সংমিশ্রণে স্ফুরিত হয় ।”--এইরূপ ভাব তাহার প্রাণের ভিতর আমিভে থাকে। 
আত্মা আবার কি? এ অনস্ত মহিমময়ী শক্তিরই একটী মহিমময় অস্থায়ী 
স্কুরণ। জড়শক্তিতে জন্মিয়াছি, জড়শক্তিতেই মিলাইয়া যাইব,__এই ভাবে সে 
আত্মহারা হয়। 

বস্ততঃ, স্থল জগতের এবং স্থুলশপ্জির আলোচন। যদিও সর্বপ্রথম সাধকের 
প্রাণে উদার ভাব ফুটাইয়া দেয়, যদিও সন্কীর্ণতা ঘুচাইয়া দেয়, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে 
এইরূপ ভাবের একটা মহাপরীক্ষ। তাহার উপর আসিয়া পড়ে। অনেক মনীষী 
এইরপে নাস্তিক হইয়া গিয়াছেন, আত্মোপলদ্ধির পথ হইতে এইরূপে বঞ্চিত 
হইয়াছেন, সাধনার পথ হইতে এইরূপে কিছুদিনের জন্য অনেক দুরে পড়িয়াছেন। 
এই অবস্থা হইতে পরিত্রাণের একমাত্র উপায়_জপ। আমাদের প্রাণের 
অন্তমু্খী ইচ্ছাশক্তি যখন কীচকরূপ নাস্তিকতার ঘারা৷ এইরূপে স্পৃ্টা হইতে 
থকে, তখন কগস্থ ভামরূপী উদাননামক প্রাণথশঞ্জির ভগবন্নামজপরূপ 

8 





রর উপনিষদ্রহশ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথ্যা। র 
অস্ত্রাধাতে সে নাস্তিকতাকে ধ্বংস করিতে হয়--ইহাই বিরাটগুহে ভীমকর্তৃক 
কীচক-বধ। 

জীব ] সর্বপ্রথম ভগবদন্বেষণের সুচনায়, যখন ভগবংশক্তির স্থল বিকাশে 
মুগ্ধ হইবে, যখন তোমার উদার প্রাণ, শক্তিবিস্তারে ছড়াইয়া পড়িবে, অথচ এই 
স্থলশক্তিই যে চৈতন্তময়ী,_-এ ধারণা প্রাণের ভিতর আসিবে না, সেই সময় হইতে 
সাবধান! সেই সময় হইতে ভগবন্নামজপ যেন তোমার কণ্ঠে অহমিশ চলিতে 
থাকে। নতুধা শক্তির অনন্ত বিস্তারে তুমি আপনাকে হারাইয়া ফেলিবে, তুমি 
আত্মহারা হইবে; শেষে নাস্তিকতার কঠোর কবলে তোমার অন্তমুখী ইচ্ছাশক্তি 
চিরদিনের জন্ত বন্দিনী হইয়! থাকিবে । 

সাধারণ কথায় যাহাকে শক্তি-বিজ্ঞান বলে,সেই শক্তিবিজ্ঞান বা প্রকৃতি-বিজ্ঞান 

জীবের প্রাণে যখন প্রথন উন্মেষিত হয়, তখন হইতে তাহার সহিত ভগবন্ভাব 
সংমিশ্রিত করিয়] নী রাখিলে, জাব যথার্থ ই নাস্তিক হইয়া যায় । কেন না, সাধনা- 
সুচনার সেই আদি অবস্থায় সাধারণতঃ জীব প্রমাণের সাহায্যে অগ্রসর হইতে 
প্রয়াস পায়। সে অবস্থায় আত্মার অন্তি্ সন্বদ্ধে প্রত্যক্ষ গ্রমাণ পাওয়া যায় না। 
সাধনার উচ্চ স্তরে আরোহণ করিতে না পারিলে, আত্মা প্রত্যক্ষীভৃত হন না; 
নৃতরাং জড়শঞর অতীত আম্মাকে দীকার করিতে তাহার জড়শক্তি সম্বন্ধীয় 
জ্ঞান, তাহাকে শিক্ষা দ্রিতে পারে ন।। সাধারণ জগৎ জড়শ্তি বলিয়। যাহা বুঝে, 
তাহাই যে চৈতন্তময়ীর বিকাশ,--এ জ্ঞান ৩খন জীবের হয় না। মুতরাং জীবের 
ইহা একটা সন্কটাপন্ন অবস্থা বলিয়া বুঝিতে হইবে। 

যাহা হউক, ভগবন্নাম-জপরূপ ভা নামক কঠস্থ প্রাণশক্তির ক্রিয়া এই 
নাস্তিকতাকে বিচুর্ণিত করে, অন্তমু'খা ইচ্ছাশক্তিকে লাঞ্ছনার হাত হইতে পরিব্রাণ 
করে। এবং সেই সময়ে, সেই নাস্তিকতা বিন হইবার সঙ্গে সঙ্গেই তাহার 
আত্মপরিচয়ের বিমল আভান ঈষৎ ফুটিয়া উঠে। অর্থাৎ জড়শক্তি_ জড়শক্তি 
নহে, এক বিরাট চৈতন্যময় পুরুষের শক্তিপ্রবাহ, এবং আমিও সেই রিরাটু 
চৈতন্যময় পুরুষের অংশ, স্ৃতরা শক্তিমান্‌ বিরাট পুরুষ--এই জ্ঞানের নব উন্মেষ 
তগবান্‌ তাহার প্রাণে ফুটাইয়া দেন। আত্মরাজ্য প্রতিঠিত ন! হইলেও, জীব 
বিরাটের গৃহে বিরাট্ভাবে আব্মগ্রকাশ করে। কিন্তু সেটুকু আত্প্রকাশের 
বাছ আভাস মাব্র। এইরূপ বিরাট ভাবাপন্ন হইয়া, তারপর মনের সহিত 
পাধন-স্ংগ্রাম সুচি হয়। 


উপনিষদ্রহস্ত ব! নীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ২৭ 


তাহা হইলে প্রাণশক্তি ও ইচ্ছাশক্তি ব্যতীত মোটের উপর 
আমরা এই ছুইটা জিনিষ পাইলাম। সত্য অস্বেষণ ও আত্মা সম্বন্ধে বিরাট 
ভাব। 
দ্রেপদ -- উ্দমুখী গতি,-_ পূর্ব বলিয়াছি । চেকিতান % কিত 
যঙ্ডলুক্‌ + চানশ _ু চেকিতান -- তীক্ষ ভ্রান ; বাচনিক জ্ঞান নহে। 
সাধারণ বথায় যাহাকে জ্ঞান বলি, তাহা জ্ঞানের বাচনিক অংশ 
সান্র। কিন্তু যখন জ্েয় বস্তু অন্তরের ভিতর প্রত্যক্ষ দেখা যাইতেছে 
বলিয়া অনুভব হর, তখনই সে বস্ব সম্বন্দে যথার্থ জ্ঞান লাভ হইয়াছে 
বুঝিতে হয়। জীবাস্মা যখন সাধনার পথে অগ্রসর হইতে চাহে, তখন 
তাহার প্রাণের ভিতর, মাঝে মাঝে শারীয় জ্ঞান্রে সারাংশসকল প্রত্যক্ষ- 
ভাবে ভাপিয়। উঠিতে থাকে । নিহতের মত এ ক্ঞানসকল জ্যোতিম্ময় আকারে 
থাকিয়া থাকিয়া চমকিয়। উাঠে। যখন প্রংণের ভিতর কোন সন্দেহ জাগে, যখন 
তাহার মীমাংসা করিতে ন। পাইন্রা, সাধকের প্রাণ অস্থির হয়, তখনই ভগবানের 
করুণা এরূপ তানাকারে প্রাণের ভিনর চমকিত হয় । বস্ততত সাধককে জ্বীন 
রাশি শান্তর হই? 5 বড় একটা সংগ্রহ করিতে হয়না । তাহার যখন যেরূপ 
জ্ঞানের অভাব বা প্রয়োজন হয, সে মহামূর্খ হইলেও, ভগবান্‌ তখনই তাহার 
গ্রাণের ভিতর সেই সেই জ্ঞান উন্মেষিত করিয়া দেন। সে সবিন্ময়ে উহা 
মহা কি না, জানিতে প্রয়াসী হইলে, সহসা একদিন কোন মহাুঞুষের মুখে বা 
কোন শাস্ত্রগ্রন্থে অবিকল সেইরূপ জ্ঞানোপদেশ পাইয়া দেখে, তাহার প্রাণে যাহা 
উদয় হইয়াছিল, তাহ। একান্ত অন্রাস্ত। তাহার শরীর রোমাঞ্চিত হয়, আশন্দে 
প্রাণ পূরিয়! যায়, সে ভগবচ্চরণে রার বার নমস্কার করিতে থাকে । আবেগে 
তাহার প্রাণ ফুলিয়া৷ উঠে। সাধক বাঁ জ্ঞানেচ্ছুমাত্রেই এরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ 
করিয়াছেন । 
এইরূপ জ্রানবিকাশকেই চেকিতাঁন বলে। এরূপ জ্ঞানজ্যোতিগুলি 
বিজ্ঞানময় মহাপুরুষ মহেশ্বরের অঙ্গজ্যোতিঃ বলিয়া মহাঁদেবকেও চেকিতান্‌ 
বলে। 
সৌভদ্র- স্ুভদ্রাতনয় অভিমন্ত্য । অ-ভি + মন্য্যু - অভিমন্থ্য । মরণে নিভীকতা 
এবং তজ্জনিত অহস্কার--ইহাই অভিমন্ত্যু শব্দের মৌলিক অর্থ । নির্ভীকতা-_ 
সাধনাপথের একটা প্রধান সহায়। প্রীণশক্তি__ইহার জনক। যাহার প্রাণ 


২৮ উপনিষদ্রহন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা।. 


যত দুঢ এবং বলশালী, তাহার নিভীঁকিতা তত বেশী। কিন্তু আবার, সে নিরভাকতা 
সাধারণতঃ একটু অহস্কার-জড়িত হয়। নিভাঁকতা যত বাড়ে, সঙ্গে সঙ্গে 
অহস্কারের আভাস তাহার হৃদয়ে আসিয়া উপস্থিত হয়। “আমি সাধনাপথে 
অগ্রসর হইতেছি-_আমি সাধক”, এইরূপ একটু অহঙ্কারের আবরণ তাহাকে 
মায়াচ্ছন্ন করে । এই সময়ে এশ্বরিক শক্তি লাভের মায়া তাহার প্রাণকে কিছু- 
দ্ষণের জন্য চঞ্চল করে। ইহাই মহীভারত-কথিত অঞ্জনের সহিত নারায়ন 
সেনার সংগ্রাম। সাধক যেন সেই সময়ে £ এশ্বরিক শক্তিলাভের মায়ারূপ 
মারায়ণী সেন! জয় করিতে, কুরুক্ষেত্র হইতে একটু দৃরাস্তরে যায়। এশ্বরিক 
শক্তিলাভের আশা, তাহাকে কিছুক্ষণের জন্য সাধন-ক্ষেত্র হইতে স্থানাস্তরিত 
করে। সম্কটাপন্ন অবস্থায় 'ক্রয়াকাণ্ডের মায়া ছুর্ভেছ্য চক্রব্যৃহ রচনা করিয়া 
প্রাণশক্তিকে বিপর্যস্ত করিতে প্রয়াস পায়। 
কর্মের মায়া সেই সময়ে স'ধককে জড়াইর! ধরে । এশ্বরিক শক্তি লাভের মায়! 

প্রাণের ভিতর তিলমাত্র উজ্জীবিত হইলে, সঙ্গে সঙ্গে কর্মের মায়া আসিয়া পড়ে। 
কেন না, কন্ম দ্বারাই শক্তি লাভ হয়। সাঁদক ভগবতকুপায় সেই ভাষণ সঙ্কটাপন্ন 
অবস্থা হইতে পরিত্রাণ পাইয়া ক্ষুব্ধ হয়। এনী শক্তিলাভের মায়! দয় হইতে 
দূর করিয়া দের সতা, কিন্ত অনুতাপে তাহার প্রাণ জর্জরিত হয়। তাহার সাধক 
বলিয়া অহঙ্কার চিরদিনের জন্য লুপ হয়। আবার মাযার ফাঁদে পড়িতেছিলাম, 
আবার অধঃপতনে যাইতেছিলাম, আবার মন কর্তক পরাজিত হইতেছিলাম -_ 
এইরূপ অনুতাপে কিছুদিন সে পুড়িতে থাকে । ইহাই অভিমন্যুবধ এবং 
অজ্জুনের পুত্রশোক | 

সাধক! সাধক হইয়াছ বলিয়া অহঙ্কার করিও না। সাধনা-পথে অগ্রসর 
হইয়াছ, আর পতন হইবে না, এরূপ নির্ভীকতাকে হৃদয়ে স্থান দিও না। 
যোগশক্তি লাভের মায়ায় মুগ্ধ হইও না। সাধন| ফোগশক্তি লাভের জন্ত নহে-- 
ভগবল্লাভের জন্য, এ কথা যেন তোমার মর্মে মন্মে অঙ্কিত থাকে । যোগশক্তি 
সাধনাপথের ধুলি মাত্র। পথ চলিতে গেলে যেমন পথধুলি পদতলে লিপ্ত 
হয়, তগবৎ-সাঁধন।-পথে গতি লাভ করিলে যোগশক্তিও তদ্রপ আপন 
হইতে তোমার অঙ্গে লিপ্ধ হইবে। উহার মায়ায় মজিও না পথ 
হারাইবে | | 

কিন্তু উহা আসে। নির্ভীকতা, সাধকত্বের অভিমান ও যোগশক্তি লাভের 


উপনিষদ্রহন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। ২৯ 


মায়া, এ সব ন্যনাধিক মাত্রায় না আসিয়া থাকে না । তখন তুমি ভগবান্কে 
ভুলিও না। ভগবানের চরণ দৃঢ় করে ধরিয়া থাকিও, যোগশক্তির মায়াকে দূর 
করিয়া দিতে যত্ববান্‌ হইও; তোমার সেই মায়াক্রান্ত অবস্থায় যোগমায়া জগন্মাতা 
তোমায় কর্মবিপাকে ফেলিয়া তোমার চির-মঙ্গলের জন্ক অভিমানাঁদি বিনষ্ট করিয়! 
দিবেন। তুমি আত্ম-নির্ভরতা ছাড়িয়া পূর্ণভাবে ভগবানে নির্ভর করিতে শিক্ষা 
করিবে। বন্তত; অভিমন্ত্া-বধ একটা বিশ্ময়কর ঘটনা, ইহা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের 
একটা অপুর্ব লীল1। “আমি সাধক হইয়াছি, আব আমি সায়াকে ভয় করি না” 
জীবাত্মা এইরূপ নিভাঁকতাটুকু হারাইয়া এই সময়ে যথার্থ ঈশ্বর-নির্ভরতা 
শিক্ষা করে। ূ 

দ্রৌপদেয়াশ্-_দ্রৌপদীপুত্রগণ | প্রতিবিন্ধা, ন্থৃতসোম, শ্রতকীন্ত্ি, শতানীক 
ও শ্রুতসেন। উর্দমুখী ইচ্ছাশক্তির গর্ভে এবং পঞ্চ প্রাণশক্তির প্রত্যেকের 
গরসে এক একটী করিয়া, এ পাঁচ প্রকারের আত্মচরিতার্থতারপ পুত্র জন্মগ্রহণ 
করে। অভিমন্ত্যবধ অপেক্ষা ইহা আরও বিশ্ময়ীবহ ঘটনা । মহাভারতে আছে, 
ভগ্নোর ছুর্য্যোধনের সম্তভোধনিধানার্থ দ্রোণাচার্ধের পুত্র অশ্বথামা পঞ্চ পাগুবের 
শিরশ্ছেদের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইয়াছিলেন | রজনীর অন্ধকারে পাগুবশিবিরে যখন 
সকলে নিদ্রিত, সেই সময় তাহাদের সেই অতকিত অবস্থায় তস্করের মত অশ্বথামা 
তাহাদের শিবিরে প্রবেশ করিয়া, দ্বৌপদীর পঞ্চ পুরের শিরশ্ছেদন করিয়াছিল 
এবং ধুষ্টদ্যক্াদি অনেক পাগুবপক্ষীয় বীর সেই গুপ্ত আক্রমণে নিহত হইয়াছিলেন। 
পুত্রশোকবিহ্বল! দ্রৌপদীর উত্তেজনায় মহাবীর ভীম অশ্বথাঁমাকে বন্দী করিয়া- 
ছিলেন এবং ধনুদ্ধির অঞ্জন অশ্বখামার শিরোদেশস্থ মণি শির হইতে বিচ্ছিন্ন 
করিয়া লইয়া, শোকাকুলা' দৌপদীকে অর্পণ করিয়া, তাহার সন্তোষবিধান 
করিয়াছিলেন । 

অশ্বথামা-_দ্রোণাচার্য্ের পুত্র । জন্মমীত্র অশ্বের মত উচ্চ চীৎকার করিয়াছিল 
বলিয়।, উহার নাম অশ্বথাম! হইয়াছিল। পুবের্ব বলিয়াছি,শান্ত্রবিহিত ক্রিয়াকাণ্ 
বা সাধকের কর্মমার্গের মায়াই দ্রোণাঁচার্ধ্য নামে অভিহিত ; কীত্তি বা কর্মঘোষণা 
ইহার আত্মজ। যজ্ঞাদদি কর্মের ঘোষণা! অবশ্যন্তাবী ; অতি সন্বর ইহা লোকমুখে 
চারি ধারে প্রচার হইয়া পড়ে । লোকচক্ষুকে ফাঁকি দিয়া কন্মমার্গে অবস্থান 
অসম্ভব । কন্মী বলিয়৷ কীন্তি একবার জন্মাইলে, অশ্বধকনির মত চারি দিকে তাহা 
বিস্তৃত হইয়া পড়ে । সেই জন্য অশ্বথামা জন্মমাত্র অশ্থের মত চীৎকার করিয়াছিল 


ঃ উপনিষদ্রহস্য বা! গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


বলিয়া কথিত আছে । ঘোষণ।, যশোরপ মণি শিরে ধারণ করিয়া সাধককে 
বিচঞ্চল করিয়। ভুলে । সাধকের পক্ষে কীর্তিঘাষণা অতীব প্রবল শক্রু। কত সাধক 
এই ফাঁদে বদ্ধপদ হইয়াছে -কত সাধক হ্খলিতচরণ হইয়া ধরশীতলে লুণ্তিত 
হইয়াছে -যশের মোহে পড়িয়া কত সাধক যুগ যুগান্তরের জন্য সাধনার পথ 
হইতে বিচ্যুত হইয়াছে, তাহা! কে বলিতে পারে ? কীন্তিঘোষণায় একবার মুগ্ধ 
হইলে, যশের করতালি একবার চিন্তকে আকৃষ্ট করিলে সাধনার পিচ্ছিল সোপান 
হইতে স্মলিতচরণ হুইয়া সাধক বহু নিয়ে আসিয়া পড়ে । কর্ম ও ঘোষণা, এ ছুইটি 
পিতাপুত্র সন্বদ্ধে অর্থাং অতি ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধে আবন্ধ। “ঘোষণা চাহি না” একপ 
প্রতিশ্রুত হইলে, কর্ম যেন ছর্বল শক্তিহীন, বিযাদাচ্ছন্ন হইয়া পড়ে। ঘোষণা র 
গথ রোঁধ করিলাম বা ঘোবণাকে মারিলাম। এরূপ ভাব প্রাণে উজ্জীবিত হইলে 
কর্ম যেন শক্তিহীন, নিরন্তর হইয়া যায়--যাগযজ্ঞাদি কর্মের মায়া যেন নিশ্চে্ 
হইয়া আইসে; এবং সাধকেব অন্থমুখা দৃটসঙ্কল্প সেই মুহুর্তে তাহার 
প্রাণনাশ করে। ৃ্‌ 

বস্ততঃ ঘোঁবণা কখনও মর না। একবার জন্মিলে উহা অমর তুল্য হইয়া 
থাকে। কিন্তু কর্মকাণ্ডের মায়া হইতে পরিত্রাণ পাইতে হইলে বা ড্রোণাচার্যের 
প্রাণনাশ করিতে হইলে “অশ্বখামা হত” অর্থাৎ “ঘোষণা চাহি না বা 
ঘোৰণ। মরিল” প্রাণে এইরূপ ভাব ফুটাইয়া তুলিতে হয়। ক্রিয়াকাণ্ডের মায়ারূপ 
প্রোথাচার্ধ্য তাহ। হইলে নিশ্ে্ট হইরা পড়ে; এবং সেই সময় অন্তমুখী দৃঢ় 
সন্কল্প ব! ধুষ্টছবাক্স ভাহাকে দ্বিখগ্িত করে। 

“ঘোষণা সাধকের অভ্ঞাতসারে তাহার প্রাণের ৫ প্রবিষ্ট হয়। গভীর 
নিশায় সাধক যখন নিশ্চিন্ত হইয়। নিদ্রা যায়, অর্থাৎ সাধকের প্রাণশক্তি, ইচ্ছ।- 
শক্তি, সঙ্কল্প এবং আন্মচরিতার্থতারূপ মোহ, ইহারা সকলে যখন নিশ্চেষ্ট থাকে, 
সেই সময়ে যশঃশীর্ষক অশ্বরাঁমা তস্করের মত শিবিরে প্রবেশ করে। মনের সহিত 
সংগ্রামে মনপক্ষকে বিধ্বস্ত করিয়া, মনকে ভগ্নোর করিয়া, সাধক যখন “আমার 
সঙ্কল্প প্রায় পূর্ণ হইয়াছে,» এইবপ ভাবাপন্ন হয়-এইরূপ ঈবং আত্মশ্লীঘার 
মৌহে আচ্ছন্ন হইয়। পড়ে সেই সময়ে কীর্থিঘোষণাঁর মায়া তাহাকে শেষবারের 
মত বিধ্বস্ত করে, অজ্ঞাতম।রে তাহার প্রাণের ভিতর ঢুকিয়া, তাহার প্রাণের 
আত্মচরিতার্থতা৷ বা আত্মত্বপ্তিরপ পুব্রগণকে দ্বিখণ্ডিত করিয়া ফেলে । সহসা 
মোহনিদ্রাভঙ্গে দে দেখে-যশোঘোষণ! তাহাকে লুষ্ঠিত করিতেছে--তাহাকে 


উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৩১ 


বিপর্য্যস্ত করিতে উদ্ধত হইয়াছে--যশের মায়া তাহাকে সাধনার পথ হইতে 
বিচ্যুত করিতেছে । 

তাহার অস্তমু'খী ইচ্ছাশক্তি “সাধক হইয়াছি” এইরূপ আত্মতৃপ্তি হারাইয়। 
কাদিয়া! উঠে; ইচ্ছার আকুল ক্রন্দনে প্রাণের মোহচাতি ঘটে । আবার প্রাণ- 
শক্তি জাগিয়া উঠে ;__কীর্তি-ঘোষণাকে মারিবার জন্য সাধকের প্রাণ সচেষ্ট হয়। 
কিন্ত যে ঘোষণা হইয়। গিয়াছে-_তাহা অমর, ঘোষণার মৃত্যু নাই। প্রাণ 
ঘোষণার মস্তক হইতে যশোরপ মণিটুকু কাটিয়। বাহির করিয়া লইয়া ইচ্ছাশক্তিকে 
কথপ্চিৎ জন্তষ্ঠ করে অর্থাৎ উচ্চ ঘোষণারূপ অশ্বথামার শিরে যশোরূপ মণি যেন 
আর তাহার চক্ষে প্রতিভাত না হয়, এইরূপ ভাবাপন্ন হয়। যশই ঘোষণার 
শক্তি। কীর্তি-ঘোষণার শিরে যশঃম্বরূপ মণি থাঁকে 'বলিয়াই উহা! সাধকের বিদ্ব- 
সাধনে সমর্থ । সেইটুকু কাটিয়া বাহির করিয়া দিতে পারিলে, কীর্তিঘোষণা আর 
সাধকের অনিষ্ট করিতে পারে না। উচ্চঘোষণার শিরে যশের মায়া আছে 
বলিয়াই সাধককে সাবধান হইতে হয়। 

ইহাই অশ্বখামার মণিহরণ ; এবং চরিশর্থত। বা আন্বতপ্তিরপ জৌপদী- 
তনয়গণের নিধন । 

সন্কল্পরূপ ধুষ্টদ্যন্ন এ সময়ে নিহত হয়। ঘআর্থাং মনোজর হইলে এবং যশের 
মায়া বর্জন করিলে, আর সম্কল্প বলিয়া সাধকের কিছু থাঁকে না ১ এবং চরিতার্থতা 
অচরিতার্থতা, তৃপ্তি ও অতৃপ্তি বলিয়াও কিছুই থাকে না। যে যশটুকু 
একবার হইয়া! গিয়াছে, সেইটুকু অপরিহাধ্য; ইচ্ছাশক্তি যেন আস্মচরিতার্থতারূপ 
পুত্র হারাইয়া সেইটুকু লইতে বাধ্য হয়। সেই জন্ত মহাভারতে দেখিতে 
পাই--অজ্জন অশ্বথামার মণি ভ্রৌপদীকে অর্পণ করিয়া তাহাকে গ্রীতা 
করিয়াছিলেন । 

সাধক ! আবার বলি যশের মায়ায় ভূলিও না- জগতের করতালি শুনিবার 
জন্। তোমার শ্রবণকুহর বাড়াইয়।৷ রাখিও না । কীর্তিঘোষণার শির হইতে যশ: 
( মণি ) কাঁটিয়। বাহির করিয়া দাও । জয়-ঘোধণাঁর উচ্চ রোল আনিয়া যত 
তোমায় ভাসাইরা লইয়া যাইতে প্রয়াস পাইবে, তুমি ততই সন্কুচিত হইরা মুদৃঢ়- 
ভাবে ভগবচ্চরণ স্মরণবূপ অবিচল .স্তস্ত ধারণ করিও-_প্রাণের ভিতর হইতে 
“মা” “মা” রব উথিত হইয়া, জগতের করতালি ও কোলাহলকে যেন ঢাকিয়া 
ফেলে। যত করতালি আসিতে থাকিবে, ততই তোমার “মা” “মা আন্বান 


উপনিষদূরহগ্ঠ বা গীতার যৌগিক ব্যাথা । 


৩ 
হেল উচ্চ হইতে উচ্চতর হইতে থাকে-নতুবা মজিবে। সেই করতালির 
ক্রোত, কোথায় তোমায় ভাসাইয়া লইয়া গিয়া__চক্রা বর্তনে ফেলিয়া-ক্অতলতলে 


নিমগ্র করিবে | 
যাহ! হউক, আমরা মোটের উপর পাঁগুবপক্ষে এই কয়টা প্রধান প্রধান 


সেনানী পাইলাম। মনোবপ ছৃধ্যোধন, দ্রোণাচার্ধ্যরূপ ক্রিয়াকাণ্ডের মায়াকে 
পাণুবপক্ষের এই কয়টা প্রধান প্রধান সেনানীর কথা বলিলেন,_- 

১। যুযুধান--সাত্যকি_-সত্যান্বেবণ | 

২। বিরাট-_জড়শক্তিচিন্তা 

৩। দ্রুপদ -উদ্ধগতি (বা জীবের ক্রমবিকাশ )। 

৪1 ধুষ্টত্যন্ন - দৃঢ় সঙ্কল 

৫1 চেকিতান-_-সাঁধকের ম্বতঃ প্রস্থত জ্ঞান । 

৬। সৌভদ্র--সাঁধকের নিীকতা৷ এবং তজ্জনিত অহংকার । 

৭। দ্রৌপদেয়--সাধকের সাধনাজনিত .আত্মচরিতার্থতা বা আত্ম-তৃপ্ির 
মোহ । 

তারপর বিপ্ষনৈম্য স্মালোচন। কবিরা, ভধ্যোবনরূপ মন নিজ পক্ষের 
সৈম্তসমাবেশ, দ্রোণাচাধ্যের নিকট বর্ণনা করিতেছেন, 


অস্মাকন্ত (বশিষ্টা যে তামিবোধ দ্বিজোত্ুম | 
নায়কা মম সেন্যস্ত সংজ্ঞার্থ, তান্‌ ব্রবামি তে ॥৭ 
ভবান্‌ ভাম্মশ্চ কর্ণশ্চ কৃপশ্চ সমিতিগ্ীয়ঃ। 
অগ্থথাম। বিকর্ণশ্চ লৌমদতিস্তথৈব চ॥৮ 

অন্তে চ বহুবঃ শুরা মদর্থে ত/ক্তজীবিতাঃ। 

নান শঙ্সপ্রহরণাঃ সর্ব্বে যুদ্ধবিশারদাঃ ॥৯ 


দিজোন্তম ! তে (তব) সংজ্ঞার্থ, (গোচরার্থং ) তান্‌ ব্রবীমি, অস্মীকং হেতু 
বিশিষ্টা মম সৈন্য নায়কা; তান্‌ নিবোধ 1৭1 

ভবান্‌, ভীন্মশ্চ, কর্ণশ্চ, সমিতিপয়; কৃপশ্চ, অশ্বখামা, বিকর্ণশ্, তথৈব চ 
সৌমদত্তিঃ মদর্থে ত্যক্ত-জীবিতাঃ নানাশক্রপ্রহরণাঃ অন্তে বহবঃ শূরাশ্চ 
(সস্তি)) (তে) সর্ব যুদ্ধবিশারদা; | ৮।৯। 


উপনিষদ্রচশ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। ৩৩ 


ষ্ঠ 


দ্বিজোত্তম ! আপনাকে জানাইবার জন্য বলিতেছি, আমাদিগের দলে ধাহারা 
বিশিষ্ট ও আমার সৈন্তবাহিনীর নায়ক, তাহাদিগকে অবগত হউন । 

( আমার দলে ) আপনি, ভীক্ম, কর্ণ, রণজয়ী কৃপ, অশ্ধখামা, বিকর্ণ, সৌমদত্তি 
( ভূরিশ্রবাঃ ) এবং আমার জন্ত মরণে কৃতসম্কল্প বিবি অস্্শদ্বধারী আরও অনেক 
শুর আছেন; তাহারা সকলেই রণবিশারদ । 

ভবান্‌--দ্রোণাচাধ্য বা যজ্ঞাদি ক্রিয়াকাণ্ডের মায়। ( পৃবেব বলিয়াছি )। 

ভীম্ম--(ভী+ম, ষ_-আগম ) ব্রহ্গাচ্য । ব্রহ্ধার্থে পরিচর্ধ্যার নাম ত্রহ্মচর্য্য। 
ইনি উভয় পক্ষেরই পিতামহ | মন, প্রাণ যাহ] কিছু, ত্রহ্মচধা হইতেই পুষ্ট হয়-_ 
্রহ্মচর্যোর অক্ষেই পরিবদ্ধিত হয়-_ত্রহ্মচর্ধ্য হইতেই শক্তি সঞ্জাত হয়--ব্রহ্মচর্য্য 
হইতেই জীবের অন্তিহ। সাধারণ কথায় ব্রদ্মাচর্ধ অর্থে_কামাদি ইন্দ্িয়দমন, 
আত্মসংঘম ইত্যাদি ; কিন্তু এ সকল ত্রহ্গচর্ষ্যের বহিরঙ্গ মাত্র । জীবাক্মামাত্রেরই 
ত্রন্মলাভার্থে স্পৃহা, ব্রদ্মের সহিত জন্মিলনের আকজক্ষা অন্তঃপ্রবাহিত আছে; 
উহাই ব্রহ্মচর্য্যের অন্তরঙ্গ বা উহাই যথার্থ ব্রহ্মচধ্য । অব্বিস্তর মাত্রায় এ ব্রহ্মচধ্য 
এত্যেক জীবাত্মারই আছে । তাহারই বলে. জীবপ্রবাহ মুক্তির পথে ধীরে ধীরে 
অগ্রসর হইতেছে । এ অস্তঃপ্রবাহই যেন ব্রক্ষচধোর প্রাণ, এবং ইক্জিয়দমন, 
আত্মসংষম ইত্যাদি ত্রদ্মচধ্যের দেহ। ব্রক্মচর্যারূপ তীম্ম বস্তরতঃ পাগ্তবরূপ গ্রাণ- 
শক্তিরই মঙ্গল কামন। করে, জীবাত্মার সহিত ভগবন্সিলনের আশ। প্রাণে প্রাণে 
পোঁষণ করে; কিন্তু বাহাতঃ মনোরূপ হৃষ্যোধনের অধীনেই ইহা পবিচালিত হয়। 
ইকন্দ্রিযদমন, আত্মসংসম, এ সব মনের দ্বারাই চালিত হয়। সাধকের প্রাণ 
তগবল্লাভের জন্ত যখন ব্যাকুল হয়, তখন এই ইন্ড্রিয়-দমন, আত্মসংঘম ইত্যাদির 
মায়! সাধককে ব্যতিব্যস্ত করে। সাধক ইহার মায়া সহস। ছাড়িতেও পারে না, 
অথচ শুধু ইহাতে ভগবতলাভ হয় না বুঝিয়া, তাহার প্রাণ উহার গণ্তীর মধ্যে 
অবস্থান করিতে চাহে না । ইহার মায়াই সাধককে সর্বাপেক্ষা দৃঢ়ভাবে জড়াইয়া 
ধরে। ভীম্মদেব পাগুবপক্ষকে যুদ্ধে সমধিক বিপর্ধ্যস্ত করিয়াছিলেন। সাধনার 
পথে অগ্রসর হইতে জীবের প্রাণ যখন কাদে,--অতৃপ্ত প্রাণ যখন মরুমাঝে তৃষ্জার্ত 
পথিকের মত ভগবল্লাভের জন্য চারি ধারে ছুটাছুটি করে, মন তখন তাহাকে- 
"ইন্দ্রিয় দমন কর--আত্মসংযম কর” ইত্যাদিরূপ উপদেশ দেয়। বস্ততঃ 
উহা! হইতে শঞ্জিলাভ হয় বুঝিয়া, এবং হয় ত এরূপ করিলেই ভ্গবল্লাভ হইতে 
পারে, এইরূপ হৃদয়ঙ্গম করিয়া) উহার মায়াও ছাড়িতে পারে না) অথচ ভগব- 

৫ 


৩৪ উপনিধদ্রহ্য বা! গীতার যৌগিক ব্যাধ্য। ৷ 


ল্লাতের এবল আশা, উহাতেও তাহাকে স্থির থাকিতে দেয় না । তাহার প্রাণ 
যাহাকে জিজ্ঞাসা করে,_সাধু, যোগী, মহাত্মা বলিয়া পরিচিত যে কোন লোকের 
কাছে যুক্তি প্রার্থনা করে, সকলেই প্রায় “ইক্ড্রিয় দমন কর” এইরূপ উপদেশ 
দিয়াই তাহাকে ক্ষান্ত করিতে প্রয়াস পায়। হায়রে! ভগবত্কৃপা না হইলে 
থে ইন্দ্রিয়দমন হয় না) এ কথা আগে তাহাকে কেহ বলে ন|; ভগবৎকপার 
আশ্বাদ প্রাপ্তি ঘটাইয়া, তাহার প্রাণকে কেহই স্থির, সংযত করিয়া দেয় না। 
জগৎ--ফীদ পাতিয়া ভগবানকে ধরিতে চাহে । জগৎ পাখী পাইয়! পিঞ্জরের 
অন্বেষণ করে না, পিপ্ুর লইয়। পাখীর জন্ত অপেক্ষা করে । 

এই ভীম্মচরিত অতি অপুব্ব, ড্রোণাচার্ধ-চরিত অপেক্ষা অধিক বিস্ময়কর । 
বস্তুত? শীস্রবিহিত কন্দমাদিরূ'প দ্রোণাচাধ্যের মত ত্রন্মচর্ষে;র বহিরজবূপ ইন্দ্রিয়দমন, 
আত্মসংঘম ইত্]াদিকে সাধক তত উপেক্ষা করিতে পারে না। ভগবান হ্বয়ং 
যতক্ষণ না ভীম্মের বিপক্ষে অন্ত্রধারণ করিয়া রণস্থলে অবতীর্ণ হনঃ যতক্ষণ না 
্রক্মচর্যযরূপ ভীম্মের ভ্রহ্মাপ্পৃহারূপ প্রাণ ভগবংশক্তির আন্থাদন পায়, ততক্*ণ 
ভীম্মদেব সমর ত]াগ করেন না । অর্থাৎ সাধক ত্রহ্মচধ্য-পালনে এঁশী শক্তির 
অনুভব পাইয়া চরিতার্থত৷ লাভ করে, অথচ ভগবদন্বেষণের জন্য উহার মায়ায় 
আর ভুলিয়া থাকিতে পারে না। এইরূপ উভয় সঙ্কটে পড়িয়া সাধক যখন 
কিংকগুব্/বিমুঢ় হইয়া পড়ে, তখন ভগবান এক অপুর্ব ভাব তাহার প্রাণের 
ভিতর ফুটাইয়া দেন। সে ভাব প্রাণের ভিতর ফুটিয়া উঠিলে, কামাদি ইন্দ্রিয় 
আপন! হইতে দমিত হইয়া যায়। ভাম্মরূপ ব্রহ্মচব্যের মারা আপনা হইতে অস্ত্র 
শন্্ পরিত্যাগ করে। কামাদি দমনরূপ ব্রহ্গচয্যের বহিরঙ্গে আর সাধকের 
শুয়োজন হয় না। ব্রঙ্গচধ্য তখন রূপান্তর গ্রহণ করে, ব্রহ্মচর্ষে)র বহিরঙ্গ নিশ্চেষ্ট 
হইয়া যায়ঃ শুধু ব্রহ্মচবে)র প্রাণ শান্তিপূর্ণভাবে সাধকের মঙ্গল সম্পাদন করিতে 
থাকে। পূর্ব্বে বলিয়াছি, ব্রহ্ম্গৃহাই এক্ষচধ্ের প্রাণ, এবং কামাদি ইন্দ্রিয় 
দ্রমূনই ব্রন্মচধে;র বহিরঙগ বা দেহ। 

সে ভাবটা কি? কোন্‌ ভাব প্রাণের ভিতর উদ্দিত হইলে, কামাদি জয়ের 
জম্থ আর সাধককে ব্যস্ত থাকিতে হয় না- ত্রদ্মচধ্যের বহিরঙ্গের মায়া আর 
তাহাকে ভুলাইয়া রাখিতে পারে না. সেভাবগ স্ত্রী-পুরুষ-অতেদ ভাব। 
কামৌন্দ্রয় জয়ের ইহাই সববাপেক্ষা গগম উপায়। ব্রহ্মচধ্যের বহিরঙ্গকে নিশ্চেষ্ট 
ক্ষরিবার বা নিপ্রয়োজন ভাবিবার আর দ্বিতীয় উপায় নাই। ভ্ত্রীপুরুষে অভেদ 


উপনিষদ্রহশ্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা! ৩৫ 


জ্ঞান জন্মিলে, কামেক্দিয় দমনরপ ব্রক্ষচর্য্ের আর আবশ্যকতা থাকে না । ইহাই 
অঙ্নের রথে জ্রী-পুরুষরূগী শিখণ্ডীর আবির্ভাব । স্ত্রী-পুরুষরূগপী শিখণ্ডীকে 
সম্মুখে রাখিয়। অঙ্ষুন ও শ্রীকৃষ্ণ তীগ্মদেবকে জয় করিতে গিয়াছিলেন। তাহাকে 
দর্শন মাত্রেই ভীক্মদের নিরস্ত্র হইয়া রণ পরিত্যাগ করিয়াছিলেন; এবং অর্জনের 
শরজালে নিজ শয্য1 রচনা! করিয়া, শীস্তিপূর্ণ চিত্তে তাহাতে শায়িত থাকিয়া, 
পাগুবপক্ষের মঙ্গলের জন্য প্রীণ্ে প্রাণে ভগবানকে ডাকিয়াছিলেন। অপূর্ব 
ধর্মোপদেশ দিয়া, যুধিষ্টিরাদি পাঁগুবদিগের হৃদয়ে বিমল জ্ঞানজ্যোতিঃ ফুটাইয়া 
দিয়াছিলেন। 

শিখণ্ডী (যাহাতে স্ত্রী ও পুরুষ-ভেদ নাই) বা স্্রী-পুরুষে অভেদ জ্ঞান, 
দ্রুপদ রাঁজারই অন্যতম পুত্র । 

সাধক! যদি স্ত্রী-পুরুষে অভেদজ্ঞানের সাধনা করিতে পাঁর, দেখিবে-- 
তোমার ব্রহ্ষচর্য্য আপনা হইতেই সংসাঁধিত হইয়া যাইবে। ব্রক্মচর্যাধর্মা অতীব 
কঠোর- আজিকালিকার দিনে পালন করা অতীত ম্ুহৃক্ষর, এইরূপ ভাবিয়! 
তোমায় হতাশ হইত হইবে না; এবং ব্রহ্মসর্ষোর বহিরঙ্গ পালন হইল না বলিয়া, 
বুঝি ভগবংলাভ হইব না, এন্প নিরাশার কুছুকে তোমায় ডুনিতে হইবে না। 
্রহ্মচর্য্যের অন্তরঙ্গ পালনে অধিক যত্বুবান্‌ হও । “কামাদি জয়ের মায়! আমার 
বড বিদ্ব সাধন করিতেছে--আমার চিত্ত এই দিকেই প্রধাবিত--তোমার 
অন্বেধখে তত ব্যাকুলত। প্রকাশ করিতেছে না” এইরূপ ভাবে কাদিয়া 
ভগবানের শরণাগত হও। মাতৃশক্তি তোমার প্রাণে ফুটিয়! উঠিবে_দ্রীপুরুষ 
বলিয়া আকৃতির ধান্ধা, তোমার চক্ষু হইতে জন্মের মত তিরোহিত হইবে, 
তখন তোমার অন্তরের ব্রহ্গচ্য্য স্বাধীনভাবে তোমার মঙ্গলপথে আলোক 
দেখাইবে । 

ইহাই ভীম্মের শরশয্যা। বস্ততঃ ব্রহ্মচর্য্য--সাধনার পক্ষে একান্ত প্রয়োজনীয়, 
্রচ্মচর্য্যই সাধনার শক্তি; কিন্তু তাই বলিয়া! কামেক্রিয়দমনরূপ ব্রহ্মচর্য্যের বহিরঙ্গ- 
সাধন যত দ্দিন না হইবে, তত দিন বুঝি আমার ভগবৎসাঁধন! হইবে না, এর পত্রাস্ত 
ধারণার বশব্তঁ হইও না। মোহে পড়িয়া! সময়ের অপব্যবহার করিও না। 
ভীম্মচরিত্র বিশ্লেষণ করিয়। দেখ-_-অর্জুনের ভীম্মবিজয় বুঝিতে চেষ্টা কর, তোমার 
উভয় কামনা পূর্ণ হইবে। | 

সাধক! “ন্ত্ী-পুরুষ” শুধু পোষাকের বিভিন্ন মাত্র। পোষাকের মোহ 


৩৬ উপনিধদ্রং্) ব! গীতাঁর যৌগিক ব্যাখ্যা। 


ভুলিতে চেষ্টা কর, বরহ্র্ধ্য আপনি সংসাধিত হইবে। হ্ষচর্ধ্যের অপূর্ব শক্তিতে 
তোমার প্রাণ ভরিয়া যাইবে । কিন্তু এ মন্ত্রের সাধনা প্রয়োজন। কিছুদিন 
যত্তসহকারে তোমার চিন্তাআোতকে এই দ্্ীপুরুষ অভেদ” জ্ঞানের উপর প্রবাহিত 
রাখিতে হইবে । তখন তোমার অধ্যবসায় বিফল হইবে না । এন্ত্রী” ও “পুরুষ” 
তোমার এ আকৃতিগত ভেদজ্ঞান মিলিয়া এক হইয়া যাইবে ? লিঙ্গ-শরীরের যথার্থ 
জ্ঞান তোমার প্রাণের ভিতর জলিয়। উঠিবে। লিঙ্গজ্ঞান কি, তখন তুমি বুঝিতে 
পারিবে । 

কর্ণ-_পূুর্ব্ব বলিয়াছি, প্রাণশক্তিরই একাংশের নাম কর্ণ। উহ মূলাধার 
চক্রে থাকিয়া আমাদিগের দেহ পোবণ করে এবং সাধারণ কথার আমরা যাহাকে 
জীবনের মাঁয়া বলি, উহ! এ গ্রাণশক্তিটুকুরই জন্ত । এ প্রাণশক্কিটুকুর সাহায্য 
গ্রহণ করিয়া আমাদিগের মন, ইন্দ্িয়াদির ভিতর দিয়া দেহ এবং জগৎ উপভোগ 
করে; সেই জন্য উহার মায়ায় আমরা! এত মুগ্ধ ;_তাঁই জীব মরণে এত ভীত, 
শরীর রক্ষার জন্য এত ব্যস্ত ! এ প্রাণশক্তি মৃত্যুর মায়া কল্পন! করিয়! 
জীবজগৎকে অহনিশ শঙ্গিত করিয়! রাখিয়াছে ; মৃত্যুভয়ের করাল মুখব্যাদান 
হইতে আত্মরক্ষাব চিগ্ারূপ গভীর অশান্ছি মৃহূর্ধে মৃহ্ার্তে জীবের হৃদয়ে ফুটিয়া 
উঠিতেছে | 

_ সাধনা-পথে মৃত্যুভয় একটা প্রবল শক্র ; আবার সাধনার পথে মৃত্যুভয় একটা 

প্রবল সহায়। মৃত্ুভয় ন! থাঁকিলে সাধারণ জীব উচ্ছৃঙ্খল হইয়া যাইত, ধর্মের 
দিকে জীবের মতি ফিরিত না ; কিন্তু আবার, সাধনার পথ দেহের পক্ষে কষ্টদায়ক 
এবং “ভোগ হইতে জীবকে বঞ্চিত করে" _এইরপ ভ্রান্ত ধারণ। আছে বলিয়া ও 
দেহ নষ্ট হইবার আশঙ্কাতে উহ! দাঁধনা-পথে বিদ্বক্। অভয়--দাধনার একটী 
লক্ষণ। আমাদের এই গ্রাণশক্তির মায়া, মৃক্ুভয়নবূপ কবচ-কুণগ্ডল ধারণ করিয়া, 
আমাদিগকে সাধনাপথে অগ্রসর হইতে দেয় না । মৃত্যুতয় হৃদয়কে সম্কুচিত 
করে--প্রাণের উদারতা নষ্ট করে -প্রাণকে জগতের বিশাল বিস্তারে মিশিতে না 
দিয়া, সংকীর্ণ ভোগ-গণ্ভীর মে আবদ্ধ করে জন্ম-মরণ-ভ্রান্তি-জীল রটনা করিয়া, 
জীবাক্মাকে জন্ম-মৃত্যুরহিত, নিত্য, নির্বিকার অবস্থার আস্বাদন হইতে বঞ্চিত 
করিয়। রাখে । ৃ 

মহাভারতে আছে, কর্ণ--সূর্য্ের পুত্র। বস্তুতঃ কর্ণরূপ এই প্রাণশক্তিটুকুর 
জন্য এ জগৎ নূর্যোর নিকট খণী। সৃর্য্য--_জীবনীশক্তির আধার। এ যেস্ুর্যয 


উপনিষদ্রহন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখা! । ৩৭ 


হইতে জ্যোতির্দায় রশ্িতরঙ্গরাশি অহরিশ চাঁরি ধারে প্রবাহিত হইতেছে, জ্যোতির 
তরঙ্ভঙ্গ অবিরত দরিগ্দিগস্ত প্লাবিত করিয়া ছুটিতেছে--উহার নিকট আমরা 
সর্বাংশে খশী। জগতের বস্তনিচয়ে রক্ত, গীত, নীল আদি বর্ণবিন্তাস--জগত্ের 
বিচিত্র রূপমাধুরী স্থধ্যকিরণের মহিমাতেই রচিত হয়। নিবিড় অন্ধকার নাশ 
করিয়া, পৃথিবী চন্দ্র প্রভৃতি গ্রহ উপগ্রহকে কুম্ুমগুচ্ছের মত ফুটাইয়া তুলেন 
বলিয়া, এবং আমাদিগকে চক্ষুরিজ্দ্িয় প্রদান করিয়া, জগন্তোগে সাহাযা করেন 
বলিয়া ইহার নাম জগচ্চক্ষুঃ । কিন্তু ইহা অপেক্ষা আর একটা মহামূল্যবান্‌ বস্ত্র 
জন্য আমরা সূর্যের মুখাপেক্ষী । সূর্যের কনককিরণধারা' অবলম্বন করিয়া, প্রাণ- 
শক্তির অফুরন্ত প্রস্রবণ জীবজগংকে বাচাইয়া রাখে ; তাই সূর্ধ জগতের প্রাণ- 
স্বরূপ । সর্যা আমাদিগের প্রাণ-_সূর্ধায জগতের প্রাণ-_সুর্ধ। রহ্মাণ্ডের জীবনকেন্দ্র। 

বস্ততঃ ন্্ধ্য না থাকিলে আমর! বাঁচিতাঁম না-স্থর্যা ঠেতন্তময়ী মায়ের 
আমার নয়নমণি; স্সেহময়ী জননীর জেহধারার মত জীবনীশক্তির অনস্ত প্রবাহ 
এ সূর্য হইতে আমাদের শিরে ঝরিতেছে_-আমাদিগকে মগ্ন করিয়। রাখিয়াছে। 
সমুদ্রে যেমন জলচর জীব বাঁস করে, আমরাও তেমনি স্ূর্যাপ্রস্থত জীবনীশক্তি- 
রূপ মাতৃন্েহের বিরাট্‌ সমুদ্ধে নিমজ্জিত। নুর্য্যের জ্যোতিঃধারা ধরিয়া জীবনী- 
শক্তি অনবরত আমাদিগের দেহে প্রবেশ করিতেছে । হুর্যাকিরণের ভিতর দিয়! 
সন্তানকে আ্তনধারা দিবার মত মা আমাদিগকে প্রাণশক্তির ধারা ঢালিয়। 
দিতেছেন। সেই প্রাণশঞ্জিপ্রবাহের সাহায্যে আমাদের মন জগতকে ভোগ 
করে। ভোগের ব্যয়ন্মরূপ সেই প্রাণশক্তি ব্যয়িত হয়। আমরা জগঞ্ডোগে 
যত প্রাণশক্তি ব্যয় করিয়া থাকি, এই বিরাট্‌ প্রাণশক্তির প্রবাহ ততই আমাদিগের 
সে অভাব পূরণ করে। যে পরিমাণে প্রাণশক্তি আমাদের দেহে প্রবিষ্ট হয়, 
তদপেক্ষা অল্প পরিমাণে যদি আমরা অগন্ভোগের জন্য ব্যয় করিতে সক্ষম হই, 
তাহ! হইলে আমাদের দেহভাগ্ারে প্রাণশক্তি অনেক পরিমাণে সঞ্চিত হয়, 
এবং আমর দীর্ঘ জীবন লাভ করিতে পারি। কিম্বা যদি ব্যয় অপেক্ষা অধিক 
পরিমাণে এই প্রাণশক্তি বহির্জগৎ হইতে আকর্ষণ করিয়া লইতে পারি তাহা 
হইলেও জীবনকে দীর্থকালব্যাগী করা! যাইতে পারে। অধিক পরিমাণে প্রাণ- 
শক্তি বহির্জগৎ হইতে আকর্ষণ করিতে পারিলে, এবং পন্থ। জান! থাকিলে, আমর! 
অন্ত কোন ব্যক্তির দেহে উহা! প্রয়োগ করিয়া, তাহাকে রোগ হইতে মুক্ত 
করিতে পারি। এমন কি, মৃতদেহ অবধিতেও জীবন সঞ্চার করা যায়। 


৩৯ উপনিধদ্রহশ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যব্যা। 


এইরূপ অধিক পরিগাণে প্রাণশক্তি আকর্ষণ করিবার অতি সুণ্ৰর উপায় 
অছ্ে; কিন্তসে উপায় প্রকাশ করা যোগনীতিবিরুদ্ধ। কারণ সাধারণে সে 
ভাবে প্রাণশক্তি আকর্ষণ করিবার চেষ্টা করিলে, তাহাতে বিদ্ব ঘটিতে পারে | 
গ্রাণশক্কিপ্রবাহ এত পর্যাপ্ত পরিমাণে সহসা দেহের ভিতর প্রবেশ করিতে 
পারে_নূর্ধ্যের রশ্মিতরঙ্গ ধরিয়া, এ প্রাণশক্তির প্রবাহ এত্ত প্রবলবেগে 
আমাদের দেহে আসিতে পারে যে, অনভ্যন্ত দেহের মূলাধারাদি চক্রমকল সে 
শর্তর বেগ ধরিয়া কেন্দ্রগত করিয়া রাখিতে পারে না) প্রাণপ্রবাহ দেহ 
পরিপ্লাবিত করিয়া দিয়া বন্যাতরঙ্গ বা বিদ্রাচ্ছটার মত আমাদের ব্রহ্গরন্ধ 
বা অন্ত কোন চঙ্ষুরাদি ইন্জিয়ের ভিতর দিয়া, বহিরত হইয়া মুহূর্তে আমাঁণের 
মৃত্যু ঘটাইতে পারে; অথবাঁ ন্নারুপথ বিকৃত করিয়া দিয়া উন্মাদ প্রভৃতি 
রোগগ্রস্ত কবিতে পারে। তবে শান্্রসঙ্গত পন্থা অবলম্বন করিয়৷ এরপে 
বিরাট হইতে প্রাণশক্তি আকর্ষণ করিলে সে ভয় আর থাকে না। 

এই জন্য কর্ণকে বৃর্ধযপুত্র বলিয়া শান্পে উল্লিখিত হইয়াছে। সকল কথা 
প্রকাশ করা চলে না, সংক্ষেপে বিরাই প্রাণপ্রবাহের কথা বলিলাম । মায়ের 
এক একটা করুণার কথা বলিতে গেলে, এক একখানি বিরাট্‌ গ্রন্থ হইয়া 
পড়ে--বুঝি তাঁহাতেও বলা চলে না। যাহা হউক, এই শক্তি জীবদেহে 
প্রবেশকালীন একটি জ্যোতির্নয় সুত্রবৎ ধারা অবলম্বন করিয়া! প্রবেশ 
করে এবং জীবের মৃত্যুকালে এরূপ সুত্রধারা অবলম্বন করিয়া বহির্গভ 
হইয়া, পঞ্চ প্রাণশক্তিবিশিষ্ট জীবাত্বার দেহ হইতে বহির্গমনের জন্ত পথ ও 
আধার হস্ত করে; এই জগ্ই কর্ণকে স্থতপুত্র বা সূত্রধর বলিয়া উল্লেখ কর! 
হইয়াছে । 

কর্ণরূপ প্রাণশক্তির মৃত্যুভয় ও জগন্ভোগের মায়ারূপ কবচকুগ্ডল অপহৃত 
হইালে তবে কর্ণ মরে; অর্থাৎ সাধকের হৃদয় হুইতে মৃত্যুভয় ও জগত্তোগের 
মায়া দূরীকৃত হইলে, এ প্রাণশক্তি-_বিরাট, প্রাণশক্তিতে মিলিয়া যায়। 
মন আর উহার সাহায্য লইয়া জগন্ঠোগে জীবকে মুগ্ধ করিয়া রাখিতে পারে 
না) অর্থাৎ যেমন সমুদ্রোখিত তরঙ্গ সমুত্রে মিলাইয়া গিয়া প্রশীস্ত ভাব 
প্রাপ্ত হয়, তদ্রুপ উহ বিরাট, প্রাণসমুদ্রে মিলিত হয়। যাহা হউক, স্ু্য্য- 
সাধনা শিক্ষা করিলে, এই প্রাণশক্তির রহস্ত হৃদয়ঙ্গম হয়--কিন্তু সে অন্ত কথা । 

সাধক! যদি মায়ের আমার এ প্রাণশক্তিরূপ স্রেহধারা-পরিপ্ন ত সূর্য্য 


উপনিষদ্রছন্ট ব। গী হার যৌগিক ব্যাথা1। ৩৯] 


নয়নের চিন্তা করিতে পার- যদি হদয়ঙ্গম করিতে পার, তুমি মাতৃক্রোড়ে উপবিষ্ট 
হইয়া আছ, এবং তোমার শিরে মাতৃচচ্ষু হইতে ন্েহের ধারা ঝরিতেছে, তাহা 
হইলে তোমার জীবনীশক্তির ভাণ্ডার ফুরাইবে না। মা অনিমেষ লোচনে 
তোমার দিকে চাহিয়া আছেন, তুমিও যদি অনিমেষ লোচনে সেই মাতৃ-দৃষ্টির 
দিকে চাহিঘা। থাকিতে পার, তোমার মৃত্যুতঘ় রোধ হইবে। এস! চাহিয়। 
দেখ | মায়ের অমৃতময়ী স্তনধারা অনবরত তোমাকে নিমগ্ন করিয়া চারি ধারে 
ঝরিতেছে--তোমাকে পরিপ্লাবিত করিয়া সেই স্তনধারাপ্রবাহ দিগ্দিগস্তে 
প্রবাহিত হইতেছে; পান করিয়! কৃতার্থ হও । মাতৃ-স্তনের ক্ষীরধারায় পুষ্ট হইয়। 
শক্তিমান হও । মনকে জগৎ উপভোগের জন্ত সে শক্তির অপচস্ম করিতে না 
দিয়া, পঞ্চপ্রাণযুক্ত আত্মার জন্ত আধার পূর্ণ কর? “স্তনধারা দাও মা--স্তনধারা 
দাও মা” বলিয়া কীদ! মাতৃস্তনে ছুগ্ধ উছলিয়া উঠিবে-্বর্গের সুরধুনী, 
আকাশ-গঙ্গারূপে তোমার শিরোদেশে ঝরিবে, তোমার মস্তকের স্নামু'জটাজাল 
নিষিক্ত করিয়া ভাগীরথীরূপে তোমার সর্ধাঙ্গ পরিপ্লাবিত করিবে; তুমি 
কৃতার্থ হইবে। তোমার শিবমৃত্তি তুমি আপনি দেখিয়া জান্মরহার৷ হইবে । 
সৌমদত্তি- সোমদত্ডের পুত্র ভূরিশ্রবা । ভুরি ₹ ব্রহ্মা,বিষুমহেশ্বর ইত্যাদি, শ্রব 
_খ্যাতি; যাহা হইতে ত্রন্মত্থ বিষু্ব ইত)1দ্ির মত খ)াতিলাভ হইতে পারে,তাহাকে 
তবরিশ্রব। বলে ; অর্থাৎ হঠযোগকে ভূরিশ্রবা বলে। সত্যান্বেষণের ইহাই সর্বাপেক্ষা 
প্রবল (রিপু। সাধক সত)াখেষণের জন্ত হখন সাধনাপথে প্রবেশ লাভ করে 
ভগবানকে খু'জিবার জন্য প্রাণে যখন আকুল পিপাস। জাগিয়া উঠে, মেই সময়ে 
যোগ অর্থাৎ হঠযোগ শিক্ষার মায় কোথা হইতে আসিয়। তাহার হৃদয় অধিকার 
করে। ভগবানকে খুর্জিতে গিয়া, ভগবদৃবিভূতি লাভের কৌশল-সকল শিক্ষার 
জন্ত প্রাণ বস্ত হর। প্রচলিত কথার যাহাকে যোগী বলে, সাধকের সেইরূপ 
যোগী হইবার সাধ প্রবল হইয়! উঠে । হঠঘোগের অন্তত আসন, গ্রাণায়াম, মুদ্রা 
ইত)(দিতেই তাহার চিন্ত অধিক অভিনিবিক্ট হয়, সে ভগবান্‌ ভুলিয়া ভোভ্রবাজী 
শিক্ষায় যত্ববান্‌ হয়। তাহার স্ত]ান্বেষণের নিম্মল উগ্তম কিছু দিনের জন্ত বি3্বস্ত 
হয়। এই জন্তই মহাভারতে ভুরিশ্রবার হস্তে সাত) কির লাঞ্ুনা দেখিতে পাই। 
অনেক সাধক, ভগবান্‌ খু'জিতে গ্রিয়া, এইরূপে বাজীকর হইয়া গিয়াছেন। 
বস্তুত; হঠসমাধিতে ভগবান্‌ লাভ হয় না--যোগবাশিষ্টে বশি্ঠদেব,রা মচন্দ্রকে 
ইহা। অতি শুন্রররূপে বুঝাইয়! গিয়াছেন। রামচন্দ্রের রাজসতামণ্ডপে। তাহাকে 


৪৩ উপনিষদ্রহন্ত বা! গীতার যৌগিক বাখ্যা ৷ 


শিক্ষা দিবার জন্ত তিনি একদিন কোন নিদ্দিষ্ট স্থান খনন করিতে বলিয়া- 
ছিলেন। বশিষ্টদেবের আদেশানুযায়ী সেই স্থলটী খনিত হইলে, একটা মনুম্যদেহ 
দেখিতে পাওয়া গিয়াছিল। বশিষ্ঠের আদেশে সেই দেহটী সভামণ্ডপে আনীত 
হইলে, প্রক্রি্বা-বিশেষের ছারা তিনি তাহার চৈতন্য সম্পাদন করিয়াছিলেন । 
সেই দেহে চৈতন্ত সম্পাদিত হইবামাত্র, মে উঠিয়া সভাসদ্বর্গকে অভিবাদন 
করিয়া পুরস্কার প্রার্থনা করিল। সভাসদ্গণ কৌত্হলাক্রান্ত হইয়া বশিষ্ঠদেবকে 
ইহার সবিশেষ বৃত্বাস্ত জিজ্ঞাসা করিলে তিনি বলিলেন, এ লোব্টি একজন 
যাছুকর। রাজসভায় কুস্তকাদি নানা ভোজবিদ্যা দেখাইতে দেখাইতে সহসা 
সমাধিস্থ হইয়া গিয়াছিল। উহার সহচরের। মৃতু। হইয়াছে এইরূপ করনা করিয়া 
দেইটি প্রোথিত করিয়া রাছিয়া চলিয়া গিয়াছিল। 'নুপতির নিকট হইতে 
প্রচুর পুরস্কার লইব' এইবপ প্রতণশ। উহার প্রাণে সমাধিস্থ হইবার সময় প্রবল 
থাকায়, সনাধি ভঙ্গমা্র ও পুরস্কারই প্রার্থনা করিতেছে । 

বন্তত; এরূপ হঠসমাধিতে বাজী দেখান ছাড়া অন্ত কোন বিশেষ কাজ হয় 
না। ইন্ড্িয়বিশেষের কৌশলে ভগবানকে পা ওয় যায় না, তবে চিন্তক্ষেহকে স্থির 
করিবার পক্ষে শআনেকটা সহায়তা করে, এই পর্যাস্ত। যথার্থ সমাধি অন্ত 
প্রকারে হয়, সমাধি আপনা হইতে আইসে ৷ সমাধি হইতে ভগবান লাভ হয় না 
--ভগবংলাভ হইতে সমাধি আইসে ) কিন্ত উহা! এখন আমাদের বিচার্ঘয নহে । 
যোগ বুঝিবার সময় এ কথা বিস্তৃতরূপে আলোচন। করিব। 

যাহা হউক, অনেক সাধক এই যোগক্রিয়ার মায়াফ় মুগ্ধ হইয়! ভগবান্কে 
হারাইয়াছে, অনেক সাপকের জত্যান্থেষণ এই ভূরিশ্রবার দ্বারা প্রতিনিবৃ্ও 
হইয়াছে। হায়! এইরূপ যোগের দুই একটি সাধারণ বিভৃতি দেখিয়া, 
এমন কি, ললাটে সামান্য জ্যোতিরগোলক দর্শন করিয়াও অজ্ঞ জীবপ্রবাহ ুগ্ধ 
হইয়। যাঁয়। অজ্ঞ জীব উহাকেই তাহাদের জীবনের চরিতার্থতা মনে করে । 
জানে না, ওরূ্‌প জ্োোতির্গালক দেহের পদনখর হইতে শিরোদেশ অবধি গুজে 
পু বিস্তৃত। আকাশের চন্দ্র, সূর্য, তারকার মত, আমাদিগের শরীরস্থ ব্)োম- 
ক্ষেত্র ধর্ধপ জ্োতিগগোলকে পরিবাপ্ত । তবে ললাট-গোলকটা সত্বর দর্শনে 
আইসে। উহার! চক্ষু মুদিত করিয়া ললাটের জ্যোতিগেোৌলক দেখিবার জন্ 
যতক্ষণ চেষ্টা করে, ততক্ষণ যদি এরপ চক্ষু মুদিয়া_-রূপ আগ্রহে প্মা কোথা_ 
মা কোথ' করিতে পারিত--ধুঝি তাহা! হইলে ওরূপ গোলকপুণ্জের অনন্ত 


উপনিষদরহন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা! | ৪১ 


বিস্তার দেখিয়া কৃতকৃতার্থ হইত । উহাদিগের বুঝা! উচিত, উহা ভগবৎসাধনা-পথে 
সহায় মাত্র, যথার্থ চরিতার্থতা নহে । 

কিন্ত আসে, ওরূপ যোগবিসভৃতির মায়া না আদিয়। থাঁকে না। কেননা, 
ওরূপ যোগবিভূতি দর্শনে ভগবল্লাভ না হইলেও, অন্ত একটী বিশেষ উপকার 
লআধিত হুয়ু। ভগবল্লাভের আকাজাণ প্রাণে প্রবল খাঁকিলে উহা জীবকে ভগব- 
ল্লাভের জন্য আরও সচেষ্ট করিয়া তুলে । যথার্থ সাধনেচ্ছ। প্রাণে প্রবল থাকিলে, 
ভগবান আপনি এইরূপ সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় অন্দুলি নির্দেশে সাধককে সাবধান 
করিয়া দেন। সাধকের সত্যান্বেষণ বিপর্ধ্যস্ত হইবামাত্র ভগবান্‌ জীবশক্তিকে 
যেন বলিয়া উঠেন, “তুমি সাবধান হও, তোমার সত্যান্বেষণ বিভুতিমায়ার করে 
নিগীড়িত, তুমি উহাকে রক্ষা কর।” কুরুক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণকে এই কথাই বলিতে 
শুনিয়াছি। সাত্যকি যখন ভূরিশ্রবার দারা আক্রান্ত ও বিপধ্যস্ত হইয়াছিল, 
সেই সময় ভগবাঁন্‌ অর্জুনকে বলিঘাছিলেন,__“আর্জুন ! সাবধান ! সাত্যকিকে 
রক্ষা কর-_ভূরিশ্রবার কর হইতে সাত্যকিকে পরিত্রাণ কর।” অর্জন স্রিশ্রবাঁর 
বাহুছেদন করিয়া, সাত্যকিকে মুক্তি দ্রিলে, ভূরিশ্রবা স্খ্যে চক্ষু ও চন্দ্রে মন 
স্থাপন করিয়।, যোগীবলম্বনে প্রাণত্যাগে প্রয়াসী হইয়াছিল ; এবং সেই সময়ে 
সাত্যকি খড়োর দ্বারা তাহার শিরশ্ছেদন করিয়াছিলেন । 

আমরা উভয় পক্ষের এই পর্ধযস্তই সমালোচনা করিলাম । প্রত্যেক চরিত্র 
বর্ণনা করিতে গেলে, অতিরিক্ত জটিলতা আসিয়া পড়িবে: সাধারণ লোক 
এ সকল যোগবিজ্ঞান শুধু গ্রন্থপাঠে সম্পূর্ণরূপে আয়ন্ত করিতে পাবিবে না। 
্রন্থপাঠে সাধনেচ্ছ। যথার্থ প্রবল হইয়া উঠিলে প্রাণের ভিতর এ সমস্ত তত্ব আপনি 
ফুটিয়! উাঠবে। সদ্‌গুরু আবিভ্ূতি হইয়া সমস্ত তৰ্‌ ফুটাইয়া দিবেন। সাধক | ত 
বুঝিবার জন্ত ব্যস্ত হইও না, ভগবল্লীভের জন্য ব্যস্ত হও-তৰ্‌ আপনি ফুটিবে; 
সদগুরু খু'জিও না-_সংশিষ্য হও-- গুরু আপনি মিলিবে ; ভগবৎশক্তির অন্বেষণ 
করিও না, ভগবাঁনে আসক্তি ঢালিয়া দাও--শক্তি আপনি আসিবে । মাতৃত্তন 
অন্বেষণ করিও না_-মা” “মা” করিয়া কাদ-_ মা! আপনি মুখে স্তনদান করিবেন। 

এইরপে ছুর্ধ্যোধন উভয় দিক্‌ বিশ্লেষণ করিয়া প্রোণাচার্য্যের নিকট যাহ! 
বর্ণনা করিয়াছিলেন, অর্থাৎ সাধন-সংগ্রামের সুচনায় মন শীল্জরবিহিত কর্মাদির 
মায়াকে লক্ষ্য করিয়া, উভয় দিক্‌ বিশ্লেষিত করিয়া যেরূপ দেখিতে পায়, তাহা 
রূপকাকারে বলিলাম । 

৬ 


৪২ উপনিষদূরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাঁধ্টা। 


যাহা হউক, মন এইরূপে উভয় দিক দেখিতে দেখিতে বিমর্ষ হইয়া পড়ে; 
প্রাণের পর্যাপ্ত আয়োজন দেখিয়া সে সন্কুচিত হয়। “বুৰি গ্রাণের গতি সংসারা- 
শ্রমোঠিত ধন্ম-সকল লঙ্ঘন করিয়া উন্মার্গগামী হয়” এই ভাবিয়া সাধকের মন 
বিষণ্ন হয়। সাধকের প্রাণ ত বিলম্ব সহিতে পারে ন।! সে চাঁহে মৃহূর্তে ভগবানের 
আলিঙ্গন; প্রতি মুহূর্তে তার প্রাণ ভগবানকে পাইবার জন্ত ব্যগ্রঃ প্রতি 
ৃহূর্তে তাহার প্রাণ ভগবান্কে চাক্ষুষ দেখিবার 'জন্ত লালায়িত; প্রতি মুহূর্তে 
তাহার প্রাণ ভগবচ্চরণে লুষ্টিত হইবার জন্য ব্যাকুল;_-তাঁর কি বিলম্ব সহে? 
শাপ্রাধ্যয়ন -ব্রহ্মচর্য্য--যগবজ্ঞ--এত বিলম্ব সে কি স্হা করিতে পারে? 
বংসহছার! গভীর মত তার প্রাণের গতি-সে কি অপেক্ষা করিতে পারে? 
তৃণগুচ্ছাদি খাইয়া বল সঞ্চয় কুরিতে করিতে বংসের অন্বেষণ কর--এ কথা 
কি মায়ের প্রাণ শোনে? সমুদ্রের আকর্ষণ পড়িয়াছে_নদীর জল কি স্থির 
থাকিতে পারে? 

কিন্তু মন ভাহা চাহে না। মন চাঁহে জ্বান,_মন চাহে যশ, মন চাহে শক্তি, 
মন চাহে সংসার, মন চাহে ন্বর্গ, মন চাহে ভোগ । ন্ুৃতরাং মন, প্রাণের এই 
একমুখী শ্রেত দেখিঘ্ন। চিন্তিত হর। দে বলে._- 


অপধ্যাপ্তং তদস্মাকং বলং ভাক্মাভিরক্ষি তমৃ। 
পর্যাপ্ত, ত্বিদদমেতেষাং বলং ভীম।ভিরক্ষি তম্‌ ॥১০ 


তীক্মাভিরক্ষিতম্‌ অন্মাকং তং ( তাদৃশবীরসমন্বিতঘ) বলং অপর্য্যাপ্তং 
( প্রতিযোদ্ধম্‌ অসমর্থং) তু ভীম[ভিরক্ষিতম এতেধাং ইদং বলং পধ্যাপ্তমূ। 

ব্যবহারিক অর্থ। ভীন্মাভিরক্ষিত আমাদিগের তাদৃশ বীরযুক্ত বলও পাণ্ডব- 
দিগের সহিত প্রতিযুদ্ধ করিতে অসনর্থ কিন্তু ভীমাভিরক্ষিত পাগুবসৈন্ত পর্যাপ্ত । 

যৌগ্সিক অর্থ।-ক্রহ্ষগর্য্ের দ্বারা মনের বল রক্ষিত হইলেও এবং 
নান। প্রকার শক্তি, জ্ঞান ও ভোগৈশ্বর্যের আশা থাকিলেও, উহ! প্রাণের গতিকে 
রোধ করিতে বুঝি অমমর্থ। ভীমাভিরক্ষিত অর্থাৎ ভীমের কাতর আহ্বানরূপ 
জপদ্ধারা রক্ষিত প্রাণশক্তি যেরূপ সবল বলিয়। প্রতীয়মান হয়,--প্রাণের কাতর 
ভগবদাহ্বান যেরূপ উন্মাদনার ভাব প্রকাশ করে, তাহাতে মন থে তাহাকে 
আশ্রমোচিত ধর্মমশৃঙ্খলার ভিতম্র ধরিয়া রাখিতে পারিবে--এন্সপ কল্পনা করিতে 
পারে না । 


উপনিষদ্রছস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৪৩ 


ভীম্মাভিরক্ষিত বলিবার কারণ কি? বস্থতঃ মনের তেজ ব্রহ্মচর্ষ্ের দ্বারাই 
সংরক্ষিত হয়। যাগযজ্ঞাদি ধন্মকর্ম ও বেদপাঠাদি জ্ঞানানুশীলন ব্রহ্ষচর্য্যের 
দারা রক্ষিত ও পুষ্ট হয়, এ কথা পূর্ব বলিয়াছি। ত্রক্গচর্য্যের দ্বারাই জীব 
বীর্য্যবান্‌ হইয়। উঠে ; সেই জন্য সর্বাপেক্ষা অধিক দিন ব্রচ্গচর্য্যের মায়ার সহিত 
সাধককে যুদ্ধ করিতে হয়, অর্থাৎ ত্রন্মচর্ধয দ্বার! আক্রান্ত থাকিতে হয় বা! ব্রহ্মচর্ষ্য 
পালন করিতে বাধ্য হইতে হয়। 

পাণ্ডবপক্ষকে ভীমাভিরক্ষিত বলিবার কারণ--সাধককে সর্বপ্রথম 
কঠ্স্থ উদাননামক গা ণাংশের জপশক্তির আশ্রয় গ্রহণ করিতে হয় বা সর্ব্ব- 
প্রথম সাধকের গুণের ভগবদ্ধিরহ উপলব্ধি কেই অভিব্যক্ত হয়। «কোথা 
তুমি--কোথা তুমি মা? কোথা! তুমি মা আমারঞ্জীবনের গ্রবতারা» কোথা তুমি, 
আমার তৃষিত প্রাণের শীস্তি-বারি, কোথা তুমি, আমার আধার হদয়ের দীপ্ত 
মণি [”_ সাধকের কাতর্তা এই ভাবে কণ্ঠে সর্বপ্রথম জপাকারে ক্ষুরিত হয় এবং 
সেই জন্থ সাধনা-পথের প্রথম সহায়-জপ। জপের মত ক্রিয়া আর নাই। 
ভগবান্‌ নিজেই বলিয়াছেন,__“ঘজ্জানাং জপযাজ্ঞোইস্মি” | কিন্তু জপ-রহম্ বলিবার 
সময় জপের প্রণালী বিশেষ করিয়া বলিব; পাঠক বুঝিতে পারিবেন, 
একমাত্র জপ অবলম্বন করিলেই তাহা হইতে সব্বকাম অতি সহজে সিদ্ধ 
হইতে পারে। 

ঘাহা হউক, মন সকল মায়াকে কেন্দ্রীভূত করিয়া! ত্রক্মচর্ষেযর মায়াকেই প্রবল 
করিয়। তোলে । পরের শ্লোফে তাই বলিতেছেন, 


অয়নেষু চ সর্ধেষু যথাভাগমবস্থিতাঃ | 
ভীম্মমেবাভিরক্ষন্ত ভবন্তঃ সর্বব এব হি ॥ ১১ 


সর্ববেষু অয়নেষূ ( ব্যৃহমার্গেফু) যথাভাগং অবস্থিতাঃ ( সন্তঃ ) ভবস্তঃ সর্ব 
এব হি ভীম্মমেব অভিরক্ষন্ত । 
বুহমার্গে স্ব স্ব বিভাগানুমারে অবস্থান করিয়া আপনার সর্ধপ্রকারে 
ভীম্মদেবকেই রক্ষা করুন। 
মোট কথা, সাধকের মন যেন ব্্মচরয্য ত্হ্মচর্যয করিয়! পাগল হইয়া উঠে। 
প্রাণ ভগবান্‌ ভগবান্‌ করিয়! ছুটিলে, মন সর্বপ্রথম ব্রহ্মচর্য্যকেই ধরিয়া বসে-_- 
ইহাই উক্ত শ্লোকের মনন । ্‌ 


৪ উপনিষদ্রহশ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


তশ্ত সংজনয়ন্‌ হর্ধং কুরুবৃদ্ধঃ পিতামহ্‌ঃ। 
সিংহন|দং বিন্োঁচৈঃ শঙ্মং দখ্ষো প্রতাপবান্‌ ॥১২ 

গ্রতাপবান্‌ কুরুবৃদ্ধঃ পিতাঁমহঃ তন্ত হর্যং সংজনয়ন্‌ উচ্চৈঃ সিংহনাদং বিনদ 
শঙখং দখ্ৌ। 

ব্যবহারিক অর্থ।-"প্রতাপবান্‌ কুরুবৃদ্ধ পিতামহ ভীগ্ষ, ছূর্ধ্যোধনকে উৎফুল্ল 
করিয়া, উচ্চ সিংহনাঁদ করিয়া শঙ্খধ্বনি করিলেন । 

যৌগিক অর্থ । -ব্রদ্ঘচর্যোর প্রতি মনের এইরূপ লক্ষ্য পড়িলে, সংযম সজাগ 
হইয়। উঠে, এবং উহার শঙ্খ বুকের ভিতর বাঁজিয়া৷ উঠে। শঙ্খ কি? আমাদিগের 
মন ও প্রাণশক্তির প্রত্যেক বৃত্তির বিশেষ বিশেষ প্রকার ধ্বনি আছে। 
পূর্বের বলিয়াছি, মন ও প্রাথ বস্তুতঃ একই শক্তির উভয় প্রকার গতি মাত্র । 
রা আদিশক্তি--প্রণব, এ কথাও বলিয়াছি। এ আদিশক্তি যত বিভিন্ন 
প্রকারে আমাদিগের দ্রেহের ভিতর বিশ্রিষ্ট হয়, এ গ্রণবের নাদও তত প্রকারে 
বিশ্লেষিত হইয়া, বিভিন্ন বিভিন্নকপে শ্রুতিগোচর হয়। যোগীরা এ সকল নাদ 
শুনিতে পান--এ সকল নাদ সাধকমাব্রেরই শ্রতিগোচর হয়; সাধকমাহেই 
জানেন, আমাদিগের প্রাণ ও মনের বৃন্তিকল উত্তেজিত হইবামাত্র তাহাদ্িগের 
বিশিষ্ট বিশিষ্ট গ্রকারের ধ্বনি শুনিতে পাওয়া যায়। মনুষ্য ক্রোধাবিই হইলে 
এক বিশেষ প্রকারের ধ্বনি উদ্ভৃত হইতে থাঁকে। কামাবিষ্ট হইলে অন্ত এক 
প্রকার, লোভে এক প্রকার, আবার করুণার্ক অবস্থায় এক প্রকার, ভক্তি- 
ভাবাপন্ন অনস্থায় এক প্রকার, জ্ঞানেচ্ছ হইলে এক প্রকার, এইকপ বিভিন্ন 
বিভিন্ন প্রকারের ধ্বনি দেহের ভিতর শুনিতে পাওয়া যায়। কিন্ত আবার বলি, 
ও সকল ধ্বনি ওষ্কীরের ব। প্রণবের রূপান্তরিত তরঙ্গভঙ্গ মাত্র। যখন যেবপ 
বৃন্তি চিৎন্গেত্রকে অধিকার করে, তখন সেই রকমের ধ্বনি শ্রতিগোচর হয় । 
জপ অবলম্বন করিয়া, সাধক উপবিষ্ট হইলে, এ সকল ধ্বনি অনায়াসে শুনিতে 
. পাইতে পারে। হিন্দু-পল্লীতে সন্ধ্যাসময়ে গৃহে গৃহে শঙ্খ বাজিয়া উঠিলে, সেই 
সশ্মিলিত শঙ্গধ্বনি যেমন একটা নিথর শব্দস্পন্দনে দিগন্তে শ্রুত হয়, ধ্বনির 
যেমন একটা মধুর তর-তর প্রবাহ দিক্প্রান্ত ব্যাঁপিয়া বহিতে থাকে, সেইরূপ 
' আমাঁদিগের বৃত্তিসকলের ধ্বনিও দেহের অভ্যন্তরে তর-তর প্রবাহে 
“প্রবাহিত হইয়া সাঁধককে মুগ্ধ করে। সে অশ্রুতণুর্ধ ধ্বনির আনন্দ-হিল্লোল 
লিখিয়া ব্যক্ত করা যায় না। দৃরাগত শঙ্খধবনিপ্রবাহের মত, উহা 


উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথা । ৪ 


প্রাণকে আলোড়িত করে বলিয়া, এ ধ্বনিগুলিকে শঙ্খনাদ বলিয়া উল্লিখিত 
করা হইয়াছে। 
বস্তুত; আমাদিগের বৃত্তিগুলির বিষয় আলোচনা করিলে, প্রাণ মুগ্ধ হইয়া 
যায়। আমাদিগের বৃত্তিসকলের বিভিন্ন বিভিন্ন প্রকারের বর্ণ ব রূপ আছে-_. 
বিভিন্ন বিভিন্ন প্রকারের আকৃতি আছে, এবং বিভিন্ন প্রকারের ধ্বনি আছে। 
যোগচক্ষুষ্মান্‌ সাধক দেহের অভ্যন্তরে এই সকল বিভিন্ন আকারের বর্ণবিস্তাস, 
বিভিন্ন শব্দের বঙস্কার দর্শন ও শ্রবণ করিয়। মোহিত হয়। কিন্তু এ সকল বর্ণ- 
বৈচিত্র্যের কথা পরে আলোচন1 করিব । 
যাহা হউক, যখন এই প্রকারের কোন বৃত্তি প্রাণে উজ্জীবিত হয়, সেই সময়ে 
সেই বুক্তির বিশিষ্ট শব্দতরক্ অন্যান্য শব্দ-তরঙ্গে প্রতিহত হইয়া, প্রথমে মামারূপ 
মিশ্রিত একটা শবফোলাহল রচনা করে| যেমম মদীর শোতে কোন বিশেধ 
প্রবল তরঙ্গ উত্থিত হইলে, অন্তান্ত তরঙ্গের সহিত ঘ1ত-প্রতিঘাতে নাঁন। গুকারের 
তরঙ্গরাজি রচিত হয়, তেমনই প্রাণের ভিতর বুক্তিবিশেষ গ্রবলতর হইলে, 
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রচলিত শব্দ-তরঙ্গ-সকল গ্রহত হইয়া, নানা প্রকারের শব্-তরজ 
স্থজন করে। সেই জন্য পরশ্রোকে পণবানক আদি শব্-সকলের কথা বলা 
হইতেছে। " 
ততঃ শঙ্গাশ্চ ভের্ধ্যশ্চ পণবানক গোমুখাঃ | 
সহসৈবাত্যহন্তত্ত স শব্দস্তমুলোইভবৎ ॥ ১৩ 
ততঃ শখাঃ চ ভে; চ পণবানকগোমুখাঃ চ সহসা এব অভ্যহস্থান্ত ; স শব্দঃ 
তুমুলঃ অভবৎ। 
তখন শখ, ভেরী, পণব, আনক, গোমুখ প্রভৃতি সহসা বাজিয়া উঠিল, এবং 
সে শব্দ-তরঙ্গ তুমুল হইল। 
ততঃ শ্বেতৈরয়ৈযু'ক্তে মহতি স্তন্দনে স্থিতৌ। 
মাঁধবঃ পাগুবশ্চৈৰ দিব্য শঙ্ছো প্রদধয তুঃ॥ ১৪ 
ততঃ শ্বেতৈ হয়ৈঃ যুক্তে মহতি স্যন্বনে (রথে ) স্থিতৌ মাঁধবঃ পাগুবশ্চ এব 
দিব্যৌ শো প্রদধাতুঃ | 
যৌগিক অর্থ ।--তখন শ্বেতাশ্বযুক্ত মহারথে অবস্থিত শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন দিব্য 
শঙ্খধ্বনি করিলেন অর্থাৎ তখন শ্বেতজ্যোতিম্মগ্ডিত হৃদয়-রথে বিরাজিত জীবাত্বা 
ও ভগবান্‌ দিব্য শঙ্খধ্বনি করিলেন। এই প্লোকে শুভ্র জ্যোতিকেই শ্বেতা বলিয়া 


৪৬ উপনিষদরহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


উল্লিখিত করা হইয়াছে । সূর্য্য হইতে সপ্তপ্রকার বর্ণবিশিষ্ট রশ্বিজাল গুক্ষিপ্ত হয় 
বলিয়া, র্যাদেবকেও সপ্তাশ্ব-সম্বলিত-রথশীলী বলিয়া শান্তর নির্দেশ করেন। 
হৃদয়ের ভাবসকলের জ্যোতিঃ নির্মল বলিয়া হৃদয়ের সাধারণ জ্যোতিঃ গুভ্র-- 
রজতদ্রববৎ অথবা মধ্যাহ্নমার্তগুবৎ | হ্ৃৎকোষ দর্শন হইলে এ জ্যোতি প্রত্যক্ষ- 
গোচর হয়। হৃদয়ে শুভ্র জ্যোতির একাস্ত প্রয়োজন । ধাহারা জ্যোতিস্তত্ব 
জানেন, তাহারা অক্রেশে বুঝিতে পারিবেন, শুভ জ্যোতিস্তরঙ্গ কি প্রকারে অন্যান্য 
জ্যোতিস্তরঙ্গকে প্রত্যাখ্যান করিয়া দেয়, ভিতরে টুকিতে দেয় না। পূর্বে 
বলিয়াছি, আমাদের বৃত্তিমাত্রেরই বর্ণ বা জ্যোতি আছে । যদি কৃপামধী মা 
আমর বৃপাবশে হৃদয়কে শুভ্র জ্যোতির্মাণ্ডিত না করিতেন, তাহা হইলে মানসিক 
বৃত্তিরাজির জ্যোতিস্ঙ্গ হদয়ে প্রবেশ করিয়া, হুদয়কে স্বাধীনভাবে ভাবসকল 
প্রকাশ করিতে দিত না; প্রাণের ভাবমকলকে মিশ্রিত ও মলাময় করিয়া দ্রিত। 
হৃদয়ের উপর শুভ জ্যোতি; মণ্ডিত থাক।য়, মানসিক বৃত্তিসকলের নান! বর্ণের 
তরঙ্গ হ'দয়ের ভিতর প্রবেশ করিতে পায় না। শুভ জ্যোতিঃ অপর জ্যোতিঃফে 
প্রত্যাখা।ত করে । * এই কারণেই আমাদের হদয়রথ শুভ জেটাতিঃ বা 
শ্বেতাশ্ববিশিষ্ট । 

গৃবে বলিয়াছি, প্রাণশক্তি গ্রাণনামক মুখ্য অংশ-সম্থলিত জীবাত্মা হৃদয়ে 
অবস্থান করেন, এবং ইনিই অর্জুন বলিয়। উল্লিখিত । সব্বময় ভগবান্‌ সর্বব্যাপী 
হইলেও বিশিষ্টভাঁবে জীবাত্বহেই অবস্থিত জীবহৃদয়েই বিশেষরূপে প্রতিফঙগিত। 
সেই জন্ত অর্জুনের রথে ভগবান্কে সারথিরূপে দেখিতে পাই; “যেখানে জীব, 
সেইখানে শিব” এই মহাবাক্য সেই জগ্ধই শাস্ত্রে শুনিতে পাই । 

বন্ধুত; মা আমার হৃদয়েই প্রকাশিতা--সারথিরূপে হৃদয়-রথেই অধিষ্ঠিত । 
“দি চৈতন্থে তিষ্টতি”__হুদয়রূপ ক্ষেত্রই মায়ের লীলাভূমি । হুদয়-রথে সারথিরপে 
পরতিষ্ঠিতা আছেন বলিয়াই, জীবপ্রবাহ মুক্তির পথে অগ্রসর হইতেছে । মুন্তি- 
মতীরূপে হৃদয়ে বিরাঁজিতা হন বলিয়াই জড়ভাবাঁপন্ন জীব নিরাকার চৈত্যনের 
সন্ধান পায়। 

শব, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধাদি বা ক্ষিতি, অপ) তেজ? মরুৎ ব্যেম অ দি 
স্থুল ভাবে জীব সুগ্ধ থাঁকে বলিয়াই, জননী আমার সগুণা, সাকারা হইয়া শব্দ- 
স্পর্শ-রূপ-রস-গন্ধময়ী হইয়া, ক্ষিতি-অপ্‌-তেজ-মরুত-ব্যোমরচিত স্থুল আকার 


স্পা ০ ও টির সক এর» ০০-৪৬ স্ - স্ 





সো 
মক সপ পপ সপ শা এ 


* 'ম! আমার কাল কেন? পৃন্তিক।ঘ এ তৃন্ব বিশদভাবে আলোচিত হইয়াছে। 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখা! । ৪৭ 


পরিগ্রহণ করিয়া, নিরাকারা জননী আমার সাকারা হইয়া 
সব্ধবেক্দিয়র্জিতা মা আমার সর্বেজ্রিয়বিশিষ্টা হইয়া_-ভাবশৃ মা 
আমার ভাবময়ী হইয়া -- অরূপা জননী আমার সর্বসৌন্দর্যময়ী হইয়া! 
_চিদৃঘণ ব্রহ্মময়ী আমার আনন্দময়ী হইয়া_এলায়িত কেশজাল পৃষ্ঠে 
দুলাইয়া--কটিতটে গীত বসনাঞ্চল সংবদ্ধ করিয়া ভাবরূপ আশ্বের বন্ধা করে লইয়া 
--র্ক্ত চরণে চরণ দিয়া _জ্যোতিতে চারি দিক আলোকিত করিয়া--মধুর হাসিতে 
প্রাণ মাতাইয়া, তোমার হৃদয়রথে সারথিবেশে এ দেখ, মা আমার ছীড়াইয়। ৷ 
এমন মে|হিনী-বেশে মা যদ্রি না ঠাড়াইতেন, এত রূপে রূপময়ী হইয়া» মা যদি না 
প্রাণকে আলোকিত করিতেন, প্রাণের ভিতর আলোকমালা জ্বালিয়া না দিতেন, 
তাহা হইলে কি আমরা সগুণন্ব ছাড়িয়া নিগুণত্বে গৌছিতে পারিতাঁম ? আনন্দের 
প্রশ্রবণ চারি দিকে খুলিয়া দিয়া, আনন্দময়ী মা আমার আনন্দময়ী বেশে, যদি 
এমনই করিয়া হৃদয়ে না দাড়াইতেন, তবে কি ছুঃখ-ক্রেশ-সম্ত।প-জর্জরিত আমরা 
কখনও আনন্দের সন্ধান পইতাম ? এত ভাবে ভাবময়ী হইয়া, মা যদি না বুকের 
ভিতর এমনই করিয়া দাড়াইতেন, তবে কি জীবভাবসুগ্ধ আমরা কখনও শিব 
লাভের আশ। করিতে পারিতাম ? এত দয়ায় দয়াময়ী হইয়া মা যদি সারথিবেশে 
এমনই করিয়া আমার ভাবরূপ অশ্বের বলা গ্রহণ না করিতেন, তবে কি আমরা 
সংসারের এ কর্কশ, অসমতল, দুর্গম পথে রথ চালনা করিয়া, মঙ্গলগুরের দিকে 
অগ্রসর হইতে পারিতাম ? 

তাই মা আমার দীড়াইয়া ! নিরাকাঁরের সন্ধান জার্নি না বলিয়াই, মা 
আমার সাঁকারা হইয়া বুকের ভিতর দাড়ান! নিগুণ অবস্থার সন্ধান জানি না 
বলিয়াই, মা আমার সর্ববগুণে গুণময়ী হইয়া বুকের ভিতর টাড়ান! ভাবশুন্য 
অবস্থার কল্পনা করিতে পারি না বলিয়াই, মা আমার ভাবময়ী--আনন্দনয়া 
হইয়া দাড়ান! ইব্ড্রির়পরিশূন্ত অবস্থার আন্বাদে বঞ্চিত বলিয়াই। ম! 
আমার ইন্দ্রিয়বিশিষ্টা হইয়া বুকের ভিতর ডান! অনস্তবিস্তৃত চৈতন্য- 
সমুদ্রের ধারণা করিতে পারি ন। বলিয়াই, মা আমার ক্ষুত্র চৈতন্থময়ী হইয়া 
বুকের ভিতর দাড়ান | হিরন্ময়-মন্দিরের সন্ধান জানি ন| বলিয়াই, মা 
আমার সারথিবেশে হদয়-রথে আরা, হইয়া, তাহার আনন্দ-মন্দিরের দিকে 
আমাদিগকে রথ চালাইয়া লইয়া যান! তোমার বলিয়া যাহা আছে-- যাহা 
লইয়! তুমি তোমার তুমিত্ব কল্পন। কর--যাহ। লইয়! তুমি তোমার তুমিত্বের গণ্ডী 


৪৮ উপনিষদ্রহস্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাথা! । 


রচনা কর-যাহা লইয়া তুমি অহনিশ ভুলিয়া থাক, সেইগুলিই লইবার জগ্, 
তাহাতেই পরিতুষ্ট! হইবার জচ্য -তাহারই ভিতর তোমাকে পথ দেখাইবার জন্য, 
তোমারই ভাবান্ুসারে মা আমার এমনই করিয়া তোমারই হৃদয়ে বিরাজিত! | 
তোমায় কিছুই করিতে হইবে না, কিছুই ভাবিতে হইবে ন; হৃদয়-রথের ভাবাশ্ব- 
সকলের বনী করে গ্রহণ করিয়া, এ দেখ-_মু! দীড়াইয়া ! তুমি শুধু দেখ! 
দেখিয়া কৃতার্থ হও! আশ্বাসে প্রাণ পুরিয়া যাঁক্‌, অভয়ে প্রাণ নাচিয়া উঠুক, 
আনন্দে দিগন্ত ভরিয়া যাক। চরণে পড়িয়া লুগ্টিত-শিরে, অথবা! মাতৃমুখ চাহিয়া 
কৃতাঞ্জলিপুটে, যুগ্ধনেত্রে, গদগদ কে বল--“কিছু জানি না মা- কিছু জানি না, 
তুমি আমায় লইয়া চল !” অথবা! বল-_-“ছুব্বল, পতিত, গীড়িত, শক্তিহীন আমি 
মা-তুমি আমায় লইয়া চল।৯ অথবা বল,__ 

জানামি ধর্ম, ন চ মে প্রবৃত্তিঃ 

জানাম)ধন্মং ন চ মে নিবৃত্তিত | 

বয় হষীকেশ হাদি শ্থিতেন 

যথা নিযুক্তোহম্মি তথা করোমি ॥ 

সাধক! নিয়াঁকার নিরাকার করিয়া ব্যস্ত হইও না। নিরাকার অতি 
দূরের কথা, আগে সাঁকারে মাকে দেখ; তুমি স্থলে আছ--আগে স্থুলে মাকে 
প্রত্যক্ষ কর। ইন্দ্রিয়ভাবমগ্ন তুমি, আগে ইন্্রিয়বিশিষ্টা মাতৃমুপ্তি দর্শনে কৃত- 
কৃতার্থ হও, তারপর নিরাকারের সন্ধান পাইবে। আগে তোমার ভাবরূপ খড়- 
মাটি যেমন আছে, তাহাতে মাতৃমুত্তি ফুটিয়া উঠুক, ইন্ড্রিয় উপচারে পৃজ! করিয়া 
প্রসাদ লাভ কর, তারপর ইন্ড্রিয়াতীতা জননীকে বুঝিতে পারিবে । আগে মাকে 
রক্ত-মাংস-জ্যোতি-ইক্জ্িয-মন- প্রাণময়ী তোমার একার মা বলিয়া প্রত্যক্ষ কর, 
তারপর তাহাকে বিশ্বজননীরূপে রক্ত-মাংস-জ্যোতি-ইন্ড্রিয়-মনঃপ্রাণময়ী বিরাট 
জীব-প্রবাহের জননীরূপে দেখিতে পাইবে; তারপর নিরাকার অবস্থার উপলব্ধি 
ইইবে। আগে তোমার হদয়-রথের সারথিরূপে মাকে দেখ। তারপর মায়ের 
বিশ্বরূপ দেখিয়া চরিতার্থ হইবে; তারপর নিরাকারের আভাম পাইবে ।_- 
নিরাকার কথার কথ] নহে। 
বস্ততঃ মায়ের এই সারথিরূপ দর্শন না করিলে, মাকে সারখিরূপে দেখিতে 

ন! পাইলে, এ দুরন্ত সংগ্রাম জয় করা যায় না। এ তত্ব অতি অপুর্ব ! মায়ের 
সারথ্যরূপ অপূর্ব ব্যাপার বুঝিতে পারিলে, আর বুঝিবার কিছু বাকি থাকে না । 


উপনিষদ্রহ্ত বা রীতার যৌগিক *বাধ্যা। ৪৯ 


আমাদের প্রকৃতি বা আমাদিগের প্রাণের আবেগ যখন যে দিকে ধাবিত হইতে 
চাহে, করুণাময়ী মা আমায় তখনই সেই দিকে লইয়া যাইতেছেন। ম্ুপথে, 
কুপথে--প্রাণের আগ্রহ যখন যে দিকে ছুটিতেছে, সেই দ্রিকেই মা আমাদিগকে 
চালনা করিতেছেন । কাম, ক্রোধ, লোভের দিকেই হউক বা দয়া, ভক্তি, 
সেহের দিকেই হউক-_-ভোগের দিকেই হউক বা বিরতির দিকেই হউক)_- 
নরকের দিকেই হউক বা স্বর্গের দিকেই হউক, স্ত্রী পুত্র, সংসারের .দ্বিকেই 
হউক বা জ্ঞান বৈরাগ্য ভক্তির দিকেই হউক ;--দন্দ্যুতা, স্বার্থপরতা, লম্পটতার 
দ্রিকেই হউক বা সাধুতা নিঃস্বার্থতা সচ্চরিত্রতার দিকেই হউক--যথন মায়ের 
কাছে যে আব্দার করিতেছি, যে দিকে যাইবার জন্ত--যাহ1] পাইবার জন্য প্রাণ 
কাদিয়া উঠিতেছে, “কু” *নু” বিচার না করিয়া-_বুঝি ভাল মন্দ বিচারের অপেক্ষা 
ন1 রাখিয়া, স্নেহমুগ্ধা মায়ের মত, আজ্ঞাবহ সারথির মত, আমাদিগের ইচ্ছান্থ্যায়ী 
আম।দিগকে সেই দিকেই লইয়া যাইতেছেন--তাহাই প্রদান করিতেছেন। 
প্রবলতর ইচ্ছার সহিত যখন যাহ! মায়ের কাছে চাহি, তখনই তিনি তাহাই দিয়া 
আমর প্রাণে স্বাধীনতার আভাস ফুটাইয়৷ দ্রিতেছেন। দন্্যুতা, সাধুতা, অর্থ, 
ধন, যখন যাহ।র সাধনা করিতেছি, তখনই তদ্রুপ সিদ্ধি প্রদান করিয়া, আম!র 
প্রাণের তৃষ্ণ! মিটাইয়া দিতেছেন। জীবভাবাপন্ন আমরা মনে করিতেছি, বুঝি 
আমরা স্বধীন-বুঝি আমাদিগের ইচ্ছা স্বাধীন। স্বাধীন ইচ্ছায় যখন ফে 
দিকে যাইতে চ/হিতেছি--বুঝি তখন সেই দিকেই যাইতেছি। তাই আমর! 
বলিয়া থাকি, “য।দৃশী সাধনা যস্ত সিদ্ধিভবতি তাদৃশী।” 

কিন্তু অম।র ক্ষুত্্র হৃদয়ের সারথিরূপে তিনি একদিকে যেমন আম৷র স্নেহময়ী 
জননী, তেমনি আবর বিশ।ল ভুবন ব্যাপিয়া বিরাট র।জরাজেশ্বরী জননীরূপে 
তিনি অধিষ্ঠিতা। একদিকে যেমন তিনি আমার সকল আব্দার মিট।ইতেছেন, 
অন্য দিকে দেখিলে বুঝা যায়-_-সেগুলি বস্তুতঃ আমার আবার নহে-_মায়ের্ই 
মঙ্গলেচ্ছা। এক দিকে পুর্ণ জ্ঞনময়ী বিরাট রাজরাজেশ্বরীরূপে মঙ্গলাজ্ঞা চালন৷ 
করিতেছেন; অন্ত দ্রিকে সেগুলি যেন আম।রই ইচ্ছা1-"এমনই ভাবে প্রতিফলিত 
করিয়া, ন্েেহমুগ্ধা জননীর মত মিটাইয়া দিতেছেন। এইবপে স্বাধীন সস্তবোগে 
আ।ম।দিগকে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত করিয়া তুলিয়া, তাঁর পুর্ণ স্বাধীনতার নিত্য 
সনাতন ক্ষেত্রের দ্রিকে আমাদিগকে লইয়া যাইতেছেন। একদিকে মা জু 
আমর সারথি, অন্ত দিকে সেই মা আমার বিরাট রাজরাজেম্বরী। এক দিকে মী! 

৭ 


৫5 উপনিয়দ্রহত্ত ব! পিতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


€ 


শুধ আমর হৃদয়েশ্বরী, অন্য দিকে সেই মা আমার ব্রহ্মাপ্ডেশ্বরী। এক দিকে 
মায়ের আমার আমিই কেবল একমাত্র আদরের পুতলী, অন্ত দিকে অনস্তকোঁটি 
বিশ্ববন্থু সেই মায়ের আমার চরণ-ভিখারী। এক দিকে মা কেবল আমাকে লইয়া 
ব্যস্ত, অন্ত দ্রকে কোটি কোটি হরিহরব্রক্ম।দি সেই মায়ের পদসেবার জন্য 
লালায়িত। এক দিকে মা আমার ইচ্ছার ক্রীড়ণক, অন্ত দিকে আব্র্ষাস্তশ্ব 
দেই মাঁয়েরই আমার ইচ্ছার ইলিতে চাঁলিত, রচিত। কল্সিত। হায় জীব! 
ধন্য তুমি! ধন্য আমি] মাকে সারথিরূপে পাইয়া আমর! ধন্য | কে দেখিবে 
জীব? দেখ! মায়ের আমার সারথিরূপ দেখিয়া কৃতার্থ হও। 
পাঞ্চজন্তং হযীকেশো দেবদত্তং ধনগ্জয়ঃ । 
পৌওডং দখৌ মহ।শঙ্থং ভীমকর্ম্ম৷ বুকে ।দরঃ ॥১৫ 

হৃধীকেশঃ পাঞ্চজন্কং, ধনপীয়ঃ দেবদত্তং, ভীমকন্মা বৃকোদরঃ মহাশঙ্খং 
পৌগুং দখ। 

ব্যবহারিক অর্থ ।__হৃষীকেশ পীঞ্চজন্য শঙ্খ, ধনধয় দেবদত্ত নামক শঙ্খ এবং 
ভীমকন্মা বুকোদর পৌগু, নামক মহাশঙ্খ বাজাইলেন। 

যৌগিক অর্থ ।--ভগবানের শঙ্খের নাম পাঞ্চজন্ত। প্রণদ্ই ভগবানের শঙ্খধবনি | 

ক্ষিতি, অপ্‌$ঃ তেজ? মরুৎ, ব্যোম-- এই পঞ্চ তবের দা সমস্ত ত্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক 
পদার্থের ভিতর ওতপ্রোতভাবে এই শব্দ প্রবাহিত বলিয়া বা পঞ্চীকরণে উদ্ভূত 
সমস্ত পদার্থ এই শব্দ হইতে উৎপন্ন হয় বলিয়া, ইহার নাম পাঞ্চজন্ত । ভগবানের 
এই শঙ্ঘধ্বনি প্রত্যেক হৃদয়ে শ্রুত হয়। দেবদত্ত--অঞ্জুনের বা মুখ্যপ্রাণযুক্ত 
জীবাত্মার শঙ্খ । দেবতা বা! গুরুদন্ত বীজকে দেবদণ্ড শঙ্খ বলে। গুরুমুখ হইতে 
মন্ত্র লইয়া, সেই মন্ত্র হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করিতে হয়। সেই মন্ত্র জীবকে নিজের 
নদ করিয়! তুলিতে হয় । সেই মন্ত্র হৃদয়ের ভিতর অহনিশ যাহাতে ধ্বনিত হয়, 
তদ্রুপ সাধনা করিতে হয়। রীতিমত মন্ত্র সাধনা! করিতে পারিলে, এ মন্ত্র 
হৃদয়ের ভিতর শ্রুত হয়। ভগবানের পাঞ্চজন্ত শঙ্ঘধ্বনি বা প্রণবের সহিত এ 
দেবদত্-শঙ্খ ব| গুরুপ্রদত্ত বীজ মিলাইয়া গুনিতে হয়। এ উভয় শব্ধ মিলিত 
হইয়া, শব্দ-তরদ কঠে আসিয়া প্রতিঘাত করিলে, কঠদেশে উহা পুগু, বা স্বেত- 
পদ্মাকারে ফুটিয়া৷ উঠে এবং এই জন্ত উহাকে চাঁমের পৌগু, নামক মহাশঙ্খ বলে। 
নাধক যখম জপ করিতে বসে, তখন প্রথম; তাহাকে পাঞ্চজন্ত-শঙ্খ বা গ্রণব- 
ধ্বনি শুনিতে হয়। তার পর সেই প্রণব-ধবনির তরঙ্গমাল! সমগ্র দেহ ব্যাপিয়া 


উপনিষদ্রহন্য বা! ব্তার যৌগিক ব্যাথা ৫১ 


প্রবাহিত হইতেছে, এরপ শুনিতে পাইলে, তাহার সহিত নিজের বীজরূপ শঙ্খ- 
ধ্বনি সমতানমে মিলাইয়া দিতে হয়। প্রণবের শব্দ-তরঙ্গে এরূপ ভাবে বীজ 
প্রক্ষিপ্ত করিলে, একটা অপূর্ব শুর তরঙ্গ উছলিয়! উঠিয়া, কে আসিয়া, কস্থ 
প্রাণশক্তির ছারা উদ্দীপ্ত হইয়া, শ্বেতপদ্মবৎ একটা আবর্তনে উহা আবদ্তিত হয় । 
এবং উহা বাহিরে আসিতে না দিলে, অর্থাৎ কণস্থ বারুর সহিত মিলিয়া মুখে 
উচ্চারিত হইয়া না! পড়িলে, বহুক্ষণ এপ প্রস্ষুটিত পানের আকারে স্থির থাঁকে। 
তখনই সাধকের প্রকৃত জপ হয় এবং সমস্ত চক্রে চক্রে সেই বীজ নানা প্রহ্থন 
আকারে ফুটিয়া উঠে। সেই ফুলদল মায়ের চরণে ঢাঁলিয়৷ দিতে হয়, সেই 
ফুলদলে মাতৃপূজ1 করিয়া মাকে সাজাইতে হয়, সেই ফুলদলে ফুলময়ী করিয়া, 
প্রফুললা জননীকে উৎফুল্লা করিতে হয়। আঁলোক-বাজীতে আমরা যেমন নানা 
প্রকারের ফুল ফুটিয়া৷ উঠিতে ও মিলাইয়া যাইতে দেখি, প্রকৃত জপ করিতে 
পারিলে গুত্যেক বীজ প্রক্ষেপে ঝ৷ প্রতিবার বীজ জপে আমাদিগের প্রাণময় 
কোষে বা প্রাণময় দেহটাতে এঁরূপে ফুলদল ফুটিয়া উঠে। মাতৃচরণে বীজ 
অর্পণমাত্রে ফুলে দেহ ভরিয়া যায় এবং জপের প্রবলতা৷ অসুসাঁরে ইহা! স্থায়িত 
লাভ করে। 

পুস্তকে আর অধিক প্রকাশ করা চলে না, তবে জপ-তৰ বলিবার সময়ে 
আরও একটু রহস্ত বলিবার ইচ্ছা! রহিল । যাহা হউক, ইহাই পাগুবপক্ষের 


শঙ্খসকলের ধ্বনি । 


অনস্তবিজয়ং রাজ। কুস্তীপুত্রো! যুধি্িরঃ। 

নকুলঃ সহদেবশ্চ স্থঘো ষমিপুষ্পকৌ ॥১৬ 

কাশ্যুশ্চ পরমেঘা সঃ শিখণ্ডী চ মহারথঃ। 

ধষ্টদ্যুনে। বিরাটশ্চ সাত্যকিশ্চাপরাজিতঃ ॥১৭ 
দ্রুপদে দ্রৌপদেয়াশ্ছ সর্ববশঃ পৃথিবীপতে | 
সৌভদ্রশ্চ মহাবানুঃ শঙ্থান্‌ দখ্ম,২ পৃথক্‌ পৃথক্‌ ॥১৮ 


হে পৃথিবীপতে ! কুস্তীপুত্রঃ রাজা যুধিষ্ঠির; অনন্তবিজয়ং ( দখৌ), নকুলঃ 
সহদেবশ্চ ম্ুঘোষমণিপুষ্পকৌ (দখ্ুতুঃ), পরমেম্বাসঃ ( মহাধনুর্ধরঃ ) কাশ্বশ্চ, 
মহারথঃ শিখত্ী চ ধুষ্টছ্য্্। বিরাটশ্চ, অপরাজিত; সাত্যকিশ্চ ক্রুপদঃ 


€হ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক বাধ্য । 


প্রৌপদেয়াশ্চ, মহাবাহুঃ সৌভদ্রশ্চ সর্বশ; (সর্ধে এব) পৃথক পৃথক 
শঙ্খান্‌ দঃ | * 

ব্যবহারিক অর্থ ।--কুস্তীপুত্র রাজা যুধিষ্ঠির অনস্তবিজয় নামক শঙ্খ বাঁজাইলেন, 
নকুল ও সহদেব স্বঘোষ ও মণিপুষ্পক নামক শঙ্খন্বয় বাঁজাইলেন; এবং মহাধনুদ্ধর 
কাশিরাজ, মহারথ শিখন্ডী, ধৃষ্ট্যন্, বিরাট, সাত্যকি, ক্রুপদ, দ্রৌপদীপুত্রগণ 
এবং অভিমন্থ্য, ইহারা সকলে পুথক্‌ পৃথক্‌ শখ বাঁজাইলেন। 

যৌগিক অর্থ।-_এইরূপে শঙ্খ বাজাইতে হয়। মন লাঁধককে বিপথে চালিত 
করিতে উদ্ভত হইলে, মনের বৃত্তি বাজিয়! উঠিলে, সে শব্দকে প্রতিহত করিতে। 
মনের সে বৃত্তিকে নিজীবি করিতে, এইরূপে শঙ্খদবধনি করিতে হয়, এইরূপে ধ্বনির 
ফুলে সমগ্র দেহ সাঁজাইয়া! তুলিতে হয়। যখনই প্রাণকে বিপথে চালিত করিবার 
জন্য মন উদ্যত হয়, এইরূপে সাধককে মনের বিপক্ষে সিংহনাদ ছাঁড়িতে হয়-. 
মনঃপক্ষের হৃদয়ে ব্যথ! দিয়া, বিজয়-ভেরী বাজাইতে হয়। 


স ঘোঁষে! ধার্তরাষ্্রীণাং হৃদয়।নি ব্যদারয়ৎ। 
নতশ্চ পৃথিবীঞ্চেব তুমুলো ব্যনুনাদয়ন ॥১৯ 


নভশ্চ পৃথিবীঞ্চৈব ব্যন্থনাদয়ন্‌ তুমুল; স; ঘোঁষঃ ( শঙ্খনাদঃ ) ধার্তরাষ্্ীণাং 
হদয়ানি ব্যদারয়ৎ। 
ব্যবহারিক অর্থ।--আকাশ এবং পৃথিবীকে প্রতি্বনিত করিয়া, সেই তুমুল 
ধ্বনি ধৃতরাষ্ট্রপুত্রদিগের হৃদয় বিদীর্ণ করিল। 
যৌগিক অর্থ ।--তাহা হইলে আমরা! এই বুঝিলাম যে, প্রথমে প্রণবধবনি বা 
ভগবানের পাঞ্চজন্য শঙ্খনাদ দেহাত্যন্তরে শুনিয়া, সেই শবে--সেই অপূর্ব্ব সঙ্গীত- 
বঙ্কারে দেহের চারি দিক্‌ প্লাবিত হইতেছে, এইরূপ উপলব্ধি করিয়! লইয়া, তার পর 
সাধকের নিজের নাদ বা! গুরুপ্রদত্ত বীজ, সেই শব্দসমূক্রে প্রক্ষেপ করিতে হয়। 
এ বীজ বা জীবের নিজম্ব শব্দ এ বিরাট শব্দে মিশ্রিত হইবামার উহ! হইতে 
একটা আবর্ধন উঠিয়া, শ্বেতপদ্মাকারে কঠদেশ আলোকিত করে এবং তখন 
সঙ্গে সঙ্গে দেহের প্রত্যেক চক্রে চক্রে শব্দ-কুন্থমসকল ফুটিয়! উঠিয়া দেহকে 
ফুলময় করিয়। তুলে । তখন মনের বৃত্তিরাজি বথিত ও সঙ্কুচিত হয়। 
কিন্ত জীবের এই নিজস্ব বীজ পাওয়া একটু দুল্লভি। ভগবানের জন্য একাস্ত 
আগ্রহ গরাণের ভিতর বন্তাতরন্গ শৃজন করিলে, সদ্‌গুরু-প্রার্ি হয় এবং নিক 


উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। ৫৩ 


বাঁজের সন্ধান তখনই পাওয়া যায়। সদ্গুরু অর্থে _-ভগবান্। ভগবান্ই সদ্‌- 
গুরুরূপে হৃদয়াভ্যন্তরে শিবন্বরূপে প্রকটিত হইয়া দীক্ষা প্রদান করেন। বস্তুতঃ 
দীক্ষা গ্রাণের ভিতর হয়। শিবরূপে হৃদয়াভ্যন্তরে বাঁ সহস্রারে প্রকটিত হইয়া 
জীবকে যখন মা! আমার দীক্ষিত করেন, তখনই বুঝিতে হয়--সাধকের প্রকৃত 
দীক্ষালাভ হইয়াছে। তংপুর্ধধ কাহারও কাহারও ভাগ্যে মনুষ্যরূপে সদগুরুকে লাভ 
হয়; কিন্তু এই মনুষ্যরূপী সদ্গুরু ইচ্ছা করিলে, ত'হাঁকে শিষ্ের কর্ণমূলে দীক্ষা 
দিতে হয় না। মনুয্যুরূপী মদগুরুর নিকট দীক্ষা লাভার্থে সমাহিতচিত্ত হইয়া উপবিষ্ট 
হইলে, এবং সেই পুরুষ যথার্থ ইচ্ছুক হইলে, তিনি তাহার প্রাণের ভিতর দীক্ষা 
প্রদান করেন । নিজ শক্তি দ্বারা শিষ্তের প্রাণশক্তিকে মুগ্ধ করিয়া বা ন্ৃপ্তবৎ 
করিয়া, সেই প্রাণশক্তির পর্যালোচনা করিয়া দেখেন এবং সেই প্রাণশক্তি তখনই 
শান্ত, নিদ্রিত এবং নিস্তরঙ্গ ভাবাপন্ন হইয়া! পড়ে । তখন বীজ. বা সাধকের 
নিজ শব্দ আপন হইতে তাহার হৃদয়ে ফুটিয়া উঠে। সাধক নিজের প্রাণের ভিতর 
বীজের সন্ধান পাইয়া কৃতকৃতার্থ হয়। 

কিন্ত অনেকেরই ভাগে এতটা! ঘটিয়া উঠে না। সংশিষ্য না হইতে পারিলে 
এতট! প্রত্যাশা করা যায় না। উহা অপেক্ষা নিক্স্তরের সাধক প্রাণের ভিতর 
এরূপ বীজের স্ষুরণ, দীক্ষিত হইবার সময় দেখিতে পাঁয় না সত্য, কিন্তু তার পর 
সেই সদ্‌গুর তাহার হৃদয়ে যে বীজ দর্শন করিয়াছেন, উহা! কর্ণে বলিয়া! দিবামাত্র 
তখন যেন অনেক দিনের পুরাতন স্মৃতি জাগিয়া উঠিল, শিষ্ের এমনই মনে হয়। 
ঘরে নিজেরই বাক্সের মধ্যে রত্বু ছিল, সদ্‌গুরু যেন সেইটা খুঁজিয়া বাহির 
করিয়া দ্রিলেন, এইরূপ প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ প্রথম স্তরের শিষ্যদিগের 
আর কর্ণমূলে কিছু বলিতে হয় না। প্রাণের ভিতরই উহা! গুরুকপায় 
দেখিতে পাইয়া শিষ্য কৃতকৃতার্থ হয় এবং দ্বিতীয় স্তরের সাধকদিগের কর্ণমূলে 
বলিয়! দিবার পর উহা! প্রত্যক্ষগোচর হয়। কিন্ত শিষ্য যদি প্রাণের ভিতর 
এ বীক্ত প্রত্যক্ষ করিতে না পারে, তাহা হইলে বুঝিতে হইবে, তাহার 
সদৃগুরু লাভ হইল না। 

যাহা হউক, প্রথম স্তরের শিষ্য না পাইলে, তাহাকে প্রকৃত দীক্ষা, দেওয়া উচিত 
নহে। তবে যাহা দ্বারা সংশিষ্য হওয়া যায়, তদ্রুপ পম্থা তাহাকে দেখাইয়। 
দেওয়া যাইতে পারে। কিন্তু ইহা প্রকৃত দীক্ষা নহে। সাধক মনুষ্যরূপী 
সদ্‌ঘরুর নিকট এঁরপে দীক্ষিত হইবার পর ভাগ্যক্রমে জগদ্গুরু হৃদয়ে 


সী উপনিষারচ্ত বা কভার যৌগিক ব্যাখ্যা । 
আবিভূত হইয়া, এ বীঁজে তাহাকে অভিষিক্ত করিয়। দিলে, তখন দীক্ষা 
পরিসমাণ্ত হয়। 
বন্তুতঃ সংশিষা হইলে গুরুর অভাব থাকে না। জগদ্ধাপী শিবন্বরূপ সদৃগুরু 
রঙধাণড ব্যাপিয়! অবস্থান করিতেছেন । সংশিষ্য হইলে প্রাণের ভিতর তিনিই 
দীক্ষা প্রদান করেন ; অথবা কোন শিবতুলা সিদ্ধ পুরুষের ভিতর দিয়া, তাহাকে 
তাহার বীজ দেখাইয়া দেন। যথার্থ দীক্ষা লাভ হলে আর জীবের পতনের ভয় 
থাকে না। জীবনের সার্থকতা পদে পদে উপলব্ধ হয়। দীক্ষা লাভ হইলে 
তখন শুধু সম্ভোগ । পরিশ্রম থাকে না । যত পরিশ্রম, দীক্ষা! লাভের পূর্বের 
দীক্ষিত হইবার জন্যই খাটিতে হয়। দীক্ষিত হইলে সে পরিশ্রমের চরিতার্থতা বা 
সম্ভোগ হয়। যেমন পুজার আয়োজন যতক্ষণ না হয়, ততক্ষণ পরিশ্রম। পুজার 
সময় শুধু চরিতার্থতা, শুধু দেবসান্নিধ্যের অপূর্ব্ব সম্ভোগ__ইহাঁও তদ্রুপ । বীজরূপ 
পুষ্প যত দিন আহরণ ন| হয়, তত (দিন অক্লান্ত পরিশ্রমে তাহার সন্ধান করিতে 
হয়। পুষ্প মাত হইলে, তখন আর পরিশ্রম নহে-_শুধু মাতৃপূজা_শুধু সম্ভোগ 
--শুধু আনন্দের পূর্ণ পরিতৃপ্তি। 
কিন্ত রূপে দীক্ষিত না৷ হইলে, দুর্ভাগ্যবশত; শিবঞ্ছরূগ সদ্গুরুলাভ ন। 
হইলে, অথব। মনুষ্যবূগী সদ্গুরুর কৃপা ন! পাইলে, তত দ্রিন কি আমাদিগের 
সাধন! হইবে না? তত দ্রিন সারথিরূপিণী মায়ের আমার পাঞ্জন্য শঙ্খনাদের সঙ্গে 
কোন্‌ শব মিলাইব ? কোন্‌ শঙ্খধ্বনি করিয়া সংগ্রাম-ক্ষেত্রে মনঃপক্ষের হৃদয় 
বিদীর্ণ করিব ? হুদয়াভ্যস্ত্রে প্রণবের অপূর্ব বঙ্কার শুনিয়া, আমার প্রাণ পুলকিত 
হইয়া, কোন্‌ শব্ধ অভিব্যক্ত করিবে? কোন্‌ শব্খ-বঙ্কারে সে অনাদি নাদকে 
তরঙ্গিত করিয়! তুলিবে ? মাতৃ-শঙ্ঘের মধুর নির্ঘোষে কোন্‌ শব্দ মিলাইয়া, কে 
শ্বেতপদ্ম ফুটাইয়। তুলিতে পারিবে ? 
সাধক এই প্রথম অবস্থায় অর্থাৎ সদ্গুরুর দ্বারা দীক্ষিত হইবার পূর্বে যে 
কোন শব্দ গ্রহণ করিতে পারেন । তবে প্রণব অথবা মায়ের যে কোন একটি নাম 
লওয়াই প্রশস্ত । প্রণবই সর্বাপেক্ষা অধিক ম্থুবিধাকর। এইরূপে প্রণব বা 
মাতৃনাম প্রথম অবস্থায় নিজের দেবদত্ত শঙ্খরূপে গ্রহণ করিয়া, হদয়স্থ অনাদি 
'বঙ্কারের সহিত মিলাইয়! দিয়, কে পৌও্ড। নামক শ্বেতপদ্ম স্ষুরিত,করা চলে। 
'তাহাতে বিশেষ অন্ুবিধা হয় না। কৃপাময়ী মা আমীর সারথিরূপে হৃদয়ে থাকিতে 
'আমাদিগের নিরাশ হইবার কৌন কারণ নাই। কিছু না পার, প্রাণের তিতর 


উপনিষদ্রহ্ম্ত বা! তার যৌগিক ব্যাধ্যা। ৫& 


“মা” “মা” ধ্বনি ফুটাইয়! তুল-_গ্রাণের ভিতর মা” “মা” করিয়! ডাকিতে 
শিখ, তোমার সকল সাধ মিটবে । 
সাধক স্মরণ রাখিও, কণস্থ এ শ্বেতপদ্ম-বাদ্দেকীর চির-পধরিয় আসন। কণ্ে 

এ শ্বেতপদ্ম থাকে বলিয়াই, আমর! শব্দ উচ্চারণ করিতে সক্ষম হই। কণ্ঠের এ 
শ্বেতপদ্ধের সাহায্যেই আমাদের প্রাণের ভিতর ভাব শব্দাকারে পরিস্ফুট হয়। 
আমরা পরস্পর হৃদয়ের ভাবের আদান গ্রদান করিতে পারি। 

অথ ব্যবস্থিতান্‌ দৃষট ধার্তরাষট্রীন কপিধ্বজঃ। 

প্রবুণ্ডে শক্ত্রসম্পাতে ধনুরুগ্যম্য পাগ্ুবঃ | 
হুষীকেশং তদ| বাক্যমি্মাহ মৃহীপতে ॥ ২০ 
হে মহীপতে | অথ শস্্রসম্পাতে প্রবৃত্তে ( সতি ) কপিধবজঃ পাণ্তবঃ (অঙ্জুনঃ) 


ধার্তরাষ্ট্রীন্‌ ব্যবশ্থিতান্‌ দুষ্ট ধন্ুঃ উদ্চম্য ( উত্ভোল্য ) তদা হৃষীকেশং ইদং 
বাকাং আহ । 


বাবহারিক অর্থ ।__রাজন্‌ | শস্ত্রসম্পাত-প্রারস্তে কপিধ্বজ অর্জুন কৌরবপক্ষকে 
যুদ্ধোগ্টোগী দেখিয়া, ধনু উদ্ভোলনপুর্ববক শ্রীকৃষ্ণকে এইরূপ কহিলেন । 
যৌগিক অর্থ।-_সাধককে কিছু দিন এইরূপ নাদ শ্রবণে ও জপে অভ্যন্ত 
হইবার পর, নিজের কর্তব্য অবধারণ করিয়া লইতে হয়। এ্ররূপ অপূর্ধ্ব নাদ 
আুবণ করিয়া এবং এরূপ জপে নিজেকে কৃতার্থ বোধ করিয়া, তখন সাধক নিজের 
কি কর্তব্য, কি করিলে ওরূপ জপ ও ঈশ্বর-সাধন! আর প্রতিহত হইবে না, কি 
করিলে চিরদিন ভগবংসাধনারূপ অপুর্ব পরিতৃপ্তি অহনিশ উপভোগ করিতে 
পাইব, এইরূপ প্রশ্ন তাহার প্রাণে ফুটিয়া উঠে। ভগবৎসাধনা করিতে বসিলে 
সন্দেহরাশির আক্রমণ হইতে চিত্তের শান্তি রক্ষার জন্ত কোন্‌ পন্থা অবলম্বন 
করিতে হয়, সাধকের প্রাণ তখন তাহা জানিতে চাহে। কাহার সহিত আগে 
যুদ্ধ করিব, কাহাকে কাহাকে দমন করিতে হইবে, কিরূপ ভাবে জীবন-যাত্রা 
নির্বাহ করিব, ইত্যাদিরূপ সমালোচনা তাহার প্রাণে ক্ষুরিত হইতে থাকে । বার 
বার সাধনা করিতে বিলে, নান চিত্তবুত্তি সে সাধনায় বিস্ব প্রদান করে, সাধন। 
অধিকক্ষণ স্থায়ী হইতে দেয় না, সাধন! সর্বাল-নুন্দর করিয়। ফু'টাইয়। তুলিবার 
অবসর দেয় না--এইঞপ বিদ্বসকলের হাত হইতে কিবিপে পরিভ্রাগ পাইব, কোন্‌ 
বিশিষ্ট উপায় অবলঞ্চন করিলে, সাধনায় অহনিশ নিযুক্ত থাকিতে পারিব-_এই 
প্রকারের মমালোচন৷ তাহার প্রাণে আমিতে থাকে । 


৬ উপনিধদ্রহন্ত বা প্লীতার যৌগিক ব্যাব্যা। 


এই অবস্থায় হদয়স্থিত সারধিরপী ভগবানের শরণাপন্ন হইয়া, তাহার উপদেশ 
গ্রহণ করিতে হয়। উদ্যম-ধন্থু করে তুলিয়া লইয়া» ধীর, স্থির সংযত ভাবে হদয়স্থ 
মাতৃসন্মুখে াড়াইয়া, তাহাকে বলিতে হয়, 
সেনয়োরুভয়োম্ধ্যে রথং স্থাঁপয় মেইচ্যুত ॥ ২১ 
অচ্যুত, উভয়োঃ জেনয়োঃ মধ্যে মে রথং স্থাপয়। উভয়োরপি সেনয়োঃ 
সন্িহিতঘোর্শধ্যে মদীয়ং রং স্থবাপয়েত্যর্জবেন সারথ্যে সব্বেশবরো নিযুজ্যতে, 
কিং হি ভক্তানামশক্যং যন্তগবাঁনপি তন্নিয়োগ অন্ুুতিষ্ঠতি; যুক্তং হি ভগবতো 
ভক্তপারবশ্টং অচ্যুত ইতি সম্বোধনতয়া৷ ভগবত: স্বরূপং ন কদাচিদপি প্রচ্যুতিং 
প্রান্দাতি ইত্যুচ্যতে। 
হে অদ্যুত! উভয় সৈম্যগ্রেণীর মধ্যে আমার রথ একবার স্থাপন কর। 
এই কর্তব্য নির্ধারণের পুর্বে, নিজের জীবনের গতি স্থির করিয়া! লইবার সময়ে 
--কি করিব জগতে কি ভাবে বিচরণ করিব,-ত্রহ্মচর্ধ্য, সংসার, সন্ন্যাস, ইত্যাদি 
বহিজীরশবনের অবস্থা-সকলের মধ্যে কোন্টি অবলম্বন করিব, ভগবৎসাঁধনের উন্নতি- 
কল্পে কোন্‌ পন্থা ধরিয়া থাকিব, এই সকলের ইতিকর্তব্যতা স্থির করিয়া! লইতে 
হইলে, আগে ভগবানকে অক্র্যত" নামে সম্বোধন করিতে হয়; অচ্যুত বলিয়া 
তাহাকে চিনিতে হয়, তাহার অস্যুশ্াবস্থার ধ্যান করিতে হয়। আমি কুপথে যাই 
বা সুপথে যাই, পাপের দ্রিকে কিম্বা পুণ্যের দিকে যাইতে চাহি, আঁধারের দিকে 
বা আলোকের দ্রিকে যাইতে কামনা করি,-নরকের ক্রিমি-কীটসন্থুল ভীষণ 
যন্থণাময় গহ্বরে, কিন্বা বর্গের পারিজাত-গন্ধানোদিত ভোগক্ষেত্রে) 
যে দিকে যাইতে আমি কামনা করি--আমার হৃদয়রথকে যে দিকে চালনা 
করিতে সঙ্কল্প করি, সারথিরূপে তিটিন আমায় সেই দিকেই লইয়া যাইতেছেন ; 
-“নরকমধ্যে আসিয়া পড়িয়াছি দেখিয়া বা যন্ত্রণার ক্ষেত্রে গিয়া উপস্থিত 
হইতেছি বুবিয়া, তিনি হুদয়-রথ হইতে মুহুর্তের জন্য নামিয়া ত যান না! 
স্বর্গে াই--সেখানেও তিনি আমার সারথিরূপে অবস্থিত, নরকের ছূরগন্ধময় পুরীষ- 
ক্ষেত্রে--সেখানেও তিনি সেইরূপ ধীর, স্থির, সারথির মত আমার সংকল্লের জন্য 
অপেক্ষা করিয়। হ্দয়রথে অধিষ্টিত ; “তুমি নরকের মধ্যে গিয়া পড়িতেছ--তুমি 
মোহাচ্ছন্ হইয়া অধোঁদিকে ধাবিত হইতেছ-_তুমি পাপপন্কে অন্থলিপ্ত হইতেছ, 
আর আমি তোমার সারথ) করিতে পারিব ন) তুমি অপবিত্র হইয়াছ, আর 
€ভামার এ অপবিত্র রথে অবস্থান করিতে পাঁরিব লন) তুমি জঘন্য ইন্দ্রিয়পরায়ণ 


উপনিধদ্রহন্ত ব| গীতার যৌগিক ব্যাথা] । ৫৯ 


নীচাশয় হইয়াছ,_-আর আমি তোমার সারথ/ করিব না, তুমি অন্ত সারথি 
অন্বেষণ কর” এ কথা ত তিনি জানেন না। “রে মদমত্ত জীব | তুই স্বইচ্ছায় 
শৃঙ্খলাবদ্ধ হইতেছিস্‌,। তোর রথচক্র প্রকৃতি গ্রাস করিতেছে, তোর হুদয়-রথ 
গতিশৃগ্ত অথবা নিশ্নগতি প্রাপ্ত হইতেছে--আর আমি থাকিব না, আমি তোর 
রথ হইতে অবতরণ করিয়া চলিলাম”--এ কথা ত তিনি কখন বলেন না ! অথবা 
“রে পৌভাগাবান্‌ জীব! তোকে তোর ইচ্ছান্ুযাযী ব্বর্সের লিংহালনে পৌছাইয়া 
দিয়াছি--তুই এখন আত্মচরিতার্থতা সম্তোগ করিতে থাক্‌, আমি এখন তোর রথ 
ছাড়িয়। চলিলাম”-_-এ কথা ত তার মুখে কখন ফোটে না! ধীর, স্থির, আজ্ঞাবহ 
সারথির মত তিনি যে অহনিশ অশ্ববল্না করে গ্রহণ করিয়া, আমার সঙ্কল্পের 
অপেক্ষা করিতেছেন; রথছ্্যুত তিনি ত একবারও হন নাই--আমার হৃদয় রথ 
হইতে মুহ্ত্ের জগ্ঠ ত অবতরণ করেন নাই ! অশ্বচালনা করিয়া ক্লীস্তির অনু- 
শোচন! কখনও ত তিনি করেন নাই ! রথ-চুত হইতে কখনও ত তাহাকে শুনি 
নাই। সেই হাসিমাখা মুখ-সেই উল্লাসপূর্ণ বঙ্কিম ঠাম-সেই আনন্দাকুল 
মন্দর বপু-_সেই ন্েহভর! চক্ষু, তাহাতে কখনও ত বিষাদের ছায়া দেখি নাই ! 
সেই ধার, স্থির, আশ্বাসপূর্ণ আমার জন্ মুখাপেক্ষা, তাহাতে কখনও ত ভাব- 
বিচ্যুতি প্রত্যক্ষ করি নাই! হে অছ্যুত! হে অচ্যুত সারথি ! তোমার এ ত 
সারথ্য নহে--এ যে প্রেম, তোমার এ ত আজ্ঞ। পালন করা নহে--এ যে সখ্য ! 
হে প্রেমময় সারথি! হে সখা! হে অচ্যুত সখা! আমি যেন তোমার অচ্যুত 
ভাব অন্থুভব করিয়া--তোমার এ চু)তিহীন সথ্যের উপলব্ধি করিয়া, অচ্যুতভাবে 
উদ্ধগতি লাভ করিতে পারি। হে অচ্যুত! তোমার সারথ্যের যেমন চ্যুতি 
নাই, আমিও তেমনই তোমার অন্বেষণ হইতে যেন বিচ্যুত না হই। হে অচ্যুত। 
তুমি যেন চিরদিন এমনই অদ্্যুতভাবে আমার হৃদয়-রথে অবস্থিত থাকিয়া 
আমার রথ চালন! কর; হে অচ্যুত ! আমার ভাববিচ্যুতি যেন কখনও না ঘটে । 

এই ভাবে সারথিকে অ্ুত বলিয়া চিনিতে হয়। অফ্যুতভাবে তিনি হুদয়- 
রথে অবস্থান করিতেছেন, এই ভাব উপলব্ধি করিতে হয়--এই অচ্যুত-মন্ত্রের 
উপাসন! করিতে হয়, এবং এইরূপ অচ্যুতভাবে তাহাকে দেখিতে দেখিতে অচু।ত 
বলিয়! তাহাকে সম্বোধন করিয়া, তাহাকে বলিতে হয়, 

সেনয়োরুভয়োন্মধ্যে রথং স্থাপয় মেষ্চ্যত। 
একবার উভয় সেনার মধ্যে আমার রথ স্থাপন কর ত। 
্' 


৪ উপনিষদরহন্ত বা.গীতাঁর যৌগিক ব্যাধা| । 


পরবন্তি ও নিরৃত্তিপক্ষের সৈম্ঠসজ্বের মধ্যস্থলে অর্থাৎ অস্তপ্মুখী ও বহিম্মুখী 
শক্তিরপ উভয় পক্ষ হইতে দূরে, অথচ উভয় দিক্‌ দেখা যায়, এমন স্থলে হৃদয়রথ 
লইয়া চল। উভয় দ্দিকে রণোল্লাসমন্ত সৈন্তসমুদ্র সংঘর্ষণপ্রয়াসী হইয়! দণ্ডায়মান, 
পরস্পর রক্তপানে অগ্রসর ; এক দিকে প্রবৃত্তিপক্ষ আমায় রাজ্যটু)ত, হতসর্ব্বস্থ 
করিয়া-_আমার আত্মগ্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে দণ্ডীয়মান, অন্ত দিকে নিরৃত্তিপক্ষ আমায় 
আত্ম প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রগামী করিতে কৃতসন্বপ্ন-_-এই বিপুল বাঁহিনীছয়ের 
মধ্যস্থুলে দাড়াইয়! উভয় দিক্‌ পর্ধাবেক্ষণ করিব । একবার রথ মধ্যস্থলে লইয়া 
চল ত। 

সাধককে সর্বপ্রথম এইরূপে বাহিনীদ্ধয়ের মধ্যস্থলে অবস্থিত হওয়া 
অভাস করতে হয়। প্রক্তদিন প্রাতে একবার বৃত্তি-সকলের কাঁধ্যারস্তের 
পুরে ব। রণ-মৃচনার প্রারস্তে গ্থেরভাবে উপবিষ্ট হইয়া, সমরপ্রয়াসী উভয় পঞ্গ 
হইতে দুরে, অথচ উভয় পক্ষের মধ।স্থলে হাদয়রথে অবস্থিত হইতে অভ্যাস করিতে 
হয়। আমাদের শাঞ্সম্মত প্রাতঃক্রিয়ার ইহাই উদ্দেশ্য । প্রতি প্রভাতে 
মাকে বলিতে হয়,--মা! এ সমর-সুচনার পূর্বে একবার আমায় উভয় পক্ষের 
মধ্যস্থলে, তোমার সম্মুখে লইয়া স্থির হইয়া টাড়াইতে দাও। রণকোলাহল 
হইতে একটু অপস্থত হইয়া চল মা! একবার মাঁতাগুতে একটু নির্জনে গিয়া 
দাড়াই, উভয় দিক্‌ দেখিয়| কর্তব) অবধারণ করিতে একবার মধ্/স্থলে অবশ্থিত 
হই ।” এইরূপ গ্রাথনা হুদয়ে লইয়া গুত)হ আত্মঘৈর্ষে।র অভ্যাস করিতে 
হয়। এরূপ টিরতাঁর অভ্যাস হইতে আরন্ত করিয়া, যতদিন না সাধক বুঝিতে 
পারে, যাহ। কিছু কাধ্য হইতেছে--যাহা কিছু আমি করি, সে সমস্তই মাতৃ-ইচ্ছা__ 
সে সমন্তই মাতৃ-পূজা, তত দিন জাবনের গতির পথে যোগরূপ রণ-নচন। বিশেষ 
ফলদায়ক হয় না। যতক্ষণ না এরূপ শ্িরভাবে হদয়স্থ হইয়া চাড়াইয়৷ বুঝিতে 
পারি বা! বলিতে পারি)__*প্রাতঃ গুভূৃতি সায়াস্তং সায়াস্তাৎ প্রাতরস্ততঃ | যৎ 
করোমি জগন্মাতস্তদস্ত তব পুঁজনম্‌ ৮ ততক্ষণ যোগরূপ সমরে নিযুক্ত হইতে নাই। 
যতক্ষণ ন। বুঝিতে পারি-মাগে|! প্রভাত হইতে সন্ধ্যা অবধি, সন্ধ্যা হইতে 
প্রভাত পধ্যন্ত যাহা! কিছু করি, সে সমস্ত তোমারই ত পুজা মা--সে সমস্ত 
তোমারই ত সঙ্বল্প পূরণ-_সে সমস্ত তোমারই ত মঙ্গল ইচ্ছা, ততদ্গণ এরূপ 
স্থিরভাবে মাকে সম্মুখে লইয়া, কু্ক্ষেত্রের মধ্/প্বলে হুদয়-রথকে স্থাপিত 
করিবার জন্য মাকে অনুযোগ করিতে হয় । 


উপনিষদ্রন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। ৫৯ 


যাবদেতামিরীক্ষেইহং যোদ্ধ,কাঁমানবস্থিতান্‌। 
কৈর্শায়া সহ যোদ্ধব্যমশ্মিন রণসমুগ্যমে ॥ ২২ 
যোতস্যমানানবেক্ষেহহং য এছেহত্র মমাগতাঁঃ | 
ধার্তরাটরম্ত ছুর্ববদ্ধেযুদ্ধে প্রিয়চিন্কীর্ষবঃ ॥ ১৩ 


যাব অহং ঘোছ্ধ,কামান্‌ জবস্থিতান্‌ এতান্‌ নিরীক্ষে, অন্মিন রণসমুষ্ঠমে 
কৈ সহ ময়া যোদ্ধব্যম্; যুদ্ধে (চ) ছুর্ব,ছোঃ ধার্তরাষ্টস্ত প্রিয়চিকীর্ষবঃ যে. 
এতে অত্র সমাগতাঃ (তান্‌ ) যোতম্মানান্‌ অহং অবেক্ষে (তাবৎ ) উভয়োঃ 
সেনয়ো? মধ্যে মে রথং স্বাপয় (ইতি ভাব )। 

এতাঁন্‌ গ্রতিপক্ষত্থেন প্রতিষ্ঠিতান্‌ ভী্মব্রে!ণাদীনম্মীভিঃ সার্ধং যোদ্ধ,ং 
অপেক্ষাবতো যাবৎ গন্বা নিরীক্ষিতুম্‌ অহং ক্ষমঃ স্তাং তাবতি প্রদেশে রৎস্থা 
স্থাপনং কর্তব্যম্‌ ইতার্থঃ॥ কিঞ্চ প্রবৃত্তে যুদ্ধ-প্রারস্তে বহবো! রাজানোহমুষাং 
যুদ্ধভূমাবুপলভান্তে, তেষাঁং মধ্যে কৈঃ সহ ময়। যোদ্বব্যং চ ধার্তরাষটন্ত দুর্ধ্যোধনস্থয 
দর্বদ্ধেঃ স্বরক্ষণোপায়ম্‌ অপ্রতিপদ্যমানস্ত যুদ্ধায় সংরন্তং কুর্বর্বতো যুদ্ধহৃমৌ স্থিত 
প্রিয়ং কুর্ত,ন্‌ ইচ্ছবে! রাজানঃ সমাগত দৃশ্যন্তে, তেন তেষাঁন্‌ ওপাপ্রিকম্‌ অক্মৎ' 
প্রতিযোগিত্রম্‌ উপপন্নম্‌ ইত্যর্থঃ। 

যতক্ষণ আমি যুদ্ধ কামনায় অবস্থিত ইহাদিগকে নিরীক্ষণ করি এবং এই 
যুদ্ধে কাহার সহিত আমায় সংগ্রাম করিতে হইবে ও দ্বব্ধ,দ্ধি ছুর্যোধনের এরিয়া- 
চরণ বাসনায় যাহারা এখানে সমাগত হইয়াছেন, তাহাদিগকে অবলাকন করি, 
( ততক্ষণ সৈম্থমধ্যে রগ স্থাপন কর ) অর্থাৎ যত দ্রিন না সাধক কর্তব্য স্থির 
করিয়া লইতে পারে, কোন্‌ মা্গে, কোন্‌ ভাবে-_ কর্ম, ভক্তি, জ্ঞানাদি বিভিন্ন 
ভাবাঁপন্ন সাধনাপথের কোন্‌ পথটী অবলম্বন করিবে, যত দিন না স্থির হয়,-- 
কোন্‌ কোন্‌ বৃত্তি বিপক্ষে এবং কোন্‌ কোন্‌ বৃত্তি স্বপক্ষে কার্ধা করিতেছে, যত দিন 
ন। উত্তমরূপে পর্ষণলোচনা করিতে পারে, তত দিন সাধককে এইরূপে হ্থ্র্যলাভের 
অভ]স করিতে হয়। 

এই হ্থ্ধ্যাভ্যাস হইতেই সমস্ত আশা মিটিয়া যায়--এইরূপ হর্যযাভ্যাস 
হইতেই বিশ্বরূপ দর্শন হয়-_-এইবপ স্থৈর্ধ্যাভ্যাসের সুচনা হইতেই এ জগৎকে এক 
বিরাট্‌ পূজ।"মন্দির বলিয়া! চিনিতে পার! যাঁয়। এইটি হইল আদিসাধনা বা 
সাধকের প্রথম অবলম্বনীয় পন্থা । 


৬ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক বাণঁথ্যা। 


সঞ্জয় উব|চ। 


এবমুক্তো হষীকেশো গুড়াকেশেন ভারত। 
সেনয়োরুভয়োর্ধ্যে স্থাপয়িত্বা রথোত্তমমূ ॥২৪ 
ভীক্মব্রোণপ্রমুখতঃ সর্ববেষাঞ্চ মহীক্ষিতাম্‌। 

উবাঁচ পার্থ পশ্ঠৈ তান সমবেতান্‌ কুরূনিতি ॥ ২৫ 


সঞ্জয় উবাচ। হে ভারত! গুড়ীকেশেন বিজিতনিপ্রেন অজ্ঞুনেন এবম্‌ 
উক্ত: হৃফীকেশঃ উভয়োঃ সেনয়োঃ মধ্যে ভীম্মদ্রোণপ্রমুখতঃ সব্রেষা্ধ। মহীক্ষিতাম্‌ 
( লন্মুখে ) রখোত্তমং স্থাপয়িহ্বা “হে পার্থ! এতান্‌ সমবেতান্‌ কুরূন্‌ পশু” 
ইতি উবাচ। র 

সঞ্জয় কহিলেন,--বিজিতনিদ্র অর্জন কর্তৃক হৃযীকেশ এইরূপ অভিহিত হইয়া, 
ভীম্ম্রোণপ্রমুখ সমুদয় রাজন্যবর্গের সম্মুখে রথ স্থাপন করিয়া কহিলেন,__হে 
পার্থ! সমবেত কুরুগণকে অবলোকন কর। 


পূর্বে বলিয়াছি, এই স্থের্্য অভ্যাঁসই সাধনার প্রথম পন্থা । এই সাধন! 
অভ্যাস করিতে করিতে জীব বিজিতনিদ্র হয় অর্থাৎ নিদ্রা বা তম: ধ্বংসীভূত 
হয়। যখন জীব গুড়াকেশ অর্থাৎ বিজিতনিদ্র হয়, তখনই হৃষীকেশ 
উভয় সেনার মধ্যে রথ স্থাপন করেন। গুড়াঁকেশ কথাটী দিবার ইহাই 
উদ্দেশ্ঠ । নতুবা! নাধারণ সমরক্ষেত্রস্থ বীরকে গুড়াকেশ বলিবার কারণ নাই ; 
বীর, সাহসী ইত্যাদি কোন বিশেষণ দিলেই চলিত। যাঁহা হউক, যত দ্রিন না 
সাধক এইরূপ অভ্যাস করিতে করিতে নিদ্রাকে জয় করিতে পারে, তত দিন 
ছদয়-রথকে মধ্যস্থলে স্থিরভাবে দীড় করাইতে পারে না। সাধকমাত্ডেই 
জানেন, সাধনা-পথে নিদ্রা প্রথম অন্তরায় । চিত্ত অভিনিবিষ্ট করিতে উদ্যত 
হইলে বা চিত্তকে কেন্দ্রস্থ করিতে প্রয়ামী হইলে নিদ্রা আইসে। চিত্ব একটু 
স্থিরভাবাপর হুইবামাত্র তমসাচ্ছন্ন সাধারণ জীব ঘুমাইয়া৷ পড়ে। সাধারণ 
মনুষ্যের তমোগুণ- চিত্ত শান্তভাবাপন্ন হইবামাত্র তাহাকে আক্রমণ করে। এই 
জন্য যত দিন ন| এই নিদ্রাকে জয় কর! যায়, তত দিন হৃদয়-রথ ঠিক ফেন্দ্রগত 
কর! যায় না। বিজিতনিদ্র হইবার পর, তবে ভগবান্‌ আমাদিগকে কেক্দরস্থ 
হইতে দেন। বিজিতনিদ্র হইয়া রথ কেন্্রস্থ করিবার জন্য ভগবানের নিকট 
প্রীর্ঘণা করিলে, তবে রথ কেন্দ্রস্থ হয়--তবে কেন্দ্রগত হইয়া জীব উভয় পক্ষ 


উপনিষদ্রহন্য বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। ৬১ 


বিপ্লেষণ করিতে, কর্তব্য নির্ধারণ করিতে ও সারথি বা হৃধীকেশ দর্শনে কতকৃতার্থ 
হইতে পারে। 
হষীকেশ অর্থে ইন্দ্রিয় বা ভাব-ভবনের চালক । হৃধীকাণাং ইন্দ্রিয়াণাং 

ঈশঃ হাধীকেশং। ইন্দ্রিয় ও ভাবভবন বস্তুতঃ একই কথা। প্রধান প্রধান 
ভাবের পূর্ণ পরিস্ফুট অবস্থার নাম ইন্দ্রিয়। ভাবসমষ্টি প্রধান প্রধান গুচ্ছে 
বিভক্ত হইয় ও স্থুলতা লাভ করিয়া ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত হইয়াছে । যোগীরা 
চক্ষু কর্ণাদি ইন্দ্রিয় ছাড়া, ভাবকে ঘনীভূত করিয়া আরও ইঞ্ড্রিয় ফুটাইতে 
পারেন এবং তদ্দবারা অলৌকিক কার্যাসকল সম্পন্ন করিতে পারেন। চক্ষু, 
কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক, বা বাক) পাণি) পাদ; পাঁযু, উপস্থ, এ সকল ভাঁবেরই 
ফার্য্যকারী ক্ষেত্র বলিয়। ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত । এই স্থলে ইন্দট্রিয়-কার্ধয সম্বন্ধে 
একটু বলি-_প্রত্যেক কার্ধ্য বিশ্লেষণ করিয়া দেখিলে, তাহার ভিতর তিনটা 
স্তর দেখিতে পাওয়া যায়; এ তিনটা স্তরের নাম জ্ঞান, ইচ্ছা ও কর্ম বা ভাব, 
ভক্তি ও কর্ম । প্রথমে বস্তুসংক্রান্ত জ্ঞান বা ভাব প্রাণের ভিতর ফুটে; সেই ভাৰ 
স্কুটতর হইলে, সেই বস্ত্র দিকে প্রাণ ছুটিতে থাকে বাঁ তাহাতে আসক্তি বা ভক্তি 
জন্মে এবং আসক্তি বা ভক্তি আরও গুবল হইলে, উহা কাঁধে পরিণত হয়। বস্তুতঃ 
এ তিনটী একই শক্তির বিভিন্ন স্তর মাত্র। আমাদের চক্ষুরাদি ইন্ছ্রিয়ে দর্শনাঁদি 
ভাবসকল কার্যে পরিণত হয় বলিয়া, উহাঁরা ইন্দ্রিয় নামে পরিচিত। “বদন্‌ বাক্‌ 
পশ্যংস্চক্ষু: শৃখগ্থোত্রং”_-তিনি কথা কহিয়। বাগিক্দ্রিয় হইলেন,দর্শন করিয়। চক্ষু হই- 
লেন, শ্রবণ করিয়। শ্রোত্র হইলেন-_শ্রুতিতে এইরূপে ভাব হইতে ইন্দ্রিয় উৎপত্তির 
কথা আছে । কন্মযোগ বলিবার সময় এ কথা ভাল করিয়া বুঝাইব। এই ভাবরূপ 
অশ্বসকলকে ভগবান্‌ সারথিরূপে চাঁলন! করেন বলিয়া তীহাঁর নাম হধীকেশ । আর 
একী কথ বলি-_আমি পুর্ব মায়ের সারথিরূপ বর্ণনার সময়ে এলায়িতকেশী বলিয়া 
তাহাকে বর্ণনা করিয়াছি । বস্তুতঃ তিনি এলায়িতকেশীরূপে হৃদয়ে অবস্থান করেন 
এবং তাহার হৃষীকেশ নাম প্রাপ্তির ইহা অন্যতম কারণ। ভগবান্‌ বলিয়াছেন, 

দুর্য্যাচন্দ্রমসোঃ শশ্বৎ অংগুভিঃ কেশসংজ্ভিতৈ) | 

বোধয়ৎ ম্বাপয়চ্চৈব জগছুদ্ভিগ্তে পৃথক্‌ । 

বোধনাৎ স্বাপনাচ্চৈব জগতো! হর্ষণং ভবেৎ ॥ 

অশ্নীসোমকৃতৈরেব কর্মতিঃ পাঙুনন্দন। 

হৃষীকেশোহহমীশানে। বরদো শোকভাবনঃ1% 


৬২ উপনিষদরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখা।। 


চ্্রূর্ধয-কিরণসমূহ কেশ নামে অভিহিত। এই কিরণসমূহ দ্বারা 
জাগরণ ও নিদ্রা হইয়া থাকে । এইরূপ জাগরণ ও নিদ্রার দ্বার জগতের হর্ষণ 
ও সমস্ত ক্রিয়া সংসাধিত হয় বলিয়া, আমি হৃষীকেশ নামে অভিহিত । 
মা ছদয়-রথে চন্দ্র-সূর্ধ্-কিরণরূপ কেশজাল এলাইয়। দিয়া অবস্থিত 
থাকেন বলিয়া, আমাদিগের প্রাণশক্তি গতি প্রাপ্ত হয় এবং সমস্ত কার্ধ্য 
সম্পাদন হয়। মায়ের চরণচুম্বী কেশরাশি' চারি ধারে ছড়াইয়া পড়িয়া, 
আমাদিগকে কখনও জাগ্রত, কখনও ম্ৃপ্ত, কখনও কর্মনিযুক্ত, এইরূপ ভাৰে 
হষ্ট করেন বলিয়া, মায়ের অন্যতম নাম হাষীকেশ । 
যাহ! হউক, স্থিরতার অভ্যাস করিয়া ক্রমশ: বিজিতনিদ্র হইয়|, এবং ভগবাঁন্‌ 
অঠ্যত ও জধীকেশ বলিয়া পরিজ্ঞাত হইলে পর, তখন ভগবান্‌ পথকে কেন্ত্স্থ 
করেন এবং সমরোঁনুখী পক্ষদ্ধয়কে বিশ্লেষণ করিয়া দেখিবার অবসর দেন। 
অদ্যুত, হ্ববীকেশ, গুড়ীকেশ-_এই তিনটা শব্দই এখানকার সাধনা-রহস্ত । এই 
তিনটা বাক্য,-- প্রথম স্তরের সাধক কিরূপে হইতে হয়, তাহাই শিক্ষা দ্রিতেছে | 
প্রথমে ভগবানকে আছ্্যুতরূপে চিনিতে হয়, তিনি হৃদয়-রথ হইতে কখনও বিচ্যুত 
হন না, এই ভাবটা উপলদ্ধি করিতে হয়; তাঁর পর ভাব-সকলের বল্পা তাহার 
করে দিতে হয় বা তিনি ভাবরূপ অশ্ববল্পা করে গ্রহণ করিয়া আছেন_-এই তত্ব 
বুঝিতে হয়; এবং এইরূপ উপলব্ধি করিতে করিতে বিজিতনিদ্র হইয়। কেন্্রস্থ 
হইবার জন্য সঙ্কল্প করিলে, তিনি হৃদয়রথকে কেন্দ্রন্ত করিয়া দেন। প্রথম 
অধিকারীদিগের ইহাই সাধন! । 
তত্রাপশ্থ স্থিতান, পার্থঃ পিতুনথ পিতামহান্‌। 
আচার্য্যান্মাতুলান, ভ্র!তুন, পুত্রান্‌ পৌন্রান সখীংস্তথা | 
শ্বশুরান স্থহদশ্চৈব সেনয়োরূভয়োরপি ॥ ২৬ 
অথ পার্থঃ তত্র সেনয়োরুভয়োরপি স্থিতান্‌ পিতুন্‌ পিতামহান্, আচার্ধ্যান্‌, 
মাঁডুল'ন্‌, ভ্রীতূন্‌, পুত্রান্‌, পৌত্রান্‌, তথা সখীন্‌, শ্বশুরান্‌, হ্ুহদশ্চৈব অপশ্যৎ। 
তখন পার্থ স্ইখানে উভয় সেনাদলে অবস্থিত পিতৃব্য, পিতামহ, আচার্ধ্য, 


মাতুল, ভ্রাতা, পুত্র, পৌত্র, সখা, শ্বশুর ও স্থৃহাদাদি সকলকে অবলোকন 
করিলেন। 


চিত্ত এরূপ স্থির হইলে বা হৃদয়-রথকে কেন্ত্রস্থ করিতে পারিলে, 
তখন উভয় দিক্‌ মুন্দররূপে দেখিতে পাওয়া যায় । তখন দেখিতে পাওয়া 


উপনিষদ্রহস্য বা মিতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৬৬ 


যায়-_এক দিকে ইন্দ্রিয় ও. সংসারের মায়ারাশি, জীবন, জ্ঞান, যশ, 
ব্রহ্মচর্য্য ইত্যাদির মায়! সঙ্গে লইয়া, আমাদিগের প্রাণশক্তিকে গণ্তীর 
ভিতরে আবদ্ধ করিয়া রাখিবার জন্য প্রয়াসী হইয়। দণ্ডায়মান ; অন্য দিকে 
বিরাই চিন্তা, সত্যান্বেষণ, উদ্ধগতি ও তজ্জনিত দৃসন্কল্প প্রভৃতি 
প্রাণশক্তির সাহায্যকারী বৃত্তিসকল আত্মপ্রতিষ্ঠার পথে সাহাষ্য করিতে কৃত- 
সঙ্কল্প হইয়৷ রণসাজে সঙ্ভিত। এক দিকে বহিশ্নুখী শক্তি জগস্ভোগে ভূলাইয়া 
রাখিতে প্রয়াসী, অন্ত দিকে গ্রাণ বা অন্ত্দুখী শক্তি ভগবৎসম্তৌগের জন্য 
জগদ্ূভোগকে পদদলিত করিবার জন্ত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ । 
কিন্তু ইহার! কাহার! ? কে আমার সাধনা-পথের সহায় এবং কেই বা সাধনার 
অস্তরায়? সাধক স্থির হইয়া দেখিলে বুঝিতে গারে-_ইহারা সকলেই তাহার 
স্বজন। সকলের সহিত সাধক আম্মীয়তাস্তত্রে সম্বদ্ধ। যাহাদিগকে শক্র বলিয়া 
জানে--যাহাদিগের বধের জন্য কুতসন্বন্ন হইয়। সমরক্ষেত্রে সাধক অগ্রসর হয়, 
তাহারাও বস্কতঃ আম্মীয়। কেন--তাহা বলিতেছি। 
বস্তুতঃ জব, ইন্দিয়াদি ও তৎপক্ষীয় জন, কন্ম ইত্যাদির দ্বারা চিরদিন 
পালিত একত্রে পুষ্ট হয়। শ্রন্মচর্য্যের অঙ্কে জীব বর্ধিত ও জ্ঞনসম্পন্ন হয়। 
নান! জন্ম ধরিয়া উহাদের ভিতর দিয়া বহুদর্শিতা লাভ করিয়া, তবে ত একদিন 
আত্ম প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হয়। যেমন জীব ৪ জন্মগ্রহণ করিয়া, যত দিন 
ন| বহির্জগতে বাসোপযোনী শক্তি লাভ করে, তত দিন মাতৃগর্ভেই বাস করে এবং 
পরে যত শক্তিমান্‌ হইতে থাকে, ততই ক্রমশ; গ হইতে বহিগমনের অন্য সে 
হয় এবং অবশেষে বহির্গত হয়; তদ্রুপ জীব এই সকল ইত্দ্রিয়াদির ভিতর 
থাকিয়া, তাহ! হইতে আত্মশক্তি সংগ্রহ করিয়া, তারপর তাহাঁদিগের কবল 
হইতে নিফৃতি পাইবার জন্য ব্যস্ত হয়। প্রথমাবস্থায় জীবের উন্নতি ইন্দ্রিয়াদির 
সাহায্যেই হইয়া থাকে । গুধু সাহাধ্য নহে - ইন্দ্রিয়সকল লইয়াই প্রথমাবস্থায় 
আমাদের চৈতম্ত উন্মেষিত হয়; অথবা ইন্দ্রিয়সকলই আমাদের চৈতন্য অভি- 
ব্যক্তির প্রথম বিকাশ । প্রথমাবস্থায় ইন্্রিয়ের সাহায্য লইয়া, তবে জীব তাহার 
গসমিত্বে”র উপলব্ধি করে, ইন্ট্রিয়বিচ্ছিন্ন হইলে তমে আচ্ছন্ন, বিকাশহীন্‌, অজ্ঞান 
অবস্থার মত অবস্থ। প্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ জীব প্রকৃতি-ক্ষেত্রে যখন গ্রথম আত্মোপ- 
লব্ধির জন্ত সচেষ্ট হয়, জীবের চৈতণ্যের প্রথম স্ফুরণ প্রকৃতি-ক্ষেগ্রকে যখন 
আলোকিত করে, প্রক্কৃতিক্ষেত্রে যখন চৈতন্ত ফুটিয়া উঠে, তখন সে চৈতন্য প্রকৃতির 


৬৪ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। 


প্রত্যেক পরমাণুর ভিতর ফুটিয়া উঠিবার চেষ্টা করে; এবং সেই ধারাবাহিক 
চেষ্টার ফল্বরূপ যে যে দিকে সে চেষ্টার শ্রোত প্রবাহিত হইয়াছিল, সেই সেই 
দিকে এক একটা পথ প্রস্তুত করিয়া ফেলে ; সেই পথগুলিকে আমরা ইন্দ্রিয় বলি। 
প্রকৃতি-ক্ষেত্রের শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ, এই পাঁচ প্রকার গুণ, চৈতম্তকে পাচ 
প্রকারে স্ব স্ব ক্ষেত্রের উপর প্রতিফলিত করিবার জন্য যেন ভুলাইতে থাকে এবং 
চৈতনুও তাহাদের উপর গ্রতিফলিত হইবার জন্ত পতিনিয়ত যতধবান্‌ হয়। শ্রীমতী 
দর্শনে শ্রীক্ধের আকুলতার মত চৈতশ্থের এই আকুলতা৷ উভয়মুখী। শ্রীমতীকে 
দেখিবার জন্য শ্রীকঞ্ণের আকুলতা কিন্ব! শ্রীমতীকে দেখা দিবার জন্য শ্রীকৃষ্ণের 
আকুলতা--সে কথা বুঝি ঠিক বল। যাঁয় না। প্রেমের সে গভীর তল অন্বেষণ 
করিবার এখন আমাদের সময় নহে, তবে ফলে এই দেখাদেখির জন্য-এই 
মিলনের মধুর আন্বাদনের জন্তা--এই প্রকৃতিপুরুষের একত্বসাধনের মঙ্গলনূচনার 
জন্থ-_-এই রাধারুষ্জের যুগলমিলনের জন্য -গুপ্তভাঁবে যাতায়াতের ফলম্বরূপ 
রাধাকৃষ্ধের পদচিহ্াঙ্কিত ইন্দ্িয়নামীয় এই পথগুলি তৈয়ারি হইয়া যায়। 
তৃণাচ্ছাদিত প্রীস্তরের উপর পথিকের পদাচন্কে যেমন একটা শীর্ণ পদরেখা 
অস্থিত হয়, তব্রূপ এই প্রণয়িদ্ধয়ের যাতায়াতে ইন্জ্রিয়গী এই পথগুলি তৈয়ারী 
হইয়া যায়। হায়! আমরা যদ্দি ইন্দ্রিয়গ্ুলিকে সাধারণের গমনাগমনের পথ 
নহে-_প্রেমিকযুগলের গুপ্ত মিলনের গুপ্ত পথ বলিয়। চিনিতাম ও পথের ধারে 
তপেক্ষা করিয়া, নিশীথে বসিয়। থাকিয়া! তাহাদের যাতায়াত লক্ষ্য করিতে 
পারিতাম | 

যাহা হউক, এইরূপে ইন্্রিয়সকল ফুটিয়া উঠে, এবং তাহাদের সাহায্যে জীব 
নিজের অস্তিত্ব বলিয়া একট! জিনিষ উপলব্ধি করে। এইরূপে প্রকৃতি-ক্ষেত্রে জীবের 
আমিত্ব সঞ্গাত হয়। যত দিন না জীবের এই “আমিত্*” পূর্ণভীবে স্ফুটিত হয়-_যত 
দিন না যথার্থ “আমিত্”) বস্তুত; “আমি কে” এ তত্ব উদ্ভাসিত হয়, তত দিন 
শুধু ওই ইন্দ্িয়াদির উপরেই “আঁমিত” উপলব্ধি চলিতে থাকে । প্রথমাবস্থায় এই 
যথার্থ “আমিত্ব” অতি ক্ষীণ, কোমল, বারুবৎ তরল আকারে সঞ্তাত হয়; এবং 
উহা! সমগ্র জগংময় বা প্রকৃতি-ক্ষেত্রে ছড়াইয়া থাকে । দিন দিন যত আমাদের 
এই “আমি” পূর্ণত্ব লাভ ক্রিতে থাকে, ততই আমরা বহির্বস্ত ছাড়িয়া আমার 
মিজের ভিতর আমিত্বের অন্নুভব করিতে থাকি । পণ্ুর “আমিত্” মনুষ্যাপেক্ষা 
অনেক কম বলিয়া পণুরা সমগ্র জগৎটাই তাদের নিজস্ব বলিয়া মনে 


উপনিষদ্রছন্ত বা! সীতার যৌগিক ব্যাখা] । ৬৪ 


করে। এটা অন্যের, এট! অপরের জগ্য, এটা আমার নহে, এরূপ জ্ঞান পশুর 
নাই। মম্ুয্যজীবনে জীবের এই “আমি” স্ফুটিতর হইয়া উঠিয়াছে বলিয়া, এই 
আমিত্ব দৃঢ়, কেন্্রমুখী ও ঘনীভূত হইয়াছে বলিয়া, মনুষ্য এটা আমার, এটা 
আমার নহে, এরূপ বিচার করিতে সমর্থ হয়। মানুষ সমগ্র জগংটাকে সাধারণতঃ 
নিজের বলিয়া! দেখে না; যত উন্নত অবস্থায় আরোহণ করে, মন্তুষ্যু বহিঃক্ষেত্রকে 
তত সংকীর্ণ হইতে সংকীর্ণ তর করিয়া আনে ; এমন কি, তখন নিজের দেহকেও 
আর আমার বলিয়া জ্ঞান করে না। জীব নিজেকে চারি ধারে খুজিয়া খুজিয়া 
এবং তাহা হইতে বহুদর্শিতা লাভ করিয়া করিয়া, শেষ যেন ক্রমশঃ নিজের 
ভিতর আমিত্ের সন্ধান পায় ও সেইখানে ক্রমশঃ গুটাইয়া আসিতে থাকে। 
কুস্তকার যেমন প্রতিম! নিশ্নীণের জন্ত মৃত্তিকারাশি সংগ্রহ করে, এবং প্রতিম। 
নিশ্মাণোপযোগী পরিষ্কার মৃত্তিকাটুকু লইয়া, তাহাতে প্রতিমা গড়িতে থাকে 
ও নিশ্রয়োজনীয় অংশ-মকল পরিত্যাগ করে, তদ্রুপ জীবের আমিত্ব যত দিন না 
ঘনীভূত ও প্রতিষিত হয়, তত দিন “আমির” ও “আমার” জ্ঞানটা! চারি ধারে 
ছড়াইয়া থাকে; জগৎসঙ্গ হইতে সংস্কাররাশি সঞ্চয় করিয়া যত তার ইন্ডরিয়- 
সকল ফুটিয়া উঠিতে থাকে এবং ঘত পূর্ণভাবে সে জগতের বস্ত্রনিচয়কে ভোগ 
করিতে ক্রমশঃ সক্ষম হয়, তত তার “আমিত্ব৮ জগৎ ছাড়িয়া ক্ষুদ্র সংসারের 
গণ্ডীর মধ্যে আবদ্ধ হয়। তারপর তার আত্মিক আমিহ আরও স্ফুটতর হইলে, 
তখন আর সংসার বা স্ত্রীপুত্র ইত্যাদিতেও আমিত্ব বা আমার জ্ঞান ছড়াইয়! 
থাকিতে চাহে না; এবং তত সে নিজের ভিতর প্রবেশ করে ও ক্রমশঃ 
ইন্দ্রিয়াদিতে “আমিত্ব” উপলব্ধি করে না--ইন্দ্রিয়াদি ছাড়া আমির সন্ধান করে। 

ভাল করিয়া বলি-একটী পশুর আত্ধপর জ্ঞান নাই এবং একজন মুক্ত 
পুরুষেরও আত্মপর জ্ঞান নাই; তবে বস্ততঃ উহাঁরা উভয়েই কি সমতুল্য ? 
তাহা নহে। পশুর আমিত্ব এখনও মুচারুরূপে গঠিত হয় নাই ; আর মুক্ত 
পুরুষের মায়াদেহ মুন্দররূপে রচিত হইয়া, তারপর আবার পরিত্যক্ত হইয়াছে। 
মুক্ত পুরুষের সংস্কার-নির্দিত আমিত্ব রচিত হইয়া» তাহা! হইতে য্থার্থ আমিত্ব 
উপলবি হইয়া গিয়া, তারপর সে সংস্কার-নির্শিত আমিত্ব পরিত্যক্ত হইয়াছে। 
পণুর এখনও প্রতিমা! নির্মাণ হয় নাই। মুক্ত পুরুষের প্রতিম৷ নিন্মীণ হইয়! 
গিয়া, তাহাতে দেবতার আবির্ভাব হইয়া গিয়াছে।' দেবতাপুজায় সিছ্ধিলাত 
করিয়া মুক্ত পুরুষ সে প্রতিম! বিসঞ্দন দিয়াছে। 

্ 


৬ উপনিষদ্রহণ্ড বা শীতাঁর যৌগিক ব্য।খ্য। । 


যাঁহা হউক, ইন্জিয়াদি এই আমিত্ব বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে পারস্কুট হয় এবং 
আবার ওই ইন্ড্রিয়াদির দ্বারা আমিত্ব আরও বিকশিত হইতে থাকে। পরম্পর 
এইরূপে পরস্পরকে পুষ্ট ও সাহায্য করিতে থাকে। ইন্দ্রিয়সকল অহনিশ বহির্ত্ত 
হইতে সংস্কাররাশি লইয়া জীবের আমিত্ব উপলব্ধিকে জগাইয়া রাখে । অহনিশ 
এইরূপে ইক্দ্রিয়ের দ্বার! উদ্দীপিত না হইলে, আমরা অবীচি অবস্থা কিন্বা 
তমসাচ্ছন্ন অজ্ঞান অবস্থায় পড়িয়া থাকিতাম । জগতের অনন্ত এশ্বর্যা-ভোগও হইত 
না৷ এবং আস্মোপলন্ধিও ঘটিত না । আমাদের মন অহনিশ চঞ্চল বলিয়া, আমরা 
সময়ে সময়ে আপনাকে ধিকার দিই । আমর! বলিয়া থাঁকি, মন বড় চঞ্চল, 
মুহুর্তের জন্ত আমাদিগকে স্থির হইতে দেয় না, ভগবচ্চিন্ত। করিতে গেলে অন্ত 
দিকে মন ছুটিয়া পালায়। কিন্তু বস্তুতঃ আমাদের বুঝা! উচিত, সাধারণ মন্ুষ্থের 
মন এইরূপ চঞ্চল না হইলে--এরূপ দ্রুতভাবে চারি ধারে কার্ধয ন। করিলে, 
আমরা অজ্ঞান অবস্থা প্রাপ্ত হইতাম । যত দ্রিন না আত্মিক আমিত্ব ঘনীভূত ও 
সুলতর হয়, তত দিন মন সেই জন্ত চঞ্চল থাকে । যে মাত্রায় ছানিহ দৃীভূত হয় 
সেই মাত্রার মনের চঞ্চলতা কমিয়া আসে। মনের চঞ্চলতা, ভগবানের মঙ্গল 
আশীর্বাদ, পরাক্ষাময় অভিশাপ নহে। 
পশুজীবনে পাপ নাই বলিয়া একটা প্রবাদ আছে। আমরা সে বিচারে 
এখন প্রবৃত্ত হইব না। তবে এইটুকু বলি, মৃত্যুর পর মন্ুষ্যের মত সকল পশুর 
প্রেতলোক ও ন্বর্গাদি জ্ঞানতঃ ভোগ ঘটে না। তাহারা তাহাদের যথাসম্ভব 
ইপ্ডরিয়যুক্ত স্থুলদেহে যতক্ষণ ইন্ড্রিয়ের উত্তেজনা পায় ততক্ষণ আমিত্বের উপলব্ধি 
করিতে পারে। স্থল শরার ও স্থল ইন্দ্রিয় পরিত্যাগের পরে, তাহাদের মনোময় 
দেখে সুক্ষ ইন্দ্রিয় মুুনিন্মিত হয় নাই বলিয়া, আমিত হারাইয়া তমসাচ্ছন্ন হইয়। 
পড়ে; সে অবস্থায় তাহাদের ভোগ ঘটিয়া উঠে না। মনুত্বের আমিত্ব ঘনীভূত হইয়া 
গিয়াছে বলিয়া, স্থল দেহ ও দুল হীন্দ্রয় পরিত্য।গের পর মনোময় বা সুক্ম-দেহে, সুক্ষ 
ইন্ড্িয়ে জ্ঞানতঃ তপ্ত ও স্বর্গলোক ভোগ হয়। কিন্তু সাধারণ মন্দ স্বর্গের উদ্বতম 
লোকসকল আর ভোগ করিতে পায় না। যোগী পুরুষেরা--ধাহাদের আত্মিক 
আমিত্ব আরও পরিস্ষুট এবং আরও চৈতন্তক্ষুটসম্পন্,তাহার৷ ব্বর্গাপেক্ষা সুঙ্ষ্ম তপঃ, 
সত্য আদি অন্ান্ত লোকসকল সম্ভোগ করিতে সমর্থ হন। মৃত্যুর পর আম্মা 
মাঞ্জেই, বিজ্ঞানময় কৌষ বা সত্যলোক অবধি যায়, তবে স্ব স্ব আমিতের দৃঢ়তার 
তারতম্য অনুমারে স্ঞানভাবে বা অজ্জানভাবে লোকসকল অতিক্রম করিতে হয়। 


উপনিষদ্রছন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্য!। ৬ 


যাহ! হউক, ইহা হইতে আমরা! এইটুকু বুঝিলাম যে, ইন্জ্রিয়-সকল প্রথম 
আমাদের মিব্রস্থানীয় ; যত দিন আমাদের সুক্ষ দেহ সূক্ষ্ম ইন্জরিয়যুক্ত না হয়, যত 
দিন আমাদের সৃদ্ম দেহ স্থুল দেহের মত কার্য্যকরী শক্তি লাভ করিতে না 
পারে, তত দিন ইল্দিয়াদির প্রয়োজন ; তারপর ধান্তার্থী যেমন পলাল পরিত্যাগ 
করে, তদ্রুপভাবে সমস্ত পরিত্যাজ্য ! 

আমরা সাধারণ জীব প্রধানতঃ চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক, এই গাীঁচটা 
ইঞ্জিয় জানি। কিন্তু বস্তুত: আরও ঢুইটা ইন্ট্িয় আছে, ঘাহার লন্ব'ন আমরা 
এখনও মনুষ্যজীবনে পাই নাই। সাধকেরা তাহার সন্ধান পান, এবং সেই 
ইন্দ্িয়ের সাহাধ্যে অলৌকিক কাধ্যসকল সম্পাদন করিতে পারেন । আমরা 
যোগীদিগেরঅ লৌকিক কাঁ্ধ্য দেখিয়া! বিশ্মিত হই, এবং কেমন করিয়া ওরূপ 
কার্ধায সম্পন্ন হয়, তাহ। ভাবিয়া পাই নাঁ। কিন্ত দর্শনাদি ব্যাপারের মত 
যোগীদিগের পক্ষে উহা! একান্ত মহগসাধ্য। 

যাহ! হউক. প্রথম অবস্তায় সাধক ঘখন সমস্ত ত্যাগের জন্য বা আত্ম প্রতিষ্ঠার 
জন্য যত্্রবান্‌ হয়, তখন এই সকল ভদ্থ তাহার ্রাণের ভি ফুটিয়া উঠে। সে 
দেখে, বস্তুত" এখন হারার পরিত্যাগ করিতে গেলে নিজের অস্তিত্ব অবধি 
হারাইয়া যায় এবং শান্্ববিহিত কর্ম, জ্ঞান, ব্রক্ষচর্ধ্য ইত্যাদি ন। থাঁকিলে ইন্দ্রিয়- 
সকল দুর্বল ও কার্্যাঞ্ষম হইয়। পড়ে। তবে কেমন করিয়া উহাদ্িগকে পরি- 
ত্যাগ করিব ? ইহারা যে আন্মীয়, ইহারা যে উপকারী ! ইন্দ্রিয়সকল না গাকিলে 
নিজের অস্তিত্ব কি প্রকারে থাকিবে ? ইন্দ্রিয় ছাড়া নিজের অস্তিত্ব প্রথম 
অবস্থ'য় উপলব্ধি হয় না, তাই সাধক নিজের ইন্দরিয়শৃন্য অবস্থ।র কল্পনা করিতে 
পারে না। সাধনার সূচনার ধাহাঁদিগের ধ্বংসের জন্য সচেষ্ট হইয়াছিল, সাধপা- 
প্রারন্ডে তাহাদিগের ম্বরূপ ও কাধ্যসকল পর্য্যবেক্ষণ করিয়া, তাহাদিগকে আত্মীয় 


বলিয়া সাঁধক বুঝে । 
তাঁন সমীক্ষ্য স কৌন্তেয়ঃ সর্ববান্‌ ধ্ধনবস্থি তাঁন। 
রুপয়। পরয়াবিষটো বিধীদমিদমন্রবাৎ ॥ ২৭ 


তান্‌ স্ব্বান্‌ বন্ধুন্‌ অবস্থিতান্‌ রাড পরয়া ক্পয়! আবিষ্টঃ বিষীদন্‌ (সন্‌) 
স কৌন্ডেয়; ইদং অব্রবীৎ | 


উপনিষদ্রছন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


সেই সকল বন্ধুগণকে অবস্থিত দেখিয়া, অতিশয় কৃপাবিষ্ট ও বিষাদাস্থিত 
হইয়া! অর্জন এই কথ! বলিলেন । 

অর্থাৎ সাধক তাহাদিগকে আত্মীয় বলিয়া চিনিয়া বিষাঁদযুক্ত হইয়া! পড়ে। 
সাধক ভাবে, বস্তুতঃ ইহারাও আমার আত্মীয়, অথচ আমার সাধনাপথে আমার 
অন্তরায় কেন? ইহার! চিরদিন আমার আপনার বলিয়। পরিচিত, অথচ এখন 
আমরা পরস্পর শক্রভাবাপন্ন ; ছুই বিরুদ্ধ ভাব এক সঙ্গে উদ্দিত হইয়া সাধককে 
চঞ্চল করে। এক দিকে ইহাদের দ্বারা যেমন আমি আত্মপ্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী 
হইয়াছি, অন্ত দ্বিকে উহারাই আবার এখন আত্ম প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান । 
সাধক কিংকর্তব্যবিখূঢ় হইয়া গাড়ে, তাহাৰ হৃদয় বিষাদভারাক্রান্ত হয়। উহাদের 
উপর কৃপা আসিয়া উপস্থিত হয়। কৃপায় ও বিষাদে সাধক চঞ্চল হইয়! 
উঠে । 


৬৮ 


অর্জুন উবাচ । 
দৃষ্টে মান, স্বজনান্‌ কৃষ্ণ যুযুৎসুন, সমবস্থিতাঁন,। 
সীদন্তি মম গাত্র।ণি মুখঞ্চ পরিশুয্যত ॥ ২৮ 


অর্জুন এতক্ষণ অচ্যুত, হৃধীকেশ বলিয়া সম্বোধন করিতেছিলেন, এখন কৃষ্ণ 
বলিয়া সম্বোধন করিলেন । 

হেকৃষ্ণ! যুদ্ধেচ্ছু হইয়া সম্মুখে সমবেত এই সমস্ত স্বজনগণকে দেখিয়া 
আমার সর্ববা্গ অন্সন্ধ হইতেছে__মুখ গু হইয়া যাঁইতেছে। কৃষ্ণ বলিয়! 
সম্বোধন করিবার কারণ--বিষাদে হৃদয় অভিভূত হইলে, হৃদয় ঘোর ঘনকৃষ্ণ 
বিষাদ-মেঘে আগ্নত হইলে, জীব সেই সময়ে যেন চারি ধারে অন্ধকার দেখে - 
দিশাহারা হইয়। যায়। তার গতি স্থির করিতে পারে না__পথ খুঁজিয়া পায় 
নাঁ। সেই দারুণ সময়ে যখন অন্ধকারে জ্ঞান, বুদ্ধি, মন, ইন্দ্রিয় সমস্ত আচ্ছন্, 
জ্যোতিহীন হইয়া যায়--জীবনের সেই ছুরস্ত সন্কট-মুহূর্তে তুমি যদি ভগবতশক্তির 
সাহায্য অন্বেষণ কর--তবে তুমি কি করিবে? ভগবানকে কিরূপে তখন 
ভাবিবে? কোনও রূপ তোমার তাতকালীন গাঁ কাঁলিমামগ্ন প্রাণে গ্রতিফলিত 
হইবে না; কালিমায় যে চারি ধার প্লাবিত। কাল ছাড়া তখন আর কিছু ত 
তুমি দেখিতে পাইবে না। তখন যাহ! ভাবিবে-_যাহা প্রাণে ফুটাইয়া তুলিতে 
চেষ্টা করিবে-কালিমাতে সবই যে ভুবিয়! যাইবে। তাই সেই ভয়ঙ্কর মুহুর্তে 


উপনিষদ্রহ্ বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা । ৬১ 


তোমার জীবনের একমাত্র স্থহং--তোমার হৃদয়-রথের একমাত্র সারধি-*তোমার 
জীবন-মরণের একমাত্র চিরসহচর--আর্্ের আশা--বিপন্ধের ভরসা-_-ভগবান্‌কে 
কাল দেখিও --কৃষ্ বলিয়া সম্বোধন করিও । তোমার হৃদয়ের নিবিড় 
কালিমায় তুমি তখন কাল হইয়1 গিয়াছ, তোমার সে সারথিও তখন যে কাল, 
তোমার বিষাদই যে তাঁর বিষাদ--তোমার সন্তাপই যে তার সস্তাপ-তোমার 
ব্যাকুলতা যে তারই ব্যাকুলতা । তুমিই যে তার সব। তাঁর নিজের হাজি- 
কান্না নাই। তোমার হানিতে ই তিনি হাসেন, তোমার কান্নীতেই তিনি কাদেন। 
তোমার কালিমায় তিনি কৃষ্ণ কাচে আবৃত দীপ-শিখার মত প্রতিফলিত হয়েন। 
তাই সেই লময়ে আর্ডের পন্ষে, বিপন্নের পঙ্ষে, বিষাদাপান্নের পক্ষে": 
তিনি কৃষঃ। |] 

পৃরের্ব বলিয়াছি, আগে ভগবান্‌কে অচ্যুত বলিয়া ধারণা করিতে হয়, তারপর 
সারথ্যের কথ! ভাবিতে হয়। তারপর তিনি যখন মানস নয়নে সর্বপ্রথম 
প্রতিভাত হয়েন, তখন কষ্ণ-জোতিবিমণ্ডিত বলিয়া বোধ হয়। আকাশের 
গভীর নীলিমার স্িগ্ধ কান্তির মত সে কৃষ্ণ-জ্যোতিঃ প্রাণেব সকল অবসাদ মুছিয়া 
দ্েয়। তাই অজ্জঞুন এই দারুণ বিষাদের সময়ে প্রথম “কৃষ্ণ বলিয়া সম্বোধন 
করিলেন। 


বেপধুশ্চ শরীরে মে রেমহর্ষশ্চ জাঁয়তে । 
গাণ্ীবং অংসতে হস্তাৎ ত্বক চৈব পরিদহাতে ॥ ২৯ 
মে শরীরে বেপথু (কম্পঃ) চ রোমহর্ষঃ জায়তে, হস্তাৎ গাণ্তীবং অংসতে ত্বক চ 
এব পরিদহতে | 
আমার দেহে কম্প ও রোমহর্য হইতেছে, হস্ত হইতে গাণ্ডীব খসিয়] 
পড়িতেছে, সর্ধাঙ্গ যেন বিদগ্ধ হইতেছে । 
নচ শরোম্যবস্থাতুং ভ্রমতীব চ মে মনঃ। 
নিমিভানি চ পশ্য।মি বিপরীতানি কেশব ॥ ৩০ 
কেশব ( অহং ) অবস্থাতুং চ ন শরোমি, মে মনঃ চ অ্রমতি ইব, বিপরীতানি 
নিমিত্তানি চ পশ্যামি। | 
কেশব |! আমি আর অবস্থান করিতে পারিতেছি না, আমার মন ঘুরিতেছে, 
আমি বিপরীত লক্ষণ-সকল দেখিতেছি। 


৭ উপনিষদরহশ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


বস্ততঃ, সাধকের তখন ঠিক এই অবস্থাই হইয়! থাকে; তাহার উদ্ভম 
অধ্যবসায় তিরোহিত হয় -তাহার প্রাণ কাপিতে থাকে--তাহার শরীরে দাহ 
উপস্থিত হয়। কিকরি! কিকরি! পঞ্চ তত্ব ছাড়িয়া কেমন করিয়া থাকিব) 
এই চিন্তায় প্রাণের ভিতর অহরহঃ জলিতে থাকে । আবার যোগস্থ হইতে গেলে, 
অর্থাৎ সাধক যখন হৃদয়ের ভিতর ভগবানের দাঁরথ্যের পরিচয় পাইয়া, তাহাতে 
যুপ্ত হইবার প্রয়াস পাঁয়, তখন সব্বপ্রথম প্রাণের ভিতর যেন শুন্ত হইয়া যায়, 
শব্দ, স্পর্শ রূপ, রস, গন্ধ ইত্যাদি যেন আর কিছু থাঁকে না; বিজিতনিদ্র 
সাধকের হৃদয় সেই সময়ে কীপিয়া উঠে, আর তুরীয় মুখে অগ্রসর হইতে 
সাধকের সাহস হয় না, সাধক যেন নিজের অস্তিত্ব হারাইয়া ফেলিতেছে, এইরূপ 
অন্্রভব করে। আর একটু অগ্রসর, আর একটু কেন্দ্র্থ হইতে পারিলেই সমাধি 
আসিয়া যায়, কিন্ত প্রথমাধিকারী সাধক আর পারে না। চিরদিন শব্দাদি 
তন্মাত্রর সহিত থাকিরা, এবং তদবস্থায় অভ্যন্ত হইয়া) জীব নিজেকে শদ্দাদি- 
গঠিত বলিয়া ধারণা করিয়া থাকে, সুতরাং সর্বপ্রথম ষেই অমূলক ভাব নষ্ট 
হইবার সময়ে, দেই শুগ্ঘহ্ অথচ অস্তিত্ব ভাবের আম্মাদনের পুর্বে সাধক 
শব্দাদ্ির মায়া এডাইতে পারে না। তাহার প্রাণ কাদিনা উদে। সে তখন 
আবার সব বিপরাঁতভাবে দর্শন করিয়া, আর সমাধিপথে না অগ্রসর হইয়া, 
তাহা হইতে প্রতিনিবৃন্ত হয়। 

সেই অবস্থায় নিপবীত লক্ষণ-সকল শ্রতিভ।ত হইতে থাকে । যেগুলি 
সাধনার অন্তরায়, আত্মপ্রতিষ্ঠার যাহা বিরোধী,_-সেইনুলি তখন প্রয়োজনীয় 
বলিয়া বিবেচিত হইতে থাকে । যেগুলি নিনিন্তন্বরূপ হইয়া সাধককে আগ্স- 
গ্রতিষ্ঠার জন্য সচেষ্ট করিয়াছিল, এখন সেইগুলি বিপরাত ভাবে প্রতীয়মান 
হয়। কিরূপে হয়, তাহ! পরে ব্ধিত হইতেছে । 


নচ শ্রেয়োহনুপশ্যামি হত্বা শ্বজনমাহবে। 
নকাক্ষে বিজ্য়ং কৃষ্ণ নচ রাজ্যং সখানি চ ॥ ৩১ 


আহবে স্বজনং হত্া শ্রেয়; চ (অহং) ন অন্ুপশ্যামি; কৃষ্ণ! (অহং) 
বিজয়ং রাজ্য ম্ুখানি চ ন কাজ্ে। | 

যুদ্ধে আত্মীয় বধ করিয়! মঙ্গল দেখিতে পাইতেছি না। হেকৃষ্ত! জয়) 
রাজ্য, মুখ, এ সকল 'আমি চাহি ন!। 


উপনিষদ্রছন্য বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাথা! । ৭১ 


কিং নো রাঙ্যেন গোবিন্দ কিং ভেগৈজাঁবিতেন ব1। 
যে. মর্ধে কাঞ্ষিতং নো রাজ্যং ভোগাঃ স্্রখ/নি চ ॥ ৩২ 
ত ইমেহবস্থিতা বুদ্ধ প্রাণাংস্ত্যক্তণ ধনাঁনি চ। 
আ।চার্ধ্যাঃ পিতরঃ পুত্রাস্তঘৈৰ চ পিতামহাঃ ॥ ৩5 
মাতুলাঃ শশুরাঃ পৌত্রাঃ শ্ংলাঃ সম্বন্ধিনস্তথ| ৷ 

এতান্‌ ন হস্তমিচ্ছামি '্রতোহপি মধুসুদন ॥ ৩৪ 

অপি ভ্রেলোক্যরাজ্যন্ত হেতোঃ কিন্ন, মহীকৃনে। 
নিহত্য ধার্তরা্রান্‌ ন; কা প্রীতিঃ স্যাজ্জনার্দন ॥ ৩৫ 


গোবিন্দ | আচার্ধ্যাঃ, পিতরঃ, পুত্রা্। তথা পিতামহাঃ এবচ, মাতুলাঃ শ্বশুরাঃ, 
পৌত্রা, শ্যালাঃ, তথা সন্বন্ধিন;ঃ যেষাম্‌ অর্থে ন রাজ্যং ভোগাঁঃ স্খানিচ 
কাজিফিতং, তে ইমে প্রাণান্‌ ধনানি চ ত্যক্তা। যুদ্ধে অবস্থিতা; ; নঃ রাজ্যেন কিং 
তোঁগৈঃ জীবিতেন বা কিন? মধুসুদন ! মহীকৃতে কিংগু, ব্রেলোক্যরাজাস্ 
হেতোঃ অপি দ্বতঃ অপি এতান্‌ ন হন্থমূ ইচ্ছাসি; জনার্দন, ধ্রাষট্ান্‌ নিহত্য 
ন; কা গীতি, স্যাৎ। 

হে গোবিন্দ! আচাধা, পিতৃবা, পু, পিতামহ, নাতুল, শ্বশুর, পৌন্র, শালা ও 
অন্যান্য আত্মীয়গণ__যাহাদের জন্ত রাজ্যভোগ, সুখ ইত্যাদি অভাপ্দিত, তাহারাই 
ধন ও প্রাণের মারা পরিতাাগ করিয়া যুদ্ধার্থে অবস্থিত ; স্থুতরাং আমাদের 
তোগেই কি, রাজ্যেই কি এবং জীবনেই বাকি? হে মধুস্দন! পুথবী ত 
তুচ্ছ, ভ্রেলেকারাজ্যের জন্য হইলেও এবং ইহারা আমায় বধ করিলেও, আমি 
ইহাদিগকে মারিতে পাৰিব না! ধার্তবা্রদিগকে মারিয়া আমাদের কি মুখ 
হইবে? 


ইন্ড্িয়াদি যদি উচ্ছেদিত হইয়া! গেল, তবে ভোগ কি প্রকারে সন্ঘব হইবে? 
ইন্জিয়াদির উদ্দেশ্েই জীব ভোগ কাঁমনা করে। কিন্তু দেইগুলিই যদি ধ্বংস 
হইয়া যায়, যদি সেইগুলিই ছাড়িয়া দরিয়া, তবে যুক্ত হইতে হয়, তবে তসে 
অবস্থায় ভোগ বলিয়া কিছু থাকে না। সে আবার কি শৃন্যবৎ অবস্থা! সাধক 
ভীত হয়। বস্তৃতঃ সাধক তখন জানে ন। যে, সে অবস্থা “সব্বেন্রিয়গুণাভাসং 
সর্ববেক্্িয়বিবজ্িতমূ। অসক্ঞং সর্বভূচ্চৈব নিগুণং গুণভোক্ু চ1৮ সে 


৯২ উপদিষদ্রহস্ত ঝা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


অপুরর্ব অবস্থার আন্বাদ সাধক তখনও ত পায় নাই, সেই জন্ত এইরূপ মায়িক 
আশঙ্কায় উদ্বেলিত 'হয়। সে কিছু নাই, অথচ সব আছে” অবস্থার উপলব্ধি 
যত দিন না হয়, তত দিন সাধক অন্থমান ব! কল্পনার দ্বারা তাহার আম্বাদন পাইতে 
পারে না। হুতরাং ইন্ড্িয়ভোগযুক্ত অভ্যস্ত অবস্থা হইতে শৃন্যবৎ নৃতন অবস্থায় 
যাইতে হইলে তাহ।র প্রাণ কীপে। মেঘমুক্ত সুর্ধ্যের মত সে অবস্থা যে অপূর্ব 
বিকাশমণ্ডিত সর্ববান্ধকীরভেদী, সে ত তখন তাহ!'জানে না। সে তখনও জীব, 
তাহার চক্ষে তখনও ছুই দিক আছে, আলে! ও অন্ধকার আছে, সুখ ও 
ছুখ আছে, পাপ ও পুণ্য আছে, জ্ঞান ও অন্জানতা আছে, হিত ও অহিত 
আছে, মিলন ও বিচ্ছেদ আছে। ন্মুতরাং সে অবস্থাতীত অবস্থার আভা জীব 
তখন পায়না । তাইসে কাতর হয়। সেভাবে, জগতে সাধারণ কথায় 
যাহাকে আমরা সুখ বলি, যাহাকে তৃপ্তি বলি, যুক্ত অবস্থায় বুঝি সে সুখ, সে 
তৃপ্চিটুকুও থাকিবে ন।। সে ত জানে না, যথার্থ পূর্ণমাত্রায় হ্থখ, পূর্ণমান্রায় তৃপ্তি, 
একমাত্র সেই অবস্থাতেই সম্ভবপর; এবং সেই পূর্ণতার জন্যই তাহ। সুখছঃখের 
অতীত অবস্থা । জলাশয় যতক্ষণ অপূর্ণ থাকে, ততক্ষণ চাঁরি ধার হইতে জলঙ্রোত 
তাহাতে প্রবেশ করিতে থাকে ; পুর্ণ হইয়া গেলে আর যেমন সেখানে আত; 
কিছু থাকে না, তদ্প সে যুক্ত অবস্থায় মুখছ্ঃখরূপ আত থাকে না সত্য ; কিন্ত 
তা বলিয়া সেখানে ভোগরূপ শাস্তিবারির অভাব নাই। ভোগের পূর্ণতাই 
শুখহুঃখ-রূপ আত নিরাকরণের কারণঃ ভোগের অভাব তাহার কারণ নহে। 
পূর্ণতাই শৃন্তানু ইুতি-_শৃন্ত বলিয়া কিছু নাই। শৃগ্ঠবাদ পূর্ণবাদেরই নামান্তর; 
শৃগ্তকে ধাহারা পূর্ণ বলিয়া হদয়ঙ্গম করিতে পারেন না--ভীহারা শূন্যের প্রকৃত 
রহন্ত পান না। কিন্তু এ স্থলে উহা! আমাদের আলোচ্য নহে। যাহা হউক, সাধক 
প্রথম অবস্থায় এই পূর্ণতাকে শুন্যতা বলিয়াই কল্পনা করে, এবং সেই জন্তই 
ব্যাকুল হয়। বস্তুতঃ ব্যাকুল হইবারই কথা । লক্ষ লক্ষ জন্মের অনন্ত অধ্যবসায়, 
অনস্ত উদ্ভম, যে সকল ইন্দ্িয়াদির ও জ্ঞানকর্মাদির শক্তির সঞয়ে ব্যয়িত হইয়াছে, 
যেগুলিকে পাইতে লক্ষ লক্ষ জম্ম আমাদিগকে অহন্সিশ অক্লান্তভাবে পরিশ্রম 
করিতে হইয়াছে, লক্ষ লক্ষ জন্ম ধরিয়া যে যন্ত্র নির্দাণ করিয়া তুলিয়াছে, আগ 
সহস! যদি কেহ বলে, উহা দ্বার! কোন কাজ হইবে না, উহা ভাঙ্গিয়া ফেল, তবে 
প্রাণ কি ব্যাকুল হয় না? কিন্তু বস্তুত; যে ওই যন্তর-সাহায্যেই যথার্থ সফলত। 
আদিবে, সে কথ সাধক তখন বুঝিতে পারে না । 


উপনিষদ্রহন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। এ 


পাপমেবাশ্রয়েদন্মান্‌ হত্বৈভাঁনাততায়িনঃ | 
তম্মান্নারহ! বয়ং হস্তং ধার্তরাষ্্রান, স্ববান্ধবানি। 
স্বজনং হি কথং হত্বা স্থখিনঃ স্তা'ম মাধব ॥ ৩৬ 


এত.ন্‌ আততায়িনঃ হত্বা পাপম্‌ এব অস্মান্‌ আশ্রয়েহ, তন্ম।ৎ বয়ং স্ববান্ধবান্‌ 
ধার্তরাষ্ট্রান্‌ হস্তং ন অর্াঃ ; মাধব, হি স্বজনং হত্বা কথং নুখিন; স্তাঁম। 

এই আততায়ীদিগকে হত্যা করিলে, পাপই আমাদিগকে আশ্রয় করিবে ; 
সেই জন্য আমরা স্ববান্ধব ধার্তরাষ্ট্র্দিগকে বিনাশ করিতে পারি না; পরস্ত স্বজন 
বধ করিয়া অমরা কিরূপে সুখী হইব । 

মাধক প্রথমাবস্থায় পপপুথটাদি গণ্ভীর মধে] থাকে, ম্থৃতরাং ইন্জিয়াদির 
উচ্ছেদ সাঁধনকে সে পাপ বলিয়া মনে করে। বস্তুতঃ আত্মেন্নতি যাহাতে 
ক্ষণকালের জন্যও রোঁধ প্রাপ্ত হয়, তাহাকেই পাপ বলে। সাধক কিরপে 
ইঞ্দ্রিয়দির দ্বারা উপকৃত হয়, এই অবস্থায় যখন তাহা বুঝিতে পারে, তখন 
ইন্স্রিয়াদির ত্যাগ পাপ বলিয়া মনে করে। তন্তকীট যখন প্রথম অবস্থায় নিজ 
লালার দ্বারা গুটিক নিশ্মাণ করিতে থাঁকে, এবং ধীরে ধীরে তাহার ভিতর 
আপনাকে আবদ্ধ করে, সেই প্রথম অবস্থায় এইরূপে নিজেকে আবদ্ধ না করাই 
তাহার পক্ষে পাপ ; কেন না, ক্ষুদ্র কীট যদিও ভাবে নিজ ল'লায় আবদ্ধ না 
হইত, যদি এইরূপে নিবিড় অন্ধকারময় সংকীর্ণ গহবরমধ্যে অবরুদ্ধ না হইত, 
তাহা হইলে, তাহা হইতে নিফৃতি পাইবার জন্য তাহার প্রাণে ত প্রবল আশ্রহ 
উন্মেষিত হইত না; তাহার প্রাণ ত বন্ধনের দারুণ যন্ত্রণা অন্থুভব করিতে পাইত 
না ও তাহা হইতে মুক্তি পাইবার জন্ সচেষ্ট হইত না; হুর্গমে যে পরিক্রাণ 
করে, সঙ্কটে-যে উদ্ধার করে, হতাশকে যে আশ্বাস দেয়, তাহার কপার পরিচয় 
ত পাইত না; দুর্গ বলিয়! প্রাণ ত কাদিতে শিখিত না । সেই নিজ দেহের 
আয়তনের মত ক্ষুদ্র, অন্ধকার, জীবশৃম্ত গহ্বটুকুর মধ্যে আবদ্ধ হইয়া, তস্তকীট 
মুক্তির জন্ত কাদে; নিজের সমস্ত চেষ্টা হইতে বিচ্যুত হইয়া, আর তার অঙ্গ 
সঞ্চালনেরও উপায় নাই দেখিয়া, সে আত্মসমর্পণ করে। অন্ধকৃপাবন্ধ ক্ষুদ্র 
কীটকে উদ্ধার করিতে ত্রিভুবনে তবে কি কেহ নাই? অবোধ ক্ষুদ্র জীবের 
কাতর ক্রন্দন শুনিয়া! তাহাকে রক্ষা করে, এমন কি কেহ মাই? এই গহ্বরে 
আমার প্রাণের দারুণ যন্ত্রণা অনুভব করিতে, আমার যন্ত্রণায় দয়ার হইতে, আমার 

০৭ ঃ 


৭9 উপনিষদ্রহম্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথা! । 


অশ্রজলে দ্রবীভূত হইতে, অগতির গতি, অনাথের নাথ, পীড়িতের পরিত্রাতা কেহ 


কি নাই? তন্তকীটের সে ক্রন্দন ত্রিভুবনের অন্ত কেহ শুনিতে পায় না 
তাহার সে আত্মসমর্পণ আর কেহ লক্ষ্য করিতে পারে না--তাহার সে সক্কটাপন্ন 
অবস্থা আর কেহ দেখিতে পায় না; শুধু একজন--যার নয়ন সর্বত্র চাহিয়! 
ভাছে, সেই দেখে ; শুধু একজন--যার শ্রবণ সর্বত্র প্রন্থত, সেই শুনে ; সেই সে 
যন্ত্রণা অন্থুভব করে ; শুধু একজন; যে সেই অন্ধকৃপে, সেই তত্তকীটের সহিত 
আবদ্ধবং হইয়া আছে," সেই প্রতাক্ষ করে; সে গুপ্ত সখাকে ফাকি দিয়া জীব 
ত কোথাও যাইতে পারে না-_সে গুপ্ত মুখাপেক্ষীকে ফাঁকি দিয়া, জীব ত কোন 
কাজ করিতে পারে না; জীব আপনাকে বদ্ধ করিবার প্রারস্ত হইতে, সে যে তার 
ভিতর প্রবিষ্ট হইয়৷ রহিয়াছে* সে যে ক্রোড় বিস্তার করিয়া অপেক্ষা করিতেছে ; 
-সেই অন্ধকূপের ভিতর, অন্ধকৃূপ অপেক্ষা অন্ধকার তার প্রাণের ভিতর, 
নেই গুপ্ত লখা) সেই গুপ্ত মুখাপেক্ষী, সেই ম্বেহময়ী মা আমার অমনি ছুলিয়া 
উঠেন, আকুল হইয়া উঠেন, তন্তকীটের আত্মসমর্পণ অনুভব করিবমাত্র, অমনি 
দর্গৃ্তিতে সে ধর্গমে আাবিভূতা হয়েন; কীটের ক্ষুদ্র অঙ্গে অপূর্ব সৌনার্য্য- 
মণ্ডিত ছুইখানি পক্ষ কোথা হইতে আনিয়া সংলগ্র করিয়া দেন। সহসা কীট 
দেখে, সে স্বাধীনভাবে বিচরণ করিতে সক্ষম ? স্বাধীনতার অপূর্র্ব আভাস তাহার 
প্রাথকে মাতাইয়া তোলে । তাহার শরীর নববলে বলীয়ান্‌ হইয়া উঠে, মুহূর্তে 
সে গহ্বর বিদীর্ণ করিয়া বহির্গত হইয়া স্বাধীনভাবে ভ্রমণ করিতে থাকে । 

ওই তত্তকীটবৎ আমরাও আবদ্ধ হইতেছি ; আমরাও অবিদ্ধা-কৃপ রচনা 
করিয়া, তাহার দ্বারা আমাদের চেষ্টাশক্তিকে সঙ্কীর্ণ করিয়া! আনিতেছি, আমরাও 
ক্রমশঃ আমিত্বের গণ্ডী গুটাইয়া গুটাইয়া একটা নুদৃঢ় অন্ধকৃূপ নির্মাণ 
করিতেছি। যখন কৃপ নির্মাণ শেষ হইবে,-_যখন নিজের আর অঙ্গ সঞ্চালনের 
উপায় নাই বলিয়া! নিজেকে প্রত্যক্ষ করিব_নিজের চেষ্টাশক্তি বস্তুত: কিছুই নহে 
বুঝিয়া, মায়ের উপর নির্ভর করিতে শিখিব--আত্মসমর্পণ ছাড়া আর গতি নাই 
বুঝিয়া, যখন ভগবানের উপর আত্মসমর্পন করিব-£যখন প্রাণ-বন্ধনের স্মৃতীত্র 
যন্ত্রণায় কাতর হইয়া মুক্তির জন্য লালায়িত হইব, তখন দেখিব, বস্তুতঃ আমি 
স্বাধীন, স্বাধীনতারূপ পক্ষ আমার অঙ্গে সংলগ্ন। জ্ঞানরূপ দস্তের দ্বারা অবিষ্ঠা- 
কূপ ভেদ করিয়া, আমি মহাশূন্যে ভ্রমণশীল হইব । কিন্তু আগে অবিষ্তা-কৃপ 
চাই, আগে অবিষ্ঠা-কৃপ সংরক্ষণ না করাই পাপ। | 


উপনিষ্দ্রহম্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৫ 


পুর্ব্বে বলিয়াছি, আমাদিগের আত্মো্লতির পথে যাহা অবরোধ করে, তাহাই 
পাঁপ; বস্তুতঃ পাপ-পুণ্য বলিয়া কিছুই নাই। একই জিনিষ অবস্থাভেদে পাপ 
বা পুণ্য বলিয়া গণ্য হয়। এক অবস্থায় যাহা আত্মোন্সতির জন্য গ্রহণীয়, 
অবস্থাস্তরে তাহ। পরিত্যাজ্য --এক অবস্থায় যে কার্য আমাদিগকে মাতৃসন্গিধানে 
অগ্রসর করে, অবস্থাস্তরে তাহাই আবার আমাদিগকে ভাসাইয়া লইয়া যায়। 
কার্যে কোন গুণ নাই, গুণ আমাদের ন্ব স্ব অভ্যন্তরে । যতক্ষণ নিজের কর্তৃত্ব 
ছাড়া অন্ত কোন কর্তৃত্ব দেখিতে না পাইব, যতক্ষণ ন! নিজের চেষ্টা থামিয়া গিয়া, 
ভগবংশক্তির উপর নির্ভর করিতে শিখিব, ততক্ষণ ইন্ড্রিয়াদির মায়া আমাদিগের 
উপকারী । নশ্বর-নির্রতা আসিয়া গেলে, স্বাধীনতার বিমল নখের জন্য প্রাণ 
যথার্থ কীদিয়া উঠিলে, অগতির গতি বলিয়া ন্বথার্থ তাহাকে হদয়ঙ্গষম করিতে 
পারিলে, তখন আর ও মায়ার আবশ্বকতা৷ নাই। তুমি যদি আপনাকে যথার্থ 
মায়াবদ্ধ বলিয়া অনুভব করিয়। থাক, যদি তুমি বুঝিয়া থাক, তোমার কর্তৃস্ব কিছু 
নাই, তবে বুঝিবে, তোমার মুক্তির দিন সন্নিকট। কিন্তু এই নিজের কর্তৃবহীনতা 
ব! মাতৃক্রোড়ে আত্মসমর্পণ পূর্ণভাবে হওয়। চাই, সম্পূর্ণ হতাশ ভাঁবে মাতৃ-চরণে 
লুটাইয়া পড়া চাই। 

যাহা হউক, আততায়ী হত্যায় ব্যবহারিক জ্ঞানে পাঁপম্পর্শের সম্ভাবনা নাই, 
অথচ অজ্ঞুনের পাপের ভয় হইবার কারণ কি? কারণ, তাহারা স্ববান্ধব। 
শুধু আততায়ী হইলে পাপের তত আশঙ্কা অঙ্জনের প্রাণে উঠিত না; আততায়ী 
অথচ আত্মীয়, শক্র অথচ মিত্র, এরূপ উভয় সম্বদ্ধ-সম্পন্ন বলিয়াই ব/বহারিক 
জ্ঞানসম্পন্ন অজ্জুনের পাপের আশঙ্কা এবং সেই জন্তই বিশিষ্টভাবে “এতান্‌ 
আততায়িনঃ* বল! হইয়াছে । 

আত্মোক্নতির বিরোধী কার্যকেই পাপ বলে, এ কথা পুর্বে বলিয়াছি। কোন 
কার্ধ্য সুচনা করিলে, তাহা পাঁপজনক, কি পুণ।জনক; ইহা কার্ষ/বিচারে নির্ধারণ 
করা ম্লুকঠিন। সুতরাং সাধারণ জীবকে পাপ-পুণ্য বিচারের জগ্ত শাস্ত্রের সাহাধ্য 
গ্রহণ করিতে হয়। শাস্ত্রে যে কার্ধ্য পাপযুক্ত বলিয়৷ নির্দিষ্ট হইয়াছে, তাহাই 
পরিত্যাজ্য এবং যাহা পুণ্যপ্রস্থ বলিয়! কথিত, তাহাই গ্রহণীয়। কিন্তু যোগ- 
চক্ষুম্মান্দিগের পক্ষে আর শাস্ত্রের সাহায্য তত প্রয়ৌজন হয় না। কার্ধয পাপ- 
যুক্ত, কি পুণ্যযুক্ত হইল, সুক্মদেহ ব৷ প্রাণময় কোষের কাধ্যকালীন অবস্থ৷ 
দেখিলেই তাহ! স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়। যে কার্ষ) সম্পাদন করিলে, আমাদিগের 


৭৬ উপনিষধ্রহ্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। 


প্রাণময় কোষ সঙ্কুচিত ও মলিন বর্ণসম্পন্ন হয়, সেইগুলি পাপ বলিয়া পরিত্যাজ্য 
এবং যেগুলি করিলে প্রাণময় কোষ স্ক.রিত, পুষ্ট ও সমধিক বিস্তৃত হয়, তাহাই 
গ্রহ্ণীয় বা কর্তব্য । যোগীরা প্রাণময় কোষ দেখিয়া অনায়াসে বলিয়া দিতে পারেন, 
কার্য) কিরূপ ফল প্রসব করিল। বপ্তুতঃ সাধঃরণের পক্ষে পাপ-পুণ্য বা কর্তব্য 
অকর্তব্য বিচার অতীব দুরূহ । সেই জন্কই সাধারণকে পদে পদে শাস্ত্রের সাহায্য 
গ্রহণ করিতে হয়। এবং যত দ্রিন না যোগচস্ু উন্মেষিত হয়, তত দিন শান্ত্ান- 
মোদিত পন্থা অবলম্বন করিয়া থাকিতে হয়। আজকাল অনেকেই ব্রহ্গজ্ঞানের 
ঈষৎ বাঁচনিক আভাস পাইয়াই, পাঁপ-পুণ্য কিছু নাই বলিয়া বসিয়া থাকেন 
এবং উচ্ছ্খলভাবে জীবনযাত্রা নিব্বাহ করিতে কুষ্টিত হন না ; বরং শীস্তান্থরত 
নিরীহ সাধারণ সমাজকে অজ্ক্র বলিয়া উপেক্ষা করেন। তাহাদিগের জন্তই আমি 
এইগুলি বলিলাম ।॥ পাপ-পুণ্যের বিচার বন্ততঃ কত সুন্ম-_-জীবের আত্মিক 
স্তরের কত অভ্যন্তরে প্রতিফলিত হয়_-কত সুক্মভাবে পাপ-পুণ্যের বিচার 
করিতে হয়, নিম্নলিখিত উপাখ্যানটীতে তাহার কতকট। আভাস পাওয়। যায়। 
এক সময়ে কোন এক পুণ্যবান্‌ গৃহস্থেব পরম সাধবী স্ত্রী ছিলেন। তীহাব মত 
সতী ও স্বামিপরায়ণা স্ত্রী ছুল ৩ বলিয়৷ তাহাব সতীধ-গরিম! চারি ধারে ছড়াইয়া 
পৃড়িয়াছিল। স্বমিসেবা ও শঈশ্ববারাধনা ব্যতীত সে সতার আর অস্ত কোন 
ক্ম ছিল শা। ব্বামিসেবা করিয়া যে অবসক্টুকু পাইতেন, ঈশ্ববারাধনায় তাহা 
যাপন করিতেন । নিত্য নারায়ণ পুজা করিয়া কৃতাঞ্জলিপুটে তাহার নিকট 
প্রার্থনা করিতেন,“হে গোলোকবিহারি | দেহত্যাগের পর আমি যেন তোমায় 
্বামিরূপে পাই। হে প্রভো | হে প্রাণেশ | তুমি আম।র মনস্কামনা পূর্ণ করিও ।” 
এইরূপে বহুদিন পুণ্যচরিত্রা রমণী জীবন যাপন ৭রিবাব পর একদিন কালনিয়োগে 
তাহার মৃত্যু হইল। স্থামী, পত্বীবিয়োগে কাতর হইয়া, সংসারাশ্রম পরিত্যাগ 
করিয়া, কোন তীর্ঘক্ষেত্রে গিয়া তপস্তায় নিযুক্ত হইলেন। মৃত্যুর অব্যবহিত 
পরে সে সাধবীর বিষ্ধ্লোকে গতি হইল; বিষুলোকের অনস্ত মহিমময় অপূর্ব 
জ্যোতির্মণ্ডিত প্রাসাদাবলীর মধে, স্থান প্রাপ্ত হইয়া, তার মরজীবনের স্বামিসেবা 
সার্থক হইয়াছে বলিয়া অমুভব করিলেন, এবং নারায়ণ স্বামিরূপে তাহার প্রাসাদে 
আসিয়! ভাহাকে চরিতার্থ করিবেন বলিয়া আশায় উৎফুল্ল! হইয়া রহিলেন। 
বছ দিন ক্াহাকে অপেক্ষা করিতে হইল না । নারায়ণ সেই স্তর বৈকুস্থ গৃহে 
আসিয়া! একদিন দেখ। দিলেন এবং আমন গ্রহণ করিয়া কুশল জিজ্ঞাস! 


উপনিষদ্রহশ্ত বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৯৭ 


করিলেন। আনন বিভোরা হইয়া সতী কৃতাঞ্চলিপুটে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ 
করিলেন, এবং তাহার কৃপা হইতে আর যেন বঞ্চিত না হন, এরাপ প্রার্থনা 
করিলেন। তার পর ন্ুবর্ণ-ভূকঙ্গার ভরিয়া সিদ্ধ শুগ্ধি বারি আনিয়! নারায়ণের 
পদধৌত করিয়া দিলেন এবং নানাবিধ আহার্ধ্য ও পানীয় আনিয়। নারায়ণকে 
গ্রহণের জন্য প্রার্থনা করিলেন। গোপীবল্পভ নানারূপ মিষ্ট সম্ভাষণে 
তাহাকে পরিতুষ্টা করিয়া, গন্ভীর স্বরে বলিলেন, _*ব্রাহ্মণি | তুমি স্ত্রীরপে 
আমার সহবাস প্রার্থনা করিয়াছিলে, আমি তোমার সেই আশা পুরণ 
করিতে আপিয়াছি; কিন্তু আমি তোমার জলগ্রহণ করিতে পারিব না. 
তুমি অসতী ।” 

রমপীর মাথায় যেন বজ্াঘাত হইল। নারায়ণের চরণে বিলুষ্টিতা হইয়া, 
সাশ্রলোচনে দীন! পাগলিনীর মত বলিলেন, “কেন নাথ ! এরূপ কঠোর বাকা 
কেন প্রয়োগ করিতেছেন? চিরদিন কায়মনোবাক্যে স্বামিসেবা করিয়া 
আসিয়াছি, মুহূর্তের জন্ অন্ত কোন চিন্তা হৃদয়ে স্থান দিই নাই, অদতী কেমন 
করিয়া হইলাম, জগন্নাথ |” ভগবান্‌ জলদ-গম্ভীর স্বরে রমণীকে সম্বোধন করিয়া 
বলিলেন, “কামিনি | তুমি স্বামিসেবা করিয়াছ সতী, কিন্তু অনন্চিত্তে কর নাই। 
তুমি চিরদিন স্বামিসত্বেও আমাকে ম্বামিরপে পাইবার জন্য প্রার্থনা করিয়া 
তোমার স্বামীকে অবহেল। করা হইয়াছে--তোমার পরপুরুষ ভজন! করা 
হইয়াছে। তুমি যদ তোমার নেই ব্রাঞ্মণ স্বামীকে নারায়ণ ভাবিয়। বা আমার 
মুত্রমান্‌ অবতার ভাবিয়া, ভাহারই কাছে তোমার প্রাণের ব।সন| জানাইতে, 
তাহা হইলে আজ তোমাকে সহধর্মিনী বলিয়া আমি তোমার জল গ্রহণ করিতে 
পারিতাম। তুমি তাহা না করায়, স্বামী ও নারায়ণ, ছুই বিভিন্ন পুরুষ বিবেচন। 
করায়, তোমার সতীত্ব-ধন্ম কালিমাঙ্কিত হইয়াছে । আমার আরাধনার ফল- 
স্বরূপ তুমি বৈকুণে স্থান পাইয়াছ, এবং তুমি ইচ্ছ। করিলে বৈকুগ্ঠের বেশ্টান্বরূপ 
এখানে বসবাস করিতে পার। কিন্তু যদি সতীত্বের অনুপম ফল ভোগ করিবার 
তোমার বাদনা হয়, তাহা হইলে পুনরায় মর্তে গিয়া স্বামিসেবা করিতে হইবে, 
এবং অনন্যচিত্তে স্বামিভক্তি-রূপ মহাব্রত পালন করিতে হইবে। তোমার 
তক্তিতে আমি গ্রীত হইয়াছি সত/, কিন্তু তোমার সেই ত্রাহ্মণ স্বামীর ধর্শে বিশ্ব 
ঘটিয়াছে। এদেখ| তোমার সে স্বামী তপন্তায় নিধুক্ত; কিন্তু তাহার সৃন্ম 
দেহের বামাদ্ধ কিরূপ জ্যে(তিঃহীন-্কালিমামগ্ন |” 


৭৮ উপনিষদ্রহুশ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


নাঁরায়ণের কৃপায় রমণী সেই বৈকুণঠ হইতে মর্তলোকস্থ স্বীয় স্বামীকে দেখিতে 
পাইলেন। স্বামীর নৃক্্রদেহ জ্যোতিঃহীন দেখিয়া, তাহার চক্ষে জলধারা! বহিল; 
রমণী নারায়ণের পদপ্রান্তে পড়িয়! ক্ষমা ভিক্ষা করিলেন এবং পরজন্মে যেন তিনি 
সতীত্বরপ মহাধন্ন শ্চারভাবে সম্পন্ম করিতে পারেন, এইরূপ প্রার্থনা 
করিলেন । ৰ 

ধর্মের গতি বস্ততঃ এতই অন্তস্তলবাহিনী ;-_-এতই পুঙ্থানুপুজ্খরূপে বিশ্লেষণ 
করিয়া, তবে কর্ম নির্ধারণ করিতে হয়। অর্জনও সেই জন্ত খুব সুক্্মরতাবে পাপের 
বিশ্লেষণ করিতেছেন। সাধকমাত্রকে এইরূপ কর্ম বিশ্লেষণের জন্য সচেষ্ট হইতে 
হয়। কর্ম, অকর্ ও বিকণ্ বুঝাইবার সময়ে এ কথা বিশেষ করিয়া বলিব । 


যগ্যপ্যেতে ন পশ্যস্তি লেভোপহতচেতসঃ । 
কুলক্ষযন্ততং দোষং মিত্রদ্রে হে চ পাতকমূ ॥ ৩৭ 
কথং ন জ্দরেয়মন্মাভিঃ পাপাদন্মানিবর্তিভূম্‌। 
কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্য।গুর্জনা্দন ॥ ৩৮ 
লোৌভোপহতচেতস; এতে কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রত্রোহে পাতকং চ যগ্ভপি 
ন পশ্যন্তি, হে জনার্দন! কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যত্তি: অস্মাভিঃ অন্মাৎ পাপাং 
নিবন্তিতুং কথং ন জ্ঞেযম্‌। 
লোভে হতবুদ্ধি হইয়া ইহারা কুলক্ষয়কৃত দোষ এবং মিত্রর্রোহের পাপ 
যদিও লক্ষ্য করিতেছে না, হে জনার্দন | কুলক্ষয়কৃত দোষ দেখিয়াও আমাদের 
এই পাপ হইতে নিবৃত্ত হইবার জন্ত জ্ঞন কেন না হইবে ? 
ইন্দ্িয়াদির উচ্ছেদে কুলক্ষয়ের আশঙ্ক সাধকের প্রাণে জাগিয়া উঠাই 
যুক্তিসঙ্গত। ব্যবহারিক অর্থে জ্ঞাতিবধে যেমন মিত্রবধ ও কুলক্ষয়ের সম্ভাবনা 
আছে, তদ্রুপ যৌগিক অর্থে ইন্িয়াদিবূপ আত্মীয়বধে কুলক্ষয় অবশ্যস্তাবী। 
কুল অর্থে--চতুর্ব্িংশতি তব বা প্রকৃতি । আত্মা প্রকৃতি অবলম্বন 
করিয়া অবস্থান করেন বলিয়া, প্রকৃতিকে কুল বলে। ইন্দ্রিয়াদির উচ্ছোদ 
ও কুলক্ষয় একই কথা । 
পূর্বে বলিয়াছিঃ প্রথম অবস্থায় আমাদের আত্মিক আমিত্বের পূর্ণ 
পরিস্ষুটনের জন্ত প্রকৃতির ঝ। ইন্দ্িয়াদির প্ররোজন । সুতরাং সে অবস্থায় 
ইল্জ্রিয়াদির উচ্ছেদ পাপযুক্ত বলিয়া সাধকের ধারণা হয়। | 


উপনিষদ্রহত্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। । খঈ 


কুলক্ষয়ে প্রণশ্যন্তি কুলধন্্নাঃ সনাতনাঃ | 
ধর্মে নফটে কুলং কৃৎক্রমধর্দ((ইভিভবত্যুত ॥ ৩৯ 


কুলক্ষয়ে সনাতনাঃ কুলধর্শাঃ প্রণশ্যন্তি ; ধর্মে নস্টে অধর্মঃ কৃতস্সম্‌ উত 
কুলম্‌ অভিভবতি । 

কুলক্ষয় হইলে সনাতন কুলধর্্ম নষ্ট হয়, এবং ধর্ম নষ্ট হইলে অধর্ম সমুদয় 
কুলকে অভিন্থত করে। 

কুল-ধর্মম অর্থে-_-জীবের স্বাভাবিক ধর্ম । যে শক্তি বিরাট এ্রহ্মাগ্তকে ধারণ 
করিয়৷ রাখিয়াছে, তাহাই ধর্ম নামে অভিহিত, এ কথা পুর্বে বলিয়াছি এবং 
এ শক্তি জীবের দেহরপ ক্ষুদ্র ব্রদ্মাগ্কে যে ভবে প্লারণ করিয়া রাখে, তাহাকে 
কুল-ধণ্ম বলিয়া বিশিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। উহা! আকর্ষণীশক্তি .বা প্রণব, 
এ কথাও পুবেরে বলিয়াছি। যেমন সৃূর্ধ্য স্বীয় শক্তি-প্রভাবে পৃথিবীকে ধাঁরথ 
করিয়া আছে এবং পৃথিবী তছুপরিস্থ বস্ত্রনিচয়কে আকৃষ্ঠ করিয়া রাখে, তক্রপ 
বিরাট্‌ প্রণব-শক্তি জীবাত্বাকে এবং জীবাত্মা দেহকে ধারণ করিয়া থাকেন। 
কুলক্ষয় হইলে অর্থাৎ ইন্িয়'দি উচ্ছেদিত হইলে, এঁ কুল-ধর্্ন হইতে আমরা 
বিচ্যুত হই। ইন্ড্রিয়াদিই আত্মাকে বহিঃপ্রকৃতির সহিত সংযুক্ত করিয়া রাখে। 
ইন্ড্িয়াদির উচ্ছেদে সে সংযোগ বিনষ্ট হয়) ম্ুতরাং শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ 
আদি আকারে মে বহিঃপ্রকৃতি আমারদিগের কুলে বা জীবভাবাপন্ন অবস্থায় 
আর প্রতিফলিত হইতে পারে না_-সে কুল-ধন্মন উচ্ছেদিত হয় । আমরা 
কি প্রকারে জীব-ভাবাপন্ন বা প্রকৃতিকোষে অবস্থান করিতেছি, একটু 
খুলিয়া বলি। 

পুর্বেব বলিয়াছি, এক বিরাট আকর্ষণীশক্তির দ্বারা এই বিশাল ব্রহ্মাণ্ড ধৃত 
হইয়! রহিয়াছে । জীব-সংস্কার ইন্দ্রিয়াদি প্রশ্থত করিয়া, শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, 
গন্ধপে সেই বহিঃপ্রকৃতি বা ত্রহ্ষাগ্তকে উপভোগ করে, অর্থাৎ বহিঃপ্রকৃতি 
ইন্জ্িয়াদির দ্বারা দ্গীবসংস্কারে প্রতিফলিত হইয়া, শব্ধ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ 
আকার ফুটাইয়া তোলে। এ শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস গন্ধও এ প্রণবের বা 
আকর্ষণীশক্তির রূপান্তর । উহাই কুল-ধর্দরূপে জীবকে অহনিশ ধারণ করিয়া 
রাখে। গ্রগুলির সত্তীতেই অ'মরা আমাদের আমিত্ব উপলব্ধি করি। জীব" 
দেহরূপ মাতৃ-মন্দির, এগুলির দ্বারাই চিত এবং এগুলিই মাতৃ-পুজার 


ও :.. উপনিষদ্রহপ্ত ব! গীভার যৌগিক ব্যাখ্যা | 


উপাদান । উহ! হইতে বিচ্যুত হইলে সাধারণ জীব, নিজের অস্তিত্ব উপলদ্ধি 
করিতে পারে না । সেই জন্য প্রণবের এরূপ রূপাস্তরগুলি জীবের পক্ষে 
কুল-ধর্ন্ম বলিয়া উল্লিখিত হইয়াছে । যেমন কাচের কলম রৌস্রের দিকে ধরিয়া 


দেখিলে, সে রৌদ্র বা স্থর্যালোকে সপ্তবর্ণবিশিষ্ট দেখায়, তেমনই জীবের 
সংস্কারে এ বিরাট আকর্ষণীশক্তি প্রতিফলিত হইয়া শব, স্পর্শ, রূপ, রস, গদ্ধাদি- 
রূপে রঞ্জিত হয়। আমাদিগের সংস্কার যেন এ কাচের কলম, বহিঃপ্রক্কতি যেন 
নুর্য্যরশ্মি, এবং এ হৃর্যালোকের বর্ণরাশি যেন শব, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ 
ইত্যাদি । যদি আমরা ইন্ছিয়াদি উচ্ছেদিত করি, তাহা হইলে শব্দ, স্পর্শ, রূপ, 
রস, গন্ধাদিরূপে প্রবল শক্তিআোত আসিয়া! আর আমাদিগকে আকর্ষণ করিতে 
পারে না॥ এবং বিরাট, স্থষ্টির সহিত আমাদিগকে সংযুক্ত করিয়া ব। ধরিয়া 
রাখিতে পাঁরে না,_সুতরাং ধন্ম নষ্ট হয়। কেননা) এইরূপ ধারণ করিয়! 
রাখে বলিয়াই আকর্ষণী শক্তির নাম ধর্ম । 

আরও খুলিয়া বলি। প্রণব বা আকর্ষণী শক্তি সমগ্র ভূবন ওতপ্রোতভাবে 
পরিপ্লাবিত করিয়া, আকাশগঙ্গারূপে প্রবাহিতা। আকর্ষধনী শক্তির আকুল 
প্রবাহ, সংস্কাররূপ উপকূলে সঙ্গাত করিতে করিতে, কালক্ধূপ মহেশবরের 
জটাজাল ভেদ করিয়া, অনন্তকাল ধরিয়া চলিতেছে । সংস্কার-উপকূলে সে 
আকুল প্রবাহ প্রতিঘাত প্রাপ্ত হইয়া শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ আদি তরঙগভঙে 
উল্লাসিত। জীবমগ্ডলী শব', স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ আকারে সে প্রবাহ ভাঙ্গিয়! 
দিয়! মাতৃপুজা সমাপন করিতেছে । যেন সমুদ্রততীরে সাধকমণ্ডলী উপবিষ্ট 
হইয়া, করাঞ্জলি ভরিয়া সাগরবারি তুলিয়!, ভগবছুদ্দেশে আবার সাগরে 
ঢালিয়া দিতেছে। এ আকাশ-গঙ্গা তিন লোক ব্যাপিয়া প্রবাহিতা বলিয়া, 
ইহাকে ত্রিধারা বা ত্রিপথগ! বলে ! স্থুরধুনী, ভাগীরঘী ও ভোগবতী, এই 
ত্রিলাকবাহিনীর তিনটা কল্পিত নাম। সত্ব, রজঃ ও তম: ব| জ্ঞান, ভক্তি ও 
কন্ম, এই তিনরূপ আোত ইহাতে প্রবাহিত; তাই ইহার অন্য নাম ত্রিআ্রোতা। 
এই আকাশ-গঙ্গায় আকণ্ঠ নিমজ্জিত হইয়া, উর্ধমুখে চাহিয়া, অনস্ত জীবমণ্ডলী 
করাঞ্জলি ভরিয়া, তিন প্রকারে এ আকুল প্রবাহ পরিদর্শন করিভেছে। যাহার! 
তমোগুণরূপ শোতে নিমজ্জিত, পাতালস্থ সেই জীবমগ্ুলীর করাপ্রলিতে তাহারা 
শা, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ আদি ভোগরূপে তুলিয়। লইতেছে। তাই পাতালস্থ 
সে প্রবাহের নাম ভোগবতী। রজোগুণরূপ আতে নিমগ্ন জীবমগ্লী লে 


1 উপনিবদ্রহুস্থ বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । : ৮১ 


প্রবাহ হইতে করাঞ্জলি ভরিয়া, এ শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধরূপ তরঙ্গকে অনৃষ্ট 
বা ভাগ/ফল বলিয়। গ্রহণ করিতেছে; তাই মরলোকে ইহার নাম ভাগীরখী। 
সত্বআোতম্থ জীবমগ্ডলী এ জ্রোতকে অমৃত প্রবাহরূপে জ্ঞাত হয় বলিয়া, সে 
ুরলোকে ইহার নাম ম্ৃুরধূনী বা অমৃত প্রদায়িনী। জীব! একই গঙ্গার একই 
প্রবাহ ত্রিলোকে এই তিনরূপে পরিগৃহীত হইতেছে । শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, 
গন্ধবূপ তরঙ্গভঙ্গগুলিকে কেহ উপভোগ বলিয়া গ্রহণ করিতেছে এবং নিজে 
ভোল্তা সাজিতেছে ; কেহ কর্মফল বা অনৃষ্টলিপি বলিয়া, তাহাতে ভোগন্ুখ না 
দেখিয়া, বিরাট শক্তির বিরাই তরঙ্গ-তাড়না বলিয়। অনুভব করিতেছে এবং 
তাহ! হইতে নিষ্কৃতি পাইবার জন্য উদ্ধে নয়ন ফিরাইতে শিখিতেছে কেহ বা 
সেই শদ-স্পর্শাদি তরঙ্গকৈ অমরপুরের অসৃতপ্রব।ছ বলিয়া! চিনিয়া, অমরনাথ 
মহেম্বরের মৃত্যুঞ্চয়-রূপ উপলব্ধি করিয়া, অগরতের আম্বাদন পাইতেছে বা 
মৃত্যুয় হইতেছে । জীব! তুমি শেযোক্তরূপে আকাশ-গঙ্গার এ তরঙ- 
প্রবাহকে দেখ । শব্দ, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধকপে সে আকাশগঙ্গার প্রবাহ তোমার 
সংস্কাররূপ কুলে লাগির। যে তরঙ্গভঙ্গ স্থজন করিতেছে, তাহাতে ভোগ হইলেও, 
ভোগ বলিয়া গ্রহণ করিও ন|।, কন্মকল হইলেও, তাহাতে নিরাশ হইও না । 
উহাকে অমৃত-প্রবাহ বলিয়। পরিজ্ঞাত হও; অম্বত-প্রবাহের অমৃতবারি শব, 
স্পর্শ রূপ, রস, গন্ধগুলিকে অমৃতাঞ্জলি বলিয়৷ গ্রহণ করিয়া, মৃত্যু্য়ের চরণ 
উদ্দেস্ঠে উদ্ধমুখে চাহিয়া, সে অম্ৃত-প্রবাহে ঢালিয়! দাও। ত্রোত উদ্ধমুখী 
হইবে _গ। ভাসাইয়া চলিয়া যাও, মৃত্যুঞ্জয়ের চরণে গিয়া ঠেকিবে। তুমি 
উপকুল ছাড়িয়া কুল পাইবে। 

ইহাই কুল-ধন্ম। এইরূপে জগন্ভৌোগকে পরিদর্শন করাই আমাদের সনাতন 
ধর্ম । কেন না, এ অকুল পাথারে কুল পাইতে হইলে, এইক্পে যতক্ষণ ন। 
জগন্োগকে উপলব্ধি কর! যায়, ততক্ষণ বালুকাময় ইতস্ততঃসঞ্চারি সংস্কাররূপ 
উপকূলে থাকিতে হয়। ততক্ষণ ভ্োত ফেরে না বা ততক্ষণ উর্ধমুখী শ্রোতের 
সন্ধান পাওয়া যার না। 

ইন্দ্রিয় না হইলে, এ অমৃতাগ্ধাদের সম্ভাবন! নাই বলিয়া, তাই যতক্ষণ না 
উর্ধাকোতের সন্ধান পাওয়া যায়,. ততক্ষণ উপকুলে থাকিতে হয়, ততক্ষণ সে 
কুলের ক্ষয় করিতে নাই -ততক্ষণ সে কুল ক্ষয় করিলে, সনাতন কুল-ধন্ম ন& 


হইয়া! যায়। 
১১ 


৮২ উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথ্যা। 


এরপ ধরণ নট হইলে বা সংস্কারজনিত ইন্ড্রিয়রূপ উপকূল ভঙ্গ করিলে, যগ্যপি 
শুধু ধর্ম নষ্ট হইয়! ক্ষান্ত হইত, তাহা হইসেও জীবের অনেকটা আশ্বীসের 
সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তাহা হয় না__ধর্মা নষ্ট হইলেই অধন্ম আসিয়া পড়ে। 
ধর্ম হইতে বিচু'ত হইলেই অধর্ম্মের কবলে জীবকে পড়িতে হয়। আ্রোতশ্মিনীর 
জলে জীবের গ্বির হইয়া দড়াইবার উপায় নাই। হয় উর্দে, নতুবা নিনে__গতি 
এক দ্রিকে হইবেই হইবে । আলোক মথবা 'অন্ধকার--ন্ুখ অথবা ছুঃখ--হ্র্ব 
অথবা! বিষাদ -পাপ অথব! পুণ্য ধর্ম অথব। অধন্ম,আোতে যতক্ষণ থাকিবে, গতি 
ততক্ষণ হইবেই ৷ পাপও নাই, পুণাও নাই-ধর্্ম ও নাই, অধর্ম্মও নাই--হর্ষ৪ দাই, 
বিষাদও নাই, সে অবস্থা কুল না পাইলে হয় না। সেই জঙ্তাই ইন্ড্রিয়াদি বা সংস্বার- 
রূপ উপকূল ধরিয়া ধসিয়া থাকিতে হয় । উদ্ধমুখী আ্রোতের সন্ধান যত দিন পাওয়া 
না যায়, তত দিন আোতে গা ভাসাইতে নাই। মাতৃ-আবর্ষণের উদ্দমুখী বন্যাতরক্ক 
আসিয়া, যত দিন না উর্ধ দিকে ভাসাইয়া লইয়! চলিয়া! যায়, ভত দিন উপকুলকে 
অবহেলা করি? না। তত দিন মায়া-বালুকারচিত উপকুলে বসিয়া, বগ্কার অপেক্ষা 
কর। নতুব! শুধু ধর্ম নট হইবে ন।--শধর্মও আসিয়া জুটিবে। আবার পাভাল- 
পুরে ছোগবভীর জাল গিরা প্রক্ষিপ্ত হইবে। অনেক দিন ভাসিয়া ভাপিয়া-_ 
অনেক শ্লোতে হাবুডুবু খাইরামনেক বালুকাময় চরে ঠেকিয়া, মনুম্যরূপ 
ইন্দরিয়ক্ষুটসম্পন্ন উপকুলে আসিয়া পৌছিয়াছ। ভোগবভীর হল ছাড়িয়া 
ভাগীরণীর জলে আসিরা পৌছিয়াছ। ভোগ ছাঁড়িতে ও কন্দকল, অদৃ্ট, ভাগ্য 
বলিয়া! চিনিত শিখিরাছ। তাল করিয়া শিক্ষা কর । কর্ণনয় ভাগীরঘী-কুলকে 
কন্মক্ষেত্র বলিয়! দেখ, ভোগবতীর ভোগময় কুল বলিয়া দর্শন করিও ৮ এবং 
স্থরধুনীর কুলে পৌছাইবার জন্য অপেক্ষা কর। এখন আমরা উর্ধক্সোতের 
সন্ধান পাই নাই-এখন নিম্বমুখী শ্নোতের খরতর প্রবাহ হইতে উঠিয়া 
আক্লাস্তচরণে এই চরে ঠেকিয়াছি মাত্র। এখন সহস! চর ছাড়িয়া জলে পা দিলে, 
পাছে আবার নিন্ম ,আতে গিয়া পড়ি, এই ভয়ে অহরহ সতর্ক থাকিতে হয়। 
ইহাই কুল-ধর্ম্ম। তন্থে ইহারই আচার পদ্ধতি কুলাচার বলিয়৷ কথিত হইয়াছে। 
ইড়া, পিঙ্গলা, সুযুয়া--ইহারই তান্ত্রিক নাম। আন্রাচক্রই উপকুলরূপে বর্ণিত। 
সহসার--কুলরূপে লাখত। নিক্মাধিকারী সাধক যখন এই আজ্ঞাচক্রের সন্ধান 
পায়-এই আজ্ঞাচন্রে গিয়া! যখন উপবেশন করিতে পারে, তখন সেইখানে 
তাহাকে উর্ধত্রোতের অপেক্ষা করিতে হয়। নিশ্বাধিকারীরা আজ্ঞাচক্রে উঠতে 


উপনিষদ্রছত্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ]] । ৮৩ 


পারে সত্য, কিন্তু অধিকক্ষণ অবস্থান করিতে পারে না। ক্ষণপরে ভোগবতীর 
টানে পড়িয়া আবার নিম্সস্থ হয়-_ আবার ভোগক্ষেত্রে আসিয়া পভে এবং 
জগন্তোগে পূর্ব মাতে । এইরূপে ধার বার অভ স্ত হইবার পর, বার বাঁর 
আজ্জাঢক্রে গিয়া ও তাহ! হইতে গুন; প্রক্ষি্ হইয়া, শেষ এক সময়ে সে চক্রে 
অবস্থান করিবার শক্তি পায় ও সেখানে উদ্ধ ভোতের জন্য অপেক্ষা করিতে 
সক্ষম হয়। শুধু সাধক নহে, প্র্তত্যক মন্ুষ্যই আজ্ঞাচক্র বার বার স্পর্শ করিয়া 
ফিরিয়া আসে । যখন মনুষ্য কোন কাজ সম্পন্ন করে, আঙ্জাচক্রের স্পর্ণ বিনা 
সে কাজ সম্পন্ন হইতে পারে না । যে কোন কাজ করিতে হইলে মনোময় ক্ষেত্রে 
বা এ আজ্ঞাচক্রে তৎসন্বন্ধে ঈষৎ সমাধির প্রয়োজন । ঈষৎ সমাধি হইয়।, সেই 
কার্য্য-সম্বন্ধীয় জ্ঞানের ঈষৎ আভাস গ্রহণ করিয়ু।, তবে মনুষ্য কার্যে হস্তক্ষেপ 
করিতে পারে। কাধামীত্রেই যোগ--কাধ্যমাত্রেই যড়ঙ্গ যোগ সম্পাদিত হয়-- 
কার্ধযমাত্রেই আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণ।, ধান ও সমাধি আছে। 
প্রত্যেক কাধের ভিতর এ ছঘ্ী স্তর স্পষ্ট প্রতীয়মীন হয় । এ ছয়টী স্তরের 
সাহায্য বিন। কোন কাজ সম্পাদিত হইতে পারে না। 

যে কোন কার্য সম্পাদন করিতে হইলেই, মেই সেই কার্ষ্যোপযোণা আসন, 
প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও শেৰব সমাধিলাভ হইয়া তাবে কাধ্য 
সম্পাদিত হয়। মনে কর, তুমি একখানি পত্র লিখিবে। লিখিতে হইলে বেরূপ- 
তাবে উপবেশনে অভ্যন্ত, প্রথম সেইরূপে তোমায় উপবেশন করিতে হইবে | 
দৌড়াইবার মত বা কলহ করিবার সময়ের মত ব। নিদ্র। যাইবার মত অঙ্গের 
অবস্থ। হইলে লেখ নুদৃক্ধর; ম্ুতরাং লিখিবার উপযোগী ভাবে অঙ্গভক্গ ন] 
করিলে লেখ! হয় না। তোমার লেখারূপ কার্ষ্য সম্পাদনের পক্ষে উহাই 
আসন। আসন অর্থে কাধ্যকে ম্থগম করিবার পক্ষে উপযুক্তরূপে অঙ্গ সকলকে 
সম্বদ্ধ করা। যেরূপে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্থাপন করিলে কারা স্থখে বা অনায়াসে 
সম্পাদনের পক্ষে সহায়তা করে তাহাই সুখামন। যোগশান্ত্রে আসন শব্দের 
ইহাই উদ্দেশ্থা। 

যাহা হউক, তার পর প্রাণায়াম। বিশেষ বিশৈষ কার্যোপযোগী ভাবে শ্বীস- 
প্রশ্বাসের সংঘমণকে প্রাণায়াম বলে । আমাদের শ্বাস প্রবাহ একভাবে সকল সময়ে 


চলে না। আহারের সময়ে এক রকমে, চলিবার সময়ে এক রকমে, নিদ্রার সময়ে 
এক রকমে, বাক্যালাপের সময়ে এক রকমে, ক্রোধোদ্রেকের সময় এক রকমে, 


৮৪ উপনিষদ্রহন্ত বা! গীভার যৌগিক বাাখ্যা। 


তক্তিভ।বের উচ্্বাসের সময় এক রকমে, প্রতি কার্য্যের সময়ে বিশেষ বিশেষ 
ভাবে পরিবন্থিত  তৎকাধ্যোপযোগিরূপে প্রবাহিত হয়। নিদ্রার সময়ে হে 
ভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস বহে, লিখিবার সময়ে সে ভাবে শ্বাস বহে না। লিখিবার 
সময়ে শ্বাসের গতি অন্তরূপ। অর্থাৎ মানসিক অবস্থা ষে ভাবে যখন পরিবর্তিত 
হয়, শ্বীসবারুও সে মানসিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভাবে পরিবর্তিত হইয়! 
পড়ে এবং তদ্রুপ ভাবে শ্বাস প্রবাহিত হওয়াই €সই সময়ের উপযোগী প্রাণায়াম। 
ঈশ্বরচিস্তার সময়ে যে ভাবে শ্বাস-গ্রশ্বাসকে অনুশীসিত করিবার ব্যবস্থা আছে, 
সাধারণতঃ তাহাকেই প্রাণায়াম বলে ; এবং পাতঞ্রলদর্শনে সেই অবস্থার কথাই 
উল্লিখিত হইয়াছে ; কিন্তু যোগণদর্শনের চক্ষে প্রত্যেক কার্য্যপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে 
তত্তৎকার্য্যোপযোগী ভাবে শ্বাস-প্রবাহের পরিবর্তনের ও অন্ুশাননের নামই 
প্রাণায়াম । যাহা হউক, লিখিবার কালে যেমন লিখনোপযোগী ভাবে অঙ্গাবস্থিতি 
বা আসন রচিত হয়, শ্বীসপ্রবাহও তদ্রুপ লিখনোৌপযোগী ভাবে পরিবন্তিত হইয়া 
যায় ও উহাই লিখিবার প্রাণায়াম। 

এইরূপ প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান প্ুভৃতি প্রত্যেক যোগাঙ্ক সম্বন্ধে বুঝিতে 
হইবে । প্রত্ক কাধ্যের স্ব স্ব স্বভাবানুায়ী চিন্তকে চারি ধার হইতে প্রতাাহরণ 
করিতে হয়; ঈশ্বরচিস্তা করিবার সময়ে মন নিমন্ত্রণের চিন্তায় ব্যস্ত থাকিলে, 
জিহ্বার মুখকল্পনা ছাড়া আর কিছু হয় না। ইফ্টদেবতার চরণকমল ধারণা 
করিতে গিয়া, রসগোল্ল।র মুখকমল ফুটিয়া উঠে। লিখিবার সময়ে মানসিক ভাব 
লিখন সম্বন্ধে প্রত)াঙ্গত না হইলে কলম হাতেই থাকে, ঝালি খরচ আর বড় 
একটা করিতে হয় না । যখন লেখা সম্পন্ন হইতেছে দেখিবে, তখন বুঝিতে 
হইবে, প্রত্যাহার ঠিক হইয়াছে । 

এই ভাবে প্রত্যাহার, ধারণা, ধ)ান ও শেষ লিখনভাবের উপর একটু মানসিক 
সমাধি আসিয়া, তারপর কি লিখিবে-_-কিরূপে লিখিবে, সেটা স্থির হইয়া যায় 
গু তারপর অক্ষরসকল অস্কিত হইয়া থাকে । 

এইরূপে প্রত্যেক কাধ্য সম্পাদনেই আমাদিগকে আক্ডাচন্র স্পর্শ করিতে 
হয়। যোগ বুঝাইবার সময় ইহ! সবিস্তারে আলোচনা করিব। 

যাহা হউক, ইশ্রিয় উচ্ছেদ করিলে, কি প্রকারে আমর! প্রকৃতির সহিত 
সংযুক্ত থাকারূপ কুলধর্ম হইতে বিচ্যুত হই, তাহা বুঝ। গেল। এবং কুলধর্্ম নই 
হইলে অধশ্ম আসিয়। আমাদিগকে আক্রমণ করে কেন, তাহাও আলোচিত 


উপনিষদ্রহন্ত বা ঈ্ীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। ৮ 


হইয়াছে । যাহা! আমাদিগকে ক্ষেত্রে ধারণ করিয়া রাখিয়! ক্ষেত্রজ্ঞ করিয়া দেয়, 
যাহা আমাদিগকে মীতার মত ক্রোড়ে করিয়া লালন পালন করিয়া, তারপর 
পত্বীর মত আমাদের অধীনতা-পাশে আবন্ধ হয়, যাহা শক্তিরপে আগে সঞ্চিত 
হইয়া, তারপর মুক্তিরূপে আমাদিগের কল্পিত বন্ধনরাশি উন্ুক্ত করিয়া দেয়, 
তাহাই ধর্ম এবং তদ্বিপরীত যাহ।, তাহাই অধন্ম । যেখানে -যে কার্ষো ধর্ম 
এবূপে ক্রিয়াশীল নহে, তাহাই অধন্দ অথব। যেখানে বা যে কাধ্যে এরপ ধর্মের 
অভাব পরিপৃষ্ট হয়, তাহাই অধন্্ । ধর্ম্মহীনতাই অধন্ম॥ অনেকে মনে করেন, 
ধন্মজনক কার্য ন। করিলে অধর্ হয় না। অধরন্মরজনক কার্ধয করিলেই তবে 
অধন্ম হয়; কিন্ত বস্তুত; তাহা সত্য নহে । ধর্জনক কার্য না করাই অধন্ম | 
অধন্মজনক বা ধন্মধবংমী কার্দ্য করিলে অধর্ম ত হইবেই, কিন্তু ধর্মজনক কার্ধয না 
করিলেও অধন্ম হইবে, এটি অনেকে ধারণা করেন না । আমাদিগের ভিতর যে 
সমস্ত সুক্ষ সাত্বিক গুণ প্রচ্ছন্নভাবে আছে, ধন্মজনক কার্য করিলে সেগুলি 
স্ষুরিত হইয়৷ উঠে; অধর্ম্রজনক কার্য করিলে বা ধর্মাজনক কাধা না করিলে, 
এই উভয়েতেই সে শক্তি স্ফুরিত হইতে পায় না; স্বতরাং সে শক্তিগুলি অবরুদ্ধ 
থাকিয়া! থাকিয়। জড়ে পরিণত হয়। সেই আশঙ্কায় অজ্ঞুন বলিতেছেন, 


অধর্্মাভিভবাৎ কৃষ্ণ প্রহুধন্তি কুলন্ত্িয়ঃ । 
স্ত্রী দু্টান্থ বাষ্জেয় জায়তে বর্ণসঙ্করঃ ॥ ৪০ 


কৃষ্ণ! অধন্মীভিভবাৎ কুলক্ত্রিয়ঃ প্রহয্যন্তি ; বাঞ্চেয় | জীষু ছুষ্টান্ু বর্ণপক্কণ 
জায়তে। 

অধর্ম্নে অতিভূত হইলে কুলম্বীগণ দুষিত হয়; হে বাঞ্চেয়! কুলল্ত্রী দৃষিতা 
হইলে বর্ণসঙ্কর জন্মে । 

কুলস্ত্রী অর্থে-_কুলশক্তি বা জগৎসম্বন্ধে আবদ্ধ থাকিয়া যে সকল শক্তি 
আমাদের অভ্যন্তরে আপনা হইতে সঞ্চিতা হয়, তাহাদিগকে কুলন্ত্রী বলে। 
আমরা ইন্ড্রিয়ধর্মে থাকিয়া এবং ইন্ড্রিয়-সকলের সদ্বাবহার দ্বারা আধ্যাত্মিক শক্তি 
লাভ করিতে থাকি । ইন্টরিয়ধন্মে থাকিয়াই আমরা দয়া, প্রেম, নেহ, ভক্তি, 
জ্ঞান, বিবেক ইত্যাদি বিবিধ শক্তিসম্পন্ন হইয়া থাকি। কিন্তু এগুলি ছাড়া 
আরও কতকগুপি আধ্যাত্মিক শক্তি আমাদদিগের ভিতর ধীরে ধীরে ফুটিয়া উঠে 
সেগুলির কার্য আরও উচ্চ অবস্থায় পরিলক্ষিত হয়। ইন্দ্রিয় উচ্ছেদিত্ব 


৮৬ উপনিষদ্রহস্থ ব| গীতার যৌগিক ব্যাখ্য। 
হইলে এ শক্তিগুলি আর শ্ব,রিত হইতে পার ন ; ক্রমশঃ দূষিত হইয়া যায়। 
যেমন তরবারি বাবহার করিলে এবং তাহাকে তীক্ষ করিবার জন্য প্রকৃষ্ট উপায়ে 
ঘর্ষণ করিলে, তাহার তীস্ষতা পরিবদ্ধিত হইতে থাকে, কিন্তু অন্ঠায়রূপে ব্যবহার 
করিলে বা অন্ায়রূপে ঘর্ষণ করিলে, কিন্বা ব্যবহার একেবারে বন্ধ করিয়া দিলে 
তাহার তাক্ষতা নষ্ট হইয়া যায়, এবং তাহাকে কাধ্যাক্ষম করিয়া ফেলে, তক্জপ 
ধর্্নকাধ্য সরিলে বা ইন্দ্রিয়.সকলের সদ্ধ বহার*করিলে, আমাদিগের উক্ত আধ্য।- 
স্বিক শক্তিগুলি ফুটিয়া উঠে; এবং অধশ্মজনক কার্ধ্য করিলে বা ইন্দ্রিয় উচ্ছেদিত 
করিয়া কাধ্য একেবারে বন্ধ করিয়া দিলে, সে শক্তিগুলি একেবারে নষ্ট হইয়। 
যায়। অর্থাং আমা দিগের এ কুলস্ত্রী বা! কুলশপ্জি-সকল দূষিত হয়। যত দিন 
ন। আগাদের আধ্যাত্মিক শক্তির তাক্ষতা উত্তমরূপে সম্পাদিত হয়, তত দিন 
আনািগকে প্রাকৃতিক কাধ্যে নিযুক্ত থাকিতে হইবে । যত দিন না আদরা পুর্ণ 
এশ্বব্যনর হইয়া উঠি, তত দ্রিন আমাদিগকে ইন্দ্রিয় ধার্মমে নিযুক্ত থাকিয়া 
কাধ্যন্ষেত্রে ব ধন্মন্ষেত্রে অবস্থান কবিতে হইবে। 

আর কুলশক্তি দূষিত হইলে ব্ণসঙ্কর হয়। প্রত্যেক জীবের বর্ণ বা জ্যোতি: 
আছে। যে যেমন গুণাপ্বিত, তাহার জ্যোতিঃ সেইপ্রক্কার বর্ণের ; যোগচক্ষু্মান্‌ 
ব্যক্তি জাবের দে জ্যোতি; দেখিতে পান। সাধারণতঃ সাত্বিকভাবাপন্ন জীবের 
বণ শুভ্র। বাজ(সক ভাঁবাপন্ন জাবের জ্যোতি? রক্বর্ণ। রজঃ ও তমোগুণান্থিত 
জীবের জ্যোতিঃ গাত এবং তমে আচ্ছন্ন জীবের জ্যোতিঃ ধৃঅবর্ণ। আমাদিগের 
আধ্যাত্মিক দেহের এই প্রকার বর্ণ-বিভিন্নতাই হিন্দুর জাতিভেদের মূল কারণ । 
মেই জন্ত জাতিবিচারের প্রশস্ত নাম_-বর্ণ-বিচার। আবার এই সমস্ত বিভিন্ন 
বর্ণীয় জীব যখন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে মগ্ন হয়, অর্থাত যখন তাহাদের প্রাণে যেরূপ 
ভাবের উদয় হয়, তাহাঁদিগের এই ছটার উপর ভিন্ন ভিন্ন বর্ণ প্রতিফলিত হইতে 
থাকে । ক্রোধের সময় এক একার, দয়ার সময় এক প্রকার, তক্তির সময় এক 
প্রকার, এইবূপ ভাবানস্তরের সঙ্গে সঙ্গে বর্ণান্তর আমাদিগের স্ুক্ম দেহকে রঞ্জিত 
করে। আবার সে ভাব বিদুরিত হইলে, সে তস্থায়ী জ্যোতিঃ বিলুপ্ত হইয়া যায়। 
এইরূপ অহনিশ নান।প্রকারের জ্যোতির তরঙ্গে ক্ষুব্ধ হইয়া, আমাদিগকে এক- 
প্রকার সাধারণ স্থায়া জ্যোতি্মপ্ডিত বলিয়া অন্গমিত হয়। সাত্বিক জীবের 
প্রাণে অহনিশ পবিত্র ভাব'নকল উন্মেষিত হয় বলিয়া, "তাহার দেহের বর্ণ- 
বিশ্ত।সকে সাধারণতঃ শুল্র, মধাকমার্ত্গুবং দেধার। রাঙ্গমিক বক্তির আধ) 


উপনিষদ্রণ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা ৮৭ 


ঝ্মিক দেহ অহনিশ ক্রোধ, চঞ্চলতা আদি রাজসিক বৃত্তির রক্তবরয় তরঙ্গে 
আপ্লুত হয় বলিয়া, রাজসিক ব্যক্তিদ্রিগকে সাধারণতঃ রক্তবর্ণায় দেখায় । রজঃ 
ও তমোগুণ-মিশ্রিত ব/ক্তিগণ সাধারণতঃ বৈধয়িক বুদ্ধিবৃত্তিতে নিবিষ্ট থাকে বলিয়া, 
তাহাদিগকে গীতবর্ণের দেখায়। এবং তানসিক ভাবাপন্ন জীব-সকলকে 
ধু্বর্ণের বলিয়া প্রতীতি জন্মে। 


যাহা হউক, আমাদিগের ূর্ব্বোল্লিখিত কুলশক্তিসকল যদি স্ফুরিত হইবার 
অবসর ন! পায়, তাহা হইলে তাহারা বৃত্তি-সকলকে পরিচালিত করিতে এবং 
স্ব স্ব বর্ণে আমাদিগের আধ্যাত্মিক দেহকে রঞ্জিত করিতে পারে না। ন্ৃতরাং 
আমাদিগের স্থায়ী বর্ণরঞরনা সম্যক্‌ স্ষুরিত হইতে পায় না ও অন্ত বর্ণে দূষিত 
হয়। মনে কর, তুনি লত্বগুণাধিত ব্যক্তি, তুমি লাধারণতঃ দেখিতে শুত্রবর্ণের ; 
তোমার প্রাণে সর্বদা সান্বিক ভাবসকল উদ্দীপিত থাকে বলিয়া, সাত্বিক- 
ভাবের শুভ্র জ্যোতিতে তুমি নিমজ্জিত থাক। কিন্তু যদি কোন কারণে তোমার 
প্রাণে সান্তিক ভাব আ'র উদ্দীপিত না হয় এবং তৎপরিবর্তে রাজপিক ভাব 
সমধিক প্রবল হয়, তাহা হইলে তোমার সে স্থায়ী গ্ুত্ত বর্ণের সহিত রক্তব্ণ 
মিশ্রিত হইয়া, বর্ণসঙ্কর উৎপন্ন হইবে । 

এই বর্ণসঙ্কর অতীব দূষলীর, এবং নরকের ছার-ম্বরূপ। কিন্তু আগে 

বর্ণসকল কি একারে ক্ষুরিত হয়, বুঝাইয়। বলি ; নতুব। সঙ্কর-দোষ বুঝিতে পারা 
যাইবে না। 

তড়িদৃবিজ্ঞানবিদেরা জানেন, এ বিশাল তহ্মাণড সাধারণতঃ তাঁড়ংশক্তির 
আধার। দেই তড়িৎসমুদ্র কোন প্রকারে সংঘধিত বা গুতিহত হইলে, উহা! 
চুই প্রকারে বিচ্ছিন্ন হইয়া! যায় এবং দুই প্রকারের তড়িৎ-শক্তি ক্রিয়াশীল হয়। 
একটার নাম ধন-তড়িৎ বা পিতৃশক্তি, অন্তটার নাম খণ-ভড়িৎ বা মাতৃশক্তি। 
এই ছুই প্রকারের তড়িৎশক্তি ছুই দিকে বিচ্ছিন্ন হইয়া, আবার পরস্পর পরস্পরকে 
আকর্ষণ করে ও মিলিত হইবার জন্য ঘত্বশীল হুয়। উভয়ু তড়িৎ-শক্তির এই 
মিলনেচ্ছাই স্ৃষ্টি-বৈচিত্র্যের মূল। ইহাদিগের মিলনের তারতম্যেই স্থষ্ট পদার্থের 
এত তারতম্য । 

যাহ! হউক, আমাদিগের প্রাণশক্তিও তদ্রুপ ভড়িদাধার মাত্র। সেই প্রাণ- 
শক্তিরূপ তড়িৎসমুত্র শ্বাস-প্রশ্বাসরূপ স্বাভাবিক সংস্কারজাত ক্রিয়ার দ্বার৷ 
জহপ্িশ প্রতিহত ও সংঘৃষ্ট হইতেছে । এবং সেই প্রতিঘাতের ফলম্বরূপ 


৮৮ উপনিধদরহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্য!। 


পিতৃশক্তি ও মাতৃশক্তি বিচ্ছিন্ন হইয়া যাইতেছে ও পুনরায় মিলিবার জন্য সচেষ্ট 
হইতেছে । এইরূপ এ পিতৃশক্তি ও মাতৃশক্তির বিচ্ছেদ ও পুনমিলনের ফল- 
স্বরূপ আমাদিগের প্রাণে ভাবরাশিবপ স্থগ্রি-বৈচিত্র্য অহ্িশ সচিত হইতেছে ও 
সেই ভাবসকল এঁ তড়িৎ-স্ফুরণের জ্যোতিতে বা ধর্ণে রঞ্জিত হইতেছে । মেঘ- 
রাশির সঞ্চালনে যেমন শুন্স্থ বা এ মেঘস্থ লুকান তড়িৎ বিছ্যদাকারে ঝলসিয়া 
উঠে ও মনুষ্-চক্ষে প্রতিভাত হয়, তদ্রপ আমাদিগেরও তড়িৎ সন্ক্রিয় হইয়া, 
ভালকপে দ্যোতিঃ বা বর্ণ-বিশিষ্ট হইয়া, আমাদিগের আধ্যাত্মিক দেহে ব্ণবিম্যাস 
রচনা করে। ভাবরূপ বিছু/ম্মেখলা অহনিশ চমকিত থাকিয়া, আমাদ্দিগের 
প্রাণময় কোষটাকে জ্যোতির্শগ্ডিত করিয়া রাখে । বিরাট জগতে অনস্ত কোটি 
জ্যোতিক্ষমণ্ডলী মাতৃ প্রাণের ভীঁবস্বরূপে ফুটিয়া রহিয়াছে । মহাশক্তির ভাবসকল 
অসীম শক্তিসংযুক্ত বলিয়া, তাহা ঘনীভূত হইয়া জড়াকারে ফুঁটিতে সক্ষম ; আমরা! 
ছুঙবল বলিয়া আমাদের ভাৰসকল ভাবরূপেই থাকে ও মিলাইয়া। যায়, ঘনীভূত 
হইয়া জড়াকারে বা আমাদের ইন্ডরিয়গ্রা্থ হইয়া ফুটিয়া! উঠিতে সক্ষম হয় না । 
আমর! শক্তিমান হইলে, আমাদের ভাবসকলও মায়ের প্রাণের ভাবগুলির মত 
ইন্দডরিয়গ্রাহরূপে ফুটিয়। উঠতে পারিত বা আমরা জড়বস্ত-সকল নিন্মাণ করিতে 
সক্ষম হইতাম। ভাব-_-শক্তির চৈতম্যময় বিকাশ, স্থল জগৎ সেই ভাবের পূর্ণ 
ঘনীভূত বিকাশ । ভাবে ও স্থুল-জগতে পরিমীণের তারতম্য ছাড়া অন্ত কিছু 
প্রভেদ নাই। আমাদিগের প্রাণে যখন ষে প্রকারের ইচ্ছাশক্তি স্কুরিত হয়, 
আমর! শক্কতিমান্‌ হইলে, ইচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে সেই সকল বস্তু শ্বজিত হইতে পারিত। 
স্থলজগৎ ভাবেরই ঘনীভূত বা ইন্দ্রিয়গ্রাহয অবস্থা মাত্র । 

যাহা হউক, আমাদিগের ভাব-সঞ্জাত প্রাণময় কোষের এ ব্ণ-রঞ্চনা 
আমাদিগের পরস্পরের স্বাতন্্য রক্ষ। করে । আমাদিগের দেহ এরূপ বর্ণ-ছটায় 
রঞ্চিত ন! থাকিলে বা আমাদিগের দেহ হইতে এরূপ বর্ণালোক অহনিশ ক্ষুরিত 
ন! হইলে, অপরের ভাবসকল অনায়াসে নির্বিক্ষে আমাদিগের প্রাণে এবি 
হইত এবং সেই সকল মিশ্রিত ভাবের দ্বারা আমর! পরিচালিত হইতাম; 
আমাদিগের ম্ব স্ব ভাবসকল ফুটিয়া উঠিবার অবসর পাইত নাঁ। বহির্জগতের 
জীবসমষ্টির ভাবস্রোত আমাদিগের প্রাণকে অহর্নিশ প্লাবিত করিত। স্ুল 
কথায়, আমাদিগের ভাবের স্বতন্ত্র কোন ক্রমেই রক্ষা হইত না। কোন গৃহে 
যদি প্রদীপ বা কোন আবরণ-হীন আলোক জলে, সেই গৃহে অন্থ একটা আবরণ” 


উপনিষদ্র্ন্ত দা গীভার যৌগিক বা।খা!। ৮৯ 


হীন আলোক জালিয়া লইয়৷ “গলে, উদয় অলোক-তরঙ্গ সহজে সিশিয়া যায়; 
কিন্তু লাল, গীত, হুরিৎ ইতাদি কোন আবরণের ভিতর দিয়া যদি এ গৃতস্থ 
আলোকটির জ্যোতিঃ বাহির হইত বা এ গৃহের আলোকটী যদি কোন বর্ণা- 
বরণে আবৃত থাকিত, তাহা হুইলে গুহটি সেইরূপ লাল্‌ অথবা! গীত বর্ণের 
আলোকে আলোকিত হইত ; এবুং সেই গৃহে অন্ত কোনবপ বর্ণের আবরণে 
আবৃত আলোক লইয়া আসিলে, সে উভয় আলোক সহজে মিশ্রুত হইত না । 

মনে কর, একটা লাল ফানস-সংযুন্ত আলোক কোন গ্রহে জ্বলিতেছে, এবং 
গৃহটা পক্তবর্ণের দেখাইতেছে ৷ যদি এ ঘরে একটা নীল আবরণে আবৃত ল্ী৭ণ 
আলোক লইয়! আসা যায়, তাহা হইলে এ গৃহটীর লাল বর্ণ-রঞ্জনা সহজে 
তিরোভিত হয় শা, এ লাল ও নীল বর্ণ-তরঙ্গ পরস্পর বিরুদ্ধ-ভাবাপনন বলিয়া, 
পরস্পব পরস্পরকে অভিভূত কবিগান পয়াস পায় এবং স্বন্ব শক্তি অনুযায়ী 
স্বাতন্থ্য রক্ষা করিতে সক্ষম হয় । 

এইরূপ স্বাতন্ব্য রক্ষণের জন্যই আমাদিগের গ্রাণময় কৌঁবের উপর বর্ণবিস্তাস 
রচিত; এবং সেই জন্যই হিন্দুরা বর্ণ বিচারের জন্য এত শাগ্র্থ প্রকাশ করেন। 
নিজের শ্বাতগ্থ্য রক্ষা করিরা যাইতে না পারিলে, উদ্নতিধ পথে অশ্রুসর হয়! 
যায় না। উন্নতির পথ সাধারণতঃ চারি ভাগে বিভক্ত; সেই চারি প্রকার 
অবস্থায় চারি প্রকার বর্ণ জীব প্রাপ্ত হয়। শৃদ্রত্ব বা ধুত্র-বর্ণায় অবস্থা হইতে 
ব্রাহ্মণত বা শুরুবর্ণ লাভ করিতে হইলে, পীতন্ব ও লোহিতত্ব বা বৈশ্যন্থ ও 
কত্রিয়ন্থ, এ ছুইটী অবস্থার ভিতর দিয়া যাইতে হয়। কিন্তু আগে শুর্ুত্ব লাভের 
আবশ্যকত। কি, তাহা বলি। 

যেমন ব্বাতন্থ্য রক্ষার জন্য প্রতোকের দেহে বর্ণ-রঞ্জনা। প্রয়োজন, 
তেমনই আবার শুক্রবর্ণ স্বাতন্ত্য-রক্ষার প্রকৃষ্ট উপায় । গুরুবর্ণ অন্য 
কোন বর্ণতবঙ্গকে ভিতরে প্রবেশ করিতে দেয় নী--সকল প্রকার 
বর্ণ-রঞ্জনাকে শুক্লবর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ! এবং অপরের সহিত মিশ্রিত হইবর 
ভয় হইতে গুরুবর্ণ আমাদিগকে সব্বাপেক্ষা ঘুদৃঢ়ভাবে রক্ষী করে। একবার 
গুরুত্ব লাভ করিলে, তাহা হইতে পতন সহসা হয় না। গুধু তাহাই নহে, 
শুর্ুবণীয় ভাব-সকল যত দিন ন! প্রাণের ভিতর অহনিশ ফুটিতে থাকে বা! যত 
দিন না আমরা শুরুত বা! ত্রাহ্মণত্ব লাভ করি, তত দিন ভগবত্তত্ব বা বণ-শুন্যত্বরূপ 
মহাতন্ব গ্রাণে ফুটে না। এবং তত দিন যুক্তি ন্ুুদূর-পরাহত। মুক্তির পুর্বে 

৯২ 


উপনিষদ্রহশ্ড ব! গীতার যৌগিক ব্যাখা। । 


৪ 


গুরুত্ব লাভ করিতে হইবেই | জাতি-বিচার আলোচনার সময় এ তত্ব আরও 
বিশদরূপে বিবৃত করিব। 

মোটের উপর আমরা এই বুঝিলাম, শুব্লত্ব লাভ আমাদিগের একান্ত 
প্রয়োজন, শুরুব আমাদিগের স্বাতন্থা হ্ুদৃঢ়ভাবে রক্ষা করে ও মুক্তির জন্য 
আমাদিগকে প্রস্তুত করিয়া দেয়। 

তাই বর্ণহীনা মা আমার রজত-শুভ মহেস্বরের বুকে দীড়াইয়া, দেখিছে 
পাই। তাই মহেশ্বর যোগীর চক্ষে রজত-কল্প-গিরিসদৃশ প্রতীয়মান হন। 
তাই শ্রীকফ্ণের পাশে বলরামের শুভ্র বগু পরিশোভিত। 

আমরা আমাদিগের এই ইন্দ্রিয-সকলের ও আধ্যাত্মিক শক্তি-সকলের দ্বারা 
অনুশীসিত হইয়া, আমাদিগের অবস্থান্যায়ী ক্রমশঃ ধূত্রবর্ণ হইতে গীত, লোহিত, 
এই ছুই স্তব ভেদ করিয়া, ধীরে ধীরে শুর্রুতবের দিকে অগ্রসর হইতেছে । এবং 
আমাদিগেব শাস্ত্র স্তর হইতে স্তরাগ্থরে যাইনার ম্থগম পন্থাসকল জাতিধর্মরূপে 
নির্দেশ করিয়া গিয়াছেন । যাহাতে এক স্তর হইতে অন্য স্তরে বর্ণসঙ্গর-দোষে 
সবিশেষ দূষিত না হইয়াও পন্ুণ্মুক্ত তীরের মত যাওয়া যায়, তাহাই তাহার! 
যোগশক্তির সাহায্যে পরিদরশন করিয়া, তছুপযোগী ব্যবস্থা করিয়া গিয়াছেন। 
তাহারা মানব-প্রকৃতির ক্রমোন্সেষসুচক গতি লক্ষ্য করিয়া এবং সেই গতির 
পণ্চাদন্ুসরণ করিয়া, তাহারই সাহাষ্যার্থে বিধিনিষেধ-সকল লিপিবদ্ধ 
করিয়াছেন। আজ আমরা সকলেই ভৌম পণ্ডিত হইয়া বসিয়াছি, এবং কথায় 
কথায় শান্ত্ের সমালোচন। ও তাহার দোষ-গুণ বিশ্লেষণ করিতেও কুষ্িত নহি। 
কিন্তু যোগচক্ষু না পাইলে শান্ত্রের সমালোচনা করা চলে নাঁ, এ কথা আমরা 
একেবারে বিস্মৃত | 


যাহ। হউক, ইন্দ্রিয়-ধর্ম্ন বা ইপ্ডিয়-সকল হইতে উচ্ছেদিত হইলে, আমাদিগের 
আধ্যাত্মিক শক্তিমকল নষ্ট হইয়া যায় এবং আমাদিগের পিগুদেহের ব্রণ 
পূর্ব্বোক্ত স্তর অবলম্বন করিয়া থাকিতে না পারিয়া, এ শক্তি-নীশের ভারতম্য 
অন্থুসারে মিশ্রিত বর্ণে প্রতিফলিত হইয়া উঠে ; আমর! স্বাভাবিক শৃঙ্খলাবন্ধনময় 
স্তরপথ হইতে বিচ্যুত হইয়া, আঙ্করদোষে দুষ্তি হইয়া, পথজষ্টরূপে বিচরণ 
করিতে থাকি। 


কা পরহারহাজপালা্  প  পি ও _ স টি 
টিকার 
স্পা সপ পপ শপ পর ও আস জা স্পা পপ আপ পাপী ৮৯ আপ আদ লা স্পািলাসি শট তে এ ও শা সপন আশ্বাজ প শালী 


গ্ধ “শিনেব বুকে হম! কেন? পাঠ কর। 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৯১ 


সম্করে! নরকাঁয়ৈব কুলদ্বানীং কুপস্ত চ । 
পতন্তি পিতরে৷ হেষাং লুগ্তপিপ্ডোদকক্রিয়াঃ ॥ ৪১ 


কুলন্্রানাং কুলস্ত ৮ সন্করঃ নরকায় এব ( ভবতি ), এযাং লুপ্তপিগ্ডোদকক্রিয়াঃ 
পিতরঃ পতত্তি হি । 


& 


কুলন্রদিগের বুলের বর্ণসঙ্কর নরকবাসের জন্ত হইয়া থাকে। ইহাদের 
পিতৃগণ লুগ্ধপিন্তোদক হইয়া পতিত হয়। 


বর্ণ-সঙ্কর নিম্নগতির কারণ। একবার মিশ্র বর্ণ প্রাপ্ত হইলে, উন্নতির পথ 
হইতে কিছু দ্রিনের জগ্ত বিট্যুত হইতে হয় এবং পিহুলোক তাহার সাহায্য হইতে 
বঞ্চিত হয়। আঁমাদিগের সহিত পিতৃলেকের বিশেষ সম্বন্ধ আছে, এবং 
আমাদিগের সাহায্যে আমাদ্িগের পিতৃগণের উদ্ধগতি-প্রাপ্তি অসম্ভব নহে। 
যদি আমাদিগের সুঙ্জাদেহ ব। পিগুদেছ সঙ্কর-দোবে দূষিত হয়, তাহা হইলে 
আমরা পিতৃতপশাদি-ক্রিয়! বারা পিহলোকে আমাদিগের সুক্্ম শক্তি চালনা 
করিয়া, তাহাদিগকে সাহায্য করিতে পারি ন।। আনাদের বর্ণসঙ্করবশতঃ সে 
শক্তি-আোত পিতৃগণের সহিত সমবর্ণায় না হওয়ায় প্রত্যাহত হয়। পিতা 
অপেক্ষা পুত্রের পিগুদেছের বর্ণ উন্তরীয় হইলে, পিতৃলোকের পক্ষে অত্যন্ত 
নুখকর ও সাহাধ্যকারী হয়; কিন্ত বর্ণ যদি নিন স্তর প্রাপ্ত হয়, তাহা হইলে সে 
পুত্রের দ্ব:র। পিতার কোন সাহায্য হইতে পারে না । মনে কর, তুমি কয় 
কুলে জন্মগ্রহণ করা সন্বেও কর্মান্ুমারে তোমার পিগুদেহের বর্ণ শুভ্র বা 
্রাক্মণহ লাভ করিয়াছে। তুমি বাহিরে জন্ম হিসাবে ক্ষত্রিয় হইলেও, তুমি বস্তুতঃ 
্রাঙ্মণ হইয়াছ এবং পরজন্মে নিশ্চয়ই ত্রাঙ্মণ-কুলে জন্মগ্রহণ করিতে সক্ষম 
হইবে। এরূপ অবস্থায় তোমার তর্পণাদি তোমার ক্ষাত্র পিতৃগণকে তাহাদিগের 
উর্ধগতি লাভের পক্ষে বিশেষভাবে সহায়তা! করিতে সমর্থ। কিন্তু যদি স্বীয় 
কর্মমদোষে তুমি ক্ষত্রিয়-কুলে জন্মগ্রহণ করিয়াও শূদ্রধ ব| বৈশ্য প্রাপ্ত হইয়। 
থাক, অর্থাৎ ক্ষত্রিয়ের রক্তবর্ণ হইতে চুযুত হইয়া, যদি পীতন্ব বা কৃষ্ণত্ব লাভ 
করিয়া থাক, তাহা হইলে তুমি ক্ষত্রিয়-কুলে জন্মগ্রহণ করিয়াও বৈশ্যত্ব বা শৃদ্রহ 
প্রাপ্ত হইয়াছ বুঝিতে হইবে এবং পরজন্মে বৈশ্য-কুলে কিনব শৃদ্র-কুলে তোমার 
জন্ম অবশ্যস্তাবী। এবং তোমার পিত্বগণ তোমার বর্ণ-নিম্নতাবশত; তোমার 
দ্বারা বিশেষরূপে উপকৃত হইতে পারেন না, সুতরাং পিণোদক বিলুপ্ত-প্রায় হয়, 


৯২ উপনিষপ্রহণ্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


তাহারা পতিত হইতে পারেন। দেবযান ও পিতৃযান বুঝাইবার সময়ে এ তত্ব 
বিশদরূপে আলোচিত হইবে । 

এইখানে আর একটু বলিয়া রাখি, আমাদিগের ভাষার অক্ষর-নকলও এই 
কারণে বর্ণ বলিয়া পরিচিত। শব্দ_-ভাঁবের অভিব্যক্তি মাত্র; ভাবশুন্য শব্দ 
হইতে পারে না 7 অক্ষর বা বর্ণ সমস্ীভূত হইয়া শব হয়; এক, ছুই বা ততোধিক 
অসম্পূর্ণ কষুত্ ক্ষুদ্র ভাব পুঞ্জীডূত হইয়া, একটি*পূর্ণ ভাব_-পূর্ণ শব্দ-তরঙ্গ স্থজন 
করে। আমি পূর্বে বলিয়াহি) তাব-নকল উদ্দীপিত হইলে বর্ণালোক ঝলসিয়া 
উঠে। “অ,” “আ,৮ “ক” প্রভৃতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাব অভিব্যক্তির সময়েও ব্ণ-তরঙ্গ 
উদ্বেলিত হয়; সেই জন্ত ভাষা বর্ণ তন্বের অন্তর্গত ও অক্ষর-সকল বর্ণ বালয়া 
পরিচিত। একই ভাব বিভিন্ন মনুষ্য-সমাজের দ্বারা ভিন্ন ভিন্ন শব্দে যে 
অভিব্যক্ত হয়, তাহার কারণ--আমাদিগের সক্ষম দেহের বর্ণ-বিভিন্নতা। যেমন 
তরঙ্গপকল জলের বর্ণের অনুরূপ বর্ণ প্রাপ্ত হয়, অর্থাৎ যেমন রক্তবর্ণের তরল 
দ্রব্য তরঙ্ষিত হইলে, রক্তবর্সের তরঙ্গ উৎপন্ন হয় বা পীতবর্ণা় কোন তরল 
দ্রব্য আন্দোলিত হইলে, গীতবর্ণেরই তরঙ্গ রচিত হয় অর্থাৎ যেমন একই 
বায়ুহিল্লেলে পীতবণীর ৪ লোহিতবণীয় তরল প্রব্যদ্বয় ছুই প্রকার বিতিন্ 
বর্ণের ওরঙ্গ উৎপাদন করে, তেমনই একই ভাব ছিন্ন ভিন্ন বণীয় মনুষ্যের 
কগে ভিন্ন ভিন্ন রূপে উচ্চারিত হয়। 

ভাবই শ্থষ্টি-বৈচিত্র্ের মূল । অরূপ ভাব উদ্দীপ্ত হইয়া, কপময় ব1 বর্ণময় 
হইয়া উঠে ও রূপ-জগৎ রচনা করে ॥ আমাদের স্থুলদেহও ভাবলকল ঘনী- 
ভূত হইয়া রচিত হয়ত এ কথা পুব্বে বলিয়াছি। এ জন্যই আমাদের 
শাস্ত্রে ভাব-সংযমের নানাপ্রকার ব্যবস্থা আছে। আচার, খাগ্ভবিচার, নিষ্ঠা, 
উপাসনা, প্রন্মচধ্য-- এ সমস্ত এ ভাব-সংযমের জন্যই বিধিবদ্ধ হইয়াছে । ভাঁব- 
সংযমের জন্যই কন্মবিচার-__ভাব-সংঘমের জন্ঠই জাতিবিচার--ভাব-সংঘমের 
জন্যই সমাজ সংগঠিত। ভাব হইতে বর্ণ, বর্ণ হইতে কর্ম, কন্ম হইতে শরীর । 
আবার শরীর হইতে কর্ম, কর্ম হইতে বর্ণ, বর্ণ হইতে ভাব। শক্তির এই 
উভয়মুখী গতি যে সম্যক্রূপে হৃদয়ঙ্গম করিতে সমর্থ, তাহাকেই যথার্থ বিদ্বান্‌ 
বল যায়। এ সম্বন্ধে একটা উপাখ্যান বলি। 

এক সময়ে কৌন দেশে এক পশ্ুভাষাভিচ্ ন্পতি ছিলেন। তিনি এক 
দিন প্রভাতে নিজ প্রাসাদের ছ্বার-সমীপে একটা কুকুর ছাড়াইয়! রাহয়াছে 


উপনিষদ্রহন্ত বা! সীতার যৌগিক ব্যাখ্য!। ৯৩ 


দেখিতে পাইলেন। রাজাকে দেখিতে পাইয়াই কুকুরটা চীৎকার করিতে আরন্ত 
করিল । রাজা বুঝিলেন--কুকুরটী বলিতেছে, দেই নগরের কোন এক ব্রাহ্মণ 
তাহাকে অযথা ভাবে ও অন্তায়রূপে প্রহার করিয়াছে । কুকুর সেই জন্য রাজ- 
সমীপে বিচারপ্রার্থ হইয়া আসিয়াছে। কৌতুহলাক্রান্ত হইয়া, রাজা সেই 
ব্রাহ্মণের অন্বেষণের জন্য চারি দিকে লোক প্রেরণ করিলেন। 

্ষণকাল পরে, সে ব্রাহ্মণ, আসিয়া রাজসমীপে উপস্থিত হইলেন এবং 
রাজাকে আশীর্বাদ করিয়া! আহ্বানের কারণ কি, জিজ্ঞাসা করিলেন। রীজা 
বলিলেন, “আপনি অন্যায় ভাবে, বিনা দৌষে এই কুকুরটাকে প্রহার করিয়াছেন 
বলিয়া বিচারপ্রার্থী হইয়। কুকুর আমার নিকট উপস্থিত হইয়াছে । আপনি 
উহাকে কি কারণে প্রহার করিয়াছেন, জানিতে, ইচ্ছ। করি ।” ভ্রাঙ্গণ উত্তর 
করিলেন “আমি আমার গুরুদেবেন পুজার জন্য পুষ্পাদি আহরণ করিয়া আসিতে 
আসিতে কুকুরটাকে পথ অবরোধ করিয়া শায়িত থাকিতে দেখিরা, স্পৃট হইবার 
ভয়ে পথ হইতে সরিয়। বাইতে বলিরাছিল।ম। কিন্ক পি কারণে জানি না, 
আমার আজ্ঞামত আমাকে সে পথ ছাড়ির। দেয় নাই। আগামি অঙ্গ নকালন। করিয়া, 
উহাঁকে সরাইয়া দিতে উদ্যত হইলে, কুকুরটী আমাঁকে স্পর্শ করিয়াছিল এবং 
তজ্ন্ত আমার পুজার দ্রব্-সকল নপ্ট হইয়। গিয়াছিল। উহার সেই অবিমুস্য- 
কারিতার জন্য আঁগার হ্বদয়ে ক্রোধোদ্ধেক হইয়াছিল এবং মেই জন্য আমি 
উহ্নাকে প্রহার করিয়াছিলন |” কুকুরটি বলিল, “আম পথ পধাটনে অত্যন্ত 
রলাস্ত হইয়া পড়িয়াছিলাম এবং সেই জন্ত আমার সরিতে বিলঙ্ব হঈস্াছিল ও 
চলিতে গিয়া অসাবধানতাবশতঃ ত্রাঙ্গণের অঙ্গ স্পর্শ করিয়াছিলাম। অঙ্গ 
এরাঙ্গণ' আমার মনোভাব না বুঝিয়াই আমাকে প্রহার করিয়াছেন, সুতরাং উনি 
দৌঁধী।” রাজা উভয়ের বাক/ শুনিয়া বলিলেন, ব্রাঙ্গণ ! আপনার দোষ 
হইয়াছে এবং আপনি রাজান্ুশাননে শান্তি লইতে বাধ)” কুকুর বলিল, 
“আপনার বিচারে ব্রাহ্মণ যথার্থ দোষী বলিয়া ঘদি বিবেচিত হন, তাহা হইলে 
আমার অভিলাষ অন্গুমারে শাপ্তি দিন। উহ্থাকে কুলপতিপদে বরণ করুন ।, 
ব্রাহ্মণ শুনিয়া আশ্তর্ধযাপ্থিত হইলেন, রাজাও হাপিয় ব্রাক্মণকে জিজ্ঞাস! 
করিলেন, _দ্ত্রাঙ্গণ ! আপনার বোধ হয়, শাপে বর হইল; আপনি ইচ্ছা করিলে, 
আমি আপনাকে কুলপতিপদে বরণ করি।” ত্রাঙ্মণ নিজের মঙ্গল হইবে বুৰিয়া 
বলিলেন, “আমি এ পদ গ্রহণে সমত আছি, কিপ্ত আমার হ৫র বিন! অন্ভুনতিতে 


৯৪ উপনিষদ্রহন্ত বা নীতা যৌগিক ব্যাখ্যা । 


পারিব না।” এই বলিয়৷ রাজার অন্ুমতি লইয়া, ব্রাহ্মণ সানন্দে গুরুগৃহাভিমুখে 
প্রস্থান করিলেন, কুকুরটাও তাহার সঙ্গে সঙ্গে চলিল। গুরুসমীপে উপস্থিত 
হইয়া, সমস্ত বিষয় বর্ণন। করিবার পর, ট্রাহার গুরুদেব তীহাকে বলিলেন,--“বংস ! 
তুমি যে পদ-প্রাপ্তির আশায় আনন্দিত হইয়াছ্‌, উহা! বস্তুত; আনন্দস্থচক নহে। 
এই কুকুরটাও এক সময়ে কুলপতি ছিল এবং এ কুলপতিপদই উহার কুকুরত্ব 
লাভের কারণ। প্রভুর তোষামোদ, মনস্ত্টি, হিতাহিতজ্ঞানশৃন্ভাবে প্রভুর 
কুকাধ্য সমর্থন প্রভৃতি দোষে সাধারণতঃ ত্ৃত্য-সকল দূষিত হয়ঃ বিশেষতঃ 
কুলপতিপদ। এবং এরূপ অবিশৃষ্যকারিতার ফলম্বরূপ তাহাদিগের সুক্মদেহ 
এরূপ সংস্কারাপন্ন হইয়া গিয়া, শেষ তাহাকে কুকুররূপে পরিণত করে। দীসত, 
বিশেবতঃ বুলপতিক্র কুকুরবৃত্তি বলিয়া জানিও। এ কুকুর সেই হিসাবেই 
তোমাকে কুলপতি করিবার জন্য রাজার নিকট প্রার্থনা করিয়াছে । যদি কুকুরত্ব 
চাঁও, তবে এ পদ লইতে স্বীকৃত হইও।৮ ব্রাহ্মণ শুনিয়া, কুকুরের নিকট ক্ষমা! 
ভিক্ষা করিয়া তাহাকে অন্ধ করিলেন । 

বপ্ততঃ কন্দ হইতে ভাব, ভাব হইতে পুনরায় বর্ণ ও বর্ণ হইতে কিরূপে কন্ম 
এনুষ্ঠিত হয়, এই উপাখ্যানটাতে তাহ! ন্ুন্দর হৃদয়ঙ্গম হয় । 


দোধৈরেতৈঃ কুলন্রনাং বর্ণসঙ্করকারকৈঃ। 
উৎসাগ্যন্তে জাতিধন্মাঃ কুলধন্মাশ্চ শাঙ্বতাঃ ॥ ৪২ 


কুলগ্বানাং এতৈ; বর্ণসঙ্করকারকৈঃ দোষৈঃ শাশ্বতাঃ জাতিধশ্মাঃ কুলধন্মা্চ 
উৎসাদ্ান্তে | 

কুলদ্দিগের এই বর্ণসঙ্কর-দোঁষ সনাতন জাতিধশ্ম ও কুলধর্মম উচ্ছেদিত করে। 

কুলধন্ম ও জাতিধর্মের বথ। পুর্বেবে বলিয়াছি। মাতৃশক্তি সাধারণতঃ 
সমষ্টিভাবে জগৎকে যে ক্রমোন্নতির পথে লইয়া! যাইতেছেন, সেই প্রাকৃতিক 
ধর্মাকেই কুল-ধর্্ম বলে এবং সেই কুল-ধর্্মকে সাহায্য করিবার জন্য আমাদিগের 
আধ্যাত্মিক দেহের বর্ণরঞ্চনার বিজ্ঞানসম্মত অনুশীসনকে জীতিধন্ম বলে। জাতি- 
ধন্ম ও কুল-ধন্মের ইহাই স্থুল মন্খ। 

কুলদ্ধ হইলে অর্থাৎ ইন্দ্রিয়-ধন্ম উচ্ছেদদিত করিলে, ব্ণসঙ্কর প্রাপ্ত হইয়া! 
কুল-ধর্মম ও জাতিধর্ম্ম উচ্ছেদিত হইতে পাঁরে এবং সেই আশঙ্কায় সাধকের প্রাণ 
চঞ্চল হইয়া উঠে । যাহারা মায়ার প্রলোভনে পড়িয়। ইন্দ্রিয়ধন্মের আপাতভোগ- 


উপনিযদ্রছন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা ৯৫ 


মাধুর্য মুগ্ধ হইয়া, শুধু নিজের ইন্ড্রিয়-বৃন্তির চরিতার্থতার জন্য মৌখিক 
যুক্তি অবলম্বনে ইন্ড্রিয়-ধন্মে থাকিতে চাহে, সে সকল নগণ্য জীবের কথা 
বলিতেছি না। ধাহারা যথার্থ ভগবদন্বেধী--মাতৃ অন্বেষণে বস্তুত; ধাহারা 
কতসন্কল - ধাঁহাঁদিগের প্রাণ “মা” “মা” করিয়া অনবরত কাঁদিতে শিখিয়াছে, 
এবং শুধু মাকে পাইবার জন্ত কোন্‌ পন্থা অবলম্বনীয়, মেই পন্থ। বিচার করিয়া) 
ধাহারা ইন্দ্রিয়-ধর্মে থাকিতে চাঁহেন, তাহাদিগের কথাই বলিতেছি। প্রথমতঃ 
সেই সমস্ত যথার্থ মাতৃঅন্বেধীর প্রাণে এই সমস্ত ইন্দ্রিয়-ধান্মের গুণ 
ফুটিয়া উঠিতে থাঁকে। সমাজে বৈজ্ঞানিক যুক্তি-সম্বলিত শাস্থানুশাসন যদি 
পরিত্যাজ্যঃ তবে এত করিয়া সমাজ-শৃঙ্খল। করিবার উদ্দেশ্য কি এবং গৃহ-ধর্শ 
পালনের উদ্দেশ্য কি? তবে কি শুধু সমাজের শুঙ্খনা-স্থাপনের জন্য শান্ত, সমাজ- 
ধন লিখিয়া গিয়াছেন ? কেন, ইহার ভিতর এই সমস্ত অপুর্ব যুক্তি--অপূর্বব 
ধশ্মোন্মেষের পদ্থা-অপূবর্ব ভগবংসান্িধোর টপাঁয়সকল ত রহিয়াছে, তবে 
আমি কেশ এ ধন্ম পরিতাগ করিবেন এ কুল হারাইয়া অন্ত কুল আন্বেষণ 
কবিব? তাহাতে জাতিপম্। ও কুল-ধম্ম হইতে বিচ্যুত হইয়া অধেগতি প্রাপ্তির 
আশঙ্কা ত রহিয়াছে । যাহাতে পতনের আশঙ্কা, তাহা হইতে কিরূপে আত্মমঙ্গল 
হইবে? এইরূপ যুক্তি-তর্ক সাধককে প্রথমাবস্থায় বড়ই চঞ্চল করিয়া তোলে। 

সাধনার প্রথম অবস্থায় সাধকের কোমল প্রাণ বড়ই বিপর্ষাস্ত হয়। যতক্ষণ 
না সাংখ্যজ্ঞানে সাধক-হৃদয় আলোকিত হয়, ততক্ষণ সাধকের মনঃগীড় র বুঝি 
অবধি নাই। তারপর শক্তিজ্ঞানের বিমল আভাস প্রাণে ফুটিয়া উঠলে, তখন 
সে কালিমা দূরীভূত হইয়া যায়-_-তখন দে জগন্ময় ভগবান্‌কে প্রত্যক্ষ করে। 
সে মৃহুর্তের জন্ত আর ভগবানের সঙ্গছাড়া হয় না। এক সময়ে জনৈক সাধককে 
কেহ জিজ্ঞীস! করিয়াছিল,_«“আপনি ভগবান্‌কে দেখিয়াছেন ?” সাধক উত্তর 
করিয়াছিলেন,-_“্ভগবান্কে কে ন! দেখিয়াছে ? তুমিও ভগবানকে দেখিয়াছ ও 
দেখিতেছ, আমিও ভগবানকে দেখিয়াছি ও অহনিশ দেখিতেছি। তবে তুমি 
দেখিয়া তাহাকে চিনিতে পারিতেছ না, আমি চিনিতে পারিয়াছি, প্রভেদ 
এইটুকু |” 

বন্তুতই পপ্রভেদ এইটুকু । সকলেই তাহাকে দেখে, তবে উপলদ্ধি করিতে 
পারে না; সাধক ভীহাকে দেখে ও উপলব্ধি করে। ইহা ছাড়া অন্য পীর্থক! 
আমি বুঝি ন। 


8৬ উপনিষদরণ্ঠ বা লীতার যৌগিক শ্যাখ্যা। 


যাহা হউক, সাখ্য-জ্ঞানের বিমল আলোক-প্রাপ্তির পূর্বে চিত্তের 

সন্কীর্ণতা ও মলিনতাঁবশতঃ সাধক, জাতিধন্্ম ও কুল-ধন্ম প্রভৃতি বিশ্লেষণ 
করিয়া, তাহা নষ্ট হইবার আশঙ্কায় বড়ই বিব্রত হইয়া পড়ে ও পাছে 
ইন্দ্য়-ধন্ম পদদলিত করিয়া উন্মার্গগামী হইলে--ভাবের আবেশে সমস্ত 
ভাপাইয়। দিলে, ভ্রমবশতঃ অধোগতি প্রাপ্তি হয়, এই আশঙ্কায় সাধক অধীর 
হয় ও সাধনার পন্থা নির্ধারণ করিতে পারে না। 

তাহা হইলে, গ্ুলতঃ আমরা সাধকেন প্রাণের আশঙ্কাগুলি এইরূপে 
দেখিতে পাইলাম ।-- 

১। ইন্দিরিয়-ধর্্ম উ গুদ করিলে ভোগ বলিয়া! আর কিছু থাকে না। ভোগ 
যদি ন। রহিল, তবে সে শৃগ্তবং অবস্থার প্রয়োজন কি? 

১। ইন্দ্রিরধর্ম উচ্ছেদিত করিলে কুলক্ষয় ও মিত্রদ্রোহ রূপ মহাপাতাকের 
দ্বার! আক্রান্ত হইতে হয় । 
৩। কুলক্ষয় করিলে, জীবের স্বাভাবিক ক্রমোন্নতির পথরোধ হইয়া যাঁয় 
প্রকৃতির ধর্থা নষ্ট হয়| 
5 প্রাকৃতিক ধন ন্ট হইলে অধন্ম সঞ্চারিত হয় । 
৫। অপন্ম হইলে, আনাদিগের আধ্যাত্মিক শক্তিথলি দূষিত হয়। 
৬। আধ্যাত্মিক শক্তি ব কুলপ্্রী দূষিত হইলে, আমরা বর্ণসম্কর প্রাপ্ত হই। 
৭। বর্মপঞ্ধন হইলে, আনর! আর পিতুলেকের সম্তোষ-সাধনে সমর্থ হইতে 
পারি না ও তাহাদিগের মনঃগীড়ার কারণ হইয়।, তাহাদিগের অভিশাপ প্রাপ্ত 
হই এবং তাহাদিগের উদ্ধগতির পথে স।হায্য করিতে পারি না । 

৮। এরূপ সঙ্কর অবস্থায় বর্ণস্করবশতঃ জাতিধন্মন বা বর্শ-ধশ্ম উপেক্ষিত 
হয় ও তাহ। হইতে আমরা ভঙ্ট হইয়া! পড়ি ও প্রাকৃতিক ক্রমোন্নতির পথ আরও 
আব্বন্ধ হয় না আমরা কুল-ধন্ম হারাইয়া বমি। 


শা 


র্‌ 


উৎ্সন্নকুলবন্ধ্র।ণাং মনুষ্যাণ।ং জনা্দিণ । 

এরকে নিয়তং বাসে। ভৰতীত্যনুশুশ্রুম ॥ ৪৩ 
_. জনার্দন!  উৎসন্নকুল-ধর্্মাণাং মনুত্যাণাং নিয়তং নরকে বাসঃ ভবতি ; 
ইতি অনুগ্তশ্রম | 


জনার্দন | এইবপ শ্রুতি আছে--কুলধন্ম্র নষ্ট হইলে, মন্ুত্ত-সকলের নিয়ত 
নরকে বাস হয় | 


উপনিষদ্রহ্স্ত. বা নীতাঁর যৌগিক ব্যাখ্যা । ৯৭ 


নিয়গতিকে নরক বলে। যেখানে লোকসকল উদ্ধগতি হারাইবামাত্র নীত 
হয়, তাহাকে নরক বলে। নৃ-লওয়া+ অক; এইরূপে নরক শব্দের উৎপত্তি। 
উদ্ধগতি হারাইবামাত্র লৌক-সকলের গতিচ্যুতি হয় ; এবং সেই জন্যই উহা! নরক 
বলিয়া অভিহিত | পুর্বে উল্লিখিত হইয়াছে, ধর্কার্য্যের অভাব হইলেই অধর্্ম 
সথশরিত হয়; এবং অধর্ম হইতে নরক-প্রাপ্তি অবশ্যন্তাবী ; ধর্্মকা্ধ্য করিব না, 
অধর্্ও করিব না, এরূপ হইতে পারে না, এ কথা পুর্বে সবিস্তারে বুঝাইয়াছি। 
কতরাং কুল-ধন্ম উচ্ছ্দ্িত হইলে বা প্রাকৃতিক ক্রমোন্নতির পথ হইতে বঞ্চিত 
হইলে, গতিট্াাতি বা নরক-লাভ যে অবশ্যন্তাবী, তাহা। স্পষ্ট বুঝ! যাইতেছে । 

জনার্দন বলিয়া সম্বোধন করিবার কারণ- জনার্দন শব্দের অর্থ__অষ্টা ও 
প্রলয়কর্তা। জন অর্থে-জন্মীন বা জন করা 'এবং অর্ধন অর্থে--সংহার ব| 
নাশ । যিনি সজন ও প্রলয়ের কর্তা, তীহাকে জনার্দন বলে। আমাদিগের এই 
উর্ধগতি ও নিদ্নগতি_ আমাদিগের স্ষ্টি ও ধ্বংসের কারণ বলিয়া, সেই সি ও 
ধ্বংস ধাহার ইচ্ছায় সংসাধিত্ত হয়, ভগবান্‌ যে রূপে স্থজন ? ধ্বংস করেন, অর্জুন 
সেই রূপ ম্মরণ করিয়া মরকবাসের কথা বলিলেন। 

প্রতি মৃহূর্তে আমরা মরিতেছি__ গতি মুহ্টে আমরা নুতন হইয়া জন্মাইতেছি। 
আমাদিগের প্রাণশক্তি প্রতি শ্বাসগ্রহণে সংঘৃষ্ট ও উদ্দীপিত নুতন বর্ণরগরনায় 
অভিব্যক্ হুইয়া আমাঁদিগের দেহকে তদনুযাঁয়ী ভাবে গঠিত করিতেছে ; এবং 
পুরাতন ভাবটুকু প্রশ্বীসের সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংসীভূত হইয়া, বহির্গত হইয়া যাইতেছে--- 
সঙ্গে সঙ্গে তাহার স্থুল ও স্বক্ম দেহের পরমাণুগুলি বিনষ্ট হইতেছে । এইরূপে 
মৃত্যু ও জন্ম আমাদিগের স্থুল ও সুস্ট্রদেহের উপর অনবরত আধিপত্য করিতেছে । 
যখন আমরা সাত্বিক গুণের দ্বারা পরিচালিত হই, তখন এই শ্জন বা পোষণ 
অধিক মাত্রায় হইতে থাকে ; এবং সেই পোঁষণ*শক্তি-গ্রভাবে আমরা উর্ধগতি 
লাভ করিতে থাকি । রজঃ ও তমঃশক্তি দ্বার পরিচালিত হইলে, আমাদিগের 
মৃত্যুরূপ ধ্বংসকীধ্য সম্পন্ন হয় ও "এ ধ্বংসশক্তিপ্রভাবে আমাদিগের নিম্নগতি 
হয়। আহনিশ এইরূপ উর্ধা নিম্নগতির প্রভাবে 'ও অনুপাতে আমরা একটা 
স্থায়ী ভাবের উর্ধা বা নিম্বগতি প্রাপ্ত হই। এইরূপে আমরা ভগবানের যে 
শক্তির দ্বারা গতি লাভ করিতে থাকি, তাহাকে জনার্দন বলে। 

যাহ? হউক, আমাদিগের এই গতিকে কুল-ধর্ম বহু পরিমাণে সাহায্য করে। 
আমাদিগের কুল এরূপ গতির একটা স্থায়ী অবস্থা বা স্তর মাত্র। যেমন কৌন 


১৩ 


৯৮ উপনিষদ্রহন্য বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


ভ্রিতল গ্রাসাদে আরোহণ করিতে হইলে, সোপাঁনে সোপানে ভ্রমণ করিয়া এক 
একটা - তল পাওয়া যায় এবং লেই তলে কিছুক্ষণ অবস্থান করিয়া, আবার 
সোপান বহিয়া উর্ধতন তলে আরোহণ করিতে হয়, তদ্রুপ আমাদিগের প্রাকৃতিক 
ক্রেমোন্নতি যেন এরূপ সোপান এবং মমুস্ত, পণ্ড, পক্ষী বা শুড্র, বৈশ্য, ব্রাহ্মণ, 
ইত্যাদি যেন এক একটি তল। এই তলগুলির শাস্ত্রীয় নাম--কুল। 

কুলের দ্বারা আমাদিগের এই গতি বিশেষ সাহায্য প্রাপ্ত হয়। যেমন 
বেগবান্‌ পশু লক্ষ প্রদানের সময় ধরণীর উপর ভর দিয়া, ধরণীর প্রতিরোধ-শক্তির 
সাহায্যে লক্ষরূপ ক্রিয়াটী বেগে সম্পাদন করিতে সমর্থ হয়, মাটির উপর বেগে 
দ্রমক ন| দিলে, যেমন লম্ফ প্রদান অসম্ভব হইয়া উঠে, তদ্রুপ আমাদিগের গতিও 
এক একটা স্থায়ী কুলে ভর দিয়! নব বেগ প্রাপ্ত হয় এবং ধন্ম বা উদ্ধগতিজনক 
কার্ধ্য সকল সময় করিতে না পাঁরিলেও সহসা নিন্গগতি-প্রভাবে মে কুল ছাড়িয়া 
নিন্নতর ফুলে গতি হয় না । অবশ্য বহুল পরিমাণে নিন্গতি প্রাপ্ত হইলে কুল 
ছাড়িয়া অন্ত কুলে গতি হয়, কিন্তু সহস! স্বল্পমাত্র নিম্নগতির দ্বারা আমাদিগকে 
কুল ছাড়িয়া যাইতে হয় না; কুলের গতিরোধশক্তি কিছুক্ষণ আমাদিগকে ধরিয়া! 
রাখিতে সমর্থ । এই প্রকারে কুল বা আমাদিগের গতির স্তর উদ্ধগতিকে 
সাহায্য ও নিম্নগতিকে প্রতিরোধ করে । কিন্তু কুল-ধন্ম পালন না করিলে কুল 
উৎসন্ন হয় ও তাহার এরূপ উপকারিতা হইতে আমরা বঞ্চিত হইয়! নিল্নমুখে 
অথবা নরকে নীত হই । 

তবে সাধকের প্রাণে ইন্রিয়-ধন্ম পরিত্যাগের জন্ত এত আগ্রহ আসে কেন? 
ভগ্রবংলাভের তৃষা আসিলে, ইন্ড্রিয়ের উপর বৈরাগ্য হয় কেন? বেদে আছে,_ 

“পরাঞ্চি খানি ব্যতৃণৎ স্বয়ন্তুঃ 
তস্মাৎ পরাক্‌ পশ্যতি নাহস্তরাত্মন্‌।” 

ইন্দ্িয়গণ পরের অনুগত হইল দেখিয়া, ্বয়ন্তু তাহাদিগকে অভিশপ্ত 
করিয়াছেন। অথবা স্বয়ন্তূ ইন্দ্রিয়গণকে বাহাদৃষ্টিসম্পন্ন করিয়াছেন বলিয়! 
অস্তরাত্মাকে তাহার! দেখিতে পায় না। 

বস্ততঃ তখন সাধকের প্রাণ যাহা খুঁজিতেছে, তাহা ত ওতপ্রোতভাবে 
সমগ্র রন্ধাণ্ড ব্যাপিয়। অবস্থিত। ভগবানের অভাব কোথায়? ইন্দ্রিয় যাহা 
বহন করিয়া আনে, তাহা ভগবান; তবে ইন্ড্িয় সেগুলিকে ভোগ্য বিষয় 
বলিয়া গ্রহণ করে ও তাহার অনুগত হইয়া পড়ে বলিয়া, তাহারা ভগবান্কে 


উপনিধদ্রছন্ড বা ললিতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৯৯ 


ভগবান্‌ বলয়! চিনিতে পারে না ও প্রাণকে চিনিতে দেয় না। তাই প্রাণ 
ইন্দরিয়-ধর্মা পরিত্াাগের জঙন্ লালায়িত হয়। তাই সাধকের প্রাণ ইন্দ্রিয়- 
সকলকে বিশ্বাধাতক ভাবিয়া, তাহাদিগের উচ্ছেদসাধনে যত্ববান্‌ হয়। কিন্ত 
তারপর বিচার ও তন্ব-বিশ্লেষণের দ্বারা ইন্দিয়-ধর্মের উচ্ছেদে পূর্ববোক্তরূপ 
ধর্মনাশের আশঙ্কা দেখিয়া, সে সাধক উভয়-সঙ্কটে পড়ে) কি করিবে, স্থির 
করিতে পারে না । ভাবে- ইন্দ্রিয় ছাঁড়িলে মহাপাঁপ হইবে। 


অহো। বত মহৎ পাঁপং কর্ত, ব্যবসিতা বয়মৃ। 
যদ্রাজ্যহুখলোভেন হস্তং স্বজনযুগ্ধতাঃ ॥ ৪8 
অহে। বত বয়ং যশ রাজ্যম্ুখলোভেন স্বজনং হস্তম্‌ উদ্তাঁঃ ( তম্মাৎ ) মহং 
পাপং কর্ভং ব্যবসিতাঃ | 
হায়! আমরা যখন রাজ্যন্ুখলোতে স্বজন-বধে উদ্যত হইয়াছি, তখন মহাঁ- 
পাপ করিতে যত্ববান্‌ হইয়াছি ( বুঝিতে হইবে )। 
স্ার্থান্ধ হইয়া আব্ম-প্রতিষ্টার জন্য সনস্ত ভীসাইয়া দিয়া, আশ্রম-বর্ঘমকে 
অবহেলা করিতে উদ্ভত হইয়া, নিশ্চয় মহাপাপের দিকে অগ্রসর হইতেছি । 


যদি মামপ্রতীকা রমশন্ত্রং শন্ত্রপাণয়ঃ | 
ধার রাষ্ট্র রণে হন্যুন্তন্মে ক্ষেমতরং ভবেৎ ॥ ৪৫ 
যদি রণে অপ্রতাকারম্‌ অশন্জং মাং শন্ত্পাণয়ঃ ধার্তরাস্্রী হন্ত্যুঃ) তৎ মে 
ক্ষেমতরং ভবেৎ। 
যদি যুদ্ধে প্রতিরোধ-বিমুখ অশন্ত্র আমাকে সশস্ত্র কৌরবগণ বধ করে, ভাহা 
আমার পক্ষে পরম মঙ্গলকর। 
প্রকৃতি আমাকে কুলে কুলে ভাঙাইয়া লইয়া চলিয়াছে, আমিও পূর্ব পূর্ব 
জন্মাব বিনা রোধে, বিনা প্রতীকারে তেমনই ভাসিয়৷ ভাদিয়া যাইব। শাস্ত্রের 
অবমাননা করিয়া ইন্দিয়-ধন্ম পরিত্যাগ করিব না। এত জন্ম ধরিয়া যে সমস্ত 
ইন্দিয়-জ্ঞান ফুটংইয়! তূলিলাম, আজ সহসা তাহার উচ্ছেদ-সাধনে হড্ুবান্‌ হইব 
না। তাহাতে আমার অমঙ্গল সাধিত হয় হউক। 
সঞ্জয় উবাচ 
এবমুক্তজ্ভুনঃ সংখ্যে রখোপস্থ উপাঁবিশৎ । 
বিশ্জ্য সশরং চাঁপং শোকমংবিগনমানসঃ ॥ ৪৬ 


টব উপনিষদ্রহস্ত ব| গীভার যৌগিক ব্যাখ্যা। 


এবম্‌উক্ত1 শোকসংবিগ্মানসঃ (সন) সংখ্যে সশরং চাপং বিস্বজ্য অর্জুন; 
রখোপস্থে উপাবিশৎ। 

সঞ্জয় বলিলেন,_এইরূপ কহিয়! শোকাকুল-চিত্তে রণস্থুলে ধন্ুশর পরিত্যাগ 
করিয়া, অর্জুন রখোপরি উপবেশন করিলেন । 

বছ দ্বিন ধরিয়া! বৈরাগ্যে কৃতনিশ্চয় হইয়া, নানা প্রকারে সমরাঁয়োজন করিয়া, 
তাঁর পর রপপ্রাস্তরে অরি-পক্ষের সম্মুখে দাড়াইধা, এইবপে অরি হনন করিব না 
বলিয়! অস্ত্রশস্ত্র পরিত্যাগ কর! অতি বিচিপ্র। এমন অপুর্ব ভাব বুঝি আর নাই। 
সব ছাড়িয়া, গুধু কবি হিসাবে দেখিতে গেলেও ইহার তুলন। নাই । কত দিনের 
আশীকে--কত দিনের আকাজ্গাকে মুহুর্তের মোহ এইরূপে হৃদয় হইতে বিতাড়িত 
করিতে প্রয়াস পায়। ৪ 

শুধু ইহা নহে। মায়ার রহস্য ভেদ করা অসম্ভব। পলকে পলকে যাহার 
নির্ধ্যাতনের জন্ত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হইয়াছি--পলকে পলকে যে মায়াকে লৌহ-কারা 
ভাবিয়া, বাহির হইবার জন্য অবিরাম পরিশ্রম করিয়াছি, অক্লান্ত অধ্যবসায়ে যে 
মায়ার বাধন ছিড়িয়া ফেলিতে অহনিশ যত্ব করিরাছি--যে মায়াকে রাক্ষসী 
ভাবিয়া, পলকে পলকে আমার র্তশোধণ করিতেছে ভাবিয়াছি--যে মায়ার বক্ষে 
পদাঘাত করিয়া, মেঘমুক্ত সুর্যের মত স্বাধীন স্বপ্রকাশ ভাবে দাড়াইব বলিয়া 
ব্ছ দিন হইতে হৃদয়ে আশা পোষণ করিয়া আসিয়াছি, আজ সহসা সমস্ত 
আয়োজন পুর্ণ করিয়া--সমস্ত শক্তি সংগ্রহ করিয়া, সে রাক্ষসী বধের জন্য তাহার 
সম্মুখে উপস্থিত হইয়া দেখিলাম_-এ কি? এত রাক্ষসী নহে, এ যে স্সেহের 
মৌহিনী মুর্থ--এ যে মাতৃ-হৃদয়ের স্েহকরুণার মূর্তিমু় বিকাশ-_এ ত বিমাতা 
নহে, এ যে “ম।”--এ ত বিষকুম্ত নহে, এ যে অমৃত-কলস --এ ত অগ্নির জ্বলন্ত 
দাহ নহে। এ যে জ্যোংল্সার লিগ্ধ পরশ | 

একি! আম কি করিতেছিলাম ! বিশ্বাসী প্রভুভক্ ভূত্যকে কৃতদ্ব 
ডাবিতেছিলাম_-গুরুকে বধ্য ভাবিতেছিলাম--ভ্রাতাকে শক্র ভাবিতেছিলাম ! 
সব ভাসাইয়া দিয়া, সর্বনখে জলাঞুলি দিয়া, এরূপ ভাবহীন আত্ম-প্রতিষ্ঠায় 
গ্রয়োজন কি? 

কেন আমি ইন্ড্িয় ছাঁড়িব? ইন্ড্রিয় সাহায্যে জগৎকে যেমন প্রত্যক্ষ ভাবে 
উপভোগ করি, তেমনি প্রত্যক্ষভাবে ইন্দ্রিয় সাহায্যে কেন তোমার ভোগ করিতে 
পাইব না? ভগবন্! আনার এই চন্মচক্ষু কেন তোমায় দেখিতে পাইবে না? 


উপনিষদ্রহন্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ১৪১ 


আমার শ্রবণদ্য় কেন তোমার মধুময় ন্মেহের আহ্বান শুনিপ্া-কৃতার্থ হইবে না? 
আমার করদ্য় কেন তোমার রক্তচরণ স্পর্শ করিয়া অভূতপূর্ব স্পর্শন্ুখ অনুভব 
করিবে না? আমার ইন্দ্রিয়সকল স্ব স্ব শক্তি অন্নুযায়ী তোমার আলিক্ষনান্বাদ 
কেন পাইবে না? আমায় যেমন ইন্দ্িয়ময় করিয়া তুলিয়াছ, তুমিও তেমনি 
ইন্দ্রিয়য় হইয়া কেন আমার সম্মুখে আদিবে না? তা হদি না আসিবে, কেন 
আমায় ইন্ড্রিয়-ধর্ে অত্যন্ত করিয়া তুলিলে? তা যদি না আলিবে, তবে কেন 
আমায় ইত্ড্িয়সকল ফুটাইয়া তুলিতে জন্ম জন্ম ধরিয়া নানা যোনিতে ঘুরাইয়া 
ঘুরাইয়া এত যস্তরণা দিলে ? তা যদি না আসিবে, তবে এত করিয়া সমাজ-ধর্শ- 
সকল বিধিবদ্ধ করাইয়াছ থেনে? আজ সহসা আবেগে পড়িয়া সমস্ত কেমন 
করিয়৷ পরিত্যাগ করিব? আঁজ সহসা স্বপ্প ভানিয়া, কেমন করিয়া! সব মুছিয়া 
ফেলিব? সত্য যদি সব স্বপ্নবৎ, তবে স্বপ্ণেই আমি তোনায় ভোগ করিতে চাহি। 
সব যদি শিথ্যা, তবে এই মিথ্যারই মাঝে তোমায় আমি প্রত্য্ করিতে চাহি। 

ঘে আত্ম-প্রতিষ্ঠায় তোনায় ম! বলিয়া সম্থোবন করিতে বাক্য থাকিবে নাঃ যে 
আত্মপ্রতিষ্ঠার তোমার গস্কে বপাইয়া পড়িয়া, তোমার কঠ জড়াইয়া ধরিবার 
জন্য বাহুদ্ধয় থাকিবে না, যে আস্মপ্রতিষ্ঠার তোমার শ্বেহভীরনত্র কৌমল মনো" 
খুগ্ধকারী বঙ্কিম নয়ন দেখিবার জন্ত চক্ষু থাকিবে না, যে আত্মগ্রতিষ্ঠায় চক্ষের 
ভিতর দিয়া আকর্ষণের প্রবল তড়িৎ ছুটিবে না, যে আত্মগ্রতিষ্ঠায় মিলনের 
ৃখন্ন্তোগের জন্য হৃদয় থাকিবে না, সে আত্ম-প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন কি ? 

যথার্থ ইন্দ্রিয় ধন্ম পরিত্যাগে কৃতসঙ্কল হইলে, প্রাণে এইরূপ আশঙ্কা আসে, 
এইরূপ মোহ হৃদয়কে অভিভূত করে। ইশ্ট্রিয়তত্ব উত্তমরূপে জ্ঞাত না 
থাকায় অজ্ঞ, নিম্নাধিকারী সাধকের প্র।ণ এইরূপে কীপিয়। উঠে_এইরূপে বিষাদ- 
বিমগ্ডিত হয়। 

বস্তুতঃ আত্মপ্রতিষ্ঠ। যে ইন্দ্রিয়ের উচ্ছেদ নহে, ইন্ড্রিয়ের পূণ অভিব্যন্তি, 
তহা তখন সে জানে না। আত্মপ্রতিষ্ঠায় ইন্দ্রিয় উচ্ছেদিত হয় নাঃ ইপ্ট্রিয়- 
সকলের অবয়ব মাত্র উচ্ছেদ্দিত হয়, অথচ তাহাদিগের কার্যকারিতা অটুট থাকে; 
বরং স্কুটতর হয়। আমর! দিন দ্রিন যত শক্তিমান্‌ হইতেছি, আমাদিগের ইন্দ্রিয় 
সকলও তত স্ুল ও জড় ভাব হারাইয়া, সুক্ষ ও ব্যাপকরূপে কার্যকারী হইতেছে। 
স্থল কোষে সংযুক্ত থাকিয়া ও তাহাতে কার্য করিয়া শক্তি যত বলবতী হইতে 
থাকে, স্কুলের সাহায্য ততই আমর। ক্রমে ক্রমে পারত্যাগ করি। ক্রমশ; এমন, 


১০২ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথ্যা | 


সময় আইসে, যখন স্থল অংশ না থাকিলেও আপনি স্থুলের বিনা সাহায্যে কাধ্য 
করিতে সক্ষম হই। এবং এ অবস্থাই নিরবয়ব অথচ সম্পূর্ণ বিকাশময়-- 
নিরাকার অথচ ন্ুুপ্রকাশ--কার্ধ্যহীন অথচ শক্তিময়-_-সববেক্জিয়-বর্জিত অথচ 
সর্বেঞ্্রিয়ের গুণাভীসধুক্ত অপূর্ব্ব অবস্থায় পৌছাইয়! দেয়। 

আমাদিগের উদ্ধগতি অর্থে__স্থলের সাহায্য ব্যতীত কারধ্)কারিতার অভি- 
ব্ক্তি। যে যত দেহের সাহায্য ব্যতীত ইন্দরিয়-কীর্য্য সম্পন্ন করিতে সমর্থ; তাহার 
তত উর্ধগতি হইতেছে বুঝিতে হইবে। এরূপ কাধ্যকারিতার অনুসারে লোক 
হইতে লোকান্তরে জন্মপরিগ্রহণ ও বসবাস হয়। আমার যে পরিমাণে এপ 
শক্তির সঞ্চয় হইয়াছে, সেই পরিমাণে সেই শক্তি যে লোকে ক্রিয়াশীল, সেই 
লোকে আমার জন্ম হইবে, ইহা স্থির সিদ্ধান্ত । একটা স্ুুল দৃষ্টান্ত দিয়া বুঝাই। 

মনে কর, তুমি যোগ অভ্যাম করিতেছ। যোগ অভ্যাস করিলে, দেহ 
বাযুবৎ লঘুহয়। এমন কি, খুব দুর্বল মন্তৃত্য ও তোমার দেহকে তুলিতে সক্ষম 
হয়; অবশ্য কোন যৌগিক শক্তির সাহায্যে তুমি দেহকে পর্ব্বতবৎ গুরু করিয়া 
তুলিতে পার ; এবং সেই শক্তির সাহায্যে তুমি খুব শক্তিমান্‌ পুরুষকে তোনার 
দেহ চালনে অসমর্থ করিতে পার॥ কিন্ত সাধারণত; কোন শক্তি প্রয়োগ না করিলে, 
যোগীর দেহ লঘিম! প্রাপ্ত হয়। তোমার চক্ষুও জ্যোতিষ্মান্‌ হইয়। উঠে। 
আমরা যে সূর্য্যের দিকে এক মুহূর্ধ চাহিতে পারি নাঁ, তুমি অনায়াসে সেই সুর্যের 
দিকে বহুক্ষণ স্থিরদৃষ্টে চাহিয়া! থাকিতে সমর্থ হও । তোমার শ্রবণশক্তিও তীক্ষতর 
হয়। তুমি অহনিশ জগদ্ব্যাপী প্রণব-নাদ শুনিতে পাও। এ পৃথিবী বাসু- 
মণ্ডলের মধ্যে থাকিয়া নিয়ত ঘুরিতেছে বলিয়া, সেই গতি হইতে একটা গভীর 
মধুর রৰ অহণিশ বারুমণ্ডলে সধণরিত আছে। সে শব যোগাভ্যান করিলে 
শুনিতে পাওয়া যায়। তোমার প্রাণও তীক্ষতর হয়, সাধারণ মন্ুস্য যে পরিমাণ 
বায়ু ন পাইলে শ্বাস অবরোধের কষ্ট পায়, তুমি তাহা অপেক্ষা বু পরিমাণে অল্প 
বাঘুতে জীবন ধারণ করিতে সক্ষম হও। তোমার নাসিক! জগতের সুগন্ধের 
আত্রাণ পায়। পৃথিবীর একটা সুগন্ধ আছে, সাধারণ মনুষ্য তাহ! পায় না, 
জন্মকাল হইতে তাহাতে অভ্যস্ত না থাঁকায় সাধারণ মন্ুত্যের আণেক্দ্িয় আর সে 
গন্ধানুতূতি মনে জন্মাইতে পারে না; কিন্তু ঘোগাভ্যাসনিরত ব্যক্তি অনায়াসে 
থাকিয়। থাকিয়া! সে গন্ধের আজাণে বিমুগ্ধ হয়। যোগশক্তির পরিচাঁলনে 
তোমার এমন অভ্যাস হইয়াছে যে, বহু দূরে কেহ তোমাকে কোন থাগ্ছত্রব্য 


উট, 
উপনিষা্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যা্াী ১৮৩ 


উৎমর্গ করিয়া দিলে, কিনব! কোন থাদ্ভাত্রবা দেখিবামাত্র তুমি তোমার জিহ্বায় 
তাহার আম্বাদ পাইয়া থাক; এবং তোমার স্পর্শশক্তি তীক্ষতা লাভ করে ; 
তোমার অনতিদূরে কাহ।রও অঙ্গে কোনরূপ আঘাত করিলে, তোমার অঙ্গে সে 
আঘাত অনুভব করিতে পার। এ সব শক্তির দৃষ্টাস্তের অভাব নাই। 

যাহা হউক, এখন যদি দুমি এই অবস্থায় দেহত্যাগ কর, তাহা হইলে 
স্থলতাবে দেখিতে গেলে ও তোমার পূর্ব পুর্ধ কর্ম অনুকূলে থাঁকিলে স্পষ্ট বুঝা! 
যায় তোমার স্বর্যযলোকে জন্ম হইবে । তোমার লঘিমাবশত:ঃ সূর্ধ্যলোকে আর 
লঘুত। অনুভব থাঁকিবে ন1। সূর্যের মাধ্যাকর্ষণী শক্তি, পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণী শক্তি 
অপেক্ষা বহু পরিমাণে অধিক। যদি পৃথিবীর একটী সাধারণ বলশালী ব্যক্তি 
কোনক্রমে এই দেহ লইয়া সূর্য/লোকে যাইতে পারে, তাহ! হইলে সেখানে তাহার 
চলচ্ছঞ্তি এককালে রোধ হইবে । সুধ্যের প্রবল মাধাঁকর্ষণী প্রভাবকে পরাস্ত 
করিরা, পদচালনা করিবার সামর্থ) তাহার নাই। সেখানে তাহাকে স্থাথুভাবে 
থাকিতে হইবে; অথবা এখানে দৌড়াইতে হইলে যেরূপ বেগ প্রদান করে, 
সেখানে মেইরূপ বেগ প্রদান করিয়া হয় ত ছু এক পাদ সংক্রমণ করিতে সমর্থ 
হইবে । আবার সূর্ধ্যলোকের জীব যদি পৃথিবীতে আসে, তাহা হইলে সেখানে 
পদচালন। করিতে যেরূপ শক্তি প্রয়োগ করে, এখানে সেইরূপ শক্তি প্রয়োগমাত্র 
হয় ত সে অর্ধ ক্রেশ দূরে নীত হইবে। সুর্যের প্রবল মাধ্যাকর্ষণী শক্তিতে 
বিচরণে অভ্যস্ত বলিয়া, পৃথিবীর স্বল্প মাধ্যাকর্ষণী শক্তি, তাহার দেহের পক্ষে 
দুর্বল বলিয়া বিবেচিত হইবে । ম্ৃতরাং পৃথিবীতে তুমি লঘিমার্সিদ্ধি লাভ 
করিলে, সেই শক্তির সামঞ্জস্য রক্ষা! করিতে স্ূর্ম্যলোকই উপযুক্ত স্থান অর্থাৎ 
সঞ্চারিণী শক্তি সূর্ধ্যলোকে বসবামোপযুক্ত হইয়াছে বলিয়! বুঝিতে হইবে । 

তোমার চক্ষুর জ্যোতিধরণশক্তির তীক্ষতাবশতঃ উহাও সুধ্যলোকের 
উপযোগী হইয়াছে । যদি পৃথিবীর সাধারণ কোন মনুষ্য স্ধ্যলোকে যায়, তাহা 
হইলে সুর্য্যের প্রচণ্ড জ্যোতিতে তাহার দৃষ্টিশক্তি তৎক্ষণাৎ নট হইয়া যাইবে। 
কিন্তু নূর্য্যলোকস্থ কোন জীব এখানে আসিলে, হয় ত ছুই ক্রোশ দৃন্ববস্তী পদার্থ 
তাহার নয়নে স্পষ্ট প্রতিফলিত হইবে; তীক্ষ জ্যোতির সন্গিধানবশতঃ তাহার 
দর্শনেক্দ্িয় এত তীক্ষ হইয়াছে ; মুতরাং তোমার যোগশক্তির দ্বারা যদি দর্শনেক্দিয় 
প্রবল হইয়া থাকে, তাহ হইলে উহা! সূর্্যলোকে কার্ধ্যকারী হইবার উপযোগী 
হইয়াছে বুঝিতে হইবে এবং তোমার সূর্য্লোক-প্রাপ্তি ন্ুনিশ্চিত। 


১5৪ উপুনিষদরহ্ত বাদীর যৌগিক ব্যাপ্যা। 


্ 


তোমার প্রাণধারণের জন্ত পৃথিবীর ঘন বারুমণ্ডল আর তত প্রয়োজন হয় না, 
তুমি যোগ চট্চায় রত থাকায় তোমার শ্বাস-প্রশ্থাস নাসাত্যন্তরচারী হইয়াছে। 
ন্ুতরাং সূর্য্যমগ্ুলের মত বারুহীন বা অল্পমাত্র বায়ুচাপযুক্ত স্থানেও প্রাণকার্্য 
সম্পাদনে তুমি উপযুক্ত হইয়াছ বুঝিতে হইবে । মৃতরাং এরূপ সংস্কার প্রাপ্তি- 
বশতঃ পরজন্মে তোমার এরপ সৃূর্ধ্যাদি লোকে গতি সম্ভব । 

তোমার প্রাণশক্তি তীক্ষতাবশতঃ তুমি বারুর সাহাধ্য ব্যতীতও শুনিতে পাও 
বলিয়া, তোমার ইন্জরিয়-সংস্কার এরূপভাবে রচিত হইয়াছে ; সুতরাং বাুশুন্ত বা 
্পমাত্র বাযুবেছিত সূর্যামগ্ুলেও ভুমি অনায়াসে শব্াাদি শুনিতে সক্ষম হইবে । 
এবং এই জন্য তোমার এ সংস্কার নিজশক্তির উপযুক্ত কার্যকারী ক্ষেত্র সূর্য্যবৎ 
লোকে তোমায় লইয়া যাইবে, ইহা! স্থনিশ্চিত। এইরূপ সকল ইন্দ্রিয়ের স্থগ্ধে 
বুঝিতে হইবে। সংস্কার হইতে ইন্ড্রিয় জন্মে! পরজন্মে এ দেহ থাকিবে না; 
তবে এ দেহের শক্তি পরজন্মে কিরূপে কার্যকরী হইবে, এ আশঙ্কা কেহ 
করিবেন না। কার্য্য--দেহ করে না, কার্ধ্য--সংক্কার করে। সংস্কার কার্যোপ- 
যুক্ত দেহ নিম্মাণ করিয়া লয়। 

যাহ। হউক, ইহ! হইতে স্পষ্ট বুঝা গেল, ইন্দ্রিয়কার্ধ্য স্বকৌশলে সম্পাদিত 
হইলে, কি প্রকারে উহ! শ্ুক্মতা অথবা প্রবল কার্যকরী শক্তি লাভ করে ও 
আমাদিগকে উর্ধগতি প্রদান করে। কালে ইন্দ্রিয় নিরবয়বত্ব লাভ করিলেও, 
তাহার কার্যকরী শক্তির আভাস চিরবর্তমান থাকে। 

কিন্তু নিন্নাধিকারী সাধক এ তত্ব বুঝিতে পারে না বলিয়া, ইন্দ্রিয় হারাইবার 
ভয়ে ভীত হয়। বৈরাগাকে ইন্দ্রিয়ের উচ্ছেদ বলিয়া! মনে করে ও ইন্দ্রিয়শক্তি 
হারাইবে বুঝিয়া পুর্ব্বোক্তরূপ বিষাদে তাহার মন্ত্র গীড়িত হইতে থাকে । ইহাই 
সাধকের প্রথম অবস্থা ব! প্রথম যোগ । 


বিষাদযোগ সমাপ্ত। 


এ 


ঞীচ্বস্ডগাহদলীভা । 





দ্বিতীয় অধ্যা়। 


লাহআথ্যন্মোলশ £ 


সত] ৯ 


.. জঞ্জয় উবাচ। 
তং তথা কৃপয়াবিষ্টমশ্রপপুর্ণাকুলেক্ষণম্‌ । 
বিষীদন্তমিদং বাক্যমুবাচ মধুমুদনঃ ॥ ১ 


তথা কৃপয়! আবিষ্টম্‌ অশ্রপূর্ণাকুলেক্ষণং বিষীদস্তং তং মধুস্দন ইদং বাক্যম 
উবাচ। 

ব্যবহারিক অর্থ ।--সেইরূপ কৃপাবিষ্ট, অশ্রপূর্ণ আখি, বিষাদযুক্ত অজ্জুনকে 
মধুস্থদন এই কথা বলিলেন । 

যৌগিক অর্থ ।__বিষাঁদের গভীর অন্ধকারে সাধকের হৃদয় পরিপূরিত হইয়া! 
উঠিলে, মায়ার মায়ায় প্রাণশক্তি আচ্ছন্ন হইলে, এক দিকে ভগবদূবিরহের 
কাতরতা, অন্ত দিকে ইন্জরিয়াদির মায়া, এইউভয়-সঙ্কটে সাধকের প্রাণ বিজড়িত 
হইলে, সেই সময়ে ভগবছুপদেশ শুনিতে পাওয়। যাঁয়। ভগবচ্চিন্তা করিতে 
উপবিষ্ট হইয়া, ক্রমশঃ মন চারি দিক্‌ হইতে প্রত্যাহত হইলে- প্রাণশক্তি 
কেন্দ্রীভূত হইলে, সেই মহামুহূর্তে সাধকের হৃদয়ে এক অপূর্বব ব্যাপার সংঘটিত 
হয়। সেই সময়ে ইঞ্জিয়গ্রাম ছাড়িয়া, ভাবগ্রামে বা চিতরাজ্যে প্রবেশ করিতে 
তাহার প্রাণ কীপিয়। উঠে। অন্ধকারময় সংকীর্ণ ইন্ডিয়-পথে বিচরণ করিয়া, 
প্রাণ সংকীর্ণতা প্রাপ্ত হইয়া থাকে; মৃত্তরাং সহস। চিংরাজ্যের আলোকময়' 
বিশাল বিস্তারে প্রবেশ করিতে নে' ভীত, সন্কুচিত, বিষাদগ্রস্ত হইয়া গড়ে । 


২ উপনিষদ্বহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । . 


ঘোগের পথে আর অগ্রসর হইতে পারে না । সেই সময়ে সেই সঙ্কটাপল্প সাধকের 
প্রাণে সর্বপ্রথম ভগবান্‌ যে ভাবগুলি ফুটাইয়! দেন-্যে ভাবেব ও জ্রানের 
আশ্বাসবাণী প্রাণকে উৎসাহিত ও তুবীয়ের "কবিকে অগ্রসর করিয়া দেয়--প্রথম 
যে ভাবের দ্বারা প্রাণশক্তি সাহায্য প্রাপ্ত হয়, উহাকে সাংখ্যযোগ বলে। কিন্তু 
বিষাদের গভীর অন্ধকারে প্রাণ পূর্ণ না হইলে, এ সাংখ্য অবস্থার আস্বাদ পাওয়া 
যায়না । আজকাল অনেকেই যোগতত্ব শিখিবার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন, 
এবং সদৃগুরুর অভাবে কিছু হইল না ভাবিয়া, বিমূঢ় হইয়া আপনাকে ও কালকে 
ধিক্কার দেন। কিন্তুযে জিনিষ হইলে ম্গুক লাভ হয়--যে পাচ্ঠ প্রদান করিলে 
ভগবৎকৃপাব সন্ধান পাওয়া যায় -যোগেব যাহা মূল উপাদান-_মাতৃলাতের 
যাহা! সর্বশ্রেষ্ঠ উপাষ, তাহা স্তাহাদিগেব ভিতব খু'জিয়া পাওয়া যায় না। প্রাণে 
বিচ্ছেদের উপলব্ি, আকুল পিপাসা ও মায়েব সন্ধান পাইতেছি না! বলিয়া 
হতাশের দীর্ঘশ্বাস যতক্ষণ না৷ আসিবে, ততক্ষণ সাধনার প্রয়াস বিডম্বনা মাত্র। 
চলচ্ছক্তি যাহার নাই, পথেব সন্ধান লইয়া তাহাব লাভ কি? জলম্োত আপনি 
আপনাব পথ বাহির কবিয়৷ লয় ও প্রণালী কাটিযা দিলে ম্থগমে সাগব লাভ 
কবে ; কিন্ত আত না থাকিলে শুক্ক প্রণালী পড়িয়া থাকে। 


গ্রীতগবাস্থবাচ। 
কৃতত্্ব। কশ্মালমিদং বিষমে সমুপস্থিতমূ । 
অনাধ্যজুষ্টমন্বর্যমকীর্তিকরমর্জন ॥ ২ 


কর্ন কত: ইস অনার্ম্যভুষ্ুম্‌ অন্বর্গ্যম আকী্িরুরং কশ্মলং নিমমে তা 
ননপজিকন। 

র্যদহারিক জর্ম )-- ৫ অর্চনা! কৌথা হইতে এইরূপ অনার্য নেদযুখী 
জকীড্িকর মোহ, এই সঙ্গট সময়ে তোমার হাদয়ে উপস্থিত হইল! 

(মৌগিক অর্থ ।-_ পুর্ব্বোক্রূপ সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় কিছু দিন অবস্থিতির পর, 
সলা। নিশাস্টে উধার আলোকের মত শক্তির নবরাগ প্রাণে জাগিয় উঠে। 
গ্লাগের ভির কে যেন বলিতে থাকে,_- কেন তুমি এরূপ মোহাক্রান্ত হইতেছ 4 
ইব্রিয় ছাড়িতে কেন এত সন্ত্রাসিত হইতেছ 1 এইটাই মহাসঙ্কটাপন্স অর্ধ! । 
ই রিষয় অবস্থা হইতে উত্তীর্ণ হইলে, তোমার প্রাণ স্বাধীনতার জাস্মাদন 
পাইরে। & সমন্বে কেন তুমি এত মুন্ধুদান $ 


ূ উপানিধদ্রহস্ত বা'গীতীর যৌগিক ব্যাধ্যা । ্ঠ 


ক্েব্যং মাম্ম গমঃ পার্থ নৈতৎ ত্বধ্যুপপগ্ঠতে | 
দ্ষুদ্রং হৃদয়বৌ্ববল্যং ত্যক্তেতিষ্ঠ পরন্তপ ॥ ৩ 


পার্থ! ক্লেব্যং মাম্ম গমঃ, এতৎ তৃয়ি ন উপপগ্ভতে ; পরস্তপ ! ক্ষ হাদখ 
দৌর্ব্বলাং ত্যক্ত। উত্তিষ্ঠ। 

ব্যবহারিক অর্থ।--পার্থ! কাতর হইও ন1; কাতরতা তোমার উপযুক্ত 
নহে; হে পবস্তপ! তুচ্ছ হৃদয়দৌর্্বল্য পরিত্যাগ করিয়। উদিত হও । 

যৌগিক অর্থ ।--ভগবান্‌ সাধককে এ স্থলে পরস্তূপ বলিয়া সম্ভাষণ করিলেন।' 
পরস্তপ কথাটাতে যেন তিনি এই বলিতেছেন, জীব! তুমি পরমতেজশা্লী। 
দৌর্ধবল্য তোমার ধর্ম নহে। তুমি তোমার গুপ্ত, শক্িলকলেব ব্যবহার বাঁ, 
তোমার শক্তি স্ুরিত হইলে, তোমার পক্ষে কিছুই অসম্ভব নহে। তুমি যাহী'' 
এখন সঙ্কট বলিয়া! বিবেচনা করিতেছ, উহা! বস্ততঃ সঙ্কট নহে, উহা! দৌর্ববল্য- 
মাত্র। এইরূপ দৌর্ব্বল্যে অভিভূত হইলে, তুমি ব্লীবহ প্রাপ্ত হইবে। 

বন্ত্তঃ পূর্ধবোক্তরূপ বিষাদ হৃদয়-দৌর্ধল্য ছাড়া আর কিছুই নহে। মায়া, 
জ্ঞানের ছগ্মবেশ পবিগ্রহণ করিয়া, এঁরূপে জীবকে জড়াইয়া রাখিবার চেষ্টা 
করে। এ অবস্থায় একমাত্র নিজেকে তেজ:শালী, শক্তিমান্‌ পুরুষ বলিয়া! চিন্তা 
করিয়া, আরও অন্ত্রমুখে অগ্রসর হইতে হয়, কিন্তু নিম্বাধিকারী সাধক তাহা 
পারে না। |] 

পৃরেরব যে পিতৃশক্তি ও মাতৃশক্তির কথা বলিয়াছি, সেই শক্তিদ্ধয়ের কোনটা 
যখন কার্যকরী না হয়, তখন ব্লীৰ অবস্থা । এরূপ অবস্থাকেই ক্রেব্য বলে। 
চিত্তের ছুর্বলতাবশতঃ কর্তব্য কন্ম হইতে প্রতিনিবৃত্ত হওয়া ব্লীবত্বের লক্ষণ। 


অঞ্জন উবাচ। 
কথং জী্মমহং সংখ্যে ভ্রোগঞ্চ মধুসুদন। 
ইযুভিঃ প্রতিযোত্স্ামি পুর্জার্হাবরিসূ্ঘন ॥ ৪ 
অরিগুঁদস মধুসূর্দন | অহং সংখ পুজার্ো ভীন্বং প্রোণঝচ প্রতি বং ইষুতি; 
যোঁই্ঠীমি | 
বাঁবহারিক অর্থ।--হে' মধুসুদন। আমি কেমন করিয়া পূজরীয়ি ভীম্ম 
জোর সহিত রিলে বাণসমূহ তারা যুদ্ধ করিব; অর্থাৎ বীহাদিগের সহিত 
যু করি বল অন্চিত, তীহীদিগর্কে বাঁণের' বারা" কিরূপে বিদ্ধ করিব? 


৪ উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্য! 


& 


যৌগিক অর্থ।-_্রদ্চর্যা বা ব্র্ষান্বেষণ এবং শান্ত্রবিহিত কর্ম্াদি দ্বারা আমরা 


জীবিত আছি। লাধকের প্রাণ যত দিন না মায়ের সন্ধান পায়, তত দিন মাতৃ- 
অন্বেষণে ফিরিবার জন্ত শক্তিসংগ্রহ ও মাতৃ-উদ্দেশ্যে শী্ত্রবিহিত কন্মাদি করিতে 
থাকে। তার গাণের প্রবল উৎকণ্ঠা মাতৃ-উদ্দেশ্টে কর্্মাদি করিয়া! কথঞ্চিৎ শাস্তি 


লাভ করে। সে কর্মের উচ্ছেদসাধনে তার প্রাণ কি সন্তুষ্ট হয়? কম্মই তাহার 


গুরু, ব্রন্ধাণ্থেষণই তাহার প্রাণ, সে কি উহা! পয়িত্যাগ করিতে পারে ? সেকি 
আজ মহম! কর্মকল জলাঞ্জলি দিতে পারে? শান্জরবিহিত কর্ম 'আমাদের গুরু । 
কেন না, কন্ম হইতেই আমরা জ্ঞান লাভ করি। কর্মের সেবা না করিলে জ্ঞান 


উত্রিক্ত হয় না; ব্রঙ্গান্বেষণরূপ মহাব্রতের সেবায় নিযুক্ত না থাকিলে, সে-জ্ঞান” 
প্রাণময় হয় না; হ্থতরাং ত্রন্ম[ন্বেষণ ও করত সাধকের গুরুস্থানীয় ; তাহাদের 


বিপক্ষে সাধকের প্রাণ কি দীড়াইতে চাহে ? তাই পরশ্নোকে বলিতেছেন, 


গুরূনহত্বা হি মহানুভাবান্‌ 
শ্রেয়ো ভোক্তং ভৈক্ষ্যমপীহ লোকে। 
হ্বার্থকামাংস্ত গুরূনিহৈব 

ভূগ্মীয় ভোগান্‌ রুধির-প্রদদিগ্ধীন্‌ ॥ ৫ 


মহানুভাবান্‌ গুরূন্‌ অহত্বাহি ইহ লোকে ভৈক্ষ্যম অপি ভোক্তং শ্রেয় ৃ 


গুরূন্‌ হত্বা তু ইহ রুধির-প্রদিগ্ধান্‌ এব অর্থকামান্‌ ভোগান্‌ ভুপ্রীয় । 


ব্যবহারিক অর্থ।__মহানুভব গুরুজনের হত্যা না করিয়া ভিক্ষান্ন ভোজন 


করাও ভাল; কিন্তু গ্ুরুবধ করিলে, আমাদিগকে তাহাদিগের বসির অর্থ- 
কামরূপ ভোগ্যমকল উপভোগ করিতে হইবে । 

যৌগিক অর্থ।-_চিন্তাই আমাদ্রিগের মনোময় দেহের আহার, এ কথা 
পুরে বলিয়াছি। অন্নরসাদ্ির দ্বারা যেমন আমাদের দেহ পুষ্ট ও কার্ষাকারী হয়, 
চিন্তা দ্বারা তেমনই আমাদিগের মনোময়কোষ পুউ ও কাধ্যক্ষম হয়। কর্ণ ও 
রন্মান্বেষণরূপ গুরুবর্গ হইতে আমরা সংচিষারূপ আহার মনোময়কোষের জন্য 


গ্রহ করিতে পারি। কর্ম আমাদিগকে ক্রমশঃ চিন্তাশক্তিপরায়ণ করিয়া... 


তুলে এবং সেই চিস্তাশক্তি-প্রভাবে আমাদের মনোময়কোষ অলৌকিক কার্ধ্য- 


সকল করিতে সমর্থ হয়। সেই জন্ত সাধক ব্রদ্গান্বেষণ ও শান্রাদিবিহিত যঞ্জাদি র 
হইতে বিরত হুইতে চাহে না। তাহার প্রাণ উহাদিগকে মনৌময়কোষের 


পু লী 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । & 


সবননদাতা.রুঝিয়া, উহাদিগের গ্রতি অতিরিক্ত সন্মান প্রদর্শন করে; এবং কৃতজ্ৰতা- 
প্রবশ্‌ হইয় ভাবে, যদি ভিক্ষান্ধ্ের দ্বারাও জীবনযাত্রা নির্বাহ করিতে হয়, 
তাহাও শ্রেয়, তথাপি গুরুহত্য] করিতে পারিব না; অর্থাৎ আশ্রমবিহিত কর্মের 
দারা যদি জ্ঞান সম্যক্‌ পরিপুষ্ট নাও হয়--মম্য পরার সংচিন্তা সংগ্রহ করিয়া 
যদ্দি মনোময়কোষকে পুষ্ট করিতে হয়, তাহাও শ্রেয়, তথাপি কর্ম্মবধ করিতে 
পারিব না। কর্শাবধ করিলে আমাদিগের মনোময় দেহ ক্ষীণ ও রুধির-প্রদিগধ 
হইয়া বায; অর্থাৎ বদি কন্মন ছাড়িয়া অন্ত কোন উপায়েও আঁমাঁদিগের বাসন। 
পূর্ণ হইত, তাহ! হইলে উহাও কর্মের অভা ববশতঃ স্থায়িত্ব লাভ করিতে পারিত 
ন১-ক্ষরিত হইয়া নির্গত হইয়া যাইত | 

রুধির-প্রদিদ্ বলিবার অর্থ কি? আঁমাদিশের মনোময়দেহে ভোগসকল 
রুধিরপ্রদিপ্ধ কি প্রকারে হইতে পারে? আমাদিগের স্থুলদেহ যেমন সাপ্ত- 
কৌধিকঞ্চ অর্থাৎ রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা, স্নায়ু, এই সাত প্রকার 
উপাদানে গঠিত, তন্রপ আমাদের মনোময়দেহও এরূপ সপ্ত উপাদানে রচিত 
হয়। নিষ্ঠ। ইহার অস্থি, কর্ম ইহার মাংস, ভাব ইহার রক্ত, চিন্তা ইহার রস, 
জান ইহার মেদ, বুদ্ধি ইহার মজ্জা ও ব্রহ্ষান্বেষণ ইহার প্রাণ। স্থুলদেহে যেমন. 
অন্নরস হইতে রক্ত নির্মিত হয়, তেমনই মনোগয়দেহে স্থুল কন্ম হইতে ভাবরূপ 
রক্ত নির্মিত হইয়! আমীদিগের মনোময়দ্রেহকে সজীব করিয়া রাখে। যেমন 
আমাদিগের স্থুলদেহের কৌন স্থান বিচ্ছিন্ন হইলে, সে স্থানে রুধির প্রবাহিত 
হইতে থাকে, তদ্্রপ আমরা স্থূল কণ্ম ত্যাগ করিলে, আমাদিগের মনোময়দেহ 
বিচ্ছিন্ন.হয় ও ভাবসকল আ্রাবিত হইয়া যায়। ম্ৃতরাং কন্ম ত্যাগ করিয়া অন্য 
কোনরূপে মনোময়দেহে আহার অর্পণ করিলেও উহা! সঞ্চিত না হইয়া, আবিত 
হইয়া যাইতে থাকে;ও মনের পুষ্টিসাধনে কৃতকার্য হয় না। শুধু এই কারণে 
আমাদিগের শান্তর মন্ত্গুপ্তির কথা বার বার বলিয়াছেন। মন্ত্র প্রকট হইলেই 
ধ্বংস হইয়া যায়। ভাব প্রকটিত হওয়া ও স্থুলদেহ হইতে রুধির আবিত হওয়া 
একই জিনিষ. সাধনার কথা যে যত গুপ্ত রাখিতে পারে, তাহার মনোময়দেহের 
বল তত অধিক সঞ্চিত হয়; এবং যে যত প্রকাশ করিয়া ফেলে, তাহার সাধন! 
তত অরুতকার্ধ্য হয়। মন্ত্গুপ্তি সিদ্ধির উপায়, প্রকটে সাধনার বিনাশ, এ কথা 
যেন সাধকমাত্রেরই মনে থাকে । 

ক মৃতাস্তরে দেহকে যাটুকৌধিক বলে। 


০০ 


৬ উপসিষট্রহস্ত বা'গীতারযৌগিককীধা। . 

যাহা হউক, বর্শা হিচ্ছির হইলে: যেমন মনোময়কৌবৈর ভাবিরপি' কির 
আবিত হইয়া যায়, তন্ত্রপ' আবার বহির্দেহে রকের সহিত প্রাপ্তি ক্ষ 
হইবার মত, মনোমগ্নদেহের ব্রদ্বাযেষণরপ প্রাণ, ভাবরীপ রধিরের সঙ্গে গির্তি 
হইয়া যায়; অর্থাৎ যেমন আমাদিগৈর শুলদেই হইতে আর্ঘিক পরিসাণে রখ 
নিঃস্্ত হইলে, দেই প্রাণহীন হইতে পারে, তঙ্প মনোময়কৌধ হইতে ভাধ” 
সফল প্রকার্শ বা বিনি্গত হইয়া গেলে, বরন্ধীবেষর্ণরপ তাহার প্রাণও করিত ইরা 
যাঁয়। ব্রদ্ধীঘেধণই মনোময়কৌষের প্রাণ) এ কথ! যেন শরণ খীর্কে। 
আমাদিগের ব্রশ্মীধেষণই সমস্ত কর্মের ও দেহধারণের মুল। বন্ধাহৈধণের 
জন্যই জগতে এত ক্রিয়া সম্পাদিত হইতেছে। অপরিষ্ছিয়া' মহাশক্তি জীঁধে 
জীবে অবস্থিতা থাকিয়া ব্রহ্মাথেষণরাপ স্পন্দনে' স্পর্লিত হইয্রা; চারি ধাঁরৈ রি 
হইতেছে ও আপনি ঘনীভূত হইয়া, দেহ ইন্দ্রিয়াদি আকারে পরিণত হছগী। বর 
সন্দর্শনের জন্য অপেক্ষা করিতেছে । জীবের যত কিছু চেষ্টাশক্তি--হত ফি 
ক্রিয়া, ব্রহ্ীষ্বেষর্ণই ইহীব মূল কারণ--বরঙ্মীন্বেষণের জহি জীবের জীবতীধা-_- 
্রঙ্গান্বেষণের জন্যই জীব, জীবরূপে পরিখত। সুত্বরীং ভাব বাঁক্যে প্রকাঁশি হইয়া 
গেলে, ব্রদ্মান্থেষণরূপ শক্তি ক্ষয়িত হইয়া যায়। এমন কি, সে শক্তির জভাঁকৈ 
জীবের সুুলদেহ পর্য্যন্ত অকালে মৃত্যুযুখে পতিত হইতে পারে। জামা অনেধ 
মহাঁপুকষকে অকালে দেহত্যাগ করিতে গ্তনিয়াছি। তাঁঙ্ার তৌতির্' কার 
আঁর কিছুই নহে, অধিক পরিমাণে ব্রন্মর্ষরণ । জগতের হিতার্ধে ইচ্ছা বরিয়ী' 
হউক, অথবা ভাবের আবেগে অলঙ্টয ভাবেতেই হউক, কিছ অজ্ঞাতবিশর্তইী 
হউক, স্থান, কার্প, পাত্রাদি বিচার না করিয়ী, অন্মসত্বীর তাবিসিধফল' অধিক 
পরিমাণে বাক্যাকারে স্পুরিত করিবার জন্ট; তীহীদিগৈধ। মনেদিযকৌধ অপর্দিষিপ্ত 
ভাবে ক্ষযীভূত ও এমন কি, সুলদেহ পর্য্যস্ত তা অধ্চালে দিপতিক 
হইয়াছে। আমার্দিগের শান্রী এই সকল' কারণে স্থান) কাপ; পাক ও নাঁদাঞিকার 
কর্শের আঁধরণের ভিতর দিয়া, ব্রদসতা আলোটসার' উপদেশ দিয়াছে 
কিন্তু এ সকর্ল কথ! কর্মযোগ আলোচনার সময়ে বিভৃতিভাঁকে বলিব । 

জামরা সুলভ; এই বুবিলাম ধে, বর্গ হদন কধিলৈ' ও" জবার 
শক্তি হত হইলে, আমীদিগের চিত্তীস্যা রাধিররজিত বা ক্ষয়তুরি হক 

ন চৈতদ্বিদ্মঃ কতরমে। গরীয়ো 
যছ! জয়ে যি মৌ'জেদুর। 


" ইপানিদ্রচ্রা হা দীজায় যৌগিক '্যাধ্যা। প 
গ্লানেৰ হছা:স.জিলীনিযাম: 
তেছহক্ছিতাঃ প্রমুখ ধার্তরাসত্ীঃ ॥ ৬ 


ঘৎ বা জয়েম যদি বা নঃ জয়েরু* (এতয়ৌর্শধ্যে) কতরৎ ন: গরীয়ঃ এত চন 
“খিষ্পঃ; যাম্‌ হত! নৈব জিজীবিষামঃ, তে ধার্তরাষ্ট্রাঃ প্রমুখে অবস্থিতাঃ। 

ব্যবহারিক অর্থ।--আর আমরা জয়ী হই কিম্বা বিজিত হই, ইহার মধ্যে 
কোন্টা গরীয়ান্‌, তাহাও আমর! বুঝিতে পারিতেছি না । যাহাদিগকে বধ করিয়া 
আমরা জীবিত থাকিতে চাহি না, ষেই কৌরবগণই আমাদিগের বধ্যরূপে 
অরস্থিত রহিয়াছে । ৃ 

,যৌগির অর্থ ।--ইক্জ্িমদিগকে রধ করে ব! ইন্দ্রিয়কর্তক বিজিত হয়, এই 
উভয়ের মধ্যে রোন্টা গুরুতর, কোন্্রী আভীগ্লিত, সাধক :এই উভয়সন্কট 
অবস্থায় তাহ! বুঝিয়া! উঠিতে পারে না। 

তাহার প্রাণ.যেন রলিতে থাকে, ইন্দ্রিয়গণকে বধ করিয়া আমি বীচিতে ইচ্ছা 
করি না, এবং মেই ইন্জিয়গণই রধ্যরূণে আমার সম্মুখে অবস্থিত | 


কার্পণ্যকোযোপহত্তস্বভাব: 

পৃঙ্ছা'নি স্বাং ধর্দসংমৃঢ়চেতাঃ | 

যচ্ছে-্বঃ শ্যারমিশ্চিতং ব্রাহি তন্মে 
শিষ্ন্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নমূ ॥ ৭ 


রাপরযেহোপহতন্ন ভাব: ধর্ম্মসংসুচেতাঃ (অহং) ত্বাং পৃচ্ছামি ; হয মে 
পরের আত তৎ নিশ্চিত ব্রহি । অহং তে শি তাং প্রপক্নং নাং শাধি। 
র্রহারিক ত্বর্ঘ ।--মনের মংকীর্থতা ও কুলক্ষয়াদি দোষ আশঙ্কায় আমার 
৪ অভিস্থাত হইমাছে ও ধর্ম ন্বন্ধে আমার জ্ঞান বিমূঢ়। তাই আমি ভোমান 
জিরা! রুরিগ্রেছি, হাহা! আমার পক্ষে প্রোয়» তাহ নিশ্চয় করিয়া! বলর আমি 
ন্ায়ার শিল্প, জমার শরগ্াগত,। আসাম শিক্ষা দাও। এমন অপুর্ব চিত্র- 
ক্ড্িফজন জর কেহ কোথাও দেখে নার। রণস্থলে শব্রসন্সুত্ে ঠাড়াহিয়া 
রর্মজয়ে ভীত হইয়া! ভগ্বরচ্চরণে এমন করিয়া .কাতরভারে জুটাহয়। পড়িতে 
জমার কাহাকেও দেখি মাই । উভয় দ্থিকে নর-সযু রগোজাষে উদ্মত) আমস-লস্- 
বালানের শব্দে দিগঞ্প মুখরিত, নসর-্াজণ এিলয়ের .পুর্মুহুর্টের মত ২ঘ্বোর 


৮ উপনিষদ্রহন্ বা গীতার ঠিক ক্বটার্যান 


গম্ভীর করাল বিভীষিকা ময়__সাস্রাজ্য আশা? উদ্ভীঞ্ক ভ্রাতউবৃন্দ আত্মীয়তা বিস্মৃত 
হইয়া শক্রভাবে পরস্পর পরস্পরকে হননের জন্য দণ্ডায়মান--ফোহান্ধতার বিকট 
অন্ধকারগৃত্তি যেন তত্রস্থ জীবসকলকে গ্রাম করিয়৷ রাখিয়াছে, .আৰু নেই 
অন্ধকারের মধ্যে, সেই আন্মুরিক ভাবোল্লাসের মধ্যস্থলে, সেই প্রলুয়কলোলের 
তপ্রতিঘাতকে মৃতূর্তের জন্য স্তব্ধ করিয়া, যেন" হিংসা- রাক্ষসীর 'দশন্পত্ক্তদবয়ের 

মধ্যে দাঁড়াইয়া, সাধকগ্রবর ভগবচ্চরণে লুটাইয়া পড়িয়া বলিতেছে_ 
*শিষ্যন্তেহহং শাধি মাং বাং প্রপন্নম্‌।৮ 
আপনাকে এমনই করিয়া বিশ্লেষণ করিয়! দেখিয়া, এমনই উত্তেজনার অবস্থায়, 
এমনই উত্তেজনাপূর্ণ স্থানে, 'এমনই উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে, এমনই করিয়া অধর্ন্া- 
শঙ্কায় ভগবচ্চরণে লুটাইয়৷ পড়িতে জগতে কেহ কখন কাহাকেও দেখে নাই। 
সীতার সমস্ত ছাড়িয়া দিয়া শুধু এই স্থানের কাব্যাংশটুকু দেখিলেও রীতা । জগতে 

অতুলনীয় । | 
যৌগিক অর্থ ।-_পূর্ববোক্তরূপে উভয় দিক্‌ চিন্তা করিতে করিতে সাধক 'অন্ত কিছু 
বুঝিতে না পারিলেও সে বোঝে -_তাহার চিত্ত ধর্মসংমূঢ় হইয়। গিয়াছে! ধর্ম কি, 
অধন্ম কি, বিচার করিতে বলিয়া, সে তাহার ক্ষুত্র শক্তিকে হারাইয়া ফেলিয়াছে। 
কর্তব্য সম্বন্ধে তাহার জ্ঞান তমসাচ্ছন্ন হইয়া পড়িয়াছে। তাহার শক্তি কার্পণ্য 
বা সংকীর্ণত৷ প্রাপ্ত হইয়াছে । তখন সাধক আর নিজের উপর নির্ভর না করিয়! 
ভগবানের শরণাপন্ন হইয়া পড়ে। নিজের ক্ষুদ্র শক্তি দ্বার! দুরস্ত সঙ্কট হইতে 
পরিত্রাণের উপায় নাই বুঝিয়া, বিরাট্‌ শক্তির নিকটে সাহাযাপ্রার্থী হইতে হয়। 
এই নির্ডরতাটুকু আনাইবার জন্তাই এত বিষাদ । বিষাদ ন! হইলে নির্ভরতা! আসে 
না। এ মহামুহূর্তেই সাধক সম্পূর্ণভাবে মাত্শক্তির উপর নির্ভর করিতে শিক্ষা 
করে একাস্তরপে মায়ের চরণে লুটাইয়া পড়িতে প্রয়ামী হয়। বিষে যৈমন 
অমৃত প্রচ্ছন্ন থাকে, সমুদ্রে যেমন বাড়বানল থাকে, বিপর্দের ভিতর তেমনই 
মহাসম্পদ্‌ লুক্কায়িত 3; সাধনার এ সঙ্কটের ভিতর তেমনই নির্ভরতা! লুকান। 
ফাহাকে লইয়া ধর্ম অধন্ম ? মায়ের জন্য ত| কিসের জন্য প্রবৃত্তি-নিবৃত্তি ? মায়ের 
জন্য ত; কিসের জন্য বিচার আকাজ্ক্। ? মায়ের জন্ত ত! সে সব ঘাতপ্রতিঘাত 
মাকে পাইবার জন্য ত! তবে সাধক | তোমার এ বিচার ও সন্দেহের মধ্যস্থলে 
মা ত নিশ্চয়ই রহিয়াছেন, নতুবা এত আকর্ষণ কোথা হইতে আইসে 1 মহা- 
কেন্দ্রের আকর্ষণ না হইলে এমন করিয়া প্রাপকে টানে কে রে! তুমি বিলম্ব 


, উপনিষদ্রহস্য.সা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা. ৯ 


করিও না; যখন বিষাদ আসি ,ছ--যখন মহাআ্রোতের আকর্ষণ অনুভব 
করিয়াছ, তখন আর তোমার কিষের ভাবনা! তুমি তোমার এ আলো! ও 
অন্ধকারের মধ্যস্থলে মাকে দর্শন কর- তোমার এ বিচার ও আশঙ্কার মধ্যস্থলে 
মাকে দর্শন কর--তোমার এ আগ্রহ ও অন্ুবিধার মধ্যস্থলে মাকে দর্শন কর--” 
জ্ঞান ও বুদ্ধির মধ্যস্ছলে মাকে দর্শন কর বিচার বিতর্কের মধ্যস্থলে--সংশয় 
সিদ্ধান্তের মধাস্থলে মাকে পরিদর্শন কর ;- চক্ষুর পার্খদৃষ্টি ফিরাইয়া মধ্যস্থলে 
দৃষ্টি নিক্ষেপ কর। যে সারথিরূপে তোমার আজ্ঞাবহ ভূত্যের মত আজ্জার 
জন্য অপেক্ষা করিতেছে, তাহার মুখের দিকে একবার সতষ্ণ নয়নে চাহ, তাহার 
চরণে লুটাইয়া৷ পড়। দিবা ও রাত্রির সঙ্গমস্থলে উষা যেমন সূধ্যচরণে নতশির 
হয়। তেমনই ভাবে তোমার এ আলোক ও অন্ধকারের সঙ্গমস্থলে হৃদয়স্থ দীপ্ত- 
মার্্ণ্ডের চরণে শরণাগত হও । মা” “মা” করিয়া প্রাণের ভিতর তোমার 
গ্রাণের প্রাণের চরণ জড়াইয়া ধর-_ আর বল--“শিষ্যস্তেইহং শাধি মাং ত্বাং 
প্রপন্নম্‌।” আমি তোমার শিষ্য, শরণগত। আমি অন্ত কাহাকেও জানি না, 
তুমি আমায় শিক্ষা দাও। হৃদয়স্থ মহাকীশে তোমার সে কাতর সম্ভাষণ যেন 
তরঙ্গিত হয়; হন্ম্য মাঝে শব্দ যেমন প্রতিধ্বনিত হয়, তেমনি ভাবে তোমার বুকের 
ভিতর চারি ধারে যেন প্রতিধ্বনি শুনিতে পাও--শিষ্যস্তেহহং শাধি মাং ত্বাং 
প্রপনম্‌।?? 

এই মহামশ্বের সাধন। যত দিন না নুচারুরূপে সম্পন্ন হয়, তত দিন সাধনার 
পথে অগ্রসর হওয়া ছুরহ। এমনই ভাবে নিজ ত্রদ্মসন্তায় গুরুবোধ হত দিন না 
আসে, তত দ্রিন সাধনার দ্বিতীয় বা সাংখাস্তরে আরোহণ করা যায় না। এমনই 
করিয়া যত দ্রিন না! নিজের জীবভাবকে নিজের ব্রহ্মভাবের শিষ্যতে নমিত করা 
যায়, তত দিন সাধনার পথ রুদ্ধ থাকে । মাকে বুকের ভিতর দাড় করাইয়া যত 
দিন না তাহাকে গুরুত্বে বরণ করা যায়, তত দিন সাধনার আশা বৃথা | 

ভগবান্‌কে গুরুরূপে দেখিয়া, তাহার চরণে আত্মনির্ভর করাই সাধনার দ্বিতীয় 
স্তর। এইরূপে গুরুপ্রতিষ্ঠ! না করিলে সংশয়, বিচার, সন্দেহের হাত হুইতে 
পরিত্রাণ পাওয়া যায় না। নির্ভরতা ন! আসিলে শক্তির সন্ধান পাওয়। যায় না। 
পৃথিবী যেমন শ্রোত আকারে তাহার জলরাশি সমুদ্রে ঢালিয়৷ দিয়া, তৎপরিবর্তে 
বর্ষণ প্রাপ্ত হয়--পৃথিবীর জল, নদ নদী আকারে পৃথিবীস্থ সমুদ্রে গড়াইয়া 
পড়ে, এবং সেই সমুদ্র হইতে জলরাশি বপ্পাকারে উখ্িত হইয়া যেমন শতগুণে 


৮ 


০ 


১০ .... *উপনিষদ্রহস্ বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা | « 


পৃথিবীর সে বারি-উপহারের পুরস্কার দেয় তেমনই করিয়া তোমার শক্তি-আোত 
তোমারই হুদয়স্থ শক্তি-সমূদ্ে ঢালিয়! দাও ; সে সাগর তোমার সে উপহার 
বিশ্বভৃবনব্যাগী অস্তরীন্ষে প্রেরণ করিবে । সে অস্তরীক্ষ, সে আকাশের আকাশ, 
সে শৃস্ের পুর্ণ, তোমার সে উপহার শতগুণে গুণিত করিয়া তোমায় প্রত্যর্পণ 
করিবে । 
গুরু-প্রতিষ্ঠ ও কেন্দ্রস্থ হওয়া একই কথা । যদি সাধক হইন্ে চাহ, তবে 
পরমুখাপেক্ষী হইও না- পরের আশায় থাকিও না। প্রাণে যখন যাহা সংশয় 
আসিবে, অমনই হৃদয়স্থ গুরুকে সে সংশয়ের মীমাংসার জন্য গ্রার্থনা করিবে । 
দেখিবে-_অপৌরুযেয়, অভ্রাস্তু বেদে সে সন্দেহের যেরূপ মীমাংসা আছে, তোমার 
মত ক্ষুত্র প্রাণীর হৃদয় হইতেও সেই মীমাংসা শ্বতঃ উদ্ভূত হইবে। প্রাণের ভিতর 
যখন যে লৎচিন্ত। উদ্দিত হইবে, অমনি তাহ। গুরু-চরণে অর্পণ করিবে, দেখিবে-: 
তাহা অমুতময় হইয়া! গিয়াছে । প্রাণের ভিতর যখন যে অসৎ ভাবের আবির্ভাব 
হইবে, অমনই উহা গুরু-সকাশে লইয়া যাইবে, দেখিবে-_উহা মাতৃ-খঞ্ো দ্িখপ্ডিত 
হইয়াছে । 

আবার বঝলিঃ তোমার ক্ষুদ্র মুখের ক্ষুদ্র ফুংকার যেমন শঙ্খনধ্যে প্রবিষ্ট 
হইয়৷ বনুদূরবিস্তৃত এক উচ্চ শব্ব-রোল স্জন করে, তেমনই তোমার ক্ষুদ্র শক্তি 
যদ্দি হৃদয়স্থ গুরুকে অর্পণ করিতে পার, তাহা! হইলে উহা? শতগুণে শক্তিসম্পন্ন 
হইয়া, তোমাকে শক্তিময় করিয়া তুলিবে । আবার বলি, যেমন তরুতলে সাধারণ 
জলস্চেনে করিলে, সে তরু ফল ও কুন্ুমসম্তারে পরিশোভিত হইয়া তোমায় 
চরিতার্থ করে, তেমনই তোমার সাধারণ শক্তি হুদয়ন্থ গুরু-উদ্দেশ্তে অর্পণ কর; 
দেখিবে,--সে কল্পতরু ফলফুলময় হইয়া তোমার হৃদয়-কানন সুশোভিত 
করিয়াছে । আবার বলি,--সূর্যয-কিরণ অয়ঙ্কান্তমণির উপর পড়িলে বা ভর 
দিলে যেমন উহা! কেন্দ্রস্থ হইয়া অগ্নি উৎপাদন করে, তেমনই তোঁমার শক্তি যদি 
তোমার হৃদয়স্থ সে অয়স্কান্তমণির উপর ঝা1পাইয়া পড়ে, অর্থাৎ যদি তুমি নির্ভর 
করিতে শিক্ষ। কর, তাহ! হইলে উ। জ্বালামর। অগ্নিশিখ। সদৃশ ঝলসিয়া উঠিবে। 


'িষ্রত। না হইলে কিহু আপিবে ন।, নিরত। ন। আসিলে শঞ্জির সন্ধান পাইবে 


না। সেই জন্তই এত করিয়া বলিলাম। 
এই স্থলে গুরু সম্বন্ধে একটু বলিব। গর কি? গুক্ক ভগবংশক্তির বিকাশ 
ক্ষেত্র। তগবৎশক্তির আত অনন্ত দিকে প্রবাহিত--দিগগন্তে বিস্তৃত, পদার্থে 


উপনিষদ্রহস্থ বা শীতার যৌগিকঙারি। 


পদার্থে অমুস্যুত। আত্রঙ্ষ-স্তম্বপর্ধ্স্ সমস্ত পদার্থের টপ ও বাঁ ছিরে 
শক্তি প্রবাহিত । কিন্তু যেম্ম নদীতে জাল নিক্ষেপ করিলে, জলরাশি জালখানিকে 
ভিজাইয়া, অনায়াসে বিনা প্রতিরোধে তাহার ভিতর দিয়! চলিয়! যায়, তদ্রুপ 
প্রত্যেক জীব ও প্রত্যেক পদাথের ভিতর দিয়া সে মাতৃশক্তি শুধু আমাদিগকে 
সঞ্ীবিত রাখিয়া, এয বিনা প্রতিরোধে চলিয়া যাইতেছে । কেবল মায়ের 
শক্তিশালী সম্ভান সিদ্বর্ধিরা সে শক্তিআ্রোত প্রতিরোধ করিতে বা ধরিয়া রাখিতে 
সমর্থ । সাধারণ জীবের ভিতর দিয়! সে শক্তিস্রোত যেমন করিয়! বহিয়া চলিয়া 
যাঁয়, তাহাদের ভিতর দিয়া তেমনই করিয়া বহিয়া চলিয়। যাইতে পারে ন|। 
স্র্ধ্যালোক যেমন দর্পণে প্রতিফলিত হইয়! জোতিরাশি প্রক্ষিপ্ত করে, এবং নিজেও 
সূর্য্যবং জ্যোতিম্মান্‌ দেখায়, তেমনই এ সমস্ত স্দ্বর্ধিআদি গররুশ্রেণী, সেই ভগবৎ- 
শক্তিতে নিমজ্জিত হইয়া জ্যোতির্খায় হইয়া রহিয়াছেন ও চারি দিকে জ্যোতিঃ 
প্রন্মিগ্ত করিতেছেন । গৃহের ভিতর সূর্যালোক প্রবেশ করিবার পথ না পাইলেও 
যেমন দর্পণের দ্বারা সে আলোককে সে গৃহমধো প্রক্ষিপ্ত করা যায়, তদ্রপ 
সাধারণ জীবঞ্জেণী এরূপ গুরুসন্িধানে উপস্থিত হইলে তাহাদিগের অঙ্গ হইতে 
প্রতিফলিত জ্যোতিঃ হৃদয়মধ্যে প্রতিফলিত হইতে পারে। এ সমস্ত গুরুবৃন্দ, 
চুম্বক যেমন লৌহখণ্ড আকর্ষণ করে তেমনই ভাবে ভগবৎশক্তি আকর্ষণ 
করিয়া লয়েন, এবং সেই আকৃষ্ট শক্তি জগতের হিতার্থে নিয়ত এক্ষেপ করেন। 
যেমন নূর্ধ্যের দিকে আমাদিগের চক্ষু চাহিতে পারে না, কিন্তু সুর্ধযালোকে অনায়াসে 
কাঁধ্যকারী হয়, তদ্ধপ নিয়স্তরীয় সাধকবুন্দ অনস্তপ্রস্থত ভগবংশক্তি আকর্ষণ 
করিতে বা তাহার দিকে চাহিতে সক্ষম হয় না; কিন্ত সেই ভগবদালোকে উজ্জ্রলিত 
এ সমস্ত মহাপুরুষদিগের আলোকে আপনাদ্িগকে আলোকিত করিতে পারে। 
এই জন্তই সাধারণ জগৎ ও ভগবৎসত্তার মধাস্থলে গুরুরূপে মহাপুরুষেরা 
অবস্থিত। 

জীব, ভগবৎগপ্রাপ্তির জন্য কাতর হইলে, তাহার কাতরতা ও শক্তির অনুপাতে 
ভগবান্‌ তাহাকে গুরু দেখাইয়া দেন। যাহার যেরূপ আগ্রহ, যাহার যেরূপ 
আকুলতা, সে তদনুসারে গুরু লাভ করে । আগ্রহের অন্গুারে ভগবান তাহার 
নিকট সাধারণ কুল-গুরুরূপে বা সাধকাকারে সদগুরুরূপে বা জীবন্ত সিদ্ধপুরুষ- 
রূপে আবিভূ্ত হন। প্রাণে অল্প তৃষ্ণ জাগিলে সাধারণ গুরু, তৃষা প্রবলতর 
হইলে কোন উচ্চশ্রেণীর সাধক ও প্রবলতম হইলে জীবনদক্ত সিদ্ধপুরুষ গুরুরূপে 








১২ উপনিবদ্রহস্য বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। , 


তাহার নিকট উপস্থিত হয়েন এবং তৃষ্ণা অনুযায়ী তাহাদিগকে শক্তি ও জ্ঞান দান 
করেন। উচ্চ স্তরের সাধক হইলে, জীবনুক্ত পুরুষদিগের সাক্ষাং লাভ হইতে 
পারে। আমাদিগের পুরাণ-কথিত নারদ, সনক, সনাতনাদি খধিবৃন্দ গুরুরূপে 
আবিভূতি হইয়া, তাহাদিগের জ্যোতিতে হৃদয় আলোকিত করিয়া দেন। এ 
সকল জীবনুক্ত মহাপুরুষ কখন ব্যক্তিবিশেষের গুরুরূপে এবং কখনও বা জগদ্- 
গুরুরূপে আবিভূ্তি হইয়া থাকেন । মনুঘ্-জগতের যখন যে অংশ যেরূপ 
ভাবে মলিনত প্রাপ্ত হয় ও তজ্ডনিত অন্ধকারে আলোকের জণ্ত আকুল হয়, 
মনুষ্য-জগতের সেই অংশে সেইরূপ ভাবে অন্ধকার দূর করিবার জন্য, এ সিদ্ধ 
. পুরুষের! মন্ুষ্যাকারে অবতীর্ণ হইয়া, জগতে অবতার বলিয়া পরিচিত হয়েন। 
জগৎ তাহাদিগের চরণে “শিষ্যস্তেহহং শাধি মাং তাং প্রপন্নম্” বলিয়া ঝাঁপাইয়া 
পড়ে। মাতৃশক্তির অলৌকিক লীল! কিছু দ্রিন জগতে প্রকাঁশ করিয়া, জগতে 
এক আনন্দোচ্াসের শ্ছজন করেন এবং জগতের মলিনতা৷ কিছু দ্রিনের জন্য ধৌত 
করিয়া দিয়া যান। 

এইরূপে যখন যেখানে অভাব অনুভূত হয়, সেই স্থুলেই গুরু আসিয়া 
আবিভূ্ত হয়েন। কি ব্যক্তিগত ভাবে, কি সমগ্টিভাবে, অভাব তন্তিসারে তৃষা 
অনুসারে, আসক্তি অনুসারে--গুরুলাভ হইয়া থাকে । ভগবতশক্তি গাপ্তির জন্য 
প্রাণ কাদিলেই অগ্রে গুরুলাভ অবশ্যন্তাবী। তখন তৃষ্ণা! অনুসারে যে গুরু 
তোমার নিকট উপস্থিত হউন ন! কেন, তুমি ট্রাহাকে ভগবংপ্রেরিত বলিয়া 
বুঝিয়৷ লইবে। গুরুরূপে সাধারণ মন্তুষ্যই হউন, শক্তিমান কোন সাধকই হউন, 
অথবা! সৌভাগ্যবশত: কোন জীবনুক্ত মহাপুরুষই হউন, যিনিই আ্মুন-তুমি 
বুঝিবে, তিনিই তোমার ভগবান্‌, মৃত্রিমান্‌ ভগবৎশক্কতি তোমার সম্মুখে উপস্থিত। 
তোমার তৃষ্ণা অনুযায়ী ক্ষুদ্ধ আধারে অথবা বৃহৎ আধারে করিয়া সেই একই 
পানীয় প্রেরিত হইয়াছে । শিশুর তৃষ্ণায় কেহ কুস্ত ভরিয়া জল দেয় না, অথবা 
বয়স্থ ব্যক্তি পিপাসিত হইলে, কেহ তাঁহাকে গওুষমাত্র জল দরিয়া সন্তষ্ট করিতে 
চাহে না। কিন্ত উভয়েই জল পায়, এ কথ। যেন স্মরণ থাকে। 

তাই বলিতেছি, গুরুর বিচার করিও না__-নিজের তৃষ্ণার বিচার কর, গুরু- 
প্রাপ্তির জন্য প্রস্তুত হও; গুরুশ্রেণী স্তরে স্তরে সজ্জিত, তুমি তৃষ্ণা বাড়াইয়৷ গ্রহণ 
কর। ভগবানের চরণে লুটাইতে শিখ, ভগবংদূত আপনি আমিবে; আসিলে 
বঞ্চিত হইও না, সে জন্ত গ্রস্ত হও। “শিব্যন্তেইহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্*্বলিয়! 


উপনিষদ্দরহস্য বা গীভার যৌগিক ব্যাখ্যা । ১৩ 


ভগবচ্চরণে অশ্রজল ঢাল। “হে গুরো! হে জগদ্গুরো ! আমি তোমার শিষ্য 
--দীন, শরণীগত তুমি আমায় শিক্ষা দাও” বলিয়া কাদ--গুর আজিবেন ও 
আসিলে তুমি বঞ্চিত হইবে না। তোমার তৃষ্ণা! তিলমাত্র উদ্রিত্ত হইলেই গুরু 
আসিয়া উপস্থিত হয়েন। কিস্কু হায়! সন্দেহ, সংশয় তোমার সে তৃষ্ণীকে হৃদয়ে 
অধিকক্ষণস্থায়ী হইতে দেয় না;, নৃতরাং গুরু পাইয়াও তোমার গুরুলাভ হয় 
না। চরণে লুটাইতে না শিখিলে গুরু-শক্তি অনুভূত হয় না, গুরু পাইয়া তোমার 
লাভ কি? 

তাই আবার বলি, চরণে লুটাইতে শিখ । তোমার প্রাণ অহপ্লিশ কীছৃক,__ 
“শিষ্স্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্‌ ৮; তোমার মর্মে মর্মে ক্রন্দনের রোল 
উঠিতে থাকুক,__“শিত্যান্তেইং শাধি মাং তাং প্রপন্নম্ ; তোমার হৃদয়ে অহন্রিশ 
প্রতিধবনিত হউক, -“শিষ্ান্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্‌।” তবে তুমি গুরু 
আমিলে চিনিতে পারিবে । 

বহিশ্চক্ষে গুরু চিনিবার উপায় নাই । হয় ত োমার তৃষ্ণা প্রবল হইয়াছে ও 
তদনুসারে কোন মহাপুরুষ তোমার সম্মুথে উপস্থিত হইয়াছেন; কিন্ত তোমার 
মলিন চিন্ত বহিল ক্ষণ বিচাবে অভ্যস্ত বলিয়া, ভূমি সেই পুরুষে কোন সিদ্ধি বা 
মহত্বের লক্ষণ আছে কি না, জানিবার জন্য ব্যস্ত হইয়া পড়িলে, এবং তোমার 
মলিন জ্ঞান সেরূপ কোন বহিল'ক্ষণ দেখিতে ন! পাইয়া সিদ্ধান্ত করিয়া লইল. -_ 
ইনি সাধারণ মনুষ্য। ম্ৃতরাং তনুখনিঃক্ত উপদেশ তোমার হৃদয়ে আস্থা 
পাইল না, তুমি বঞ্চিত হইলে । 

সামান্য কথায় বলি, একজন তক্করকে বা অপরাধীকে যদি প্রহার কর, তবে 
সে নিঃশবে হয় ত সে গ্রহার সহা করিবে । নিরপরাধী সাধারণ মনুষ্য হইলে 
তজ্জন্ত ক্রোধ প্রকাশ ও তাহার প্রতীকারের জন্ত ব্যস্ত হয়; 1কন্ত অপরাধী স্থীয় 
অপরাধ বুঝিয়। নিঃশব্দে সে অত্যাচার সহ্য করে। আবার কোন মহাপুরুষকে 
বিনা কারণে যদ্দি তুমি প্রহার কর, তিনিও হয় ত নিঃশকে সে অতাচার সন 
করিবেন। তোমার মলিন জ্ঞান হয় ত এরূপ নিঃ:শবে প্রহার সহা করিবার 
নিমিত্ত সেই মহাপুরুষকে অপরাধী ভাবিয়া! লইবে-নিঃশবে অপরাধ সহা করা 
তক্করের লক্ষণ বলিয়া তাহাকেও তন্ধর মনে করিবে; হৃতরাং মহাপুরুষ পাইয়!ও 
তুমি চিনিতে পারিবে না । 

তাই বলিতেছি। বহিলক্ষণ দেখিয়া গুকুবিচার করিও না। কাঁতরতারপ 


১৪ উপনিষদ্রহত্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


বারিতে হুদয় পূর্ণ না হইলে গুরুর গুরুত্ব অনুভূত হয় না| “শিষ্যস্তেহহং শাধি 
মাং ত্বাং প্রপন্নম্” বলিতে না পারিলে, গুরু-শক্তির বিকাশ আস্তব। 

বত মহাপুরুষ জন্মগ্রহণ করিয়াছেন, স্থার্থান্ধ মনুষ্য-জগতে কত নির্ধ।তন 
সন করিয়া ্বলোকে প্রস্থান করিয়াছেন; জগতে অবস্থিতিকালে তাহাদের কেহ 
চিনিতে পারে নাই, তিরোধানের পর জগ ভাহাদের ভন্য কীদিয় আকুল হইয়াছে, 
এয়প বহু দৃষ্টান্ত দেখিতে পাই । তাই বলি, তুমি সেই স্থার্থাঙ্ধ জগতের জীব__ 
তুমিও জগতের মত গুরু পাইয়াও যেন গুরু হাঁরাইও না, সাবধান ! * 

এই শিষাত্বের লক্ষণ কি? চিত্তের কি প্রকার অবস্থ! হইলে বুঝিব, তুমি 
শি্যুতধের জন্য প্রস্তুত হইতেছ? তোমার মানসিক গঠন কিরূপে গঠিত হইলে 
বুঝিব, তুমি গুরুলাভে অগিকাঁরী হইয়াছ 1 

যখন দেখিবে, তোমার কাধ্য-সকল জগতের উর্ধ'লোকস্থ জীব-সকলের 

সম্ভোষ বিধানে যত্রবান্‌, তখন বুবিবে, তুমি ক্রমশঃ শিষ্যন্বের অধিকারী হইতেছ। 
সাধারণ জীব! তোমার কার্ধাসকল আত্মীয়, ক্জন, সমাজ অথবা এই ক্ষুত্র 
বিশ্বের মঙ্গল লইয়াই অনুষ্ঠিত হয়: কিন্তু বিশাল ুক্ষ্-জগৎ তোমার সে কার্ধ্য 
কিরূপ চক্ষে দেখে, তুমি কার্ধ্য করিবার সময় সে দিকে একবারে লক্ষা রাখ না। 
তুমি অন্যায় কার্ধা করিবার সময় মন্ুষ্য-জগতের চক্ষে লুকাইয়া রাখিবার চেষ্টা 
করিয়া থাক, কর্তবা কাজ করিবার সময় শুধু মনষ্ত-জগতেরই হিতের দিকে দৃষ্টি 
রাখিয়া কর ; কিন্তু তোমার প্রত্যেক কার্ধ্য এ ক্ষুদ্র মনুষ্য-জগৎ অপেক্ষা বিশাল 
সুক্্-জগতে কিরূপে প্রতিফলিত হয়, সে দিকে একবারও দৃষ্টি রাখ না । তুমি স্থুল- 
জগতের সম্তোধ-বিধানেই অহরহ যত্তবান্‌, সুক্ষ্জগতের অস্তিত্ব তুমি কার্ধ্যত: 
একেবারে বিশ্বৃত-_তুমি অন্ধ । 

যদি যথার্থ শিষা হইতে চাহ, তবে স্ুক্ম-জগতের দিকে দৃষ্টি রাখিয়া কার্ধা 
করিবে । এই স্থুল-জগতের গোটাকয়েক চক্ষুর দিকে চাহিয়া ভুলিয়া থাকিও না । 
সুক্ম-জগতের অসংখ্য মহাপুরুষের দীপ্তিমান্‌ চক্ষে তোমার প্রতি কার্ধা প্রতিফলিত 
হইতেছে । শশক যেমন তৃণগুক্মমধ্যে মুখ লুকাইয়া, সে লোকচক্ষুর অন্তরালে 
আসিয়াছে ভাবে, ভূমি তন্রপ এই স্থুল জগংরূপ তৃণগুচ্ছে লুকায়িত বলিয়া 





উর শপ ডের 





* জগতে কোন মহাপুরুষ শীস্রই বীর্ণ হইবেন। পাছে অন্যান্য মন্থাপুরুষের মত তিনিও জগতে আসিয় 
অনাদূত হয়েন, এই ভয়ে অনেক সাধককৃন্দ শাহাকে সমাদর ও সাহাধা করিধাঁয় জনয গ্রহাত হইতেছে । 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক বাখ্যা ১ 


আপনাকে অনুমান করিতেছ। তোমার এই শশকসদৃশ ব্যবহারে তুমি আধ্যাত্মিক 
জগতে হান্তাস্পদ হইতেছ মাত্র । 
যদি শিল্য হইতে চাহ, তবে আধ্যাত্মিক জগতের দিকে চক্ষু ফিরাও | তোমার 
প্রত্যেক কার্য সুশ্্-জগতের দিকে কিন্ধপে প্রতিফলিত হইতে পারে, সে দিকে 
লক্ষ্য রাখিয়া কাজ কর। মহাপুরুষ্দিগের কার্য দকল পর্যালোচনা করিলে দেখিতে 
পাইবে, সাধারণতঃ উহা! সমাজের পক্ষে বিপরীত ভাবাপন্ন বলিয়া পরিগণিত 
হয়; এবং সেই জন্ত অনেক সময়ে তাহাদিগকে নির্যাতন ভোগ করিতে হয়। 
কিন্তু তবু তাহারা সে দিকে লক্ষ্য ন| রাখিয়া কাধ্য করিয়া চলিয়া যান। 
তাহার কারণ আর কিছুই নহে, কেবল আধ্যাত্মিক জগতের দিকে দৃষ্টি থাকে 
বলিয়া. বহির্জগতে সে কার্ধ্য কিরূপে রঞ্িত হইতেছে, সে দিকে তী্ছারা লক্ষ্য 
করেন না। 
কত সিদ্ধ পুরুষ আমাদিগের নিকট দিয়া চলিয়া! যান, চক্ষুর অভাবে আমরা 
দেখিতে পাই না, তাহাদিগের শরণাগত হইতে পারি নাঁ। “শিষ্যকেইছং শাধি 
মাং ত্বাং গ্রপনম্‌” মন্ত্রের সাধন! ন! থাঁকায় তাহাদিগের চরণ স্পর্শ করিত পারি 
না। কত সিদ্ধ পুরুষ যুগযুগান্র ধরিয়া জগতের হিতার্থে অনবরত বেদ রক্ষা 
করিতেছেন ও জীবজগতের ভিতর দিয়া যাতায়াত করিতেছেন ; তাহাদিগের 
অঙ্গের জ্যোতির ছুই এক পরমাণু শান জীব-হৃদযে প্রবেশ করিয়া, মূর্খকে 
বিজ্ঞ, ক্রুরকর্মাকে দয়ালু, অভক্তকে ভক্ত করিয়া ভুলিতেছে। আমাদিগের 
অন্ঞাতে আমরা সেই সকল মহাপুকষিগের নিকট হইতে কত সাহাষা প্রাপ্ত 
হইতেছি, আমর! তাহ। বুঝি না। 
তাহার কারণ আর কিছুই নহে, শুধু এ “শিধ্যস্তেইহং শাধি মাং হ্াং প্রপন্নম্‌, 
মন্ত্রের সাধনা নাই বলিয়া । 
ন হ্‌ প্রপশ্যামি মমাপমুগ্যাৎ 
যচ্ছে। কমুচ্ছো ষণমিক্দিয়াণামৃ। 
অবাপ্য ভূমাবসপত্রস্দ্ধং 
রাজ্যং সুরাণামপি চাধিপত্যমূ ॥ ৮ 


স্বমৌ অদপত্ং খদ্ধং রাজাং স্ুরাাম্‌ অপি আধিপতাং চ অক্্ীপ) যৎ মম 
ইন্দিয়াণাম্‌ উচ্ছোষণং শোকম্‌ অপন্ুগ্ভাৎ ( তৎ ) নহি প্রপশ্তামি। 


১৬ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা | , 


বাবহারিক অর্থ ।--্ধরণীতে নিষ্ষণ্টক সমৃদ্ধ রাজ্য কিম্বা! সুরগণের উপর 
আধিপত্য পাইলেও আমি এমন কিছু দেখিতেছি না, যাহা আমার ইন্ড্রিয়গণের 
পরিশোষণকারী এই শোঁক অপনোদন করিতে পারিবে। 

যৌগিক অর্থ ।_-হে গুরো! আমি আত্মরাজ্য স্থাপনে ইন্দ্রিয়ের শোষণ 
ছাড়া আর কিছুই দেখিতে পাইতেছি না । ।এবং আমি সেই হননের আশঙ্কায় 
শোকাভিভূত হইতেছি । এমন কিছুই আছে বলিয়া আমার বিবেচন! হয় না, 
যাহা ইন্দ্রিয় অপেক্ষ। আমার প্রিয় হইতে পারে। 

বস্তুতঃ, ইন্দ্রিয়সকলই জীবের চৈতন্য-শক্তির প্রকাশক । প্রকাশধন্ম্ী আত্মা 
ইন্ড্িয়ুরূপে স্ফুরিত হইয়া জগতের সহিত সন্বদ্ধবদ্ধ হয়; এবং সেই প্রকাশ-শক্তিকে 
অস্তশ্ুখী করিতে গেলে, নিজের জীবভাব সঙ্কুচিত হইয়া পড়ে; ম্বতরাং সাধক 
ভীত হয়! ইন্দ্রিয়ের মায়া সাধারণতঃ মুখে আমরা যে ভাবে উপেক্ষা করিতে 
সমর্থ হই, কাধ্যতঃ মে ভাবে পারি না। যদি যথার্থ কেহ সাধক হয়) তাহা 
হইলে সে বুঝিতে পারে, অজ্জ্রনভুলা তেজঃশালী হইলেও তাহাকে ইন্জিয়ের মায়ায় 
অভিভূত হইতে হয়। পাঠকদিগের মধ্যে যদি কেহ ইন্দ্রিয় নিরোধে সঙ 
হইয়া থাকেন, তাহা হইলে অনায়াসে বুবিতে পারিবেন, যখন প্রত্যাহরণ করিতে 
করিতে চিন্তাকাশ শূন্যবং হইয়া যায়, তখন কিরূপ ত্রাস প্রাণের ভিতর উদ্দিত হয় 
ও দ্রেত আবার বাহন্মুখে মন প্রচ্ছত হইয়া স্বচ্ছন্দতা অনুভব করে। ইন্দ্রিয-সকল 
জগতের সঙ্গে এত ম্ুদৃঢ়ভাবে ঘনিঠতা স্থাপন করে বলিয়াই, এবং সংস্কার সে 
সম্বন্ধ সহসা ভুলিতে চাহে না বলিয়াই মৃত্যরূপ বিস্বৃতি পরিকল্পিত হইয়াছে । 
মৃত্যু বস্তৃতঃ কিছুই নহে; বাল্য, যৌবন ও বার্ধকা প্রভৃতি অবস্থার মত একটা 
অবস্থামাত্র । সে বিষয়ে পরে বলিব। শুধু পার্থক্য এ বিস্মৃতিটুকু । এরূপভাবে 
বালকিগের ধুলার ঘর ভাঙ্গিয়া ফেলার মত বিশ্মৃতিরূপ মৃত্যু আসয়া যদি আমা" 
দিগের খেলার ঘর ভাজিয়া না দিত, তাহা হইলে আমরা একই অবস্থায় একই 
খেলা লইয়া চিরদিন মন্ত থাকিতাম ; এবং ক্রমশঃ সংকীর্ণ হইতে সংকীর্ণতর 
গণ্ডির মধ্যে প্রবেশ করিতাম। অবশ্যন্তাবী মৃত্যুর আশঙ্কা সত্বেও সাধারণ লোক 
যে ভাবে মায়ায় জড়াইয়! পড়ে, মৃঠ্যু ন। থাকিলে বন্ধন-কল্পনা যে আরও সুদৃঢ় 
হইত, তাহ। অনায়াসে বুঝিতে পারা যায়। যাহা হউক, অঙ্জনের মত সাধক 
হইলেও ইন্জিয় উচ্ছেদের বিপক্ষে তাহার দ্বদরের স্ুদূ বৈ্রানিক যুক্তিদকল যে 
একবারে মায়াম্পৃষ্ট নহে, এ কথ। বল। যায় না। 


* উপনিষদ্রহস্য বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। " ১৭ 


তাই সাধক বলিতেছেন,_“ভূমৌ ( পৃথিব্যাম্‌) অসপত্বং রাজ্যং হবরাণাম্‌ 
অপি আধিপত্যম্‌ (ইন্দ্রত্বং ) অবাপ্য যত মম ইন্দ্রিয়াণাং ( উচ্ছোষণজনিতং ) 
শোঁকম্‌ অপন্ুগ্ভাৎ, ভৎ নহি প্রপশ্যামি |” 


ইন্দ্রিয়গণ উচ্ছেদিত হইলে তজ্জনিত শোক ইন্দ্রহ্ব পাইলেও অপনীত হইবে 
না, সাথক মায়ায় অভিভূত হইয়া এইরূপ আশঙ্কা করে। অর্থাৎ ভগবৎসাধন। 
করিতে গেলে ইন্দ্রিয়সকল উচ্ছেদিত হয়, এবং ভগবান্‌ তজ্জন্ ইন্দ্রন্ন আদি পদ 
সাধককে প্রদান করিতে পারেন ; কিন্তু ইন্দ্িয়াদি অপেক্ষা এ সকল পদ অধিক 
ঈগ্সিত নহে, সাধক এইবপ ধারণ! করে। 


অর্থাৎ মোটের উপর ছুই রকমের আশঙ্কা সাধকের প্রাণে উদ্দিত হয়। 

১। ব্রহ্মচর্ষা, কর্ম ইত্যাদির দ্বারা ও ইন্ডিয়াদির দ্বার আমার অস্তিত্ব 
অনুভব করি, ম্ৃতরাঁং উহার! উচ্ছ্দিত হইলে, নিজের অস্তিত্ব কি প্রকারে 
থাকিতে পারে। (এই আশঙ্কা প্রথম অধ্যায়ে বিবৃত হইয়াছে ।) 


১। যদি শামি এইরূপে আম্বরাজা প্রতিঠার জন্য ইন্দ্রিয়াদি হনন করি, তাহ! 
হইলে এরূপ উদ্ঠোগও যখন কর্ম, তখন নিশ্চয়ই তাহার ফল আছে। সেইরূপ 
যোগ বা আস্মপাজ্য প্রতিষ্টার উদ্যোগরূপ কর্মের ফলম্বরূপ ভগবান্‌ ইন্দত্ব আদি 
পদ আমাকে অবশ্য প্রদান করিতে পারেন এবং তাহা হইলেও ত আমি কর্মফলে 
বদ্ধ হইলাম--এক বর্ধন হইতে অন্য বন্ধনে আবদ্ধ হইলাম । কেন না, কর্মমান্রেরই 
ফল অবশ্যন্তাবী। ( এই আশঙ্কাই এই শ্লোকে স্থম্পষ্ট ); নতুবা! এ ভাবের গ্লোকের 
পুনরুল্েখের প্রয়োজন ছিল না । 


ভাল করিয়! বলি, কর্মমমাত্রেরই ফল আছে; সেই জন্য সাধকের প্রাণে এইরূপ 
আশঙ্ক। হয় যে,যেমন কর্্ম-বন্ধনের হাত হইতে পরিত্রাণ পাইবার জন্ত কণ্ম-সকলকে 
ও ইন্দ্রিয়সকলকে রোধ কর! উচিত, তেমনই জে কর্ম্মবন্ধন মোচন করিতে যোগাদি 
যে সকল কর্মের অনুষ্ঠান করিতে হইবে, তাহাও ত কর্ম; সুতরাং তাহার ফল 
আছে এবং কর্ম্মফলম্বরূপ যদি ইন্দ্রত্বও লাভ হয়, তাহাঁও বন্ধন ; স্থৃতরাং তাহাও 
সাধকের অভীঞ্সিত নহে। 


এই উভয় প্রকারের আশঙ্কায় সাধক ভীত হয়, এবং এই জন্য কিছুই করিব 
না, সাধকের প্রাণের অবস্থা এইরূপ হয়। তাই পরশ্োকে বলিতেছেন,__ 
ঙ 


১৮ ,  উপনিষদরহস্য বা গীতার যৌগ্বিক্‌ ব্যাখ্যা । 


সঞ্চয় উবাচ 
এবমুক্ত। হৃধীকেশং গুড়াকেশঃ পরস্তপঃ। 
ন যোতস্ত ইতি গোবিন্দমুক্ত1 তৃষগীং বভৃবহ ॥ ৯ 


পরন্ুপ: গুড়াকেশ:ঃ হৃধীকেশং এবম্‌ উক্ত! ন যোতৎস্যে ইতি গোবিন্দমুক্তা 
তৃষ্কীং বভৃব হ। 


ব্যবহারিক অর্থ ।--তপঃপ্রভাবশালী বিজিতনিদ্র অর্জন হযীকেশকে এইরূপ 
বলিয়া, তার পর আমি যুদ্ধ করিব না. এই কথা গোবিন্দকে বলিয়া তৃষণীন্তত 
হইলেন । 

যৌগিক অর্থ।-_-এই গ্লোকটীতে পহৃধীকেশং উক্ত1৮ এবং “গোবিন্দযুক্ত1” 
এইরূণে টক" কথাটা দুইবার ব্যবহৃত হইয়াছে । পূর্ববোক্তন্ধপে হৃধীকেশকে 
আশঙ্কার কথা বলিয়া,তারপর সাধক ভগবানের গোবিন্ব-মৃত্তিকে স্মরণ করিয়া “আর 
যুদ্ধ করিব না” এইরূপ বলিয়৷ কিছুক্ষণের জন্ত কর্ম্মবিরত হয়। জীব-হৃদয়ে সূর্য্য 
ও চন্দ্ররশ্মি আকারে বা দিবা ও রাত্রিরূপে রশ্মিরপ কেশজাল বিস্তৃত করিয়া যিনি 
আমাদিগের নু ও কুবাউদ্ধ ও অধঃ গতিসকল নিয়মবদ্ধ করেন, আমাদিগের 
হুদয়স্থ থাঁকিয়া যিনি আমাদিগের সারথিরূপে আমাদের ইন্দ্রিয়্প (কশঙগাল 
বিস্তৃত করিয়া বাসনাসকল পুরণ করেন,-যিনি আমার একার মা-যিনি আমার 
একার সারথি- যিনি আমার একার প্রিয় সহচর, তিনিই হাধীকেশ নাম অভিহিত, 
এ কথা পুর্বে বলিয়াছি। এবং যিনি বিশ্বনকলকে জানেন--খ্রিনি বিপ্ব-সমূহকে 
পালন করেন-_যিনি বিশ্বসমূহকে চালনা করেন_-যিনি বিশ্বের জননী--যিনি 
বিশ্বের সারথি--যিনি বিশ্বসমূহকে নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত করেন, ভিনিই গোবিন্দ 
নামে অভিহিত । গো! অর্থে বিশ্বসমূহ বা বেদ, বিন্দ-_-যিনি জানেন । 

সাধক বিষাদ-পীড়িত হইবার পর যখন উভয় দিক্‌ বিচারে প্রবৃত্ত হয় এবং 
বিচারের ভার নিজের উপর গ্রহণ করিয়া যখন চারি দিক্‌ অন্ধকার দেখে, কর্তব্য 
অকর্তব্য নির্ণয় করিতে ন! পারিয়া যখন শেষ হৃদয়স্থ ভগবৎ-শক্তিকে গুরু বলিয়া 
সম্ভাষণ করে, ঠিক সেই ব্রাঙ্গমুহূর্তে তাহার প্রাণ হুদয়স্থ শক্তিকে লক্ষ্য করিয়া, 
নিজের জ্ঞানানুযায়ী বিচার বিশ্লেষণ করিয়া, ভাঁরপর বিরাট বিশ্বব্যাগী শক্তির 
'দিকে চাহিয়া কর্মে একবারে পূর্ণরূপে নিরস্ত হইতে চাহে । নিজ হদয়স্থ ভগবানের 
 দ্রেকে যতক্ষণ লক্ষা থাকে, অর্থাৎ মাকে যত্তক্ষণ সে তার একার ম! বলিয়া দেখে 


, উপনিষদ্রহস্ত ব1 গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ১৯ 


বা হষীকেশ বলিয়া দেখে, ততক্ষণ তাহার নিকট মঙ্গল অমঙ্গল বিচার করিতে 
সাধক যত্ববান্‌ থাকে । তার পর যখন আর নিজের বিচার করিতে সমর্থ না হইয়া, 
সেই তার একার মায়ের চরণে দশিষ্যস্তেহহং শাধি মাং ত্বাং প্রপন্নম্” বলিয়া জড়া- 
ইয়া ধরে-যঞ্খন নিজের জীবভাবের দ্বারা কর্তব্য নির্ধীরণের উপায় নাই বুঝিয়া 
হৃদয়স্থ মাকে জাগাইতে, গুরু বলিয়! তাহার চরণে লুটাইয়া পড়ে, তখন দেখে, 
বস্ততঃ যাহাকে একার মা! বলিয়া চিনিতেছিল, সে ত একার মা নহে, লে যে বিশ্বের 
মা! যাহাকে হৃদয়স্থ বলিয়া ভাবিতেছিল, মে ত তার একার হুদয়স্থ নহে, বিশ্ব 
ভূবনের প্রত্যেক ভূতে ভূতে প্রতিষ্ঠিত -যাহাকে ক্ষুদ্র জীবের ক্ষুদ্র হৃদয়স্থ গুরু 
বলিয়া বসাইয়াছে, সে ত তার একার গুরু নহে, সে যে বিশ্বগুরু-_বিশ্ব চরাচরের 
মন্ত্রদাতা । ব্রহ্ম হইতে তৃণ পধ্যন্ত্ প্রত্যেক হৃদয়ে অবস্থিত থাকিয়া একই মন্ত্রে 
প্রত্যেককে দিত করিতেছেন - একই তুবনবিনোদন মন্ত্রে বিশ্বত্ুবন নিনাদিত 
করিয়া ধুলিকণ। হইতে মহেথর অবধিকে শিক্ষা দরিতেছেন-_-একই অনাদি মন্ত্-তরঙ্গ 
তাহারই শ্রীমুখ হইতে বিনির্গত হইয়া হৃদয়ে হৃদয়ে প্রতিধ্বনৈত হইতেছে । সেই 
হৃযীকেশ তার একার হৃধীকেশ নহে, তিনি গোবিন্দ _-তার একার গুক নহেন-- 
জগদৃগুরু ৷ তবে সে বিশাল শক্তির ইচ্ছায় যাহা হয় হউক, আমার ক্ষুদ্র জ্ঞান সে 
শক্তির গতি কিরূপে বিচার করিতে জমর্থ হইবে । আর ভাঁবিব ন।-_-অমঙ্গল হয় 
হউক, আর ভাবিতে পারি না, আর কিছু করিব না; «ন যোতস্তে*যে দিকে 
চাহিতেছি-য্মন করিয়া বিচার করিতেছি, কোন দিকেই মঙ্গল দেখিতেছি না। 
বন্ধনের শৃঙ্খল উন্মোচিত হইবার কোন উপায়ই খু'জিয়া পাইতেছি না--কর্সের 
বা যুদ্ধের পক্ষে কোন সদ্যুক্তিই প্রাণে উদ্দিত হইতেছে না, তার উপর আবার 
দেখিতেছি, অনন্ত ভূবনমগ্ডলমধ্যে একই গুরুশক্তি অহপ্রিশ ক্রিয়াশীল; অহস্নিশ 
একই অনন্তশক্তি ভূবনসকলকে নিয়ন্ত্রিত করিতেছে ; হূর্ধ্য, চন্দ্র, তারকামগ্ডল 
একই গুরুশক্তির মহামস্ত্রে উজ্জীবিত হইয় স্পন্দিত হইতেছে. ফুটিতেছে,মিলাইয়। 
যাইতেছে ; একই গুরুশক্তির মহাবঙ্কারে দিগন্ত ব্যাপিয়া একই তালে বিশ্ব-ভূবন 
নাচিতেছে--একই মহাগুরুকে বেউন করিয়! হরি, হর, ব্রদ্মা হইতে কৃমি, কীট, 
পতঙ্গ অবধি একই মন্ত্র গাহিতে গাহিতে প্রদক্ষিণ করিতেছে । তবে আর কেন? 
সে আবর্তনের মহাতালের বিপক্ষে আমি কি তাল জাগাইব! দীন ক্ষুত্র শক্তি- 
বিশিষ্ট জীব আমি, আমি সে বিরাট শক্তি-তরঙ্গে মিলিয়া যাওয়া ব্যতীত আর কি 
করিতে সমর্থ হইব ! যাক্‌, সব যাকৃ-- অমঙ্গল হয় হউক,-_-মঙ্গল হয় হউক,আমি 


২০ উপনিষদূরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


কর্ম করিব না; আমার চেষ্টা-শক্তি চালিত করিয়া আত্মপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়াস 
করিব ন1। ইন্ড্রিয়াদি, শান্তরজ্ঞান, শান্ত্রবিভিত কম্ম থাকে থাক্‌, তাহারা আমায় 
নির্বাদিত করিয়া রাখে রাখুক, যাহ হয় হউক, আমি নিরাশ হইয়াছি_ আমার 
উদ্ভমরূপ ক্ষুদ্র তর্ণী মহাসমুদ্রে ভাসিয়া আসিয়া পড়িয়াছে ; ডুবিতে হয় ডূবুক। 
আমি কর্ণ ছাড়িয়া! সে বিরাট শক্তির তরঙ্গ-নর্তন শুধু দেখিতে থাকি। 
এইরূপে ভগবান্‌্কে গুরু বলিয়৷ চিনিবার' পর সাধকের প্রাণ ভগবৎশক্তির 
বিশাল অনুভব করিয়া স্বীয় চেষ্টাশক্তিকে তাহাতে ভাসাইয়! দিবার স্ধন্প করে। 
সে গুরু বলিয়া ধাহার শরণাগত হইয়াছে, সমস্ত ব্রন্মাণ্ড তাহারই অন্ুশাঁসিত 
বুঝিয়া সে স্তব্ধ হইয়া পড়ে | মহতের সম্মুখে উপস্থিত হইলে ক্ষুদ্র যেমন আপন! 
হইতে নমিত হইয়! পড়ে, তেমনি ভাবে সে নিজ চেষ্টা-শক্তিকে হারাইয়া ফেলে । 
তবে ইহাকে নির্ভরতা বলিয়া বুঝিও না_ইহাকে আসক্তি বা ভক্তির আত্মত্যাগ 
বলিয়া মনে করিও না; সে অবশ্থা আসিতে এখনও বিলম্ব আছে । ইহা! অসমর্থের 
আত্মসমর্পণ_-ইহা' অশক্তের নিররতা-_ ই! দিগৃত্রান্ত নাবিকের গ্রবতারার জন্য 
আকাশে দৃষ্টিনিক্ষেপ। 
ইহাই সাধনার দ্বিতীয় অবস্থার উন্মেষণ । সাধনার সুচনায় সাধক যখন সর্বব- 
প্রথম উদ্যোগী হইয়া আত্ম-প্রতিষ্টার জন্ত কৃতসম্ল্প হয়,তখন ইন্ড্রিয়াদি ও কম্মাদির 
মায়া তাহার প্রাণে একবার বলব্তী হইয়া উঠে ও সাধককে বিষাদ-ভাবাঁপন্ন 
কারয়া ফেলে ; সাধক কিংকর্মব্যবিমূঢ় হইয়া পড়ে । তার পর নিজের ক্ষুদ্র জ্ঞানে 
ইন্দ্রিয়াদির উচ্ছেদ করিলে আত্ম-প্রতিষ্ঠ1 হয় না__-এইরূপ ভাবিয়া ও সে সকল 
পরিত্যাগ নি্গগতি হইতে পারে বুঝিয়া,শেষ হদয়স্থ তগবংশক্তির শরণাপন্ন হয়; 
এবং একই ভগবৎ-শক্তি সমস্ত ভূবনের অন্ুশাসক বুঝিয়া নিজেকে শক্তিহীন অনুভব 
করে; কিন্তু বুঝিতে হইবে,তখনও তার অস্তরে আত্মপ্রতিষ্ঠীর ইচ্ছা বলবতী আছে। 
আত্মপ্রতিষ্ঠার ইচ্ছা রহিয়াছে, অথচ যুক্তি ও সহজ জ্ঞান মায়াবিজড়িত হইয়া 
তাহার হৃদয়কে তদ্দিরুদ্ধে উত্তেজিত করিতেছে, এইরূপ সম্কটে পঠ়িয়াই সে সাধক 
তখন ভগবানে আত্মসমর্পণ করিতে সন্কল্প করিতেছে--কূল পাইতেছে না বলিয়াই 
সে আোতে গা ভাসাইয়। দিতেছে, ইহাকে যথার্থ নির্ভরতা বলে না। ভগবানে 
আত্মসমর্পণ, প্রাণে অন্ত কোন ইচ্ছা বলবর্তী থাকিতে, অন্য বস্তর উপর পূর্ণ আসক্তি 
থাকিতে আসে না । আমি আত্ম-প্রতিষ্টা লাভ করিব, এইরূপ উদ্দেশ্য অভ্যন্তরে 
নিহিত থাকায় আত্ম-কর্তৃৎ আসিয়া পড়ে। প্রাণ উদ্দেশ্টশৃন্য হইয়া যখন ভগবানে 


, উপনিষদ্রহস্য ব! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ২১ 


নির্ভর করে, তখনই যথার্থ ভগবানে আত্ম-সমর্পণ করা হয়। সে অবস্থা সাধকের 
হইতে বিলম্ব লাগে। বিষাদের পর দ্বিতীয় অবস্থায় আমিত্ব-শর্তির হূর্বলতা 
বুঝিয়া, তগবংশক্তির প্রবল ভ্োতের মুখে ীড়াইতে অক্ষম জানিয়া, সাধক যেন 
দু'গভাবে ভগবানে আব্মসমর্পণ করে । ইহা অক্ষম বুঝিয়া আত্মত্যাগ । 

যাহা হউক,এরূপ মাত্মত্যাগেরও মহাফল আছে । এই ভয়ে ভক্তি হইতে যথার্থ 
ভক্তি ক্রমশঃ আসিতে পারে । এবং এই দ্বিতীয় অবস্থায় তাহাই সঙ্গত বলিয়। 
বুঝিতে হইবে। পূর্ণ নির্ভরত| শন্তিআ্োতের অন্তর না করিলে আমে না | ভগবং- 
শক্তির অনুভব ধারে ধারে যত গাঢ় হইতে গাঢ় তর হয়, নির্রতাও সেই অনুপাতে 
ক্রমশঃ ঘনীভূত হইতে থাকে । শ্রোতস্থ পদার্থ সমুদ্রের যত নিকটস্থ হয়, ততই 
যেমন সমুত্রের প্রবল আকর্ধণ অন্ুভব করে, তদ্রুপ জীব যত ভগবৎসান্িধ্য লাভ 
করে, ততই তার বিরাট আকর্ষণী-শক্তিতে আকৃষ্ট হইতে থাকে 7; এবং সেই পরি- 
মাণে তার নির্ভরতা ও প্রবল হইতে প্রবলতর হয়। 

নির্ভরতা৷ ভগবৎশক্তি অন্নুভবের সঙ্গে সঙ্গে আপনি আইসে, নির্ভরতা শিখিতে 
হয়না । এবং এ নির্ভরতার আরম্ত সঙ্কটাপন্ন অবস্থা হইতে স্বচিত হয়। যেমন 
পৃথিবীর অন্তর্গত মহাঁশক্কি-তরঙ্গ ভূমিকম্পের সময় অনুভূত হয়, জীব-জীবনের 
সঙ্কট-সকলকেও তদ্ধপ বুঝিতে হইবে। সঙ্কট ভগবংশক্তি অনুইূতির জন্য আসিয়! 
উপস্থিত হয়। জীবন-স্কটে না! পড়িলে ভগব্দনু ভূতি হয় না। 

এই জন্যই যখনই কোন মঙ্গলশক্তি জগতে কাধে।র সুচনা করে, সঙ্গে সঙ্গে 
তদ্বিরুদ্ধ শক্তিও উত্জীবিত হইয়। তাহার প্রতিবন্ধকতা সম্পাদন করিতে প্রয়াস 
পায়। বিপরাত শক্তি জাগিয়া উঠে বলিয়াই শক্তি কার্যকরা হয়; অবরোধ ন! 
পাইলে শক্তি উত্রিন্ত হয় না । জগতে দেবী শক্তির সবতারণ! হইলেই আখুরিক 
শক্তি চারি দিক্‌ হইতে সম্মিলিত হইয়া তদ্বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হয় । কি ন/ছ্িভাবে, 
কি সমষ্টিভাবে এই শক্তিরহস্ত সব্বত্র পরিলক্ষিত হইয়া থাকে । 
এই জন্তাই জ্ঞানের পার্থে সন্দেহ, দয়ার পার্থ কুপণতা, ভক্তির পার্থ দেষ, 
সহানুভূতির পার্থ হিংসা, সাধকের পার্থ ভণ্ড দেখিতে পাই। 
তমুবাচ হৃধীকেশঃ প্রহনান্নব ভারত। 
সেনয়োরুভয়োমধ্যে বিষীর্দস্তমিদং বচঃ ॥ ১০ 


ছে ভারত! হৃধীকেশ: প্রহমন্‌ ইব উভয়োঃ সেনয়োঃ মধ্যে বিষীদস্তং তম 
ইদং বচঃ উবাচ । র 


২২ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । , 


ব্যবহারিক অর্থ ।_-হে ভারত! তখন হযীকেশ হাস্ত করিতে করিতে সেই 
উভয় ঠসন্শ্রেনীর মধ্যে বিষগ্ন অজ্জুনকে এইরূপ কহিলেন । 


যৌগিক অর্থ। -জীব এই সময়ে চেষ্টাশক্তির পরাধীনত। ও বিরাট শক্তির সর্বত্র 
অঙ্ষুপ্ন আধিপত্য বুঝিতে আর্ত করে। তখন তাহার প্রাণ উদাস হইয়া পড়ে। 
উদাসীন ভাব, সব্ধব বিষয়ে অনাস্থা, চিত্তের নিজীবতা, বিষণ্নতা, এই সকল এই 
অবস্থার লক্ষণ । পুবেরে বলিয়াছি, ইহা বৈরাগ্যের আভাস মাত্র_বৈরাগা নহে । 
পুরুষকার শ্রথ হইয়া পড়ে, অদৃষ্টবাঁদ প্রবল হয়। তাহার কর্তব্য আছে বলিয়া 
কিছু খু'ঁজিয়া পায় না; খুঁজিয়া পাইলেও করিতে প্রবৃত্তি হয় না। অনৃষ্টবাদের 
ফলে হিন্দুগণের অধোগতি হৃইয়াছে বলিয়া ধাহাঁরা মত গ্রকাশ করেন, তাহার! 
সাধারণতঃ; এইরূপ অবস্থার লোক বা বহিঃক্ষত্রে বিষয়-ব্যবসায় সম্বন্ধে এইরূপ 
ভাবাপন্ন লোকদিগকে লক্ষ্য করিয়াই বলিয়া থাকেন। কিন্ত অদৃষ্টবাদ বা পুরুষকার 
যে একই জিনিষের অগ্রপশ্চাং ভাবমাত্র, এ কথা তাহার! বুঝেন না । এবং এইরূপ 
অবস্থায় অদৃম্টে নির্ভরণীল মনুষ্যসকলও তাহা হৃদযুঙ্গম করিতে পাঁরে না । যে 
যথার্থ অদৃষ্টবাদ হ্ৃদয়ঙ্গম করিয়াছে, তাহার চিন্তু উদীস ও বিষ ভাব পাইতে 
পারে না। পুকষকাঁরবাদী পেক্ষা সমধিক সন্বভাবাঁপন্ন, হর্ষোৎফুল, কম্মে আশ্রহ- 
যুক্ত; এবং কর্মের অবশ্যান্তাবী কৃতকাধ্যতা বুঝিয়া সে ক্লান্তি অনুভব করে না। 
অনৃষ্ঠটবাদ কি? পুরুষকারের পুঞ্জীভূত সঞ্চিত শক্তিই অনৃষ্ট । যখন আমাদের কৃত 
কন্মসকল মহাশক্তি উজ্জীবিত করিয়া আমাকে বহিয়া লইয়। যাইতেছে, তখন 
আমি যে কন্মই করি, আমার দ্বারা ষে কর্ন্মই অনুষ্ঠিত হউক) উহা যে আমারই 
সেই পুগ্ধীভূত শর্টিকে আরও বদ্ধিত করিবে, সে বিষয়ে সন্দেহ কি? অদৃষ্টবাঁদ 
অর্থে-কোন মহাশক্তির নিকট আম্মসমর্পণ নহে--সে মহাশক্তি আমারই শল্তি 
বুবিয়া তাহাকে আরও টদ্দীপিত করা । পুরুষকারবাদ অর্থে__খণ্ড শক্তিবাদ। 
অদৃষ্টবাদ অর্থে পূর্ণ শক্তিবাদ। সাধারণতঃ মানব-প্রবৃত্তি ও প্রচেষ্টার মধ্যে 
বিবাদ দেখিতে পাওয়া যাঁয়,_-আম্রা কোন সংকার্ধ্য করিতে গেলে হয় ত প্রবৃত্তি 
সেদিকে আমাদিগকে সাহায্য না করিয়া, অন্য দিকে ফিরাইয়া দেয়। তাহা! আর 
কিছুই নহে, এ একই শক্তির আবর্তন মাত্র--ছুই বিভিন্ন শক্তির সংঘর্ষণ নহে। 
ঘেমন জলআ্রোত চক্রীকারে আবন্তিত হইয়া, আবার খজুভাবে প্রবাহিত হয়, উহ্াও 

তদ্রুপ বুঝিতে হইবে । 
যাহা হউক, সাধারণ কর্ম সম্বন্ধে যেমন অনৃষ্টবাদ ও পুরুষকার-_-শক্তির 


, উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ২৩ 


পূর্ণতবের ও খণ্ুত্বের নামান্তর মাত্র ও যথার্থ অদৃষ্টবাদ যেমন পূর্ণশক্তির করে আত্ম- 
সমর্পণ নহে, সে পূর্ণশন্তিকে আত্মশক্তি বলিয়া পরিচিত হওয়া, সাধনক্ষেত্রেও 
তদ্রুপ বুঝিতে হইবে । কিন্তু সাধনার যে স্তরের কথা বলিতেছি, এঁ স্তরের সাধক 
এ তত্ব সম্যক হৃদয়ম করিত পারে না। তার আত্মসমর্পণ যেন কোন প্রবল 
বিরুদ্ধ শক্তির নিকট বাধ্যতামূলক আত্মসমর্পণ বলিয়া সে অনুভব করে । এ বিশ্ব- 
ব্যাপিনী মহাশক্তি ও সে নিজে যেন ছুইটা ভিন্ন ভিন্ন শক্তি, এইরূপে তাৎকালিক 
অবস্থ। তাহার মনে প্রতিফলিত হয় হৃদয়স্থ হযাঁকেশকে বিশ্বগুরু বুঝিয়া ও তাহার 
বিশীলত্ব অনুভব করিয়া, মাতা যেমন কন্যাকে শ্বশুরালয়ে প্রেরণ করিতে হর্ষ ও 
বিযাদপীড়িত হয়, তন্রপভাবে হর্ধ-বিবাদধুক্ত হইয়া সে তার নিজের আমিত্বকে 
সেই বিশালের কর্তৃত্বাীনে প্রেরণ করে। 

এই স্থলে বুঝিতে হইবে,সে সাধক তখনও উভয় শক্তির 'একত হদয়ঙ্গম করিতে 
পারে নাই। ভৌতিক জগতে অনৃষ্ট ও পুরুষকার দুইটা বিভিন্ন শি বলিয়া সাধা- 
রণ লোকে ভাবেআধ্যাত্বিক ক্ষেত্রেও ঠিক তত্রপ--আমিত্ব ও বিরাট্‌ ছুইটি বিভিন্ন 
বলিয়া বিবেচিত হয়। এবং সেই কারণে সাধারণ অদৃষ্টবাদী যেমন পুকষকারকে 
তুচ্ছ ভাবিয়া উপেক্ষা বরে, সেইরূপ ভাবে সে সাধক আমিন্কে তুচ্ছ বোধ করে 
ও অবশেষে হর্ষ-বিষাদযুক্ত হইয়া আত্ম-বিসর্জনে অগ্রসর হয়। 

কিন্ত এরূপ আত্মত্যাগ যে সরল আত্মত্যাগ নহে, তাহ] পূর্বে বলিয়াছি। 

সে সাধক নিজ বিচাঁরশঞ্তে দ্বারা, ইন্দ্রিযনিরোধে পাপ হইবে, এইরূপ বি চন 
করিয়াঃ তার পর আপনাকে উভয়সঙ্কটাপন্ন দেখিয়া, ভবে ভগবানের শরণাপন্ন 
হয়। যদ্দি তার বুদ্ধিশক্তির দ্বারা সে বুঝিতে পারিত যে, ইন্দরির-নিরোধ কর্তব্য, 
তাহা হইলে হয় ত সে আর ভগবানের উপর আত্মনির্ভর কাধ্যতঃ করিয়া উঠিতে 
পাৰিষ্ু ন।; আমিতের বশীভূত হইয়াই কার্ধ্য করিতে থাঁকিত। 

যেরূপে হউক,ভগবানে নির্ভরত। স্বচিত হইলে সে বিরাট্‌ শক্তি প্রসন্্া হন এবং 
হৃদয়ে জ্ঞানালোক উজ্জীবিত করিয়া দেন । শুধু প্রসন্না নহেন-_মা হাসেন, তীহার 
দিগন্ত-মুখরিত হাস্ত ক্বদয়ে 'প্রতিধ্বনেত হয়, তাই এই শ্লোকে “প্রহসন্” কথাটা 
উল্লিখিত হইয়াছে । তোমরা মায়ের হাসি কখনও শুনিয়াছ ? দিগস্থবাপিনী 
মহাশক্তির আনন্দোল্লীস কখনও দেখিয়াছ ৪ আনন্দময়ীর আনন্দ-নিকেতন কিরূপ 
হান্তকল্লোলে পূর্ণ, কখনও কি তাহার সন্ধান পাইয়া? তোমাদের মুখে যেমন 
হাস্তরূপে আনন্দ ফুটিয়৷ উঠে, আনন্দময়ীর সর্ধবাঙ্গ হইতে সেইরূপ আনন্দোচ্ছাস 


২৪ উপনিষদ্ূরহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


ঝরিতে কখনও প্রত্যক্ষ করিয়াছ ? তাহার উচ্চ হান্তরোল গগনে গগনে কেমন 
করিয়! নাচিয়া বেড়ায়_-সে হাস্তের তালে তালে রুদ্রদকল কেমন করিয়া নাচে 
--সে হাস্যের সরে স্থরে সিদ্ধধিরা কেমন করিয়া শ্থর মিলায়--সে হাস্যের মধুর 
বস পান করিয়া দেবতার! কেমন করিয়া অমর হন কখনও দেখিয়াছ ? যদি না 
দেখিয়া থাক--না শুনিয়া থাক, বুঝিবে, তোম্বর জীবন বৃথা যাইতেছে । 
বিরাভাবে সে অপূর্ব দৃশ্য দেখিবার ম্থযোগ হওয়া স্থু্লভ সত্য,কিন্ত আংশিক 
ভাবে ইহা দেখিতে ও শুনিতে পাওয়া যায়। পূর্ণ শক্তির পূর্ণ লীল! পূর্ণভাবে 
প্রত্যক্ষ করিতে পারে,এমন শক্তিমান্‌ নাই সত্য; তবে অধিকারী হিসাবে আংশিক 
ভাবে ইহা! সকলেই অনুভব ক্লরিতে পারেন। মহাগুরুবৃন্দ কিন্বা মহামানববৃন্দ-- 
তাহারা যে ভাবে দেখিতে পারেন, সাধারণ মনুষ্য অবশ্য সে ভাবে এখন দেখিবার 
আশ] করিতে পারে ন।তবে সাধারণ সাধকের পক্ষে যতটুকু সম্ভব,তাহ। বলিতছি । 
চারি পাঁচ জন সাধক একত্রে প্রত্যহ চক্র করিয়া বমিতে হয়। সংহারমন্ত্রে দীক্ষিত 
হইয়।, সংহারিদীশক্তির উপাপনা করিবার জন্য সাধকেরা এইরূপ চক্রে অভ্যন্ত 
হইলে, রজনীর ঘোর অন্ধকারে দীপশূন্ত কোন গৃহমধো অথবা কোন নির্গন স্থানে 
বা শ্মশানে চক্র প্রতিষ্ঠা করিয়া, মন্ত্র সহকারে 'প্রত)হ অগ্রিতে আহৃতি দিতে হয় 
ও সমগ্র ব্রহ্মা্ড এক সংহারিণী শক্তির দ্বার অহনিশ তাড়িত হইতেছে, এইরূপ 
চিন্তা করিতে হয়। আত্মার বিনির্মুক্তির জন্য-_মা যেমন সন্তানের গায়ের আবর্জন। 
মুছাইয়৷ দেন, তেমনই ভাবে সেই সংহারিণী শক্তি আমাদের প্রবৃত্তিস্কল বা এই 
বিশাল ত্রঙ্গাও সংহার করিতেছেন, এইরূপ চিন্ত। করিতে হয়। গুরূপদ্িষ্ট ভাবে 
এইরূপ চিন্তা ক্রমশঃ গাঢ়তর হইলে সংহারের স্বরূপ হৃদয়ে হুন্দররূপে প্রতিফলিত 
হইতে থাকে ও সাধকের! সংহারের সারপ্য লাভ করে। তখন সাধকদিগের 
বহিম্ুর্তি এক অপূর্ব নির্মক্ত ভাবাপন্ন হয় ও সাধকনকল উচ্চ হাস্ত করিতে 
থাকে। তাহাঁদিগের হাস্যরোল ক্রমশঃ উচ্চ হইতে উচ্চতর হয় ও তখন ত'হারা 
শুনিতে পার--এক বিকট অট্র অট্র হাস্য গগন ব্যাপিয়। মুখরিত | বিশাল 
অন্ধকারের মধ্যে তাহাদিগের সে হোমশিখ। নির্ববাপিত হইয়া যায় -তাহাদিগের 
অঙ্গ হইতে বন্ত্রসকল স্মলিত হয়, উলঙ্গ হইবা সে সাধক-সকল উন্মত্তের মত 
শুধু হাসিতে থাকে ও মায়ের অট্র অট্ট হাসির সঙ্গে সে বিকট হাসি মিশাইয়া 
যাইতে থাকে । সে হাসির স্রোত সহস। থামে না। নির্নূক্ত ভাবের অপূর্ব আনন্দে 
বিভোর হইয়।, সমর-বিজয়ী বীরের মত্ত তাহাদিগের সে হামি বিজয়সৃচক। 


উপনিষদ্রহ্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা ২৫ 


তাহাদিগের চক্ষু হইতে তেজোব্যঞ্ক দৃষ্টি নিত হইতে থাকে । আপনার্দিগকে 
বিশাল শক্তিমান্‌ ও কায়িক সংকীর্ণতাশৃন্য ব! বিদেহী বলিয়া তাহার! বিবেচনা 
করে। বাহিরের কোন মনুষ্য সে সময়ে তাহাদিগের দৃশ্য দেখিলে, কতকগুলি 
রণবিজয়ী সৈম্ বিজয়োল্লাম করিতেছে, এইবগ মনে করে। 

এ চক্রের ব্যাপার অতি অপূর্ব এ চক্রে একবার সুদৃঢ় অভ্যস্ত হইলে সাঁধ- 
কের প্রাণে অন্য ভাব জাগরিত হয় না । জগৎ তাহা দ্িগের চক্ষে অস্তিত্ব হারাইয়। 
ফেলে। মৃত্যু বলিয়া কোন জিনিষ তাহারা কল্পন। করিতে পারে না। একটা তুচ্ছ 
তৃণ উৎপাটনে ও একটা মনুষ্য হননে তাহার! পার্থক্য দেখিতে পায় না। তাহারা 
বিশ্বময় শুধু এক সংহারের লীল! অহনিশ দেখিতে থাকে । 

এক সময়ে এরূপ একটা চক্র কোন স্থানে প্রতিষিত হইয়াছিল তাহাতে পাঁচ 
জন সাধক উপবিষ্ট ছিলেন । অমাবস্যা-রজনীর গভীর অন্ধকারে এক জনশুন্ত প্রান্তর 
মাঝে চক্র প্রতিষ্ঠা করিয়! তাহারা সাধনা করিতেছিলেন। অন্ধকারে তাহাদিগের 
হোমাগ্নি-শিখ! থাকিয়া থাকিয়া লক লক করিয়া জলিয়৷ উঠিতেছিল ও তাহা- 
দিগের মন্বধ্বনি মাঝে মাঝে সে স্থলের নিজীবত। ভাঙ্গিয়া দ্িতেছিল। কিছুক্ষণ পরে 
তাহাদিগের যিনি নায়ক,তিনি সহসা দণ্ডায়মান হইয়। উঠিলেন। তাহার অঙ্গ হইতে 
বস্ত্র খলিত হইল। তিনি অন্ত সাধকদ্দিগকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, _-“বৎসগণ ! 
আমাদিগের সাধনায় ভাবাস্তর ঘটিয়াছে। গুরুশক্তির সাহায্য বিনা আজিকার 
সাধনা বিফল হইবে । এত দিন ধরিয়। যে চক্র প্রতিষ্ঠা করিতেছিলাম,গুরুর উপ- 
দেশ সম্যকৃতাবে বুঝিতে না পারায় আমাদিগের অদ্জাতে তার সঙ্গে সঙ্গে একটা 
ভ্রম সংসাধিত হইয়া আসিতেছে। এত দিন বুঝিতে পারি নাই,এখন সহসা! আমার 
মনে উদ্দিত হইল । গুরুদেব ব/তীত সে তম এ সময়ে আর কেহ সংশোধন করিতে 
পারিবে না। এত দিনের উগ্ঠম শেষ মুহুর্তে বোধ হয় ব্যর্থ হইয়া গেল।* তখন 
সকলে যুক্তি করিলেন, ভ্রম হইয়া থাকে হউক, সাধন! ছাড়িৰ না। আমাদিগের 
সাধনা যেরূপ চলিতেছিল, চলুক । তখন সেই উলঙ্গ পুরুষ-_.:সই চক্রের নায়ক-* 
উপবেশন করিয়া, আহুতি গ্রহণ করিয়া, তাহাদিগের গুরুদেবকে সম্বোধন করিয়া 
বলিয়া উঠিলেন,-_-“্অন্তর্ধ্যামিন্! আমরা যদি অকপটভাবে সাধনা করিয়। থাকি, 
তবে আমাদ্দিগের ভুম সংশোধনের জন্ত--মামাদিগের পরিশ্রমের চরিতার্ঘতার জন্ত 
,আপনি উপায় বিধান করুন।” এইরূপ বলিতে বলিতে অগ্নিশিখায় সে আগুতি 
অপিত হইল । লিখি তে শরীর রোমাঞ্চিত হয়, দেহ কীপিয়া উঠে, সহসা অগ্নিবং 


২৬ উপনিষদূরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা! । 


জ্যোতির্শয় অঙ্গ বিশিষ্ট এক বিশাল পুরুষ তাহাদিগের প্রত্যক্ষীভৃত হইল। সে মূর্ত 

দর্শনে একমাত্র সেই নায়ক ব্যতীত অন্তান্ত সকলে বস্রাহতের মত স্তব্ধ রহিলেন। 
শুধু সেই নায়ক “জয় গুরু;জয় গুরু” বলিয়। তাহার চরণে প্রণত হইয়! পড়িলেন। 
তার পর আর কিছু দেখা গেল না ; হোমশিখা নির্ব্বাপিত হইয়।৷ গেল, মন্ত্র 
শব্দ রোধ হইয়া গেল | সেই পাঁচ জন সাধকের উচ্চ হাস্তে সে নিজ্ন প্রাস্তর 
মুখরিত হইতে লাগিল । তাহাদিগের গুরু-পায় তম সংশোধন হইয়া যাওয়ায়, 
তাহারা বিরাট হামির সন্ধান পাইলেন । 


এইরূপে হাস্যোগ অনুষ্ঠিত হয়। আমি প্রকাশের ভয়ে হান্তিযোগ নাম দিয়? 
এ সাধন! সম্বন্ধে যতটুকু উল্লেখযোগ্য, বলিলাম। ইহা অপেক্ষা অধিক পুস্তকে 
প্রকাশ করা চলে না। £ 


বিরাট জননীর বিরাট হাসি, সংহারিণী শক্তির উপাসনায় যেমন অর অট্ট 
ভাঁবে শুনিতে পাওয়া যায়, তদ্রপ শ্থজন ও পাঁলন-শক্তির আরাধনায় সুমধুর মৃছু 
হাস্য সাধক অনুভব করিতে পারে । কিন্তু পুর্বে বলিয়াছি, সে বিরাট জননীর 
সহিত সম্বন্ধ স্থাপন করিতে না পারিলে সাধক হওয়া যায় না ও সাধক হইতে ন| 
পারিলে তাহার লীলা-তরঙ্গ উপলব্ধি করা যায় না। 


হানিই বিশ্বের প্রাণ--হাসিই বিশ্বের জীবন--হাঁসির জনই বিশ্বস্থজন কল্পিত। 
এ হাঁসি যে না শুনিল,_-জগৎপালিনার মধুময় হাসি যে না শুনিল-_-সংহারিণীর 
অট্ট অট্ট হাসি যে না গুনিল; তাহার মন্ুয্যত্ব এখনও নুদুরে । 


কথায় কথায় অনেক দূরে আসিয়া পড়িয়াছি। যাহা! হউক, আমর। এই পর্য্যস্ত 
পাইলাম, গুদয়স্থ শক্তিকে বা হৃধীকেশকে বিশ্বব্যাপিনী শক্তি বা গোবিন্দ বলিয়। 
অনুভব করিলে, সে শক্তি প্রসন্ন হয়েন; এবং সেইরূপ দায়ে পড়িয়া নির্ভরতার 
অবস্থা হইতে পুর্ণ, সরল নির্ভরতায় তিনি পৌছাইয়া দেন। এই স্থল হইতেই 
জীবের জীবন-গতির বিকাশ) এই মুহুর্ত হইতেই তাহাকে ভগবানের সহিত সম্বন্ধ- 
যুস্ত ও সাধক বলিয়া সম্বোধন করিতে পারা যায়। জীবমাত্রেই সাধক ও তাহার 
নহিত সম্বন্ধযুক্ত। মে হিনাবে আমি বলিতেছি না; তবে এত দ্রিন অজ্ঞাতভাবে 
' সাধক ও সম্বদ্বযুক্ত ছিল, এইবার জ্ঞাতভাবে সাধক ও সম্বস্বধুক্ত হইল। বিষাদের 
পাল! ঘুচিয়। ঠিয়। এইবার আনন্দের পাল! পর়িল। ক্রন্দনের পোল থামিল -. 
হাস্তের তরঙ্গ-হল্পোলে সাধকের হগয় পুর্ণ হইতে চলিল | 


. উপনিষদূরহস্থ বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ২৭ 


শ্বীভগবামুবাচ। 
অশোচ্যা নম্বশোচত্তবং প্রজ্ঞাবাদাংশ্চ ভাঁষসে। 


গতাসুনগতা সুংশ্চ নানুশোচস্তি পপ্ডিতাঃ ॥১১ 


ত্বমূু অশোচ্যান্‌ অহশোঁচঃ প্রজ্জাবাদান্‌ চ ভাষসে; পণ্ডিতাঃ গতান্ন অগতাস্ুন্‌ 
চন অনুশোচস্তি। 


ব্যবহারিক অর্থ।-_-অশোচ্যদিগের জন্য তুমি শোক ক্কারত্েছ ও বিজ্ঞের মত 
কথা কহিতেছ। মৃত বা জীবিত, ইহার জন্য পণ্ডিতের! কখনও শোক করেন না'॥ 


যৌগিক অর্থ ।--মৃত বাঁ জীবিত, হত বা আহত, পণ্ডিতদিগের শোকের কারণ 
এ সকল নহে। পত্ডিতদ্িগের লক্ষ্য এ দিকে নিবদ্ধ নহে। পণ্ডিতদিগের বা 
সাধকদিগের নিম্নাবস্থায় যদি কিছু শোকের কারণ থাকে, তবে তাহা ঈশ্বরবিচ্ছেদ 
উপলদ্ধি। এ অবস্থায় যখন জ্ঞান হুদয়স্থ হয় নাই, শুধু কঠস্থ হইয়াছে মাত্র, অর্থাৎ 
জ্ঞানের যখন ঈবং আভালসমাত্র ক্ষুরিত হইয়াছে,_-ষখন জ্ঞান কেবলমাত্র বাক্যকে 
অনুশাসিত করিতে সক্ষম _কার্ধ্যকে পারে না,সেই সময়ে জীবের শোকের কারণ 
এ একমাত্র ভগবদৃবিরহ। মৌখিক বা আভাদিক জ্ঞানে সে বুঝিয়াছে, ঈখবর' 
এবং সে একই পদার্থ ১ কিন্তু কার্ধ্যতঃ নিজের হীনতা, অক্ষমতা, স্বববিষয়ে ইশ্বরের 
সহিত পার্থক্য অনুভব করিয়া সে শোক করে। অন্ুশোচনায় তাহার হৃদয় পুড়িয়া 
যাঁর়। ভাবে আমি যদি ঈশ্বর বা তদংশ বা স্বরূপ, তবে আমি তদ্রপ শক্তি উপ- 
লব্দি করিতে পারি না কেন? এ অবস্থায় সাধকের এইটুকুমাত্রই শোকের বিষয়। 
মতুবা দেহ ও ইন্দ্রিয়াদি যাক বা থাক্‌, এ সকল নাঁধকের শোকের বিষয় 
নহে। 
সাধকের এই বিশিষ্ট অবস্থাটুকুই এই শ্লোঁকে ক্ষুটিত। এ অবস্থায় মানুষ 
প্রাজ্ঞের মত কথা কহে, কিন্তু প্রাজ্কের মত কার্ধ্যানুষ্ঠান করিতে পারে না। বুঝিতে 
হুইবেজ্কান এখনও কার্ধ্যকে অন্তরশাপিত করিবার উপধুক্তভাবে ঘনীভূত হয় নাই ; 
ঈষৎ আভাসমাত্র চিত্তক্ষেত্রকে ক্ষীণ আলোকযুক্ত করিতেছে। তাহার ভাবসকল 
সেই আলোকে ঈষৎ আলোকিত হইয়! বাক্যাকারে প্রকাশ পাইতেছে । 
তাই ভগবান্‌ এই লময়ে এই ভাববৈষম্যময় অবস্থার প্রতি সাধকের দৃষ্টি আকর্ষণ 
কফরেন। কার্য ও বাক্যে যাহাতে সমতা আইসে, এই অবস্থায় সাধকের সেই, 
দিকে লক্ষ্য করা উচিত। অবশ্য বাক্য চিরদিনই কার্যোর অগ্রসর, মনুষ্বের কার্যা 


২৮ উপনিষদূরহস্য বা গীতার ঘৌগিক ব্যাথা! । 


কোন দিনই বাক্যের সহিত সমবেগে যাইতে পারে না। ভাব চিরদিনই বাক্যা- 
কারে কার্যের আগে আগে যায়, কার্য ক্রমশঃ তার পশ্চাদ্ধাবন করে মাত্র । তবে 
যাহাতে বাক্য হইতে কার্ধয অধিক পিস্থাইয়া না পড়ে--যাহাতে বাক্যের সহিত কার্য 
সম অনুপাতে অগ্রসর হইতে পারে, এই অবস্থায় সাধকের সেইটা প্রধান লক্ষা 
ওয়া উচিত। তাই ভগবান্‌ এ বিশিষ্ট অবস্থাকে লক্ষ্য করিয়! হাস্য করেন। যাহার 
কার্য্যে ও বাক্যে বিরোধ নাই, জ্ঞান উন্মেষের সঙ্গে সঙ্গে ভাব ও বাক্যসকল যেমন 
উন্নত হয়, সেই দিকে লক্ষ্য রাখিয় কার্ধ্যকে তদন্পাতে যে উন্নত করিতে পারে, 
সেই হথার্থ এই শ্রেণীর সাধক। নতুবা ছায়াঁবাজীর মত জ্ঞান একবার বাক্য 
কারে চারি ধারে স্ফুরিত হইয়া, লোকচচ্ষু চমৎকৃত করিয়া! চিরদিনের মত নির্ববা- 
পিত হইয়া যাঁয়। কিন্তু কার্ধ্কে সে ভাবের পশ্চাৎ পশ্চাৎ উদ্দমুখী করিতে 
পারিলে, কার্ধ্য সেই ভাবরূপ শক্তিকে নিজ পোষণের জন্ত আবদ্ধ করিয়া রাখে, 
বাক্যাকারে ফুটিয়! উঠিয়া ছায়াবাজীর মত মিলাইয়।৷ যাইতে দেয় নাঁ। এ পন্থাতেই 
সাধকের শক্তি বাড়িতে থাকে, তাই ভগবাঁন্‌ সাধকের এই ভাববৈষম্যময় অবস্থা 
লক্ষ্য করিয়। বলিতেছেন,--জীব | তুমি বিজ্ঞের মত কথা কহিতেছ, কিন্তু অজ্জের 
মত ক।ধ্য করিতেছ। 


ন ত্বেবোহং জাতু নাঁসং ন ত্বং নেমে জনাধিপাঃ | 
ন চৈব ন ভবিষ্যামঃ সর্বেবে বয়মতঃ পরম্‌ ॥ ১২ 


অহং জাতু নআসম্‌ ইতি তু নৈব, ত্বং ন ( আসীঃ ইতি ন), মে জনাধিপাঃ ন, 
অতঃপরং সব্রে বয়ং ন ভবিব্যামঃ ( ইতি ) চন এব। 


ব্যবহারিক অর্থ।-_-আমি যে কখনও ছিলাম না, এমন নয়, তদ্রপ তুমিও যে 
ছিলে না, তাহাও নহে,এই জনাধিপনকল, ইহারাও যে ছিলনা, এমনও নহে, ইহার 
পর আমরাও যে থাকিব না তাহাও নহে। 


যৌগিক অর্থ ।--জীবের পক্ষে এমন আশ্বীসের বাদী বুঝি আর নাই। প্রাণে 
অভয় াগাইয়। দিতে, এমনই করিয়া অমৃত-শ্রোত ঢালিয়। দিতে, প্রাণকে চির 
অস্তিত্বের আভাসে আলোকিত করিতে, মৃত্যুশব্দ চিরদিনের জন্য বুকের ভিতর 
হইতে মুছিয়া দিতে ভগবান্‌ এই ভাবের আশ্বীসবানী হাদয়ে প্রতিবিনিত করেন। 
ফীব যাহ! কিছু দেখিতেছে-_-যাঁহা। কিছুর অস্তিব উপপন্ধি করিতেছে'মাছে বলিয়। 


উপনিষদ্রহস্ত বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাখ্য!। ২৯ 


যাহা কিছু বুঝিভেছে--এ সমস্তই চির সত্য-_জন্ম-মৃত্যুহীন। কিছু কখনও হিঙ্গ 
না, নৃতন হইয়াছে, অথবা নূতন করিয়া হইবে, এমন নহে। ভাবিও না--তুমি নৃতন 
হইয়াছ, ভাঁবিও না-_তুমি কখনও ছিলে না, ভাবিও না--তুমি কখনও থাকিবে 
না। তোমার অস্তিত্বের কখন লোপ হয় নাই, কখন লোপ হইবে না, কখনও হইছে 
পারেনা । আমি চিরবর্তমান, তুমিও চিরবর্তমান। এই ইন্দ্রিয়ষ্ভাবাদি যাহাদিগের 
হননে তুমি কাতর হইতেছিলে, যাহারা বিনষ্ট হইবে বুঝিয়। তুমি শোকাচ্ছন্ন হইতে- 
ছিলে _-এ সকল চিরবর্তমান; এবং এঁ ইন্দ্রিয়সন্বন্ধে সম্বন্বযুক্ত যে সকল পদার্থের 
জন্য তুমি মায়াক্রাস্ত, সে সকলও চিরবর্তমান। 

তুমি ইন্দ্রিয় নিরোধ করিয়া যোগস্থ হইতে গেলে প্রাণ থে ইন্দ্রিয়গ্রামে বার 
বার প্রত্যাবর্তন করে, নিজের অস্থিত্ব হারাইয়া ফেলিবার ভয়ে ভীত হইয়া 
আবার মায়ার ক্ষেত্রের দিকে লক্ষ্য ফিরায় অথবা তোমার জীবন-প্রবাহ ক্রমশঃ 
মায়ার দিক্‌ হইতে ফিরাইয়া ভগবানের দিকে লইয়! যাইতে গেলে বার বার উহা! 
ঘে মায়ার দিকে ঘ্ুরিয়া দীড়ায়, কুলধন্দন আদি বিনষ্ট হইবার আশঙ্কা করে, এই 
উভ্তয় পক্ষেই তোমার বুঝা উচিত, তোমার আশঙ্কার কোন কারণ নাই । কেন না, 
কোন পদার্থ কখন অস্ত্বিহ হার।ইতে পারে না। বস্তু বল,ভাব বল)শক্তি বল,ইক্জিয় 
বল--সমস্তই চির অস্তিত্বময়-*চির বর্তমীন--চির সত্য । যাহা কিছু দেখি, যাহা 
কিছু শ্রবণ করি, ইন্দ্রিয় সকলের দ্বার! যাহা কিছুর অস্তিত্ব অনুভব করি, বুঝিও 
»-বিরাট অস্তিত্বে সমস্তেরই সত্তা বর্তমান--সমস্তই সত্য । চন্দ্র, ন্ূর্্য, আঁকাশ, 
বৃক্ষ, তৃণ, পর্বত, সমুদ্র, সমস্ত সত্য-_সমস্ত অস্তিহথরূপ সত্যে গঠিত। কাহারও 
অস্তিত্বের কখনও বিচ্ছেদ হয় নী, অস্তিত্ব কাহারও কখনও হাঁস প্রাপ্ত হয় না, 
অস্তিত্ব কাহারও কখনও বিলুপ্ত হয় না। তুমি আজ এ যে একটা অস্কুরকে 
মৃত্তিকা ভেদ করিয়া! উঠিতে দেখিতেছ, এবং কিছু কাল পরে যে উহাকে এক বৃহৎ 
বৃক্ষাকারে পরিণত হইতে দেখিবে, ভাবিও না-_-এঁ বৃক্ষটি ছিল না, আজ নৃতন 
হইয়! জন্মাইতেছে $ অথবা এ যে বৃক্ষটিকে নিব শু হইয়া ক্রমশঃ ধ্বংস হইয়া 
যাইতে দেখিতেছ, ভাবিও ন1--উহ! আর থাকিবে না_-বিনষ্ট হইয়া যাইতেছে । 
এঁষে মাতৃগর্ভে রেতোবিন্দু পু হইয়া শিশুরূপে জগতে অবতীর্ণ হইল এবং 
কিছু কাল পরে বদ্ধিত হইয়া যুবক আকারে পরিণত হইবে, ভাবিও না--উহার 
অস্তিত্ব কখনও ছিল না, আজ নূতন করিয়া হইল। অথব। এ যে মৃত্যুশধ্যায 
জরাজীর্ণ বৃদ্ধ মনুষ)টা শায়িত রহিয়াছে, তাবিও না- উহা আর রহিল না বিনষ্ট 


৩০ টিপনিষদ্রহস্য বা গীতাঁর যৌথিক ব্যাখ্যা । : 


হইয়া গেল। তোমার প্রাণে যে পিতা, মাতা, মনুষ্য, পশু, বৃক্ষ, ক্রোধ, ভর্তি? 
ইত্যাদি ভাবসকল বিকাশ পাইতেছে, ভাবিও না-_উহারা ছিল না, আজ নৃতন 
জন্ম পরিগ্রহণ করিতেছে,অথবা বিস্বৃতির সঙ্গে মক্গে উহার! চিরদিনের জন্য অস্তিহ 
হাঁরাইয়! ফেলিতেছে। ৃ 

তবে হইতেছে কি? এই মুহূর্তে যাহ” দেখিতেছি, পর মুহূর্বে তাহা 
দেখিতে পাই না কেন? আঁজ “যব ভাব আমার প্রাণের ভিতর ফুটিয়া উঠিয়! 
মিলাইয়া গেল, ঈহু জীবনে আর সে ভাবের সন্ধান পাই না কেন? প্রাণ দিয়! 
ঘাহাকে ভালবাসিলাম, হৃদয়ের সমস্ত বৃত্তি যাহার সেবায় অর্পণ করিলাম, শাহার 
সঙ্গ মনুষা-জীবনের পূর্ণ চরিতার্থতা ভাবিয়! মুহূর্ষের জন্ত ছাড়িতে চাহিতাম না, 
কিছুকাল পরে আর সেই মনুষ্যরূপী গুরুকে সমগ্র জগৎ অনুসন্ধান করিয়াও খুঁজিয়া 
পাই না কেন? প্রাণপণে কঠোর পরিশ্রম করিয়া মাতৃরূপ ধ্যান করিতে বসিলাম, 
বহু কষ্টে বহু আরাধনায় মূর্তি ফুটাইয়া তুলিলাম, মুহূর্তের জন্য মাতৃনয়নের স্েছ- 
ভর! চাহনি হাদায় শ্েহের ধারা ঢালিয়। দিল, তার পর চবণে লুটাইতে গিত্া আর 
তত্াহাকে খুঁজিরা পাইলাম ন|। স্বগ্র জীবন ব্যাপিরা “মা” “না” করিয়া 
কাদিলাম; কই, আর ত উহাকে দেখিতে পাইলান না? এ যে ব্রহতীর শিরে 
বিমল হাসি হাসিয়া ক্ষুদ্র কুম্ুমটি উঠিল, কত সৌরভ বিতরণ করিল, কত নয়নে 
সৌন্দর্য্যের মোহ বিকীর্ণ করিয়৷ ধীরে ধীরে ঝরিয়া পড়িল, আর ত তাহাকে 
রাখিতে পারিলাম না! 

কেন এমন হয়? যদি সবই চিরস্থায়ী, তবে আমাদের চক্ষে সকলি অস্থায়ী 
কেন? যদি সকলই অপরিণামী, তবে আমরা জগৎকে এত পরিণামী চঈখিতেছি 
কেন? বস্ত বল, ভাব বল, এই মুহুর্তে যদ্রুপ দেখি, পর মুহুর্তে ঠিক তন্্রপ 
দেখিতে পাই না কেন? তাহার উত্তরে ভগবান্‌ বলেন,- 


দেহিনোহস্মিন্‌ যথা দেহে কৌমারং যৌবনং জর! । 
তগ| দেহান্তরপ্রাপ্তিধাঁরস্তত্র ন মুহৃতি ॥ ১৩ 
দেহিনঃ যথ। অস্মিন্‌ দেহে কৌমারং যৌবনং জরা, দেহান্তরপ্রাপ্রিং তথা, ধীরঃ 
তত্র নমুহাতি। | 
বাবহারিক অর্থ ।__দেহীদিগের দেহে যেমন কৌমার, যৌবন ও বার্ধক্য, দেহান্তর- 
প্রাপ্তি তদ্রপ । ধীরত্ব প্রাপ্ত হইলে আর এ সকলে তাহাকে মুগ্ধ হইতে হয় না। 


উপনিষদ্রহস্ বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৬১ 


যৌগিক অর্থ ।--এই ক্লোকটীতে এবং পর শ্লোকে সমগ্র স্থষ্টিতত্ব ব্যক্ত হইয়াছে । 
এই দুইটা শ্লোক ভেদ করিতে পারিলে স্থষ্িতন্ব স্ুন্দররূণে উপলব্ধি হয়। এত 
সংক্ষেপে বিশাল ব্রহ্গাগ্ততব্ব আর কোথাও ব্যক্ত হইয়াছে বলিয়া মনে হয় না। 
এবং এ ছুই শ্লোকের মর্ম সুন্দররূপে উপলব্ধি করিতে পারিলে সাংখ/যোগে 
অধিকারী হওয়! যায়। 

দেহ কাহাকে বলে? আধারের নাম দেহ। অনস্ত শর্তের সমুদ্র বিভিন্ন প্রকারে 
বিভিন্ন স্তরে উপলগ্গি হয় ও বিভিন্নরূপে ক্রিয়া করে। সেই ভিন্ন ভিন্ন স্তারে যে সকল 
ভিন্ন ভিন্ন রূপে যে শক্তি পরিদৃষ্ট ও উপলব্ধি হয়, সেইগুলিকে দেহ বলা যায়। 
বিরাট শক্তি সাধারণতঃ সপ্ত প্রকারে গ্রতিফলিত। সেই অপ্ত স্তর বিরাট শক্তির 
সপ্ত দেহ বলিয়া পরিচিত। সাধারণত: এই সপ্ত দেহ সপ্ত লোক নামে বর্ণিত হইয়াছে; 
কিন্তু এই স্থলে বিশেষ করিয়। বুঝা উচিত, একই জিনিৰ সাত স্থলে সাত রকমে 
পরিদৃষ্ট হয় মাত্র। জিনিষের প্রত্যবায় হয় না, দর্শনের রূপান্তর হয় মাত্র । যেমন 
একই নক্ষত্র চক্ষে এক আকারে এবং যন্ত্র সাহায্যে অন্থ প্রকারে পরিদৃ্ট হয়, তদ্রপ 
একই শক্তি-পমুদ্র এ সপ্ত স্থলে সন্ত প্রকারে পরিদৃষ্ট । স্থুল কথা, বিশাল ব্রহ্াপ্ত 
জিনিষের তারতম্য নহে, শুধু চক্ষে র তারতম্য । 

যাহ। হউক, ইহ1 হইল প্রথম স্তরের কথা অর্থাৎ প্রথম স্তরে ব্রহ্ম এইরূপে 
পরিদৃষ্ট হন। দ্বিতীয় স্তর বা সাংখ্যস্তরে যে প্রকারে উপলাদ্ধ হর, তাহ! এইহব।র 
বলব। বিশাল চেতন্তণক্জি পুর্ণ ঘনাভূত অবস্থ। পাইয়! প্রকাশিত হইলে যেরূপ 
অবস্থ! প্রাপ্ত হয়, তাহার নাম দেহ । চৈতগ্-শঞ্তির প্রত্যেক কহ্িত অণু এইরূপ 
সাত সাতটী দেহে পরিব্যাপ্ত। বিরাই হইতে অণু পরমাণু অবধি এই হিসাবে 
সকলেই দেহী । 
বপ্ততঃ; দেহে ও দেহাতে যেন কিছু পার্থক্য নাই । যেমন অগ়িশিখ। তাপের 

দেহ, আগ্ন-শিখার প্রত্যেক অগুটী উত্তাপ ছাড়া আর কিছুই নহে এবং সেই 
প্রত্যেক উত্তাপ-কণা রূপ বা জ্যোতিবিশিষ্, কিন্তু বহু উত্তাপ-কণ। একত্র সম্বদ্ধ 
হইয়। তবে মানবচক্ষে রূপবিশিই্ সাবয়ব বলিয়া প্রীত হয়, তদ্রপ প্রত্যেক 
পদার্থ সম্বন্ধে বুঝিতে হইবে। চৈতন্তশক্তিই সর্ধবন্ত এইপ্প অণু আকারে এইরূপে 
সাবয়বধ পরিগ্রহণ করে। বিণাল ব্রন্গাণ্ডের প্রত্যেক পরনাযুই এইরপে চৈতন্ত- 
বিশিষ্ট_চৈতন্তে গঠিত ও চৈতন্তের ঘনীঠ্ত বিকাশ ব। দেহা। সাধক হইতে 
হইলে দেহকে যাহাতে দেহা নহে বলির। চিনিতে পার। যার। তঞ্জপ জ্ঞান 


৩২ উপনিষদ্রহস্য বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । : 


সাধনা করিতে হয়। এবং এরূপ সাধনার নামই সাংখাযোগ । আধারকে আধেয় 
নহে বলিয়া পরিজ্ঞাত হওয়াই প্রকৃতি-পুরুষ জ্ঞান। সাধারণত: লোকে ভাবে, 
প্রকৃতি ও পুরুষ যেন দুইটা বিভিন্ন জিনিষ, এই প্রকৃতি হইতে পুরুষকে পরমার্থতঃ 
বিচ্ছিন্ন করিয়। দেখাই যেন বিবেক এবং এইরূপে মায়াবিজস্তিত হইয়।৷ তাহাদের 
ছতবাদের গোষকতা! করে। কিন্তু শান্ত প্রকৃতি হইতে পুরুষকে মুক্ত করার থে 
উল্লেখ তোমর! দেখিতে পাও, উহার অর্থ এরূপ নহে । উহার প্রকৃত অর্থ - প্রকৃতি 
ও পুরুষ বা! দেহ ও দেহী ভিন্ন করিয়া দেখিয়া, পরে ব্রন্মজ্ঞানে একীকরণ ৷ এই 
একী করণের উদ্দেশ্যেই প্রথম বিবেক। 
এই একীকরণের জন্য প্রকৃতিকে বা দেহকে বা আধারকে বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন 
করিয়া প্রথমে দেখিতে হয় ও পুঙ্থান্ুপুত্খরূপে তাহার ভিতর কলার মূল অপরিণামী 
সত্তাকে লক্ষ্য করিয়া নিজ শক্তির প্রেরণা করিতে হয়। তাহা হইলে স্পষ্টত: 
পরে দেখিতে পাওয়া যাঁয়, বস্তুত; একই চিতিশক্তি বিশেষ বিশেষ স্থলে তত্তত- 
স্থলীয় সক্কীর্তাবশতঃ বিশেষ বিশেষ গুণাক্রাস্ত ব! ভাবাক্রীস্ত বা আধার বলিয়া 
প্রতিপন্ন হইতেছে ও তন্মধ্যে আধেয়রূপে এক চিৎস্বরূপ আত্মাই রহিয়াছেন। এই 
চিতিশক্তি ও চিৎ, পরে এক বলিয়া জান যায় ও উহাই ব্রহ্মবাদ । 
পরমাত্বা অর্থে--সর্ব প্রকার অস্তিত্ব অনন্থভবনশীয় এক কিন্তৃত কিমাকার 
কল্পনার জিনিষ নহে; পরমাস্থ্া অথে--সববি অণুর, সর্বব মহতের, সমস্তের আবিচ্ছিন্ 
কেন্দ্র বা পূর্বেধাক্তরূপ ভাব ব৷ গুণ বা আধাররূপ সংকীণ্ণতামুক্ত নিত) সর্ধবব্যাপী 
অস্তিত্ব । 
মনে কর, একটা বিন্দু বিন্দু বলিলে কি বুঝায় ? ব্যান্তিশৃন্ অস্তিত্ব; যাহা 
বিভাজ্য নহে, তাহাকে বিন্দু বলে। ব্যাপ্তিশৃন্ত অস্তিত্ব কিরূপে সম্ভবপর ? যাহার 
অস্তিত্ব আছে, তাহারই ব্যাপকতা অবশ্যস্তাবী ; এবং ব্যাপকতা থাকিলেই তাহা 
বিভাজা,তরাং ব্যাপ্তিশৃন্ত ও অবিভাজ্য অস্তিত্ব কি প্রকারে হ্সিদ্ধ হইতে পারে ? 
অথচ যেমন বিন্দুর অস্তিত্ব অস্বীকার করিলে বস্তমাত্রেরই অগ্তিত্ব অস্বীকার 
করিতে হয় বিন্বুর অস্তিত্ব যেমন স্বতঃপিদ্ধ ও বিন্দুর অস্তিত্বেই ঘেমন পদার্থমাত্রের 
অস্তিত্ব, অবিভাজ্য ব্যাপ্তিশৃগ্ঠ বিন্দুই ঘেমন বিভাজ্য ও ব্যাণ্িময় দ্রব্যাকারে 
পরিণত, এ সমগ্র ব্রন্মাগ্ততত্ের মূল উপাদানও সেইরূপ বুঝিতে হইবে । 
তার পর মনে কর, সেই বিন্দু যেকোন দ্রব্যের যে কোন স্থলে যে কোন 
অবস্থায় হেনূন উপলব্ধি হয় ।--এমন কৌন স্থল থাকা সপ্তব নহে, যেখানে বিন্দুর 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্য! ৷ ৩৩ 


অস্তিব অন্বীকার করিতে পারা যায়; সুতরাং বিন্দুকে যেমন সর্ব্বব্যাগী অথচ 
অপরিণামী বলিয়া বুঝিতে পারা যায়, ঠৈতম্তশক্তিকে সেইরূপ বিন্দু অথচ মহান্‌ 
_ ব্যাঁপকতাশুন্ত অথচ অর্ব্বব্যাপী--গুণশুম্য অথচ গুণময় বলিয়া বুঝিতে পারা 
যায়। এই যেব্যাপ্তি ও গুণবিশিষ্ট ভাব, ইহাই চন্দ্র বা দেহ বা আধার বা বিরাট, 
্রহ্ম। আর এ ব্যাপ্তিশূন্য অস্তিত্বই বিন্দু-_-দেহী বা আধার বা নিপুণ ব্রহ্মা । 

যাহা হউক, মোট কথা এই-চন্র ও বিন্দুর মধ্যে অর্থাং জড় ও হিরি্নয় 
পুরুষের মধ্যে পীচটা স্তর বর্তমান। ব্রহ্মাণ্ডের প্রত্যেক পরমাণুর ভিতর দিয়া এই 
পাঁচটা স্তর অনুস্যুত। জড় ও হিরগ্ময়কোষ লইয়া সর্বসমেত সাত প্রকার ক্ষেত্র 
প্রন্তত। সাত প্রকার অর্থে সাতটা বিভিন্ন জিনিষ নহে । একই জিনিষের সুক্ষ ও 
ঘনীভূত অবস্থাভেদ মাত্র । আর প্রত্যেক পরমাণু বা,জীব এই সপ্তকোষসম্থলিত 
ও এই প্রকারে অস্তিত্ব উপভোগ করিতে ক্রমশঃ সমর্থ হয়। 

জীব বহিশ্মুখী গতিপ্রভাবে যত শক্তিমান্‌ হইতে থাকে, তত তাহার স্ুল দেহ 
ক্রমশঃ সর্কেক্তিয়বিশিষ্ট মনুষ্যত্বের দিকে অগ্রসর হইতে থাকে ও তাঁর পর অন্তশ্ুধী 
গতি স্চিত হইলে ভিতরের এ সপ্ত কোব ক্রমশ; দেহে পরিণত ও তাহাতে কার্ধয 
করিতে সক্ষম হয়। সাধারণ মনুষ্য তাহাদের এই বাহিরের স্থুল দেহে কার্যপটু ; 
কিন্তু দ্বিতীয় অন্তুম্তরে বা মনোময় কোঁষে শিশুসদৃশ_ দেখানে এখনও তাহাদের 
ইন্দ্রিয়মকল ফোটে নাই। উন্নত পুরুষেরা মনোময় কোষে পুর্ণ কার্য্যক্ষম এবং 
স্থলদেহের মত মনোময় দেহেও হুচারুরূপে সব্ব কাধ্য সম্পাদন করিতে সমর্থ । 

মনোময় কোষে জীব কার্ধাকারী হইলে ভুবর্লোক পর্ধান্ত স্ষচ্ছন্দে পরিণৃষ্ট হইতে 

পারে। এইরূপে জীব যত সুক্ষ কৌঁধ-সকলকে স্ুক্ম দেহে পরিণত করিতে পারে, 
ততই সুক্ষ হইতে ুক্্মতর ক্ষেত্রের সহিত সে সম্বন্ধবদ্ধ হয় ও অবশেষে হিরগয় 
কৌষ বা মায়ের আমার আনন্দমন্দিরের সন্ধান পায়। 

এইরূপে স্কুল হইতে সুক্ষতর কোষে কাধ্যক্ষম হইতে যে সময় লাগে, সাধা* 
রণতঃ তাহ! চারি ভাগে কল্পিত--কলি, দ্বাপর, ত্রেতা ও সত্য । মনুষ্যকুলে আসিয়া 
পৌছিবার পূর্ববববধি সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি, এই প্রকার ক্রমাবলম্বনে শক্তি 
উন্মেষিত হয় ও তার পর গতি অন্তম্মথী হইলে বিপরীত ক্রম অর্থাৎ কলি, দ্বাপর, 
ত্রেতা ও সত্য,এই ভাবে গতি প্রবাহ চলিতে থাকে । শক্তি যখন শায়িত ব। গ্রচ্ছর, 
তখন তাহাকে কলি বলে, শক্তির উপবিষ্ট অবস্থার নাম দ্বাপর, উত্থান অবস্থার 
নাম প্রেতা ও পুর্ণ কাধ্যকরী অবস্থার নাম সত্য ৷ 

€ 


৩৪ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখা । 


সাধারণ জীবদেহে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি, এইরূপ ভাবে কালপ্রবাহ 
চলে, অর্থাৎ স্ুলদেহে অন্তম্মূখী গতি উন্মেষণ হওয়া বশতঃ জীব ক্রমশঃ উর্ঘ- 
স্তরীয় কোষে প্রবিষ্ট হয় । কিন্তু সেই কোষে প্রবিষ্ট হইয়। বহিম্মু্বী গতিপ্রভাবে 
তার অন্তম্মূ্থী গতি রুদ্ধপ্রায় হইয়া পড়ে ও ক্রমশঃ দেই কোধান্ুযায়ী ইঞ্জরিয়- 
সকল পরিপুষ্ট হইয়া জীব-কোষের ভোগে মগ্ন হইয়া পড়ে। ইন্দ্রিয়সকল যত 
স্ষুটতর হইতে থাকে, বহিন্মুখী ভে।গেচ্ছার তত চরিতার্থতা ঘটিতে থাকে ও তাধার 
অন্তম্ঘুখী গতি ততই ধীরে ধীরে সধশলনশীল অবস্থা পরিত্যাগ করিয়া মায়িত 
হইয়া পড়ে বা কলি আক্রান্ত হয়। তখন বিরাট স্সেহময়ী মাতৃশক্তির স্সেহ- 
দৃষ্টি তাহাকে--তাহার অস্তন্মূী গতিকে পুনরায় উন্মেষিত করিতে দেহাস্তর 
আশ্রয় করিতে বাধ্য করে! ইহারই সাধারণ নাম মৃত্যু । সত্য, ত্রেতা, ঘাপর 
ও কলি, এই চারি অবস্থা, পরমাণু হইতে সাধারণ মনুষ্য অবধি এই সমস্ত জীব- 
ক্ষেত্রে কৌমার, যৌবন, জর! ও দেহাস্তরপ্রাপ্ডি, এই চারিরূপে প্রকটিত হয়। কিন্ত 
সাধক হইতে হইলে এই চারিটিকে ঘৃরাইয়া বা! বিপরীত ক্রম করিয়া! লইতে হয়; 
অর্থাৎ যে ভাবে সাধারণ মনুষ্য বাঁচিয়। থাকে, সেইটিকে মৃত্যু অবস্থা বা! অস্তম্মুখী 
শক্তির শায়িত অবস্থা বলিয়া ধারণা করিয়া লইতে হয়। এবং যাহাতে সেই 
শায়িত অবস্থা হইতে অস্তম্ছ্বী গতি ক্রমশঃ উপবেশন, উত্থান ও সঞ্চারণশীল 
অবস্থায় পরিণত হয়, তদনুযায়ী ভাবে জীবনের গতি ফিরাইয়। লইতে হয়। 
সে ফিরাইবার উপায় বিরাট চৈতন্তশক্তিকে উপলব্ধি কর! ৰা প্রকৃতিকে 
চেনা । সগুণ। জননীর গুণসকলের বিশ্লেষণ করিতে করিতে যতই অগ্রসর হওয়া 
যায়, ততই ক্রমশঃ নিব্রে র গুণ বা শক্তি সেই মহাশক্তিতে বিলীন হইতে থাকে । 
আ্রোত যেমন সমুদ্রে মিলায়,বাস্প যেমন আকাশে ব্যাপ্ত হইয়া পড়ে, তেমনি ভাবে 
আত্মশক্তি মাতৃক্রোড়ে মিশাইয়া যাইতে থাকে ও তখন মাতা ও পুত্র, প্রকৃতি ও 
পুরুষ, চন্দ্র ও বিন্দু, আধার ও আধেয়, নিগুধ ও সগুণ এক হইয়া যায়। 
আগে হইতে নিগুণ নিগুণ করিও না,নিগুণ কথার অর্থ বুঝিতে এখনও অনেক 
বিলম্ব আছে। আজ ব্রদ্মবাদের ঘনঘটায় পৃথিবী ছাইয়! ফেলিতেছে-_আপামর 
সাধারণ *ত্রহ্ম” “ব্রহ্ম” শবে দিগন্ত মুখরিত করিতেছে--আজ ম! আমার বাজ্য়ী- 
রূপে দেশে অবতীর্ণ--অভাগিনী হৃদয়ে আশ্রয় না পাইয়া কঠে আশ্রয় লইয়াছে। 
যদি দেখিতে চাও, তবে কঠ হইতে মাকে হৃদয়ের মধ্য লইয়। যাও--দেখিতে 


পাইবে। 


উপনিষদৃরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৩৫ 


আগে আধার বুঝিতে চেষ্টা কর-সআগে বৃক্ষ লতা. তৃণ বুঝ--আগে রক্ত 
মাংস মেদ বুঝ--আগে ক্ষিতি, অপ, তেজ, মরুৎ, ব্যোম বুঝ,তার পর প্রাণ বুঝিবে 
স্-ভাঁর পর আত্মা বুঝিবে। 
জানি, বুঝিবার শক্তি তৌমার নাই ; তাই ব্রহ্মশক্তির আশ্রয় লও; অনুমান 
ছাড়িয়া প্রত্যক্ষের দিকে চাহ,--মাথা ঘামাইতে হইবে না, যাহা দেখিতে শুনিতে 
পাইতেছ, ইন্দ্রিয়ের দ্বারা যাহা! স্পর্শ করিতে অধিকারী হইয়াছি, তাহাই ভাল 
করিয়। ল্পার্শ কর, তাহাই ভাল করিয়া দেখ, 'ন_-বুবিতে পারিবে। 
যাহা হউক, পূর্ব বলিয়াছি, আধারের চারি প্রকার অবস্থা --কৌমার, যৌবন, 
জরা ও দেহাস্তরপ্রাপ্তি। শক্তির উন্মেষের ক্রম হিসাবে এই চারিটা অবস্থা দেহী 
বা জীবমাত্রেরই দেহে ফুটিয়া উঠে। দেহাস্তর-প্রাপ্তি কৌমার, যৌবন, জরার মত 
একটা অবস্থা মাত্র ; উহা আঁর নৃতন কিছু নহে । অন্তম্ম্র্ধী শক্তির শায়িত অবস্থার 
নাম দেহাস্তরপ্রাপ্তি ; শক্তির বিনাশ নহে । মনে কর, একটি আধারে এক দিক্‌ 
দিয়া জলপ্রবাহ প্রবিষ্ট হইতেছে ও অগ্ঠ দিক্‌ দিয়া অন্য একটি প্রণালী বহিয়া সে 
জল নির্গত হইয়া যাইতেছে । আর সেআধারটী এমন ভাবে গঠিত যে, 
ইচ্ছানুযাঁয়ী তাঁহার দ্বারা জল অধিক পরিমাণে আকৃষ্ট করিতে ও অল্প পরিমাণে 
প্রক্ষেপ করিতে কিন্বা অল্প পরিমাণে টাঁনিয়া লইতে ও অধিক পরিমাণে বাহির 
করিয়া দিতে সমর্থ হওয়া! যায়। তুমি সেই যন্ত্রে যত অধিক পরিমাণে জল 
টানিয়া লইতে সমর্থ হইবে বা সংগ্রহ অপেক্ষা যত অল্প পরিমাণে ব্যয় করিবে, 
তত সে জলের বহির্গমন-বেগ বদ্ধিত হইতে থাকিবে এবং ইহার বিপরীত ক্রমে 
বহিন্ম্খী বেগও মাত্রানুষায়ী হাস পাইতে থাকিবে । জীব-শক্তি যৌবনের প্রারস্ত 
অবধি অধিক পরিমাণে অন্তন্সুধী ও অল্প পরিমাণে বহিন্মখী থাকে বলিয়া, বহি- 
মুখী চঞ্চলতা৷ বৃদ্ধি ও কর্শেক্িয়াদির পুষ্টি অধিক মাত্রায় হইতে থাকে। যখন শক্তি 
অন্ত্মুখে ও বহিম্মু্খে সমান পরিমাণে ক্রিয়া করে, জীব তখন ভাহাকে যৌবন 
বলে এবং যখন শক্তি অন্তন্মু অপেক্ষ। বহিম্ম্খে অধিক কার্ধ্য করে, তখন ঞৌঁঢ, 
জরা ও অবশেষে দেহাস্তরপ্রাপ্তি আদি পরিবর্তন ঘটে। 
যেমন পূর্বোক্ত আধারটতে সংগ্রহ অপেক্ষা ব্যয় অধিক হইলে, জল সঞ্চাপের 
ন্যুনতাবশতঃ বহিচ্ঘধী নল দিয়া জল-বহি্ধার হাঁস হইয়া পড়ে ও সে নল স্থিতি- 
স্বাপকতা গুণবিষ্ষ্ট হইলে ক্রমশ: তস্থীর্ণ হইতে থাকে, তন্রপ যৌবনের পর 
শক্তির অন্তম্মী ক্রিয়ার হ্রাস প্রাপ্তির জন্ সঞ্চাপ হাস প্রাপ্ত হয় ও ইন্িয়াদি 


শু৬ | উপনিষদ্রহম্থ বা গীতার যৌগিক ব্যাখা । 


বিগুক্ষ, শীর্ণ হইয়া পড়িতে থাকে। ইহাই প্রৌঢ় ও বার্দকা ইত্যাদি শারীরিক 
বিকলতার কারণ । 

এই যে অন্তম্মূখে বা বহিম্যুখে ক্রিয়াশীলতা, 4 জীব নিজ সংস্কারানুষায়ী 
সম্পাদন করে। সাধারণতঃ বহিম্ঘুখে বিষয়াদি ভোগের জন্য য্ত ব্যস্তত৷ প্রদর্শন 
করে এবং অন্ত্মখের দিক্‌ হইতে লক্ষ্য ফিরাইয়! বহিম্মখের দিকে লক্ষ্য স্থাপিত 
করে, তত সঞ্চয় অপেক্ষা ব্যয়ের পরিমাণ অধিক হইয়! পড়ে। 

এইরূপ অন্তম্ম্থ হইতে বহিম্ঘুখে অধিক ক্রিয়া হইলে, তাহার সঙ্গে সঙ্গে 
আঁর একটি আভ্যন্তরিক ঘটনা ঘটিতে থাকে । এই অন্তম্মখী ও বহিম্মুখী গতির 
ক্রিয়ার অধিক পরিমাণে মাত্রা-বৈষম্য হইলে, উভয় দ্রিকেরই সাধারণ কার্যকরী 
শক্তি হাস হইয়া পড়ে । * শক্তি প্রতিরোধ না পাইলে ক্রিয়াশীল হয় না, ইহা 
শক্তির একটা ধর্্ম। শক্তির অন্তম্ম্রধী গতি বহিঙ্মুখী গতিতে প্রতিঘাত প্রাপ্ত 
হয় ও বহিম্মখী গতি অস্তম্ম্রখী গতিতে প্রতিঘাত পাইতে থাকে এবং এই জন্যই 
সংগ্রহ ও ব্যয় বাঁ অন্তম্মুখে ও বহিন্মুখে শক্তি কার্যকারিতা প্রকাশ করে। 
লুতরাং যখন শক্তির এক দিকের গতি অন্ত দিকের গতি অপেক্ষা বহুল পরিমাণে 
অধিক হইয়া! পড়ে, তখন এ দুর্বল শক্তি প্রবলতর শক্তিটিকে প্রয়োজনানুযায়ী 
প্রতিরোধ দিভে সমর্থ হয় না, স্থতরাং উহারও কার্য রুদ্ধ হইয়া আসিতে থাকে। 
এই অবস্থাকেই দেহাস্তরপ্রাপ্ডি বলে । 

দেহাস্তরপ্রান্তি বা যাহাকে সাধারণতঃ মৃত্যু বলে, উহা কা্ধ্যতঃ অন্তন্ম্ী 
শক্তির অতিরিক্ত হ্রাসপ্রীপ্তি ও তজ্জনিত বহিম্মুখী গতির প্রায় রুদ্ধাবস্থা । মৃত্যু 
এইরূপ জীরের ক্রিয়াশীলতার তারতমা ছাড়া আর কিছুই নহে । যেমন একটি 
বৃক্ষের ত্বক্‌ ক্রমশঃ উপরিভাগ হইতে জীর্ণ হইয়া আসিয়া আসিয়া নীরস হইয়া 
পড়িতে থাকে ও শেষে সে ত্বক্রূপ বৃক্ষের আবরণখানি খসিয়া পড়ে,মুত্যুও তদ্রপ 
একটি স্থল আবরণের প্রিত্যাগ ছাড়া আর কিছুই নহে। যেমন স্বয়স্তু পুষ্পোন্িদ 
(ভূ'ইাপা গাছ ) মৃত্তিকা তেদ করিয়া বিকশিত হইয়া, পুষ্পাদি প্রদান করিয়া, 
তার পর ক্রমশঃ জীর্ণ হইতে থাকে, পন্ত্রসকল ও দণ্ড রসহীন হইয়া ধীরে ধীরে 
শুকাইয়! যায় ও অবশেষে একবারে আমাদিগের নয়নের অদৃশ্য হইয়! পড়ে, 
'অথচ আমরা জানি যে, সেই স্থলে এ ন্বয়ন্তু উত্ভিদ আছে. আবার কালে প্রকাশ 
হইবে, ভদ্রপ আমাদিগের দেহাস্তরপ্রাপ্থিও বুঝিতে হইবে। এ সম্বন্ধে পরে 
,বিস্তৃতভাবে আলোচনা করিব | 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৩৭ 


ধীরত্ব লাভ হইলে আর এই দেহান্তর প্রাঞ্চি বিভীষিকা আকারে প্রাণকে 
ভীত করিতে পারে না। এই স্থলে শক্তির আর একটি রহস্য আমাদিগকে 
বুঝিতে হইবে। শক্তি প্রতিরোধ না পাইলে ক্রিয়াশীল হইতে পারে না- ইহা 
পুরে বলিয়াছি। শক্তি-বিজ্ঞান ধীহারা জানেন, তাহারা এ তত্ব সহজেই বুঝিতে 
পারিবেন এবং এই রহস্তটা বুঝিতে পারিলেই একই জিনিষ বনুরূপে-স্ব্হ 
আকারে কেমন করিয়। ফুটিয়া উঠে, কেমন করিয়া এই জ্যপ্টিবৈচিত্র্য হয়, তাহ 
বুঝিতে পারা যাইবে। | 

কোন বস্তুর উপর শক্তি প্রয়োগ করিলে; সেই বস্তুর নিজ শক্তি সে শক্িকে 
প্রতিরোধ করে বলিয়াই বস্তু সঞ্চালিত বা গতি প্রাপ্ত হয়। প্রতিরোধ করা 
কার্যত; শক্তিকে সংগ্রহ করা মাত্র; সেই সংগ্রহ যখন পুর্ণমাত্রায় হয়, অর্থাৎ 
প্রতিরোধশক্তি ছাপাইয়া যখন কোন শক্তিপ্রবাহ অধিক মাগ্তায় আইসে, 
তখনই সে জিনিষ গতিশীল হয়। যেখানে প্রতিরোধ, সেইখানেই ক্রিয়া, জড়- 
বিজ্ঞান ইহা আমাদিগকে শিখায় । এই বিজ্ঞানটি বিশ্লেষণ করিয়া দেখিলে ইহার 
মধ্যে শক্তির তিনটি অবস্থা পরিলক্ষিত হয়। প্রথম অস্তিত্ব বাঁ সত্তা উদ্দীপনা 
দ্বিতীয় আভ্যন্তরিক আণবিক গতি, তৃতীয় সে গতির বাহ প্রকাশ বা সমষ্টি গতি। 
ইহারই শাস্ত্রীয় নাম সন্ত, রজঃ ও তমঃ। এই তিনটি অবস্থা প্রতি শক্তি-অগুর যেন 
অঙ্গ ব দেহ। যেখানে শক্তির অস্তিত্ব, সেইখানেই এই তিনটি গুণ প্রকটিত। 
এই তিনটি গুণ অবলম্বন করিয়াই ঘত কিছু কার্ধা বা পরিণাম সংঘটিত হয়। এই 
তিনটি গুণ সংক্ষুব্ধ না হইলে কার্ধ্য ব| পরিবর্তন সংঘটত হইতে পারে না। কিন্তু 
ইহ] ছাড়া আর একটি অলৌকিক গুণ আমরা শক্তি-অণুতে দেখিতে পাই। যদি 
কতকগুলি অণু একত্রে পর পর সংলগ্রভাবে রক্ষিত হয়, আর যদি সই শ্রেণীবদ্ধ 
অণুর এক প্রান্তে নূতন কোন শন্তি আঘাত করে, তাহ হইলে মধ্যস্থ সমস্ত 
অণুশেণীর ভিতর দিয়া সে শক্তি প্রবাহিত হইয়া গিয়া, সর্বশেষস্থ অণুটাকে 
সঞ্চালিত করে, আর সমুদায় অণু স্ব স্ব স্বনচ্যুত হয় না । বালকদ্দিগকে সময়ে 
সময়ে এইরূপ ক্রীড়া করিতে দেখা যাঁয়। কতকগুলি পয়সা শ্রেণীবদ্ধরূপে পার্ে 
পার্থ পরস্পর সংলগ্ন করিয়া সাজাইয়া, তাহারা অপর একটি পয়সা দিয়া সেই 
শ্রেণীটার এক প্রান্তে তাড়না করে ; মেই তাঁড়ন।৷ বা আঘধাতজনিত শক্তি সঃগ্র 
শ্রেণীর ভিতর দিয়া তাহাদিগকে অবিচল রাখিয়া বহিয়া! চলিয়। যায়, অপর 
্রান্তস্থ বা শেষের পয়সাটী শ্রেণী হইতে দূরে গিয়া পড়ে । এই শ্রেণী হইতে দূরে 


৩৮ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


গিয়া পড়া, এ পূর্বে্বাক্ত তিনটি অবস্থার পরিণাম । শক্তির পূর্বোক্ত যে 
তিনটি অবস্থার কধা বলিয়াছি, উহ্থার শেষটি সম্যক্রূপে অন্ত কোথাও প্রকাশিত 
না হইয়া, এ শেষস্থ পয়সাটি_:যেটির একটি মুখ শ্রেলীতে লুকান নাই, যেটি 
স্বাধীনভাবে একটা মুখ শ্রেণী হইতে বাড়াইয়া বসিয়া আছে, তাহার উপরই 
প্রকাশ পায়। সেই পয়সাটর উপরই প্রথমে অস্তিত্ব বা সব গুণ,তার পর প্রতিরোধ 
বা আভ্যন্তরীণ গতি বা রজোগুণ, তার পর *সঞ্চালন বা তমোগুন সম্যক্রূপে 
প্রকাশ পাইয়া তাহাকে চতুর্থ বা অবস্থান্তরে প্রেরণ করে । এই যেচারিটি 
অবস্থা পাইলাম, ইহারই নামান্তর কৌমার, যৌবন, জরা ও দেহান্তরপ্রান্তি। 
গয়সার দুান্তে যেটা বুঝাইলীম, বিরাট, শক্তিতে এই ক্রিয়াটী অনবরত 
ঘটিতেছে। জীবসকল বা শল্তির অণুসকল জীবাকারে স্বাধীন বহির্খী অবস্থা 
কল্পনা করিয়া লইয়া, বিরাট হইতে একটি মুখ কল্পিত স্বাধীনতার দিকে বাড়াইয়া 
আছে ;।-ভোগেচ্ছাপ্রণোিত হইয়া, বিরাট অস্তিহ ভুলিয়া, ব্যষ্টি স্বাধীনতার 
মোহে মুগ্ধ হইয়া, সমষ্টি হইতে বাহিরে যেন মুখ বাড়াইয়া আছে। সেই জন্য 
বিরাটের তরঙ্গ প্রবাহিত হইয়া তাহাদিগের উপর এ চারিটি গুণ প্রকটিত 
করিতেছে । তাই জীব সব, রজ, তম অবস্থায় চালিত হইয়া কৌমার, যৌবন, 
জর সম্ভোগ করিয়া, শ্রেণী হইতে শ্রেণ্যস্তরে প্রবেশ করিতেছে। হায় জীব! 
যদি এ অবস্থার হাত এড়াইতে চাহ--যদি সব, রজ, তমোগুণের বিকাশ হইতে 
মুক্তি চাহ--যদি কৌমার, যৌবন, জরা, দেহাস্তরপ্রাপ্তির কবল হইতে নিষ্কৃতি 
চাহ---যদি জন্মমৃত্যুর আ্োত হইতে পরিত্রাণ পাইতে চাহ, তবে মায়ের বুকে 
মুখ লুকাও। অমন করিয়া বাহিরে মুখ বাড়াইয়া থাকিও না--জননীর ক্রোড়ে 
থাকিয়া জননীকে ভুলিও না--বিরাটে সংযুক্ত থাকিয়া! বিরাটকে বিন্বৃত হইও 
না--বহির্মূখী হইও ন|-বাহিরে মুখ বাড়াইও না, ন্নেহময়ী মায়ের ন্নেহধারাপূর্ণ 
স্তনে মুখ সংলগ্ন করিয়া রাখ, বিরাটের তরঙ্গ তোমার উপর দিয়া অপ্রতিহত- 
ভাবে চলিয়া যাইবে--বিরাটের উদ্বেলিত শক্তি তোমায় ভাসাইয়া৷ লইয়া যাইতে 
পারিবে না-_ক্রোড় হইতে তুমি বিচ্যুত হইবে না--তুমি ধীরত্ব লাভ করিবে, 
শোতে পর্বতের মত তুমি অটল থাকিবে ; অবস্থার চক্র তোমায় স্পর্শ 
করিবে না। 
গুন, ধীর হও, “মুখ লুকাও'” । অন্তর ও বহিঃ নামক তোমার কর্লিত 


ছুই বা দিয়া মাকে জড়াইয়া ধর। জড় বলিয়৷ কিছু নাই, চৈতন্তময়ীর বিরাট 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৩৯ 


চৈতন্ত-সমুদ্র আমরা জড় ও টৈতন্ত বলিয়া ছুই ভাগে বিভক্ত করিয়া লইয়া- 
ছিলাম। যখন মনুষ্যকুলে প্রবেশ করিয়াছ--যখন মানবোচিত ইন্ড্রিয়াদি লাভ 
করিয়াছ--যখন মাকে খু'জিতে চলিয়াছ, তখন আর ও কল্পিত দিক্রচনায় 
তোমার প্রয়োজন নাই । মায়ের বিরাট, সত্ত। জড় ও চৈতন্তের ভিতর সমান- 
ভাবে অনুস্যত দেখ। লবণকণ! যেমন জলে মিলাইয়। যায়--বরফখণ্ যেমন 
দ্রবীভূত হইয়া জল হইয়া! যায়, তৈমনি ভাবে মিলাইয়া যাও-_দ্রবীভূত হইয়া 
যাও; তোমার সর্ববাঙ্গ মাতৃঅঙ্কে মিশাইয়। যাইবে--প্রতিঘাতের ভয় থাকিবে 
না) অস্তব্ণহা এক হইয়া যাইবে। | 

শুন! মুখ লুকাও--মরীচিকা দূরে যাইবে। এখন তোমাদের গতি বলিয়া 
একটা কল্পনা আছে_উদ্ভম বলিয়া জিনিষ তোমরা না বুঝিয়া থাকিতে পার 
না, তাই ভ্রতগমনশীল যানে আরোহণ করিয়া বাহিরের দ্রিকে চাহিলে যেমন 
দিগন্তে বর্ণশ্রেণী ঘৃর্ণিত দেখায়, যানের বা নিজের গতি উপলব্ধি হয় না, -তজ্জপ 
তোমরা পূর্ণ বিরাটত্বের দিকে যাইতে যাইতে বাহিরের দিকে চাহিয়া আছ ও 
বাহাকে তোমরা জন্ম, মৃত্যু, কৌমার, যৌবন, জরা, জন্মান্তরাদিরূপে ঘুরিতে 
দেখিতেছ। মুখ লুকাও-দৃষ্টি ভিতরে টানিয়া লও, নিজের বিকাশ প্রত্যক্ষ 
হইবে--ঘোর ছুটিয়। যাইবে । 

মুখ লুকাও ! ন্েহময়ীর বিরাট্‌ চক্ষে, যেখানে অন্ত শক্তি প্রবাহিত-যেখানে 
অনস্ত জ্যোতিঃ উদ্বেলিত-_যেখানে অনন্ত আনন্দ নিত্য প্রকটিত--বিকাশ যেখানে 
লয়হীন_স্ফুরণ যেখানে বিরামহীন-_-অপ্তিহ্ যেখানে শঙ্কাহীন, সেইখানে তোমার 
মুখ ফিরাও__মেই দিকে--তোমার শক্তির যে প্রান্ত বাহিরের দিকে বাড়াইয়া 
রাখিয়াছ, সেই প্রান্ত ঘুরাইয়। ধর--ভয়, মোহ দূরীভূত হইবে। 

মুখ লুকাও মায়ের গুণ বুঝিবে ; মুখ লুকাও _মায়ের নিগুণত্ব বুঝিতে 
পারিবে ; মুখ লুকাঁও__তুমি ধীর হইবে | 

ধীরত্ব প্রাপ্তি হইলে আর কৌমার, যৌবন, জরা, দেহাস্তরপ্রাপ্তি ইত্যাদিতে 
মুগ্ধ হইবে না। 

আর সেইরূপ ধাীরত্ব লাভ হইলে, তার পর তোমার এ উদ্ভম বা গতিকল্পন 
দূরীভূত হইবে ॥। তখন বুঝিবে--তাহার পুর্বে কোন প্রকারেই নহে-_শুধু 
তখন উপলব্ধি হইবে, তোমার গতিও নাই--বিরাটের দিকে তোমার যাইতে 
হয় না__বিরাট্‌ মাতৃমঙ্গীভূত হইয়।ও তুমি স্থির। বাম্পঘান পুর্ণগতিতে যাইবার 


৪4 উপনিষদ্রহন্য বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


সময়ে পথপার্ে কেহ ঠাড়াইয়! সেই দিকে চাহিলে সে যেমন দেখে, যানশ্রেদী 
যাইতেছে না, পৃথিবীখান তাহাকে লইয়া বেগে ছুটিয়! চলিয়াছে, তদ্রূপ এত দিন 
মায়া-শক্তির যানকে তোমার পাঁশ দরিয়। ছুটিতে দেখিয়া অবিদ্ভাবশে তাহাতে 
নিজ গতি কল্পনা করিতেছিলে; চাহনি ঘুরাইয়া লইয়া দেখিবে, অবিদ্ধা দুর 
হইয়াছে; দেখিবে মায়াশক্তির চিত্রাবলী বেগে ঘুরিয়। যাইতেছে, মা তোমায় 
বক্ষে লইয়া ছুটিতেছেন অথচ তুমি অপরিণামী -স্থির__নিত্য। 

তাঁর পর তৃতীয় বা ব্রন্ষস্তর। লেখানে দেখিবে। লব গণ হইয়াও নি, 
তোমার স্বতন্ত্র শক্তি আর থাকিবে ন|) সুতরাং শক্তি তোমার উপর দিয়া বহিবে 
না,স্যগ্রকাশ তুমিই ন্বয়ংশক্তি। অবিগ্া ও গতি কিছুই লক্ষ্য হইবে না। কিন্ত 
এখন _যখন গতি, উদ্ঘম, দেহী ও দেহ ইত্যাদি জ্ঞান আছে, ততক্ষণ অবিদ্ভাকে 
বা জীবত্বকে উড়াইতে যাইও নাঁ। আগে মায়া কি বুঝ, আগে কেমন করিয়! 
আমাদের চিৎক্ষেত্র নানারপে রগ্রিত হয়, তাহ! উপলদ্ধি কর--কেমন করিয়া 
সখ হুঃখ, হর্ষ বিষাদ, জল স্থল, জড় চৈতন্য, শীত উঞ্ণ, গীত হরি ইত্যাদি অনু- 
ভূতি আইসে, সেই প্রণালী হৃদয়ঙ্গম কর, অবিদ্যা বুঝ, তার পর মহামায়ার 
সন্ধান পাইবে। তার পর ব্রহ্গত্ব। 

এই মহামায়ার মায়-এই জগৎ উপলব্ধির প্রণালী কিরূপ, সাংখ্যস্তরে 
তাহাই জ্ঞাতধ্য এবং ভগবান্‌ পরশ্নোকে তাহাই বলিয়াছেন। কেন এক নিত্য 
অপরিণামী আত্মায় এত বৈচিত্র্য পরিলক্ষিত হয়, তাহার উত্তর-- 


মাত্রাম্পর্শাস্ত কৌন্তেয় শীতোষ্ঞগ্খহুঃখদ[8। 
আগমাপায়িনোইনিত্যান্ত ধস্তক্ষম্ব ভারত ॥ ১৪ 


কৌস্তেয় ! মাত্রাস্পর্শাঃ তু শীতোষ্নুখছুঃখদায। আগমাপায়িনঃ অনিত্যাঃ 
ভারত ! তান্‌ তিতিক্ষম্ব। 
বাবহারিক অর্থ ।-_মাত্রাম্পর্শ ই শীতোষ্চাদি নুখছ্‌ঃখানুভূতির কারণ। সে. 
স্পর্শসকল যাতায়াতধম্্ী অনিত্য । ভারত ! (এইরূপ পরিজ্ঞাত হইয়া) সে সকলে 
বিচলিত থাক। 
যৌগিক অর্থ।--মাত্রাম্পর্শ কি? মাত্রা কাহাকে বলে ? মাত্রাশব্ধ পরিমাণ 
বা ছেদ অর্থবোধক । এই মান্রাশবটাতে সমগ্র ব্রন্মাণ্ডের স্পন্দনতত্ব ব। দেবতাতন্ব 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৪১ 


বর্ণিত হইয়াছে। বেদ বলেন, স্পন্দনই ত্রদ্মাণ্ডের কারণ-স্পন্দনই দেবতা_ 
স্পন্দনই প্রকাশ, চৈতন্থের ঈক্ষণ বা অভিব্যক্তি । ্তরাং ব্রহ্গাণ্ডের প্রত্যেক 
পরমাণুই স্পন্দনধর্মী ৷ স্পন্দনের জন্যই চৈতন্থ উপলব্ধি ও পরমাণুরূপে সংগঠিত 
বা অনুভূত হয় । আমাদের দেহের যেমন নিদ্র। ও জাগরণ ছুইটী অবস্থা, প্রত্যেক 
পরমাণুতে বা টৈতম্তশক্তির আণবিক দেহে তদ্রপ আবুঞ্চন ও প্রসারণ, এই ছুইটা 
ধর্ম পরিলক্ষিত হয়। এই আকুঞ্চন প্রসারণ বাটি ও সমগ্িভাবে সর্ত্র ক্রিয়ানীল। 
আমাদের হৃংপিও যেমন একবার 'আকুঞ্চিত ও একবার প্রসারিত হয়, আমাদের 
দেহের প্রত্যেক পরমাণুই-_মাংস,রক্ত,মেদ, রস আদি সমস্ত ব1 ক্ষিতি, অপ্‌ঃ তেজ 
আদি সমস্ত পরমাণু তদ্রেপ তালে তালে আকুষ্চিত ও প্রসারিত হইতেছে। ব্রক্ষা- 
গর সমস্ত পদার্থই এইরূপ । তৃর্য্যও সমগ্িভাবে এইরূপে একবার আকুষ্চিত ও 
একবার প্রসারিত হইতেছে । আমাদের হৃৎপির্ডের আকুঞ্চন ও প্রসারণে যেমন 
রক্তপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত ও সব্বশরীরে পরিচালিত এবং সংশোধিত হয়, সৃর্য্যের সেই 
স্পন্দন তদ্রুপ জীবাণু ও জীব-সকলের ভিতর দিয়া প্রাণপ্রবাহ নিয়ন্ত্রিত ও 
প্রবাহিত করিতেছে । আবার এইরূপ কোটি কোটি নূর্ধ্য তারকা আর এক মহথান্‌ 
কেন্দ্রের আকুঞ্ধন ও প্রসারণের দ্বারা প্রাণ প্রবাহে পরিপুষ্ট হইতেছে । সেই মহান্‌ 
কেন্দ্রকেই আমরা আদিত্য বলি ও বিরাট দেবত৷ বলিয়া সম্বোধন করি। বেদ 
সেই মহান্‌ কেন্দ্রের দিকে লক্ষ্য করিয়াই অধিকাংশ মন্ত্র প্রয়োগ করেন । 

যাহা হউক, টৈতন্তময়ী সর্বপ্রথম নিজ স্পন্দনে যখন স্পন্দিতা বা ঈক্ষণময়ী 
হন-_-সর্ববপ্রথম কম্পনে যখন সেই ঈক্ষণশক্তি হইতে সব্ধ, রজব, ত'মাগুণ সাম্যা- 
বস্থাচ্যুত হইয়া পরস্পর বিশ্লিষ্ট হইয়া পড়ে, অর্থাৎ বেদান্তের কথায় যখন সর্ধব- 
প্রথম সংস্বরূপ ঈক্ষণময় হন, তখন তাহাতে অহং জ্ঞান স্ফুরিত হয়। এই প্রথম 
কম্পন ব! স্পন্দন বিরাট ব্রহ্ম নামে অভিহিত । তাঁর পর সেই অহংজ্ঞানের সঙ্গে 
সঙ্গে সেই কম্পন দিক্‌ বা মহাশুন্থ ও কাঁল--এই ছুই কল্পনায় আপনাকে কল্পিত 
করে। অর্থাৎ আপনাকে যেন মহাকাল ও মহাশুন্য বলিয়৷ পরিজ্ঞাত হয়। 
সে কম্পন তখন ঘনীভূত হইতে থাঁকে ও নিরবয়ব ছেদহীন কালাতীত চৈতন্ত 
সেই অহজ্ঞান আকারে এ দিক্‌ ও কাল কল্পনা! সাহাযো ঘন হইয়। উঠিতে থাকে 
ও তখন সর্বত্র ও সর্বক্ষণ সেই অহংজ্ঞান শ্বাধীনতার আনন্দ সন্তে।গে সর্বকাল 
ও সর্ব্বদিগ্্যাপী হইয়া পড়ে । 


তার পর সে সর্ববকাঁল সর্বদিগ্ব্যাপী চৈতগ্থ সেই ম্পন্দনে ভাবপূর্ণ হইয়! 
৬ 


৪২ উপনিষদৃরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


পড়েন না হৃদয়ময় হন। এই ভাবই পৌরাণিক বিষুতত্ব। ভাব্ই ভগবানের চরণ 
-_ভাঁবই ভগবানের গতি । এই জন্ত বিষ বিরাটের চরণরূপে বর্ণিত । এই ভাবই 
্ন্মাপ্ত ধারণ করিয়া রহিয়াছেন। ভাবই অস্তিত্ববোধক।॥ ভগবানের চরণ চিন্তা 
অর্থে--ভগবানের ভাব চিন্তা । প্রাণে যখন ভগবন্তাব উদ্দিত হয়, বুঝিও) ভগবান্‌ 
চরণ বাড়াইয়৷ দিয়াছেন, যত্বে তাহার সম্বর্ধনা করিও । ভাবে ভাবে ভগবান্‌ চরণ 
বাড়াইয়৷ দেন--ভাবে ভাবে হদয়ে প্রবেশ করেন; ভাবের সমাদর করিও- ভাব 
তাহার পদবিক্ষেপ। ভাব প্রাণে ফুটিতেছে বলিলে আমি বুঝি যে, মা আমার এক 
একটা পদ বিক্ষেপ করিয়া হৃদয়ে নামিতেছেন। হায়। মনুষ্যের স্ব স্ব প্রাণে যে 
সমস্ত রত্বু ব্বতঃ ফুটিয়া! উঠে, যদি যত্ব করিয়া হৃদয়ে তাহাদের আসন দিতে পারিত 
যদি নে সমস্ত রদ্ব সঞ্চয় করিতে পারিত, তাহা হইলে ভিখারীর মত মানুষকে 
পরের দ্বারে ফিরিতে হইত না । কিন্তু ও কথ যাউক। 
স্পন্দন এইরূপে ভাবাকীরে ঘনীভূত হইবার পর ক্রমশঃ অহংতত্ব হইতে 

শব, স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধতত্ব প্রকটিত হয়। পূর্বোক্ত স্পন্দনের ক্রম বিকাশের 
ভিতর সংক্ষেপে আমি পাঁচটি স্তর বলিয়া গিয়াছি। সেই পাঁচটি স্তরই এ শব্দ, 
স্পর্শ, রূপ, রস, গন্ধ আদি তন্মাত্রারূপে প্রকাশিত হয় ও ত্রাঙ্মী শ্থষ্টি এইখানে 
ুচিত হয়। কাল অবলম্বন করিয়া তন্মাত্রা ও জ্ঞানেক্দ্রিয় এবং দিক্‌ অবলম্বন 
করিয়া পঞ্চতত্ব ও কর্শেক্দ্িয়ের বিকাশ হয়; এবং উভয় অবলম্বনে মন স্য্ হয়। 
এইরূপে বিরাট্‌ বরক্গাণ্ড রচিত, কল্পিত ও অন্ত হয়। এক কম্পনে বিভিন্ন 
ভাবের প্রকট হয়। 

কিন্তু সে পূর্ণ স্বাধীন অহ্ংজ্ঞানের জাগরণ এরপ সমষ্টিভাবে খ্বাধীনতা সম্ভোগে 
নিশ্চিন্ত হয় নাঁ। পূর্ণ স্বাধীনতার স্পন্দন চিদাকাশের প্রত্যেক অণুতে অণুতে 
স্পন্দিত হইতে থাকে, প্রত্যেক শ্থষ্ট পরমাণু এরূপ স্বাধীনধন্মী বলিয়া প্রত্যেক 
পরমাগুতে এরূপ অহুংজ্ঞান ক্রমশঃ ফুটিয়া উঠিতে থাকে ও প্রত্যেক পরমাণু বিরাট্‌ 
সর্ধ্বব্যাগী মহান্‌ চৈতন্য হইয়াও খণ্ড খণ্ড আণবিক স্বাধীন ভোগের জন্ত এরূপ 
আণবিক বা জৈবিক অহংজ্জানের সঞ্চাপে ঘনীভূত ও সাঁৰয়ব এবং মন, ইন্দ্রিয়, 
তম্মাত্রা ও দেহ বা আধারবিশিষ্ট হইয়া পড়ে। এইরপ ব্যষ্টি জীব বা! ভোক্তা 
হওয়া বিরাটের সর্ধশক্তিমন্তার একটা শ্রেষ্ঠ পরিচয়। নিগুণ হইয়াও সগুণ, 
নিরাকার হইয়াও সাকার, ইন্দ্রিয়বর্জিত হইয়াঁও ইন্জ্রিয়ময়, ভাঁবাতীত হইয়াও 
ভাবগ্রাহী, অপরিমেয় হইয়াও পরিমিত, এক হইয়াও বনু । 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা! । ৪৩ 


ধ্হা হউক,“ মায়ার স্পন্দন হইতে এইরপে ত্রহ্মাণ্ড কল্পিত ও জীব রচিত বা 
অঙ্থন্থত। এই আমি ঈশ্বর গড়িয়া ফেলিলাম _.তিন কথায় ব্রদ্মাণ্ড রচনা করিয়া 
দিলাম। 

ঈশ্বর-গড়া, জগৎ-গড়া পণ্ডিত পথে খাটে মিলে; ম্থৃুতরাং আমিও ন৷ 
গড়িব কেন? বাল্যকালে বিদ্যালয়ে পণ্ডিত মহাশয় একদিন “ভগবান এই সমস্ত 
ব্রহ্মাণ্ড নির্মাণ করিয়াছেন” এইরূপ 'একটী পাঠ পড়াইতেছিলেন; আমি জিজ্ঞাস! 
করিয়াছিলাম,_-পর্ডিত মহাশয় ঈত্বর সমস্ত গড়িয়াছেন-_ঈশ্বরকে গড়িয়াছে কে? 
অন্য একটা বাঁলক মুহূর্তে গান্তীর্য্যের সহিত উত্তর দিয়াছিল-_“কুস্তকার ! কুস্ত- 
কারের প্রতিম। নিশ্মাণ আমার সে সমপাঠীর প্রাণে এই ধারণ! জন্মাইয়। দিয়াছিঙ্স। 

বস্ততঃ কুম্তকারের ঈশ্বর নির্মাণ আর ভাষায় আমাদের স্থপিতব অঙ্কিত করা 
সমান কথ! | কুন্তকারের প্রতিম। যেনন নির্জীব পুক্তলিকা মাত্র, সাধারণ লোকের 
পক্ষে শাস্ত্রের অঙ্কিত নঈশ্বরাদিও তদ্রুপ বুঝিও। সাধক হইলে এবং সেই 
প্রতিমায় প্রাণপ্রতিষ্ঠ। করিতে পাঁরিলে, তবে যেমন কাল হয়, প্রতিমা গঠনের 
ইতরবিশেষে যেমন তাহার ক্ষতি হয় না; এবং শুধু প্রতিমা! যেমন সাঁধক ছাড়া 
আন্যের নিকট পুন্তলিকা ভিন্ন অন্ত কিছু নহে--এই সমস্ত ঈশ্বর-ততাদি অঙ্কনও 
প্রায় তদ্রপ। তবজ্ঞান জন্মিলে, সাধনার দ্বার! হৃদয়ে তত্বনকল উন্মেষিত হইলে, 
তবে ইহ! প্রতিমার মত সাহাধ্যকারী -_-নতুব| পুক্তলিক! মাত্র। 

সাধক! তোমাকে শুধু প্রতিম। দেখাইয়া রাখিলাম। যদি সাধনায় প্রাণ- 
প্রতিষ্ঠা শিক্ষ। করিয়া থাক-_হদি তত্বোম্মেষের জন্য ভগবংশক্তি তোমার হাদয়ে 
সংগ্রহ হইয়া থাকে, তবে এ প্রতিমায় তাহ! প্রয়োগ করিয়া কৃতার্থ হও; প্রতিমা! 
যেমনই ভাবে গঠিত হইয়া থাঁক, ফলের ইতরবিশেষ হইবে না। কিন্ত যদি প্রাণ 
তোমার তন্বান্বেধী অবস্থায় বা সাংখ্যস্তরে প্রবেশ করিয়। না থাকে,ডবে বৃথা প্রতিমা 
লইয়া! খেলা করিও ন1। প্রতিমা লইয়। পুরোহিত মহাশয়ের! খেলা করিয়া আমা- 
দ্িগকে নিজীব পু্তলিকার উপাসক করিয়া তুলিয়াছেন। এ্রহ্গ” লইয়! খেলা 
করিয়! করিয়া আমর! নিজীব দক্রহ্মবাদী” হইয়া পড়িয়াছি। যে এক্রক্ম” শব্দ স্মরণে 
পূর্ণত্বের অসীম আনন্দে নয়নে অশ্রু প্রবাহিত হইত, হৃদয়ে শক্তিসযুদ্র আকণ্ঠ 
ফুলিয়া উঠিত, এখন সেই ব্রহ্ম-ধ্যানে সাধকপুঙ্গবেরা নিত্রিত হইয়া পড়েন, নাসা- 
ধ্বনি ব্রদ্গের অস্তিত্ব স্থাপন করে। হায়, আমর! উভয় দিকে আক্রান্ত হইয়াছি 

যাহা হউক, আমি পূর্বে বলিয়াছি, তুমি সাংখ্যস্তরে প্রবিষ্ট কি না; ভাহা 


8৪ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক বাখা। | 


আগে বুঝিয়া লইতে হয়; এবং তাহ! উপলব্ধি করিবার একটা স্থুন্দর উপায় 
আছে। অব্ঠ প্রত্কে স্ব ন্বজ্ঞানের বিচার করিয়া অনায়াসে নিজ অবস্থা 
বুঝিতে পারেন, কিন্তু প্রাণময়কোষের স্পন্দন অনুভব যখন কাহারও অনুভূতিতে 
আসে, তখন বুঝিতে হইবে, তিনি সাংখ্যস্তরের সাধনাব উপযোগী । ভগবচ্চিন্তা 
করিতে বসিয়া এ স্পন্দন অনুভবে আসে। প্রণালী অনুযায়ী ক্রিয়া সুচন! 
করিলে বুঝিতে পারা যায়, শরীরের কেন্দ্রে কৈন্দ্রে, মণিপুর বা নাভিদেশে অথব! 
অনাহত চক্রে বা হৃদয়ে, যেখানে শক্তি গুটাইয়! লওয়! যায়, সেই স্থল হইতে রশ্বি 
যেমন আলোক হইতে চারি ধারে স্ষুরিত হয়, তেমনি ভাবে চারি ধারে একটা 
স্পন্দন স্ফ.রিত হইয়া যাইতেছে অথচ আমি স্থির আছি এবং শরীর হইতে আমার 
সন্ত! ভিন্ন। এক্সূপ অনুভব আসিলে বুবিব্,তুমি সাংখ্স্তরীয় সাধনায় অধিকারী । 
এইবার স্পন্দন হইতে কেমন করিয়! নখহুংখাম্ভৃতি হয়, তাহা বলিব। পূর্বে 
বলিয়াছি,স্পন্দনের ক্রম হিসাবে পঞ্চ তন্মাত্রা, পঞ্চ ভূত ও একাদশ ইন্ড্রিয় রচিত 
হয় ; অথবা এই সমস্ত তন্ব স্পন্দনেরই সুপ ও ঘনীভূত অবস্থার ক্রম মাত্র। মনু- 
দেহের পঞ্চ তবের প্রত্যেকের দ্বিমুখী গতি হইতে ছুইটা করিয়! ইন্দ্রিয় রচিত হয়। 
অন্তমুখী গতি বা আকুঞ্চন ছারা জ্ঞানেব্দ্িয় ও বহিমু খী গতি বা প্রসারণ হইতে 
কর্মেক্দ্িয় রচিত। ব্যোমতব শব্দগুণাত্বক অর্থাৎ শব্মতন্মাত্রিক স্পন্দন ব্যোমাকারে 
বিকশিত! শব্দাআক স্পন্দন যেন ব্যোমের আত্মা-_আঁধেয়, এবং ব্যোম যেন 
তাহার দেহ বা আধার। এই ব্যোমতন্বের জ্ঞানেত্দ্রিয় বা আকুঞ্চন--শ্রবণ এবং 
কর্ধেব্দ্িয় বা প্রদারণ _-ক₹। শব্দ_কর্ণের দ্বার! শ্রবণ ব! ভিতরে গ্রহণ করি 
এবং কণে প্রসব করি। শব্দ শ্রবণ করিলাম অর্থে আমার দেহস্থ ব্যোমতন 
আকুঞ্চিত হইল; শব্দ করিলাম অর্থে দেহস্থ ব্যোমতত্ব প্রসারিত হইল। আমরা 
বাহিরে খুব শব্দসবেও সময়ে সময়ে শুনিতে পাই না কেন? যখন শব্ধ শ্রবণের 
জন্চ আমার ব্যোমনামীয় তন্মাত্রা বা স্পন্দন-তরঙ্গ আকুঞ্চিত না হয়, তখন বাহিরে 
শবা-ব্যোমতব্বের যতই তরঙ্গ প্রবাহিত হউক, শব্দানুভূতি আমার হইবে না । এই- 
খানে বলিয়া রাখি: শব্দ স্পর্শ, রূপ রস গন্ধ, এই তন্মাত্রাসকল বাহিরের জিনিষ 
নহে, ভিতরের জিনিষ । শব অর্থে আমার নিজের এক প্রকারের স্পন্দন, এক 
প্রকার মাত্র! বা তালের বা পরিমাণের তরঙ্গানুভৃতি বা অভিঘাত। স্পর্শ অর্থে 
আমার নিজের অভ্যন্তরের অন্য একপ্রকার ঘনতর মাগার স্পন্দনানুভূতি। 
রূপ অর্থে আর এক মার স্পন্দননভূতি ইত)দি। অর্থাৎ আমার নিজগ্গ পচ 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখা । ৪৫ 


প্রকারের স্পন্দন আছে, আর বাহিরের ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গ সেই পাচ প্রকার 
স্পন্দনকে পচ প্রকারে অভিঘাত করিতেছে । 

যাহা হউক, ব্যোমতত্ব- যাহার আত্মা শব্দতম্মান্র! তাহার যেমন আবুঞ্চন বা 
জ্ঞানেন্দ্িয় শববণ এবং প্রসারণ বা কর্মেক্দ্িয় ক, মরুত্তত্বের তদ্রুপ আবৰুঞ্চন 
বা জানেছ্িয় তকৃও প্রসারণ হা কর্মেছিয় হস্ত । তেজস্তত্--রূপতন্মাত্রা যাহার 
প্রাণ, তাহার আকুঞ্ধন ব। জ্ঞানেক্দ্িয় চক্ষু এবং ওুসারণ বা কম্মেক্দিয় চরণ বা 
গতি। অপ্তন্বের প্রাণ _ রস, তাহ।র জ্ঞানেক্দ্রিয় বা আকুঞ্চন জিহ্বা এবং কর্মে- 
ক্দ্রিয় উপস্থ । ক্ষিতিতন্বের প্রাণ গন্ধ, তাহার জ্ঞানেন্রিয় নাসিকা, কর্দেন্দিয় 
পাযু। আর এই সবল আকুঞ্চন ও প্রসারণ বা জ্ঞানেক্দিয় ও কর্মেন্দিয় যে কেন্দ্র 
হইতে প্রন্ত, অর্থাৎ এই সকল তরঙ্গ যে স্থলে আঁঘাত করিলে অনুভূতি জন্মায়, 
তাহার নাম অন্তর । এই কেন্দ্র যখন এই সকল প্রণালীর ভিতর দিয়! স্বীয় স্পন্দন 
প্রবাহিত করে, তখনই আমাদের এ ইন্দ্রিয়সকল বা স্পন্দনসকল অনুভূতি জন্মা- 
ইতে সক্ষম হয়। 

আমি এক স্থলে বলিয়াছি, ভগবংচরণ অর্থে--ভগবদৃভীব। কেন বলিয়াছি, 
এইবার তোমারা তাহ! বুঝিতে পারিবে । তেজন্তত্বের কর্মেন্দ্রিয চরণ, যাহার দ্বারা 
গত প্রকাশ পায় । প্রাণে কোঁন ভাব উদ্দিত হইয়াছে বলিলে এই বুঝায় যে, সেই 
জিনিষ হৃদয়ে অবতার্ণ হইয়াছে ; ম্থৃতরাং ভগবন্ভাব প্রাণে উদয় হইয়াছে বলিলে 
বুঝিতে হইবে, ভগবান্‌ হৃদয়ে অবতীর্ণ হইয়াছেন বা চরণ নিক্ষেপ করিয়াছেন । 

যাহ! হউক, এই মাত্রা হইতে আমাদের ইন্দ্রিয় ও দেহাঁদি সমস্ত রচিত বলিয়! 
মাত্রাজ্ঞান হইলে দেহকে বা বস্তুকে যথেচ্ছভাবে গঠত ও পরিবর্তিভ করিতে পারা 
যায়। মাত্রাজ্ঞানকে হৃদয়ে কার্যকারী করিতে পারিলে, বিরাট, শক্তিপ্রবাহের 
তাল বা মাত্র! বুঝিতে পারিলে হচ্ছন্দে অলৌকিক কার্্যসকল সংঘটিত করিতে 
সক্ষম হওয়া যাঁয় । সহসা কোন স্থল হইতে অন্তুহিত হওয়া, সহসা কোথাও 
আঁবিতভূর্ত হওয়া ইত্যাদি কাধ্যসকল এই মাত্রাজ্ঞান চর্চার সিদ্ধি। ছি্রহীন প্রাচী- 
রের ভিতর দিয়া কর প্রসারণ করিয়া গৃহ্াভ্যস্তর হইতে কোন দ্রব্য ন্বচ্ছন্দে এইরূপ 
পুরুষ আনিতে পারেন । মুহুর্তে পৃথিবীর অন্ প্রান্তে গিয়া ইচ্ছান্নযায়ী কাহারও 
সহিত সাক্ষাৎ করিয়া, আবার স্বস্থানে গ্রত্যাগত হইতে অনেক মহাপুরুষকে 
শুনা গিয়াছে । এ সবল মাত্রাজ্ঞান ও তদনুযায়ী কৌশল অফলম্বনের ফল। 

তবে মোটামুটি বুঝিলাম, মাত্র! অর্থে মায়া বা পরিমিতিময় স্পন্দনের' পরিমাণ। 


৪৬ উপনিষদ্রহস্য বা গীতাঁর যৌগিক ঝাঁখ)। 


তাল, আকুঞ্চন প্রসারণরূপ ব্যবচ্ছেদ। এই মান্তাই অন্ুভুর্তির কারণ; স্থৃতরাং 
মাজার দ্বারা আমর! সাধারণতঃ আমাদের অস্তিত্ব ব! ত্য অনুভব করি, মাত্রার 
গুভাবেই অবিচ্ছিন্ন ঠৈতন্ত বিচ্ছিন্ন ও বহুধ। হয়; মাত্রার প্রভাবেই এক বিশাল 
ব্যাপ্তি বু জীবাকারে রচিত হয়। মাত্রার প্রভাবেই জীবাত্মা শক্তিমান বলিয়া 
আপনাকে জ্ঞাত হন ও সেই সকল শক্তি ক্রমশঃ আপনাতে স্ষুরিত করিয়া লন। 
মাতা! হইতে সমস্ত। মাত্রার তারতম্যই-_ব্রহ্ম'গ বিচি ব্ররূপে সম্ভূত হইবার কারণ । 
'আবার মাত্রার স্পর্শ তারতম্যই অবিষ্া বা অনুভূতি _মাত্রার তারতম্যই 
শীতোফ্নুখছুঃখদ | 
এই সকল মাত্রা-স্পর্শান্থভৃতি আগমাপায়ী, সুতরাং অনিত্য ; মরীচিকা 
ঘেমন স্বতন্ত্র অস্তিতশূন্য, স্পন্ৰিত তেজ প্রবাহাকারে এরূপ পরিরৃষ্ট হয়, এ সকল 
অনু ইতিও বস্ততঃ তদ্দপ 7 সাধারণতঃ এ অনুভূতিগুলি আত্মস্বরূপ বলিয়! অনুমিত 
হয়; শ্থৃতরাং সাংখ্যস্তরে এগুলির বিচার বিশ্লেষণ আবশ্যক । 
এ স্পন্দন বিশ্লেষণ করিতে সর্বপ্রথম এগুলিকে আগমাপাঁয়ী--আগম 
ও নিগম গুণবিশিষ্ট বা উৎপাত্ত ও নাশবিশিষ্ট বলিয়া বুঝিতে পারা য।য় ; স্থতরাং 
ইহাদের কোথাও নিত্য অস্তিত্ব অসম্ভব, তাই ইহা অবিগ্ঠ। ॥ আকুঞ্চন ও প্রসারণ, 
এই ছুই প্রকারে উৎপত্তি ও নাশ গুকটিত হয়। 
যখন এ আকুঞ্চন ও প্রসারণ অনিত্যগুণী, তখন উহার বশীভূত হওয়৷ কর্তব্য 
নহে । ইহ] থাকে না; যাহা থাকিতে পারে না, তাহাতে মুগ্ধ হওয়া কর্তব্য নহে। 
তবে কি করিব? তবে কি এস্পন্দনাভিবাত রোধ করিয়। দিন ? এই স্পন্দনের 
আকুঞ্চন ও প্রসারণ হইতে আমার ইন্দ্িয়াদি রচত। আকুঞ্চন হইতে জ্ঞানেক্দরিয় 
ও প্রসারণ হইতে কর্মেন্তিয় গঠিত, তবে কি সে সক্লকে হনন করিব ? 
ভগবান্‌ বলিতেছেন, তাহা হইতে পারে না। তাহাদের আসা যাওয়া রোঁধ 
করিবার শক্তি কাহারও নাই। ইন্দ্রিয়াদি বা ভাবাদির উচ্ছেদ সাধন অসম্ভব। 
তাহার! আগমাপায়ী-আসা যাওয়াই উহাদের ধর্ম । তবে এ সকলের তিতিক্ষা 
অভ্যাস করাই তোমার পক্ষে যুক্তিসঙ্গত। 
তিতিক্ষা অভ্যাস অর্থে-এ সকল উৎপত্তি ও নাশ বা যাতায়াতের মধ্যে 
থাকিয়া উহাদিগকে অপ্রতিহতভাবে যাইতে আসিতে দেওয়া । সাধারণতঃ 
লোকে তাহা পারে না। মনে কর শীত। শৈত্যানুভূতি হইলেই আমরা তাহার 
বশীভূত হইয়া! পড়ি এবং তাহা হইতে পরিভ্রাণের জন্থ তৎক্ষণাৎ উত্তাপ সংঃহের 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক বাখ্যা। ৪৭ 


জন্ বস্ত্রাদি ব্যবহার করিতে বাধ্য হই। কিন্তু যদি উহাতে আমার তিতিক্ষা থাকিত। 
তাহা হইলে শীত আমাতে এরূপ অনুভূতি প্রকাশ করিতে সমর্থ হইত না, এবং 
আমিও তাহার প্রতিরোধ করিতে যত্ববান্‌ হইতাম না । আমি যদি শীতের মধ্যে 
কিছু দিন থাকিয়া, তাহাতে কোন অনুভূতি আমার প্রাণে জন্মিতে ন! দিতাম বা 
জম্মিলেও তাহা গ্রাহে না আনিতাম, তাহা! হইলে ওরূপ অনুভূতি আমাকে ব্যথিত 
করিতে, আমাকে তদ্দিরুদ্ধে প্রতিরোধ-শক্তি ফুটাইবার জন্য সচেষ্ট করিতে সমর্থ 
হইত না| । ও 
এইরূপ প্রপঞ্চমাত্রে যদি তিতিক্ষা অভ্যন্ত হইয়| যাঁয়, তাহা হইলে আর আমার 

প্রাণে কোনরূপ অনুভূতি আসিবে না এবং আমিলেও আমায় বিচলিত করিতে 
সমর্থ হইবে না । স্পন্দন-সকল আসিবেই ; কিন্তু স্পন্দনের বশীভূত হইও ন। 
স্পন্দন যাহাতে অনুভূতি জন্মাইতে না পারে, তছুপযুক্ত কৌশ্ল অবলম্বন কর। 

সে কৌশল কি, তাহ। পূর্বেব বলিয়াছি। জড়-বিজ্ঞানে বুঝিতে পারা যায়, 
কোন পদার্থের মধ্যস্থ পরমাণু সকল দিকে সমান ভাবে আকৃষ্ট বা স্পৃষ্ট থাকে 
বলিয়া, তাহারা স্বচ্ছন্দে স্বাধীনভাবে অবস্থান করে । তাহার! তরঙ্গে বা স্পন্দনে 
তরঙ্গিত বা স্থানবিট্যুতি ইত্যাদি কোন প্রকারে বিকার প্রাপ্ত হয় না। জড়ে ও 
আত্মিক রাজ্য এই একই নিয়ম কার্যকারী ৷ যদদিতুমি বাহিরে ন! থাকিয়। বিরাট 
ব্রহ্মসত্তায় অর্থাৎ এ সমস্ত আত্মারই স্পর্শ, এই জ্ঞানের মধ্যে অবস্থান করিতে 
থাক, তাহা হইলে স্পন্দন সংঘাত অগ্রতিহত ভাবে তোমার উপর দিয়! বহিয়! 
চলিয়া যাইবে । তুমি যদি মাতৃঅক্ষের মধ্যে আপনাকে রক্ষা করিতে সমর্থ হও, 
মাতৃঅস্কে গা ঢালিয়া দাও, ও স্প্দদনসকল তোমায় বিচলিত করিতে বা 
তোমার স্বাধীন অবস্থানে বিদ্ব ঘটাইতে সমর্থ হইবে না। এবং এরূপ অবিচলিত 
অবস্থ। প্রাপ্ত হইলে, তবে তুমি স্পন্দন বিশ্লেষণে সমর্থ হইবে অথবা মায়ের 
এ লীলাময় চঞ্চল স্বরূপ হইতে সবলে দৃষ্টি ফিরাইয়া, তন্মধ্যস্থ স্থির আত্মন্বরূপ 
সত্তা লক্ষ্য কর) তাহাতেও হইবে । 

ইহাই তিতিক্ষ। অভ্যাসের নিয়ম | সবিত্র সর্বব স্পন্দনে মাতৃসন্তা অনুভব কর। 
আকাশে বায়ুতে, সুরে চন্দ্রে জলে স্থলে, অথবা শব্দে, স্পর্শে, রূপে, রসে, গন্ধে, 
অথবা ম্পন্দনে স্পন্দনে, সংঘাতে সংঘাতে বিশাল মাতৃশক্তি প্রবাহ দর্শন কর, 
ভাবে ভাবে মাতৃশক্তি উপলব্ধি কর; ভাবকে ভাব বলিয়া বুঝিও না--বিরাঁট, 
অনস্ত শক্তিপ্রবাহের অমৃত-বারি বলিয়া বুঝ; এপঞ্চকে প্রপঞ্চ বলিও না-- 


৪৮ উপনিষদ্রহন্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


আনন্দ ময়ীর আ নন্দস্ফুরণ বলিয়া প্রত্যক্ষ কর; এইরুপে অভ্যস্ত হও--এইরূপে 
চিন্তাকে ফিরাও ; এইরূপভাবে মগ্ন হইতে যত্নবান হও, তিতি ক্ষা আমিবে। অথবা 
জড়ের বাহা অণুসকলের মত বিচলিত, ক্ষুব্ধ হইতে হইবে না; তন্মধ্যস্থ স্থির সত্তা 
লক্ষ্য কর; অগুমধ্যস্থ পরমাণুর মত অসংক্ষুব, স্থির, স্বাধীন হইবে । 

ইহাই যোগের আসন। এইরূপে মাতৃঅস্কে বসিতে ন। পারিলে সাধনা হয় না। 
এইরূপে অবিচল, রোধহীন, ক্রেশশৃন্ত স্থখাসূন করিতে না পাঁরিলে মাতৃন্সেহের 
রসাম্বাদ করিতে সক্ষম হওয়া যাঁয় না। চলিতে ফিরিতে, বসিতে দাড়াইতে মায়ের 
কোল হারাইও না? জানিও,ইহাই সিঙ্ধাসন। অন্য শারীরিক অঙ্গার্দির সংযমনাত্মবক 
যে সমস্ত পদ্মাসন প্রভৃতির কথা জান, তাহা এবূপ ভাবধুক্ত না হইলে অঙ্গ-গীড়ন 
মাত্র। যাহাতে স্থিরভাবে ও স্থখে অবস্থান করা যায়, তাহাই যোগশাস্ত্রে আমন 
নামে অভিহিত । তুমি এইরূপ হখাসন পাতিতে যত্ববান্‌ হও_-স্থির হইবে। 

তাহা হইলে মোটের উপর আমরা এই পাইলাম যে, এক বিরাট স্ন্দনশক্তি 

অনস্ত দিক্‌, অনস্ত কাল ব্যাপিয়া স্পন্দিত হইতেছে ও আমরা সেই স্পন্দন-সমুদ্ধে 
নিমজ্জিত। তাহাঁরই ঘাঁতপ্রতিঘাত শব-্পর্শাদি প্রপঞ্চরূপে প্রকাশ পায় ও 
অনুভূত হয়। এই সকল অনুক্ৃতিই ন্ুখছুঃখের কারণ ; এবং এ সকল অনুভূতিতে 
তিতিক্ষা অভ্যস্ত হইলে, আর ইহারা স্খছুঃখপ্রদ হইতে পারে না। আর-- 


যং হি ন ব্যথয়স্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ । 
সমহঃখন্ুখং ধীরং সোহ২মৃতত্বায় কল্পতে 1 ১৫ 


হে পুরুষর্ষভ! এতে সমছুঃখ হুখং ধীরং যং পুরুষং ন ব্যথয়স্তি, সঃ হি অধৃতত্বায় 
কলতে। 

ব্যবহারিক অর্থ ।__হে পুরুষশ্রেষ্ঠ ! এই স্কল স্পন্দন বা মাত্রা, সুখ-ছুঃখে 
সমভাবাপন্ন যে ধীর পুরুষকে ব্যথা দিতে না পারে, তিনিই অমৃতত্ব প্রাপ্ত 
হয়েন। 

যৌগিক অর্থ ।--যখন আত্মা এই সকল স্পন্দন পূর্ব্বোক্তরূপে বিন! প্রতিরোধে 
সহ করিতে পারেন, অর্থাৎ যিনি বিরাট্‌ স্পন্দনমধে আপনাকে অথব! পরমাস্বার 
স্থির সত্তাকে চিন্তা করিতে পারেন, তাহার জড় পদার্ের মধ্যস্থ পরমাণুর মত 
স্বাধীনতা প্রাপ্তি হয় বা ম্পম্দন-তরঙ্গ বিনা প্রতিরোধে তাহার উপর দিয়া 


উপনিষদ্রহস্ত বা শ্লীতার যৌগিক ব্যাখ্য/। ৪৯ 


প্রবাহিত হইয়! যায়, তাহাদের আগম নিগম বা উৎপত্তি বিনাশ তাহার অশ্নুভবে 
আর আইসে না । ভখনই ভিনি ধীর পুরুষশ্রেষ্ঠ নামে অভিহিত হয়েন এবং তখন 
পে পুরুষ আপনার অমরত্ব অনুভবে সমর্থ হন। অমরত্ব জ্ঞান আসিবার কারণ 
কি? মৃত্যুজ্ঞান পূর্বাবস্থায় থাকে বলিয়া। মৃত্যুভয়ে অহনিশ আমরা তীত 
বলিয়া সর্ধপ্রথম যখন স্বাধীন ভাব উন্মেষিত হয়, নিত্য অস্তিত্বের আনবর্বচনীয় 
আম্বাদ সব্ব প্রথম যখন বিরাটে সংযুক্ত হইয়া অথবা তন্মধ্যস্থ স্থিরসত্তা লক্ষ্য 
করিয়৷ জীব অনুভব করে, তখন মৃত্যু আশঙ্কার কবল হইতে মুক্ত হয় বলিয়া এবং 
ভীতিবন্কন সর্ব্বাপেক্ষা দৃঢ় বলিয়া উহারই উন্মোচন অন্ুভূতিটা প্রাণকে আবৃত 
করে। বিরাট স্পন্দনে সংযুক্ত হইয়া, বিরাট তরঙ্গের অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া 
যখন জীব নিজের অবিদ্ধার স্পন্দন হারাইয়া ফেলে, তখন বুঝিতে পারে, বস্তুতঃ 
এ সব অনুভূতি তাহার স্বরূপ নহে, তাঁহার উপর আগত রঞ্জন! মাত্র । কল্পনায় 
নিজ অবিদ্যা জন্মজন্মাস্তর ধরিয়া রচনা করিয়া, বিরাটের স্পন্দনে প্রতিঘাত প্রদান 
করিয়া, এরূপ স্পন্দনে আপনাকে অনুভব করিতেছিল। 


নাসভে। বিগ্াতে ভাবো নাভীবো বিদ্যীতে স্তঃ। 
উভয়োরপি দৃক্টোহস্তস্বনয়ো স্ততুদর্শি ভিঃ ॥ ১৬ 


অসতঃ ভাবঃ ন বিদ্ভতে, সতঃ অভাবঃ ন বি্ধতে ; তন্বদর্শিভিঃ তু অনয়োঃ 
উভয়োঃ অপি অস্তঃ দৃষ্টঃ। 

ব্যবহারিক অর্থ।--অসং ভাব বা! বস্তু নাই অথব! অসতের উৎপত্তি নাই,এবং 
নিত্য ভাব ব। নিত্য বস্তুর কখনও অভাব বা লোপ হয় না। তত্বদর্শিগণ এই 
উভয়ের যাহ] অন্ত, তাহ! দেখিয়াছেন। 


যৌগিক অর্থ ।--তত্বদর্শী হইলে এ ম্পন্দনসকল দেখিতে ও তাহার বিশ্লেষণ 
করিতে সমর্থ হওয়া যায় ও তখন বুঝিতে পারা যায়, যেমন সমুদ্রে ও তরঙ্গে 
কোনও বিভেদ নাই, তদ্ধপ এ ব্রহ্মাগুমণ্ডলে ও ব্রদ্ধে বস্তুতঃ কোন পার্থক্য নাই । 
্রহ্মই ব্রন্মাগুরূপে পরিলক্ষিত হইতেছেন, ব্রহ্মাণ্ড বলিয়া স্বতন্ত্র কোন জিনিষ নাই। 
কঘকবলয়ে যেষন স্বণ ছাড়া অন্য কোন পদার্থ নাই, তদ্রুপ এ নিত্য সত্য অস্তিত্ 
সর্বত্র বর্তমান; বলয় ভাগ্গিয়! হার, হার ভাগগিয়। নূপুর করিতে পারা যায়, কিন্ত 
তাহাতে বর্ণের সত্তা ষেমন লোপ হয় না, অথবা তাহার আকারগ্রহণ-শক্তি লুপ্ত 

৭ 


৫০ উপনিষদূরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


হয় না, তদ্রপ এক নিত্য চৈতগ্ঠময় অস্তিত্ব নানারূপে প্রতিবিস্বিত হইলেও উহার 
নিত্যত্বের কোনও বিকার ঘটে না। 

পূর্বোক্ত প্রকারে ধীরত্ব প্রাপ্তি হইলে এ বিরাই ব্রদ্ষাগুমণ্ডলকে এইরূপে নিতা 
চৈতন্তময় অস্তিত্ব বলিয়৷ বুঝিতে পারা যায়। আর তংপুর্বেব বুঝিতে পার! যায়, 
এই যে নানারূপ পরিবর্তন দেখিতে পাই-_জগতের এই ষে বিচিত্র পদার্থসকল 
ভিন্ন ভিন্ন রূপে আমাদের প্ররত্যক্ষীভূীত হয় এবং আবার পরিবস্তিত ও নূতন 
পরিণাম প্রাপ্ত হয়, উহাতে বস্ততঃ সেই নিত্য সত্তার কোন অভাব ঘটে না। 
প্রতি পদার্থে প্রথমে সাধারণতঃ ছুইটা জিনিষ দেখিতে পাওয়া যাঁয়--একটা 
নিত্য দ্রষ্তী ও একটা শক্তি, দৃশ্য ব! নিত্য! গ্রকৃতি। 

মনে কর, একটা পুষ্প রহিয়াছে । সেই পুষ্পটী মনুঘ্যচক্ষে পুষ্প বলিয়া, পশুর 
প্রাণে আহার্য বলিয়া এবং ধাহার! কখনও পুস্প দেখেন নাই, তাহাদের চক্ষে 
একটা নূতন জিনিষ বলিয়! প্রতিফলিত হইতেছে। এই বিভিন্ন অনুভূতি গুলি সে 
পুষ্পটীর ধর্ম নহে, ওগুলি দর্শকদিগের গুণতারতম্য মাএ । একই পুষ্প হইতে এক 
গ্রকার স্পন্দন চারি দিকে ক্ষুরিত হইতেছে এবং সেই স্পন্দন-তরঙ্গ নানা পদার্থে 
নানা রূপের তরঙ্গ বা অনুভূতি উৎপাদন করিতেছে মাত্র। এই বিভিন্ন অনুভূতি- 
গুলি বাদ দিলে বস্ততঃ সেখানে থাকে কি ? সেখানে আমর! ছুইসী জিনিষ দেখিতে 
পাই,_-প্রথম,কিছু একট! আছে,এইটা হ্দয়ঙ্গম হইয়। থাকে; দ্বিতীয়,সেই অন্তিত্ 
কোন প্রকারে আনাদের অনুভূতিতে আমিতেছে, এইটুকু বুঝিতে পারি । এই 
দুইটা সাধারণ ধন্ম প্রত্যেক পদার্থে পরিলক্ষিত হর । এক্টী অন্তিত্ব এবং অন্থটী 
তাহার স্পন্দন, ক্রিয়া ব! শক্তি, যাহার দ্বারা উহ] চারি ধারে অনুভূতিরূপ তরঙ্গ- 
ভঙ্গ রচনা করে। যদি তরঙ্গ রচনা না করিত, তাহা হইলে উহার অস্তিত্ব আমদের 
উপলব্ধিতেই আমিত ন।। যতক্ষণ এঁরূপে উহা হইতে তরঙ্গ রচিত হইবে, ততক্ষণ 
আমরা উহার আস্তিত্ব ভুলিতে পারিব ন।। এমন অবস্থায় ক্রনশঃ এ ফুলটী গিয়া 
পড়িতে পারে, যখন উহ! আর আমাদিগের মত জীবের হৃদয়ে তরঙ্গাভিঘাত 
বা অনুভূতি জন্মাইতে ন! পারে; কিন্ত আমাদিগের অপেক্ষা সুক্ষ ইস্দ্রিয়যুক্ত প্রাণে 
উহার তরঙ্গানুভূতি জন্মাইতে বা উহার আস্তিত্ব প্রত্যক্ষীভূত করাইতে সমর্থ 
হয়। ফুলটা শুকাইয়া গেলে আমাদিগের মত সীধারণ জীব মনে করে, উহার 
অস্তিত্ব বুঝি আর নাই; কিন্ত আমরা সেরূপ ইন্ড্রিয়বিশিষ্ট হইলে বা আমাদিগের 
ধীরত্ব লাভ হইলে, উহার স্ফুটিত অবস্থার স্তায় বুঝিতে পারিতাঁম যে, উহার 


উপনিষদরহস্ত ব| গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৫১ 


অস্তিত্ব যেমন ছিল, তেমনই আছে। তরঙ্গভক্গ বা স্পন্দন উহা হইতে পুর্বে যেরূপ 
স্ুরিত হইতেছিল, তেমনই ক্ষুরিত হইতেছে না, শুধু সেই তরঙ্গের ইতরবিশেষ 
হইয়াছে মাত্র-_লয়াকারে রহিয়াছে । 
প্রতি পদার্থ ধীরত্ব লাভের পর এরূপ ছুই ভাগে বিভক্ত হইতে দেখিতে 
পাওয়া যায় ;--একটী অগ্তিত্ব ও তাহার শক্তি এবং এই অস্তিহবটীর দ্রষ্টা এক 
চেতনা, ইহা! বুঝিয়া লইলেই আমাদ্রের স'ংখ্য বুঝা হয়। 
যাহ! হউক, 'এ ফুলটীর বিশ্লেষণ হইতে আমরা এই পাইলাম যে, উহার এক- 
কালীন বিনাশ কখনও হইতে পারে ন।--উহার অন্তিত্বের কখনও অপলাপ হয় 
না; এবং উহ! যে কখনও আমাদিগেব অনুভূতিতে আমে এবং কখনও আসে না, 
উহা? এ ফুলটীর ধন্্ন নহে--আমাদিগের ধর্মী । উহ্ারভিতর একটা জিনিষের শুধু 
অপলাপ হয় মাত্র; সেটা মাত্রা বা স্পন্দনের পরিমাণ ও স্পর্শভেদ । মুহূর্তে মুহূর্তে 
পরিমণের এমন পরিবর্তন হইতেছে এবং উহ্হাই মৃহায বাদেহান্তর প্রাপ্তি, তাহা 
আমি পুর্বে বলিয়াছি। 
স্বলতঃ আমরা দুই) জিনিষ পাইলাম ; এবং এই ছুইটী জিনিষ লইয়া আমা- 
দিগকে সাংখ্যন্তর বুঝিতে হইবে। সাংখ্যন্তর ভেদ হইলে ব। ব্রন্মস্তরে উপস্থিত 
হইলে, তবে চিৎও চিতি-শক্তির একত্র বুঝিতে পারা যাইবে ৷ এখন উহ] বুঝাইতে 
চেষ্টা কর! বিভভম্বনা মাত্র । 
সে ছুইটী জিনিয পুর্বে বলিয়াছি; একটা নিত্য অস্তিত্ব, উহার স্পন্দন, শক্তি বা 
গুণ বা দেহ এবং দ্বিতীয় তাহার দ্রষ্টা। আর বুঝিয়াছি যে, এ শক্তির বা দেহের 
মাত্রার যেরূুপই পরিণাম হউক ন। কেশ, উহাদিগের এককালীন লোপ হয় ন।। 
এই অস্তিহথ ও শক্তি ব্রহ্মা্ডের সর্ববপদার্থের, ক্ষুদ্র পরমাণু হইতে হরি হর ব্রহ্গা 
পর্য্যন্ত সকলকার সাধারণ সম্পত্তি। এই ছুইটা-শৃন্য পদার্থ হইতে পারে না এই 
ছুইটা-শুন্য ভাব হইতে পারে না। 
এই যে চেতনা, ইনি এ শক্তির কোলেই অভিব্যক্ত হন। যেখানে এ শক্তি 
যতটুকু পরিমাণে শ্কুটিত, চেতনাও সেখানে সেই পরিমাণে অভিব্যক্ত। চেতনের 
অস্তিত্বকে ফুটাইবার জগ্ভই যেন শক্তিসন্তার প্রকাশ বা আবির্ভাব। যেমন 
জগদাদ্ি পদার্থনিচয় না থাকিলে স্র্য্যালোক প্রতিফলিত হইতে পায় না 
ও আলোক বলিয়া কোন পদার্থ বুঝিতে পার! যায় না, তদ্রুপ এই শক্তির 
রঞ্জন না পাইলে অণু চেতন ব। জীব শ্বীয় অস্তিত্ব উপলব্ধি করিতে পারে 


৫২ উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখা 


না। চিন্ময়ী শক্তি নাতৃম্থরূপিণী হইয়া এই অভ্তিহকে দীরে ধীরে ফুটাইয়া 
_ তুলেন। 
_ মনে থাকে যেন, আমরা সাংখ্যস্তরের কথা বলিতেছি। সাংখ্যন্তরে সাধারণতঃ 
আত্মা বহু বলিয়া বিবেচিত হয়। আত্মার একত্ব উপলব্ধি সাংখ্যস্তরে হয় না; 
স্থতরাং যতক্ষণ আত্মার একবজ্ঞান জীবের না আসে, ততক্ষণ তাহাকে সাংখ্য- 
স্তরীয় জীব বলিয়া বুঝিতে হয়; “এবং ততক্ষণ প্রতি আত্মা মাতৃক্রোড়ে শিশুর 
মত এ পরমাত্বরূপিদী শক্তির ক্রোড়ে অনুমিত হইতে থাকে । তার পর চিন্ময়ী 
মা আমার ক্রমশঃ বহুত্ব ঘুচাইয়া, এক অদ্বিতীয়ারূপে প্রতিফলিত হয়েন এবং 
মাতাপুত্র এক হইয়া যায়-_আত্মা ও শক্তি, ছুই বিভিন্ন ভাব বিলুপ্ত করিয়৷ দিয়া, 
একত্র প্রবল প্রবাহে বিশ্বত্রদ্মাণ্ড নিমগ্ন করিয়া দেন। 
শক্তির সহিত জীবের এই মাতাপুত্র নত্ন্ধ মুহূর্তের জন্য বিশ্মৃত হওয়া উচিত 
নহে । স্তশ্তপায়ী শিশুর মত এই বিশ্বমাতার স্তনপান করিতে করিতে নিজ বিশাল 
বিভু অস্তিত্ব উপলব্ধির দিকে জীব অগ্রমর হইতেছে । শিশু সন্তান যেমন মাতু- 
রক্তকে স্তনদৃপ্ধীকারে পাইয়া নিঙ্গ রক্তে পরিণত করিয়া লয়, সেইরূপ আমরাও 
শক্তিময়ী জননীর শক্তি আহরণ করিয়।, শক্তি ও নিজ আস্তত্ব এই ছুয়ে মিশাইয়। 
এক করিয়া ফেলিতেছি । আগে এই শক্তিকে নিত্য। অপরিণামী, চন্ময়ী বলিয়া 
পরিজ্ঞাত হও, তার পর নিজের নিত্যন্ব বুঝিতে পারিবে । চন্দ্র নূর্ধাআকাশ তারকা, 
জগৎবৃক্ষ লতা,জীব জড়, যাহ! কিছু দেখিতে পাও,সর্নবত্র দেখ,এক নিত্য, অপরি- 
ণামী চিন্ময়ী শক্তির ক্রোড়ে এক নিত্য চিৎসত্তা প্রতিফলিত । বস্তুর মাত্র বস্তত্ব 
ভুলিয়া বাও, গুধু এক অপূর্নব বিশ্বমাতার বিশ্বমূত্তি পরিদর্শন কর। আমি বৃক্ষেবৃদ্ষ 
দেখি না, দেখি, এক অনন্ত সৌন্দর্যাময়ী নেহভারনঘ্র। জননী বৃক্ষরূপ সন্তান ক্রোড়ে 
দণ্ডায়মান । আমি মনুগ্ে মনুষ্য দেখি না; দেখি, এক বিশাল শক্তিময়ী, স্সেহের 
আধার মা, মানব শিশুমুখে স্তন ঠেকাইয়। দণ্ডাগ্রমানা। আমি হূর্ধো স্ধ্য দেখি 
না; দেখি, এক অনন্ত ম্নেহময়ী ম! অনন্ত শক্তিধারায় সম্তানফুলকে নিমগ্ন করিয়া 
দ্ডায়মানা। ধূলিকণা হইতে দেবতালোক পর্ধাস্ত সর্বত্র সর্ব অগুতে আমি এইরূপ 
এক স্সেহময়ী জননীকে সন্তান ক্রোড়ে করিয়! ঠাড়াইয়া! থাকিতে দেখিতে পাই। 
তোমর! ঘদি মাকে দেখিতে চাহ, তবে বস্তুর বস্তত্ব ভুলিয়া, তাহার অভ্যন্তরস্থ 
এক নিত্য অপরিণীমী মৃত্তি দর্শন কর; দেখিবে অসৎ বলিয়া কিছু নাই, সতের 
কোথাও প্রত্যবায় হয় না; অনিত্য মাত্রাম্পর্শ এই উভয় সতের পরশপ্রবাহ। 


উপনিষদৃরহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৫৩ 


এবং সেই স্পর্শান্রারে মাপনাকে মাত্র তদ্বং বলিয়! বোধ করা, ইহাই অন্ধ প্রবিঃ 
জীব বা অণু আত্মার অবিষ্ভ/। ওই অবিষ্ভাই সতে গঠিত অসংরূপা। অসং , 
বস্ততঃ অসং নহে। ইহাই সং ও অপং কল্পনার চরম সিদ্ধান্ত । 
অবিনাঁশি তু তদ্িদ্ধি যেন সর্বমিদং ততমৃ। 
বিনাশমব্যয়স্তাস্ত ন কশ্চিৎ করত মর্থতি ॥ ১৭ 

যেন ইদং স্র্বং তত তং তু অধিনাশি বিদ্ধি; কশ্চিং অন্য অব্যয়স্য বিনাশং 
কন্তুং ন অতি । 

ব্যবহারিক অর্থ ।_-এইরূপে যিনি এই সকল ব্যাপিয়া আছেন,তীহান্কে অবি- 
নাঁশী বলিয়! জানিও। সেই অব্যয়ের কেহ বিনাশ করিতে পারে না। 

যৌগিক অর্থ।--এ যে মাতৃমুত্তির কথা বলিলান,*উহার কুব্রাপি অপলাপ হয় 
না। সমষ্টিভাবে অথবা ব্যগিভাবে, যে দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ কর, যাহার উপর চিন্তা 
পরিচালন! কর, সর্বত্র এই সর্ব্বব্যাপিনী মহাঁমৃত্তির অস্তিত্ব উপলব্ধি হইবে। বস্ত 
উৎপন্ন হয়, থাকে, আবার লোপ হইয়! যায়, দেহ গঠিত হয়, পরিপুষ্ট হয় ও বিলয় 
হইয়া ষ'য়। কিন্ত এ অস্তিত্বের কখনও পরিবর্তন ঘটে না। ম্ুকোমল শধ্যায় 
শায়িত হইয়া, স্বঞ্জে যেমন জীব শরশষ)ায় শায়িত আছি ভাবিয়া! যন্ত্রণায় অধীর 
হয়, সেই ম্ুকোনল শধ্যাই তীক্ষ শররাশির ন্যায় অঙ্গে বিদ্ধ হইতেছে বলিয়া যেমন 
সে অনুভব করে, ত্জপ মাতৃমঙ্গের স্বকোমল আলিঙ্গনে বদ্ধ থাকিয়াও আমরা! 
উহ্নাকে তীক্ষ শৃঙ্খলের নিগীড়ন বলিয়া ভাবিতেছি--স্সেহের গীড়নকে কণ্টকশয্যা 
বলিয়া কাতর হইতেছি--মাতৃবক্ষকে অসিশয্যা ভাবিয়া, আপনাকে বিকলাঙ্গ 
অনুভব করিতেছি--খণ্ডমুগ্ধ অনুপ্রবিষ্ট বলিয়া । 

তবে কিসের বিনাশ হয় ? বিনাশ বলি কাহ।কে? পরিবর্তনই বিনাশ শবে 
অভিহিত। স্পন্দনমাত্রার ইতরবিশেষই বিনাশ । স্পন্দনের মাত্রাই দেহ বা আধার- 
রূপে পরিকল্লিত ও উহারই পরিবর্তন মৃত্যু বা দেহান্তর নামে অভিহিত, ইহা 
আমি পুরে বলিয়াছি। অর্থাৎ সৌর কররাশি যেমন স্পন্দনানুক্রমে মরীচিকারূপে 
পরিদৃষ্ট হয়, উহাঁকে সত্য ও বল! যায় না, অসত্যও বলা যায় না, নিত্যের একটা 
অনিত্য রূপ বলিতে হয়; তদ্রপ অনুভূতিকে সত) নহে, অসত্যও নহে, নিত্যের 
একটী অনিত্য রূপ বুঝিতে হইবে৷ মরীচিকার অপলাপে যেমন সৌর করের 
অপলাপ হয় না, তজ্রপ অবিগ্যার অপলাপে উহ্হার উপাদান নিতা সর্বব্যাপী 
পদার্থের অপলাপ হইতে পারে না । | 


৫ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। 


কিন্তু অনুভূতিকে এরূপ মরীচিকাবৎ বলিয়া হৃদয়ঙ্গম করিতে সাধারথ লোক 
পারে না। জ্ঞানের সাংখাস্তর অতিক্রম ন! করিলে, এরূপ ধারণা আনিতে পারা 
যায় না। যাহা! কিছু দেখিতেছি প্রত্যক্ষ বলিয়া অনুভব করিতেছি এ সমস্তের আত্মা 
হইতে স্বতন্ব অস্তিত্ব নাই, সাধারণ লোকের পক্ষে ইহা এক প্রক্সার অসম্ভব বলিয়। 
মনে হয়। ইহা হইল চব্ম জ্ঞানের কখা--জ্জানের সর্বোচ্চ অবস্থায় অন্ুভাব্য। 
এই জ্ঞানে পৌছিতে হইলে,আগে অন্যান্য প্রবনর জ্ঞানের ভিতর দরিয়া যাইতে হয় । 
এই ব্রদ্ষন্ঞান লাঁভ করিয়া যে জ্ৰানপন্থ! অবলম্বন করিয়া জীবের ধারণাশক্তি 
ধাবিত হয়,সই স্মন্ত পন্থাটীকে সাধারণতঃ ছয়টা বা সাতটা ভাগে বিভক্ত দেখিতে 
পাওয়া যায়; এবং মেই এ এক ভাগের আদর্শন্বন্বপ এক একখানি দর্শনশান্ 
হিন্দুর ধর্্মজগংকে আলোকিত করিয়া রাখিয়াছে। আমরা এইখানে সেই 
যড়দর্শনের একটু সংক্ষেপে আলোচন। করিব । ইহ! হইতে স্পষ্ট প্রতীতি হইবে যে, 
আমারদিগের ষড দর্শনের ভিতর যে মতভেদ দৃষ্ট হয়, উহা বস্তৃতঃ সোপানশ্রেণীর 
সোপানে সোপানে যেৰপ ভেদ, ত্দ্ধপ মাত্র । অর্থাৎ যেমন কোন উচ্চ স্থানে 
আরোহণের জন্য সোপানশ্েশী বিনির্ষ্মিত হয়, এবং সে শ্রেণীর 'গ্রন্োক সোপানই 
সেই উচ্চ আরোহণের লক্ষ্যে গ্িত--গ্রত্যেক সোপানেবই লক্ষ্য উদ্দে আরোহণ, 
এবং প্রত্যেক সোপানই একটা সাধারণ তলে সম্বদ্বভাবে গঠিত, অথচ যেমন 
একটী হইতে আর একটা সনধিক উচ্চ, এই দর্শনশান্বসমূহও তদ্দপ | দর্শনশান্- 
প্রণেতারা যিনি যে দিক্‌ দিয়া অনুভব করিয়াছেন বা দেখিয়াছেন। তিনি ততটুবু 
মাত্র লিপিবদ্ধ করিয়া গিয়াছেন। তাহারা স্ব স্ব দর্শন অনুযাষী মত--বিশেষ 
বিশেষ ক্ষেত্রজ্জান স্থাপন করিয়া গিয়াছেন সত্য ; কিন্তু কার্ধ্যতঃ স্ৃম্পষ্ট বুঝিতে 
পাহা যায়, তাহাদিগের দর্শনের ক্রম হিসাবে ভগবান যেন তাহাদিগের 
ভিতর প্রবিষ্ট হইয়া, জ্ঞানটাকে এইরূপ ছয়টা স্তরে বিভাগ করিয়া দিয়াছেন; 
অথব। একটী ছয়-সোপানবিশিষ্ট শ্রেণী নিম্মীণ করিয়। দিয়াছেন । দর্শনশান্ব- 
প্রণেতারা নিজ নিজ ইচ্ছায় স্ব স্ব জ্ঞানকে সাধারণের উপকারার্ঘ উচ্চ ও নিম্ন ক্রম 
হিসাবে সাজাইয়া। গিয়াছেন, তাহা বলিতেছি না। তবে কোন এক অদৃষ্ট মহাঁশক্তি 
যেন তাহাদিগের ভিতর দিয়া সাধারণের কল্যাণ কামনায় এরূপ সোঁপানশ্রেণী 
গঠিত করাইয়াছেন, এইরূপ মনে হয়। 
আমরা এই দ্বিতীয় অধ্যায়ে সাংখ্যযোগের কথা বুবিতে চেষ্টা করিতেছি; 
সুতরাং এই স্থলে জানেচ্ছুদিগের সুবিধার্থ সে ছয়খানি দর্শনশাজ্পের সার মর্ম 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখা । ৫৫ 


লিপিবদ্ধ করিতেছি? এবং উহা হইতেই প্রতিপন্ন হইবে, আমি যে শীগ্রগুলিকে 
উচ্চ নি ক্রমানুসারে সজ্জিত ব্লিয়াছি, তাহা অসঙ্গত নহে । 

প্রধানত; আমাদিগের ছয়খানি দর্শনশাপ্্র আছে ; তাহাদিগের নাম, ন্যায়, 
বৈশেষিক, সাংখ্য, পাতগ্ল, পুর্র্বনীমাংস! ও উত্তরমীমাংসা। আমি এক এক- 
খানির ইতিহাস বা মর্ম ভিন্ন ভিন্নগূপে নিয়ে দ্রিতেছি ও তাহা দিগের সহিত সাধা- 
রণ জীবগ্রবাহের গতির কিরূপ সম্বন্ধ, তাহ! দেখাইতেছি। 

আর একটী কথা । আমি পুর্ব বলিয়াছি, জীবকে ভগবতসান্নিধ্য লাভ 
করিতে ঘে জ্ঞানগতির ভিতর দিয়া যাইতে হয়, তাহাই গীতা । শ্ুতরাং দর্শন- 
শান্ত্রগুলিকে গীতারই অংশবিশেব বলিলে অতুযুক্তি হয় না। এস্থলে অনেকে 
মনে করিতে পারেন, গীতা ভগবশুখে ব্যক্ত হইবার পুরে দর্শনশান্্ গুলি রচিত 
হইয়াছে; স্থৃতরাং ও কথা বল্গা ভ্রান্তিমূলক। কিন্তু "আমি গীতাকে অপৌরুষেয় 
বলিয়া জানি । গীতা অনাদিকাল গুষ্টি, স্থিতি, গলয়কে অতিক্রম করিয়াও 
বিরাজিত। নিরাকার আত্মাকে সাকারত্থ লাভ করিতে হইলে, যেরূপ স্তরে স্তরে 
কোবসকল শিন্মীণ করিয়া সাকারত্খ লাত করিতে হয়, সেই অপৌরুষেয় জ্ঞান বা 
গীভারূপী পরমাগ্রা সেইরূপে কোষেয়.পর কোষ গঠিত করিয়া লইয়া বা এক এক 
কোষ অবয়ধন্ধ লাভ করিয়া সর্ধশেষ এ ছয়খানি দর্শনর্ূপ ষাটুকৌধিক দেহ ধারণ 
করিয়া আবিভূতি বা শ্রীক্কষ্ণনুখে ব্যক্ত হইয়াছিলেন। ছয়খানি দর্শনশাস্ত্র যেন উহার 
ছয়টা কোথ ; অর্থাৎ দর্শনশান্ত্রকে লইয়া গীতা নহে, গীতাকে লইয়া দরশনশাস্ত্র ! 

খুলিয়া বলি। সাধারণের এইবপ ধ|র গা, যেন ভগবান্‌ প্রীকৃঞ্জ সমস্ত দর্শনশাস্ 
একত্র সংগ্রহ করিয়া, তাহার বিচার ও বিশ্লেবণপৃর্বক সার মর্টুকু লইয়া! এবং 
নিজ মত প্রতিষ্ঠিত করিয়।গীতা প্রকাশ করিয়াছেন, কিন্ত ইহ। নাপ্তিকঠাঁর সহিত 
তুলনীয়। নাস্তিকেরা যেমন বলিয়। থাকেন, দেহ ও তদ্নপাদানসকল একত্রীভত 
হইয়া বা ভূতসকলের সংমিশ্রণে চৈতঙ্জরূপ একটা পদার্থ বিকশিত হইয়া উঠে 
চৈতন্য দেহের কারণ নহে--হদহ বা ইতসমহ্ই চৈতন্তের কারণ, উহাদ্িগের মতও 
তব্রুপ। বস্ততঃ আ্তিক্যবুদ্ধিতে যেমন বুঝিতে পারা যায় যে, দেহ চৈতন্থের 
কারণ নহে, চৈতন্থই দেহের কারণ ; গীত সম্বন্ধেও তদ্রুপ বুঝিতে হইবে । কালে 
গীত অভিব্যক্তি লাভের জন[ বা জগতে প্রকাশ হইবার জন্য পুরবর্ব হইতে দর্শন 
শান্্রাকারে গীত্ত। ধীরে ধারে ফুটিয়া উঠিতঠেছিল। দর্শনশান্ত্রাদি গীতারূপ একটা 
চৈহম্যের জনক নহে, গীতা চৈতম্যই উক্ত শান্ত্রসকলের কারণ। অর্থাৎ আত্মাকে 


৫৬ উপনিষদ্রহস্ত বাঁ গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। 


বুঝিতে হইলে যেমন তাহার অন্নময়, প্রাণময়, মনোময়, বিজ্ঞানময় ও আনন্দময় 
কোষ বুঝিতে হয় ব1.জীবকে স্ব উপাধিতে প্রবেশ করিতে হইলে যেমন অন্নময়, 
প্রাণময়, মনোময় প্রভৃতি কোষে সক্রিয় অবস্থা লাভ করিতে হয় ও পরে আনন্দ- 
ময় কোষে সে যেমন জাগ্রত হয়, তদ্রুপ গীতারূপ জ্ঞানসত্তায় পৌছিতে হইলে, 
ছয়খানি দর্শনশাস্ত্রোক্ত জ্ঞানশ্রেণীর মর্ম্বের ভিতর দিয়! জীবের জ্ঞান ধাবিত হয়; 
অথবা! জীবের গীতারপ জ্ঞানোন্েষণ, উক্ত ছয়খানি দর্শনশাস্বোক্ত জ্ঞানমর্ম্ের 
ভিতর দিয়। স্বতঃই তাহার জ্ঞাত বা অজ্ঞীতসারে প্রধাবিত হইয়া থাকে । 

আমি কোষ হিসাবে তুলনা করিয়া দেখিতেছি। গীতারূপ পরমাশ্ার গ্তায়- 
দশন যেন_অন্নময় কোষ, বৈশেষক-প্রাণময় কোষ, পুর্বমীমাংসা--মনো ময় 
কোষ, স|ংখ্য--জ্ঞানময় বা বুদ্ধিময় কৌষ, পাতঞ্জল-_বিজ্ঞাঁনময় কোষ এবং উত্তর- 
মীমাংসা বা বেদান্তদর্শন--আনন্মময় কোব। এই সাংখ্য ও উত্তরমীমাংসার মধ্য- 
স্থলে বিশষ্টাদৈতবাদ নামক একটি মত স্থাপিত হইয়াছে, সে কথা পরে বলব। 
দর্শনশান্ত্রগুলি গীতার কোঁষ ব1 দেহ--গীতা আত্ম! । 

প্রথমতঃ শ্যায়দর্শনের সংক্ষেপ ইতিবৃত্ত দিতেছি । ন্যায়দর্শন__-মহধি গৌতম 
ইহার ওণেতা। প্রধান মত--সংসার ছুংখময়; এই ছুঃখের নাশই মুক্তি। তর্ক 
ইহার প্রধান অঙ্গ । তর্কের দ্বারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব সপ্রমাণ হইয়াছে । ঈশ্বরের 
অস্তিত্ব আনাদিগের কর্মাফলদাতারূপে শ্বীকৃত হইয়াছে । 

সাধারণ মনু্তাজ্ঞান এইরূপে প্রথমতঃ ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করে এবং তর্কাদির 

ছারা ইহ! সগ্রমাণ করিতে চেষ্টা করে। 

দ্বিতীয়--বৈশেধিকদর্শন। ইহা! মহষি কণাদপ্রনীত। ইহার নার মর্প--সংস।র 
হুঃখময়। সেই ছুঃখের একান্ত নিবৃদ্তিই জীবের লক্ষ্য ৷ তত্বজ্ঞানে এই নিবৃত্তি লাভ 
হইতে পারে। ইহ! ক্ষিতি, অপ্‌; তেজ; বায়ু, আকাশ, দিক্‌, কাল, আত্মা, মনঃ, 
এই সমস্তকে নিত্য পদার্থ বলিয়া গ্রহণ করিয়াছে । ক্ষিতি, অগৃং তেজঃ, বায়ু, 
এইগুলি শরীর ব1 ইন্দ্রিয়াদিরূপে অনিত্য, কিন্তু পরমাণুবূপে নিত্য সত্য । 
মহর্ষি কণাদের মতে পরমাণু-সকল নিত্য ও অকারণ । বিরাট ঈষ্বরের ইচ্ছায় এ 
পরমাণুসকল স্পন্দিত হইয়া ব্রহ্মাগুসকল উৎপন্ন হয় এবং ব্রঞ্ধাদি আবিভূ্ত 
হইয়া শ্ষ্িকার্্যে নিষুক্ত হয়েন। 

ইহা সাধারণ জীবের জ্ঞানপ্রবাহের দ্বিতীয় স্তর। জীব এই প্রত্যক্ষ জগৎ- 
সকলের অহনিশ পরিবর্তন ও পরিণাম দেখিয়! দ্রব্যসকলের বিঃশ্লষণ করিয়া 


উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাখ)া। ৫৭. 


দেখিতে থাকে ও সকল পদার্থের মধ্যেই পরমাণুসকল প্রত্যক্ষ করে। জীবের 
সাধারণ জ্ঞান পদার্থবিশ্লেষণের ভিতর ঢুকিয়। এইন্ধপ ধারণ! করে, যেন পরমাণু- 
সকল নিত স্বতন্ত্র পদার্থ এবং ঈশ্বর বলিয়। এক স্বতন্ত্র মহাপুরুষ যেন স্বেচ্ছায় 
সেই পরমাণুসকলকে এক, ঢুই, তিন ইত্যাদিরূপে সংযুক্ত করিয়া বিশ্বসকল রচনা 
করিয়াছেন। অর্থাৎ প্রথম স্তরে জীব বিচার-বিতর্কের দ্বারা ঈশ্বরের যেন একটা 
স্বতন্ত্র অস্তিত্ব অনুমান ভিন্ন প্রত্যক্ষভাবে ফুটাইয়া লইতে পারে নাই, এই দ্বিতীয় 
স্তরে সে স্বাতন্ত্র্য ক্ষুটতর হয়। পরমাণুতত্ব বর্ণনই এ দর্শনের মূল উদ্দেশ্ঠ। 
তৃতীয়_পূর্ধবমীমাংসা । মহষি জৈমিনি ইহার প্রণেতা । পুর্ববমীমাংসার ব! 
মীমাংসাদর্শনের মত, জ্ঞানের দ্বার! ছুঃখ-নিবৃত্তি হয় না, কর্মের দ্বারা করিতে হয়। 
দুঃখের নিবৃত্তি ও অনন্ত নখের প্রাপ্তি কর্মের দ্বারাই ঘুটিয়! থাকে । বেদই নিত্য 
পদার্থ, অভ্রান্ত, অপৌরুষের, বৈদিক কর্মসকলই ছুঃখনিবৃত্তি ও স্থুখোংপত্ত্ির হেতু । 
সেই বেদোক্ত কর্মসকল যথানিন্বি্ট উপায়ে করিতে পারিলে, অতুল সুখের 
অধিকারী হইতে পারা যাঁয়। ইহারা বেদকে প্রধান স্থান দিয়াছেন অথচ বেদ 
ঈশ্বরের কৃত বলিয়। কোথাও অঙ্গীকার করেন নাই । ন্বশ্বরের সহিত এ মীমাংসা- 
দর্শনের বিশেষ সম্বন্ধই নাই। কর্মাই প্রধান, কর্মের দ্বারাই জীব ছুঃখ ও মুখ লাভ 
করে, কন্মানুসারেই জীবের গতি সম্বদ্ধ হয় । এই জন্ মীমাংসকদ্দিগকে সাধারণতঃ 
নিরীশ্বরবাদী বলা হয়। কিন্তু বস্তুতঃ বেদের কর্মকাণ্ডের মহিম] বর্ণনই ইহার লক্ষ্য । 
সাধারণ জীব দ্বিতীয়স্তরীয় জ্ঞান প্রাপ্ত হইবার পর কন্মের দিকে তাহাদ্িগের 
লক্ষ্য পড়ে। অর্থাৎ মনে এইরূপ ধারণা আসে, জগতে যাহা কিছু দেখিতেছি, 
সকলই কর্মের পরিণামরূপে অবস্থিত। আহার না করিলে ক্ষুধানিবৃত্তি এবং 
আহারের তৃপ্তি অনুভব হইতে কখনও দেখা যায় না । সথতরাং কণ্দ্মই সব; কর্শ- 
প্রবাহই চারি ধারে বিস্তৃত ; কর্মেরই ফলস্বরূপ সকল জিনিষ বিদ্যমান । তবে বেদ- 
বিহিত কন্মাদি করিলে আত্যস্তিক স্বখলাভ না হইবে কেন? জ্ঞানানুভূতিতে ত 
কাহারও উদ্দেশ্য সিদ্ধ হইতে দেখিতে পাই না । কোথাও যাইতে হইলে, “গিয়াছি। 
এইরূপ অনুভব করিলে ত যাওয়া হয় না-কিছু দেখিতে চাহিলে চক্ষু ন! 
চাহিয়া প্রত্যক্ষ হইল, এরূপ অনুভূতি ত হয় না। তবে জ্ঞানে স্থখোদয় কি করিয়! 
হইবে ? এইরূপে এই তৃতীয় স্তরে জীবের কর্ম্মের উপর একাস্ত লক্ষ্য পতিত হয়। 
প্রবল আসক্তির সহিত জীব-স্যজ্ঞ, মন্ত্রসাধনা ইত্যাদির দিকে ধাবিত হয়। 
ঈশ্বরের দিকে লক্ষ্য থাকে না 'বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। কার্ধ্যতঃ জীব এ 


৫৮ উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্য। 


অবস্থায় ঈশ্বরনির্ভরতার আস্বাদ ন! পাইয়া কর্মনির্ভরতায় মৃত্ত হয়। আত্যান্তিক 
স্বখ-চরিতার্থতার দিকে লক্ষ্য করিয়া এবং সর্ধত্র কর্মের ফল দর্শন করিয়া কর্ম্মই 
তাহাদিগের প্রিয় হইয়া উঠে। 
মীমাংসকের! দেবতাদিগকে মন্ত্রা্মক বলেন। এই তৃতীয় শ্রেণীর জীব মন্ত্র 
শক্তির মহিম! কীর্তন করিয়া থাকে । সাধনোন্দেষণের দ্বিতীয় স্তরে জড় পরমাণু বা 
কতকগুলি দ্রব্য ও ঈশ্বর, এইরূপ দর্শন করিয়া, পরে মন্ত্র ও দ্রব্যশক্তির সমাবেশ 
দেখিতে দেখিতে যেন চিত্রাজ্যমুখী হয়। 
চতুর্থ--সাংখ্যদর্শন বা নিরীশ্বর সাংখা । মহর্ষি কপিল ইহার প্রণেতা । ইহারও 
সা'র মন্ত্র হুঃখবাদ । ছুঃখের নিবৃত্তিই জীবের লক্ষ্য । সে ছুঃখ ত্রিবিধ ; আধ্যাত্মিক, 
আধিদৈবিক ও আধিভৌতিক । দুঃখের সমাপ্তির উপায়__বিবেক ঝা! প্রক্ৃতি-পুরুষ- 
ভেদ । সাংখ্র মত--কন্মই বন্ধনের হেতু,তত্বদর্শন হইলে কর্ম আর ফলপ্রদ হইতে 
পারে না। পূর্বোক্ত ত্রিবিধ ছুঃখ ব্রিগুণা প্রকৃতি হইতে উদ্ভৃত। সত্ব, রঃ ও 
তম:, এই তিন গুণের সাম্যাবস্থাই প্রকৃতি ৷ এই প্রকৃতি নিত্য, জড়া, আদি অস্তু- 
হীনা । ইহাই ব্যস্ত হইয়া জগতরূপে প্রকাশ পায় । এ মূলা প্রকৃতি হইতে উৎপন্ন 
বিকারসকল হৃষ্টি স্থিতি ও নাশপ্রাপ্ত হইয়া থাকে । উক্ত সত্ব, রজঃ ও তমোগুণের 
স্প্ি, স্থিতি ও নাশ, এই তিন ধশ্ম। প্রতি স্বতই সমস্ত শ্যগ্ী করে; কিন্তু সে 
কৃষ্টি নিজের জম নহে, আত্মার জন্য, আত্মারই ভোগ ও মোক্ষ সাধনের জন্য 
গ্রকৃতির পরিণাম সংসাধিত হয়। সে চেতন আত্ম! অপরিণামী, নির্বিকার, অলঙ্গ, 
নিক্িয়। প্রকৃতি গুণময়ী--পুরুষ, আত্মা বা চৈতন্ত নিপুণ । ঈশ্বরত্ব আত্মার স্বরূপ 
নহে, সুতরাং আত্মা ব্ু। আত্মার যত দিন না প্রকৃতি হইতে স্বতন্ত্র উপলব্ধি 
হয়, তত দিন সে পুরুষ বদ্ধ। এ চেতন পুরুষ, অচেতনা জাননশক্তিরূপা প্রকৃতির 
সহিত সংযুক্ত হইয়া অহঙ্কার, বুদ্ধি, জ্ঞান, তন্মাত্র!, ইন্ডিয়াদিরূপে সে প্রকৃতিকে 
পরিণমিত করে। পরিণত করিতে হয় না, প্রকৃতি আম্মার সংযোগে ম্বতই পরিণাম 
প্রাপ্ত হইতে থাকে ও তাঁর পর পুরুষের মোক্ষ সাধন করিয়া দিয়া নিবৃত্ত হয়। 
তৃতীয় স্তরীয় জীবের কর্মের উপর একাস্ত আসক্তি পড়িবার পর, তখন 
তাহার! কণ্ম বিশ্লেষণে স্বতঃ প্রবৃত্ত হইয়া থাকে । দেখে, কর্ম যদিও ফলদায়ী 
বটে, কিন্তু সে ফল চিরস্থায়ী নহে ; কর্মক্ষয়ে সে ফলও ক্ষয়িত হইয়া যায়। তখন 
তাহারা কর্মের আদি কারণ নিরাকরণে যত্ববান্‌ হয়, এবং যে সকল কর্ম ইচ্ছা 
না করিলেও আপনা হইতে সংসাধিত হইতেছে, আপনার দেহের সেই সকল 


উপনিষদ্রহস্ বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৫৯ 


বৃত্তির উপর তাহাদিগের লক্ষ্য পড়ে । দেখে, বনস্তত: এই যে সমস্ত কর্ম স্বতঃ 
সংসাধিত হইতেছে, ইহার কর্তা কে ? তখন কর্মের কর্তার দিকে লক্ষ্য পড়ে এবং 
গভীর চিন্তাশক্তিপ্রভাবে আত্মা ও প্রকৃতি, এই ছুই ভাগে আপনাকে বিভক্ত 
করিয়া দেখিতে থাকে । দেখে, বদ্ততঃ আত্মা নিক্কিয়, প্রকৃতি বা জাননশক্তি- 
রূপ অংশ হইতে সমস্ত কার্য্য সচিত ও অনুষ্ঠিত হইতেছে । এইরূপে তাহারা এ 
প্রকৃতির আদি অন্ত খুঁজিয়া পায় না, অথচ চারি ধারে কার্য্যসকলের ভিতর স্থির 
সন্তার অধিষ্ঠানত্ব দেখিতে পায়। অর্থাৎ শুদ্ধ জড়া প্রকৃতি হইতে এত ন্ুশৃঙ্খলাময় 
বিজ্ঞানযু্ধ স্ষ্টি ও ক্রিয়া অসম্ভব বলিয়া তাহাদিগের মনে হয় । সুতরাং প্রকৃতির 
হস্তে সকল কর্তৃত্ব থাকিলেও চৈতন্ভের সত্তা তাহাদিগের প্রাণে ধীরে ধীরে উদয় 
হইতে থাকে এবংতাহারা এ উভয়ের সংযোগই স্থপ্তি ও ক্রিয়ার মূল বলিয়া ধারণা 
করে। উভয়ের কর্তৃত্ব হইলে কার্ধ্য উঁভয় প্রকারের হইত, ঘুতরাং আত্মা কর্তা 
হইয়াও নিষ্কিয়রূপে তাহাদিগের হৃদয়ে উপলব্ধ হয়। এইরূপে তাহাদিগের ধারণা 
প্রকৃতি ও পুরুষ, এই ছুই ভাগে সীমাবদ্ধ হয়; এবং ব্রদ্মাগুসকলকেও তাহার! 
হরি, হর, ব্রচ্মাদি শক্তিমান আম্মার শক্তির অভিব্যক্তি বলিয়। অনুভব করে। 

অর্থাৎ কাধ্যতঃ তাহাদিগের জ্ঞান তর্কবিচার হইতে স্থূল জড় পরমাণুবাদে 
এবং তাহা হইতে স্ুল কর্মবাদে পরিণত হইয়!ঃ শেষ সুক্ষ জড়শক্তি এবং জন্য 
ঈশ্বরব|দে ধীরে ধীরে পরিণত হয়। প্রকৃতি স্ুল অপরিচ্ছিন্না পরমাণু-সমুদ্রবৎ, 
এইরূপ ধারণা ছিল, তাহ! হইতে ব্রিগুণা, সর্বব্যাপিনী জ্ঞানশক্তি অথচ জড়া 
শক্তি বলিয়া প্রকৃতিকে তাহার! ধারণা করিয়া লয়। পুর্র্বৎ উহাই নিত্য 
প্রকৃতি বলিয়! বুঝিতে থাকে এবং স্থুল কর্মমনকল বিশ্লেষণ করিয়া! অচেতন! প্রক্কৃতি 
হইতে এরূপ বিঞ্জানসম্মত কাঁধ্য হইতে পারে না, এই অনুমান হইতে তাহার। 
খণ্ড খণ্ড চেতনাধিষ্ঠান দেখিতে পায়। এবং প্রতিক্ষেত্রে আত্মা! ও প্রকৃতির সংযোগে 
তিন্ন ভিন ফল দেখিয়া, প্রক্কতি হইতে আপনাকে উদ্ধার করিতে চাহে । 

সাংখ্য নিরীশ্বর বলিয়! প্রসিদ্ধ। কিন্তু জন্য ঈশ্বরবাদ সাংখ্যে ত্বীকৃত। দ্বিতীয় 
স্তরের পরমাণুতত এবং তৃতীয় স্তরের স্থ স্ব কর্মের আধিপত্য বা নি নিজ স্বাধীনতা, 
এই ছুই জ্ঞান মিশিয়া ও আরও বিশুদ্ধ ও সৃক্ম হইয়া জড় ও চেতনের সণযোগ ও 
বিভেদরূপ তথের জ্ঞান জন্মাইয়! দেয়। দ্িতীয় স্তরে দেখিয়াছিল, পরমাণুসকল 
এক ঈশ্বর বা! কর্তার ইচ্ছাধীন হইয়৷ এই জগৎ ব্র্মাণ্ড রচন! করিতেছে । তৃতীয় 
স্তরে দেখে, কর্মসকলই ফলরূপে প্রকাশিত অর্থাৎ ফল কণ্মাধীন। সকলেই স্ব স্ব 


৬০ উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


কর্মান্ুযায়ী অবস্থা লাভ করিতেছে । চতুর্থ স্তরে কর্ম্মাবধি সমস্তই প্রকৃতি নামক 
অংশে যুক্ত হইয়া যায়। অর্থাৎ সমস্তই প্রকৃতিতে অধিষ্ঠিত, এইবপ অনুভব 
হয় এবং এ পথ স্ব বা নিজ নিজ কন্ম” এই জ্ঞানটী হইতে নিষ্ক্রিয় খণ্ড আত্মার 
উপলব্ধি আসিয়া পড়ে । 

কিন্তু কাঁ্যযতঃ ঈশ্বরতত্ব এইখান হইতে ফুটিয়া উঠিতে থাকে । এই দ্বৈতবাঁদকে 
গৌণরূপে ঈশ্বরের কল্পিত বিশ্লেষণ বা বিভাগকরণ বলিলেও অত্যুক্তি হয় না। 

যাহা হউক, জ্ঞান এই অবস্থায় উন্নত হইলে, আত্মদর্শনের দিকে জীবের লক্ষ্য 
ধাবিত হয়। অর্থাৎ যে নিক্িয়। অপরিণামী, নিশ৭ আত্মার অন্তিহথ চতুর্থ স্তরে 
উপলব্ধি হইয়াছিল, সেই আত্মাকে প্রত্যক্ষ করিবার দিকে জীবের বলবতী ইচ্ছ। 
সঞ্জাত হয় এবং এ ইচ্ছাই পঞ্চম স্তর | 

পাঁতঞ্জল দর্শন। ইহার প্রণেতা ভগবান্‌ পতপ্রলি। ইনি সাংখ্যের তত্বনকল 
স্বীকার করিয়া লইয়াছেন। ইহাই ক্রিয়াযোগ নামে প্রসিদ্ধ । পাতঞ্জলের মতে 
সাংখ্যোক্ত পুরুষের সাক্ষাৎকার চিন্ুবৃত্তি নিরোধের ছারা হইতে পারে। অভ্যাস, 
বৈরাগ্য, তীব্র উৎসাহ এবং ঈশ্বর প্রণিধান, এইগুলি যৌগের উপায়। এই যোগ 
হইতে ছুই প্রকার সমাধি সাধিত হয়। একাগ্র চিত্তের দ্বারা সম্প্রজ্ঞাত সমাধি 
এবং নিরুদ্ধ চিত্তের দ্বারা অসম্প্রজ্ঞাত সমাধি লাভ হইয়। থাকে । এই চিত্তের 
একাগ্রতা ও নিরুদ্ধ অবস্থা লাভের জন্য গাতগ্রলে প্রণালীসকল বর্ণিত হইয়াছে। 
ইন্ড্রিয়বিশেষ ধারণ। করিলে অর্থাৎ নাসা, জিহব1, শ্রবণ, চক্ষুঃ গুভভূতিতে চিত্তকে 
ধারণা করিলে, সেই সকল স্থলে অলৌকিক গন্ধ, রস, শব, রূপ প্রভৃতির অনুভব 
হয় ও তাহাতে চিত্ত নিবিষ্ট হইয়। যায়। হৃদয়ে ধারণ। করিলে চিত্ত স্থির হয় ও 
জ্যোতিঃ প্রকাশ হয়। মহাত্বাদিগের মুত্তি চিন্তা করিলে চিন্ত স্থির হইতে পারে | 
অভিমত কোন ধ্যান করিলেও চিত্ত স্থির হইতে পারে । স্বপ্ন, নিদ্রাজ্ঞানকে 
অবলম্বন করিলেও চিন্ত স্থির হইতে পারে । কিন্তু অসম্প্রজ্ঞাত সমাধিই পাতঞ্জলের 
লক্ষ্য । উহ হইতেই কৈবল্যসিদ্ধি লাভ হয় । ঈশ্বর-প্রণিধান বা ভক্তিসহকারে 
ভগবদারাধনা করিতে পারিলে, ভগবান তাহার নিজ সঙ্বল্পমাহায্যে তাহার 
প্রতি অনুগ্রহ প্রকাশ করেন ; এবং সেরূপেও যোগী কৈবল্য-লাভ করিতে পারে । 

যাঁহা হউক, পাতঞ্জলে ৷ জ্ঞানের পঞ্চম স্তরে আমরা শুদ্ধ আত্মতত্ব লাভের 
জন্ত চিন্তক্রিয়াময় প্রচেষ্টার অভিব্যক্তি দেখিতে পাই । এ অবস্থায় মুখ) লক্ষ্য 
বান কর্ম পরিহার ও অস্তঃকর্্মাভিনিবেশ ও তৎশক্তিতে কৈবলা লাভ। 


উপনিষদ্রহন্থয বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। ৬১ 


ষষ্ঠ বেদান্তদর্শন।_-বেদের জ্ঞানকাণ্ই ইহাতে বিশ্লেষিত হইয়াছে বলিয়া 
এবং জ্ঞান বেদের চরম লক্ষ্য বলিয়া ইহার নাম বেদান্ত । বেদের কন্মকাণড হইতে 
যেমন পুর্বমীমাংসা, বেদের জ্ঞানকাগু হইতে তদ্রেপ এই উত্তরমীমাংসা । একমাত্র 
্রক্ষই ইনার প্রতিপাগ্য বলিয়া! ইহাকে ত্রদ্গন্ত্র বলে। ইহার প্রণেতা মহর্ষি 
বাদরায়ণ। এই বেদান্তদর্শনের আবার ছুই প্রকার মতভেদ আছে--একটা 
অদ্বৈতবাদদ এবং অপরটা বিশিই অদ্বৈতবাদ । শঙ্করাঁচার্ধ্য অদৈতবাদের এবং 
রামানুজ বিশিষ্ট অদ্বৈতবাদের পোষক। 

শঙ্করের অদ্বৈতবাদের প্রধান মত এই, জীব ও ব্রহ্ম অভিন্ন । এক ব্রহ্ম ছাড়! 
আর কিছু নাই। তবে যে জীব, জগৎ ও ত্রদ্ধ বিভিন্ন বলিয়া! উপলব্িি করে, 
তাহার কারণ, মায়৷ বা ব্রদ্মশক্তি | তত্বমসি, সোহ্হং প্রভৃতি বাঁক্যই অছবৈতবাদের 
অমৃতময় বাণী। ঈশ্বর হইতে জীব অবধি সকলেই এ ব্ঙ্গমায়ায় আক্রান্ত । জীব 
নিজেকে ত্রদ্ধ বলিয়! বুঝিতে পারিলেই তাহার জগদ্‌ত্রান্তি তিরোহিত হয় ও নিজ 
স্বভাব উপলব্ধি করে । বস্তুতঃ ব্রহ্ম বন্ধও নহেন, মুক্তও নহেন--একও নহেন, 
বছুও নহেন ; অথচ তিনিই সমস্ত । এবং এ জগৎ মরীচিকাবৎ একটা সদসদ্রূপা 
অনির্ববচনীয়। প্রহেলিকা । 

্রহ্মশক্তি বা ব্রঙ্গমায়ায় জীব ও ঈশ্বর উভয়ই মায়িক। ব্রদ্গই ঈশ্বর বলিয়া 
প্রতীয়মান--ব্রন্গাই জীব বলিয়! প্রতীত-ব্রহ্মই জগৎ বলিয়া প্রত্যক্ষীভূত। এই 
্র্মমায়া কি? ইহা শ্রন্মের অবিষ্ঠানামীয় শক্তি। শক্তি ও শক্তিমান অ+ভন্ন 
--মায়। ও ঈশ্বর অভিন্ন। কেবল যতক্ষণ ভেদজ্ঞান থাকে, ততক্ষণ মায়া বলিয়। 
ব্রন্মের একটি স্বতন্ত্র উপাধি কল্পিত হয় মাত্র । এবং যতক্ষণ এই মায়া কল্পিত 
থাকে, ততক্ষণ উহাকে ত্রন্দের তটস্থ লক্ষণ বল! হয়। সর্বজ্ঞ, সর্ববশক্তিমান্‌ 


জ্ঞানময়, ষাঁহা হইতে জগৎ জাত--জগৎ ধাঁহাঁতে অবস্থিত ও যাহাতে জগৎ 
লীন হয়, এবং যিনি বিজ্ঞানময়, তাহাকেই সঞ্চণ ত্রন্গ বলে বা! তাহাকে এইরূপ 
ভাবে কল্পনা করাই ব্রঙ্মের তটস্থ লক্ষণ । যথার্থ ব্রহ্মলক্ষণ-_নিগুণ, নিরুপাধি, 
সদসৎ আদি লক্ষণের বহিভূ ত; আত্মা, পরমাত্মা নামে যাহ। প্রকাশ হয় মাত্র। 
কিন্তু বস্তুতঃ নামাত্বক বা ব্রন্ম আদি উপাধি যুক্ত করিলেই আর স্বরূপ লক্ষণ 
থাকে না--তটস্থ লক্ষণ হইয়। পড়ে, হ্বতরাং উহ! অব্যক্ত । 

জগৎ এব্দ্রজালিক ব্যাপার মাত্র । ইন্দ্রজালে যেমন দ্রব্যসকল না! থাকিলেও 
দর্শকবৃন্বের চক্ষে সত্যবং প্রত্যক্ষীভূত হয়, এ জগংও তদ্রপ। ত্রচ্মই জগৎরূপে 


৬২ উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা। 


প্রত্যক্ষীভূত হইতেছেম। নূর্ধারশ্মি যেমন মরীচিকারূপে প্রত্যক্ষীভূত হয়--বারি- 
বিন্দুসকল যেমন ইন্দ্রধনুরূপে আকাশের গায়ে ফুটিয়া উঠে, জগংকে তঙ্্প 
বুঝিতে হইবে । 
জগৎ ব্বপ্নের মত অলীক নহে। স্বপ্নে যেমন কোন সত্য পদার্থ নাই--জগৎ সেরূপ 
নহে। ব্রন্দই জগংরূপে কল্পিত হইতেছে । যেমন রজ্জু সর্পবৎ প্রতীত হয়, কিন্ত 
যথার্থ প্রত্যক্ষ হইলে আর উহাতে সর্পভ্রম "থাকে না, ব্রহ্মই তদ্রুপ জগৎরূপে 
পরিদৃষ্ট হইতেছে। প্রত্যক্ষ হইলে জগদ্ভ্রম ছুটিয়। আর জগৎ বলিয়া কোন পদার্থ 
খুঁজিয়! পাওয়া যাইবে না । এক অবিচ্ছিন্ন ব্রহ্ম সর্বত্র অবশিষ্ট থাকিবে । মরী- 
চিকার নিকটস্থ হইলে যেমন আর মরীচিকা পরিরৃষ্ট হয় না, স্ূ্ধ্যরশ্মিমাত্র অবশিষ্ট 
থাকে, ব্রন্মের নিকটস্থ বা বঙ্গযুক্ত হইলে আর জগত পরিদৃষ্ট হয় না। 
জগৎ ঈশ্বরের জঙ্কল্পমাত্র। সাধারণ মনুষ্য কোন সঙ্কল্প করিলে সে তাহা মনে 
, মনে প্রতাক্ষ করে; সে সন্কল্প স্থদৃঢ় হইলে বাহ চক্ষুও যেন সেইরূপ প্রত্যক্ষ 
করিতেছে, এইরূপ অনুভব হয়। কিন্তু সে সঙ্কল্প একমাত্র তাহারই ইন্ড্রিয়ে উপলব্ধি 
হয়, সে সম্কল্লিত বস্ত অন্য কাহারও ইন্দ্রিয়গ্রান্থ হয় না । কিন্তু যদি উক্ত সঙ্কলপ 
দুঢ়তর হয়, এবং উহা অপরেও অনুভব কঞ্ষক, এরূপ ইচ্ছ! তাহার প্রাণে বলবতী 
হয়, তাহ! হইলে তাহার সঙ্কল্প অপরেরও ইন্ড্রিয়গ্রাহা হইয়! উঠে। ইন্দ্রজাল বিদ্ধা 
বা আধুনিক মিসমেরিজিম্‌ হিপন্টিজম্‌ ইত্যাদি উক্ত দৃঢ়তর সন্কল্প ছাড়া আর 
কিছুই নহে। এরূপ এন্দ্রালিক ক্রাড়ার কথা গুন। গিয়াছে, যেখানে শত শত 
দর্শকবৃন্দ এন্দ্রজালিকের সঙ্কল্পে আকাশে ব্যাত্র সিংহাদির আবির্ভাব তিরোভাব 
ইত্যাদি চাক্ষুষ দেখিয়া ভীত ও বিশ্ময়াভিভূত হইয়াছেন। এই সঙ্কল্পময় যাছ্বিদ্া 
ভারতবর্ষে বুল পরিমাণে পূর্বের প্রচলিত ছিল, এই বিদ্যাই মিস্মেরিজম্‌ আদি 
নামে অধুনা পাশ্চাত্ত্য দেশে প্রকাশ পাইতেছে, এবং ঘুরিয়া আবার এদেশে 
নৃবাকারে আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে । জগদ্‌ব্যাপারও বস্তুতঃ এইরূপ । ইহাই 
শঙ্করমত। 
বস্তুত; এই সঙ্কল্প বা যাছ্বিদ্ভার প্রভাব অন্ত | পুর্ববে ভারতবর্ষে 
অনেক যাঁতুকর, মানুষকে ম্যে, পক্ষী আদি করিয়! রাখিত, অর্থাৎ স্বীয় সন্ক্প- 
শক্তিপ্রভাবে তাহাদিগকে এমন যুগ্ধ করিত যে, মোহিত ব্যক্তি আপনাকে মেষ, 
পক্ষী ইত্যাদিরূপে ধারণ! করিয়া লইত। যাদুবিদ্যাময়ী রাজকুমারীর উদ্যানে অনেক 
রাজপুত্রকে এইরূপে বন্দী হইয়া কালাতিপাত করিতে হাতামহীর মুখে গঞ্চচ্ছলে 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৬ 


সঙ্কলেই শুনিয়। *থাকিবেন। উহ! অমূলক নহে; বন্ততঃই এককালে এ যাঁছ্‌বিষ্ঠার 
প্রচলন এ দেশে স্থানে স্থানে সাধারণ ক্রীড়ান্ববূপ হইয়। উঠিয়াছিল। 

মন্ত্রশক্তিও এই বন্কল্পশক্তি ভিন্ন অন্ত কিছু নহে। শক্তিমান্‌ পুরুষ শববিশেষ 
ব। ভাববিশেষ লইয়া তাহার উপর এরূপ সঙ্কল্পশক্তি প্রয়োগ করিয়া গিয়াছেন 
যে,সে শন্দ, ভাব বা মন্ত্র যে কেহ ফলকামী হইয়া প্রয়োগ করে, তাহারই অভীই 
তদ্দারা সিদ্ধ হইতে পারে। বশীকরণ, স্তস্তন, মারণ, উচ্চাটন আদি মন্ত্রশক্কির 
প্রভাবসকল পূর্ধবকালে সর্ধসাধারণের আয়ন্তাধীন ছিল । মন্ত্র ও ইচ্ছাশক্তি-বলে 
ভগবান্‌ সাধকের সম্মুখে আবিভূতি হয়েন, ইহা আশ্চর্য্য কথা নহে। 

মন্ত্র ও ইচ্ছাশক্তি জড় পদার্থের উপরও কত দুর কার্ধ্যকারী, তাহাঁও অনেকে 
প্রত্যক্ষ করিয়া থাকিবেন। দ্রব্যাদি এক স্থান হইতে অন্য স্থানে চালনা 
করিতে--কৌন শুন্য পাত্র হইতে ইচ্ছান্থুরূপ পদার্থসকল ঝ/হির করিতে সকলেই 
দেখিয়া থাকিবেন । এক সময়ে জড় পদার্থের উপর এই সকল শক্তির 
প্রয়োগ আমাদের দেশে অত্যধিক মাত্রায় প্রচলিত ছিল | তখন এমন 
কি, বৃক্ষাদিকেও এক স্থান হইতে স্থানাস্তরে লইয়া যাইতে তাহারা সমর্থ 
হইত। কিছুদিন পূর্বে এই কলিকাত! অঞ্চলে একজন স্ত্রীলোককে পথে পথে 
ঘুরিতে অনেকেই দেখিয়া থাকিবেন । সে অনর্গল পয়সা ছড়াইত। তাহাব 
নিজের অঙ্গের কোন স্থানে হাত দিয়া সে পয়লা বাহির করিত ও চাঁরি ধারে 
ছড়াইয়া দিত । 

বহু দিন পৃবেব আমি একবার এক সন্বামীকে দেখিয়াছিলাম, তিনি পথ- 
প্রান্তে ধুনি জালাইয়া উপবিষ্ট ছিলেন; ভনেক লোকে তাহাকে বেষ্টন করিয়! 
দাঁড়াইয়া ছিল; আমি গিয়৷ ভাহাকে লৌকিক প্রণাম করিলে, তিনি তাহার সেই 
ধুনি হইতে একটু ভস্ম লইয়া আমাকে খাইতে ইঙ্গিত করিলেন ; আমি উহা 
বিনাপত্তিতে মুখে নিক্ষেপ করিলাম। ভম্মাংশটুকু জিহ্বায় মিলাইয়া গেল, 
কিন্ত একটা কঠিন পদার্থ অবশিষ্ট রহিয়া গেল, দন্ত সংস্পর্শে বুবিলাম, উহ 
একটা কম্কর। তখন উভয়-সঙ্কটে পড়িলাম। সন্নযাসিপ্রদত্ত দ্রব্য কি প্রকারে 
ফেলিয়া দিব, অথবা কষ্কর কেমন করিয়া গলাধঃকরণ করিব! ছুই চারি 
বার দস্তের দ্বারা চুর্ণ করিবার চেষ্টা করিলাম, পারিলাম না। কি করিব. 
ভাবিতেছি, সহসা! আর একবার পেষণ করিবার জন্য কঙ্করটিকে জিহবাসাহাযো 
দস্ততলে আনিলে সেটিকে কোমল বলিয়া বোধ হইল। আশ্চর্য্য।স্বিত হইয়া 


৬৪. উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক ব্যাথ্যা। 


ক 


দস্তুপংক্তিদ্বয়ের মধ্যে রাখিয়া! ধীরে ধীরে চাপ দিলাম, পদাখটী দ্বিখণ্ড হইয়া 
গেল; অন্থাদনে বুঝিলাম, সেটা একটী কিস্মিস্‌। 

ব্যাপারটা ক্ষুত্র হইলেও ইহা যে সাধারণ মনুষ্যজগতের পরিজ্ঞাত জ্ঞানের 
ও বিগ্ভার অতীত কোন অলৌকিক শক্তির পরিচয়, সে বিষয়ে সন্দেহ নাই। এবং 
সঙ্কল্প বা মন্ত্রশক্তির প্রভাব জড় পদার্থের উপর যে কার্ধ্যকরী, তাহা সম্পূর্ণরূপে 
বুঝ! যায়। 

যাহা হউক, তবেই স্প্টতঃ বুঝিতে পারা যায়, মনু স্বীয় সঙ্কপ্পশক্তি প্রভাবে 
যখন জড় ও চেতনের উপর আধিপত্য লাভ করিতে পারে-_-একজন মনুষ্য শত 
গত দর্শককে মুগ্ধ করিয়া! আপনা'র সঙ্কল্লানুযায়ী দৃশ্যসকল দেখাইতে ও অন্থুভব 
করাইতে পাঁরে, তখন সংকল্পানুসারে এক ব্রহ্মই ঘে বিচিত্ররূপে প্রতিফলিত ও 
অনুভূত হন, ইহা বিচিত্র নহে। স্্রিরঞ্জনা শঙ্করের মতে এইরূপ সত্যের উপর 
মিথ্যার অন্ভূতি মাত্র। অথবা মিথ)ও নহে; এ অনুভূতি সত্য বা মিথ্যা কোন 
নামেই প্রযুক্ত হইতে পারে ন|। 

শঙ্করের অদ্বৈতবাদে বচ্গই জগতের উপাদান 'ও নিমিত্তকারণ। তবে জীবে 
ও ত্রন্ছে প্রভেদ শুধু উপাধিগত। সাংখ্যবাদীরা এই মন্দেহ করেন যে, আত্ম! যদি 
এক হইত, তাহ। হইলে বিভিন্ন বিভিন্ন ব্যক্তির বিভিন্ন বিভিন্ন প্রকার সংকল্প 
হইতে পারিত ন/। বহু আত্মীর অস্তিত্বই প্রকৃতিতে বহু প্রকার সংকল্পের কারণ । 
কিন্তু অদ্বৈ তবাদমতে তাহাদিগের এ বাদ সমীচীন নহে । প্রথম কারণ--তাহারা 
বহু আত্মা স্বীকার করিলেও এক অবিচ্ছিন্ন প্রকৃতি স্বীকার করেন। এক আত্ম! 
হইলে সর্ব একমাত্র সঙ্কল্প উজ্জীবিত হইত, বিভিন্ন প্রকারের সন্কল্প হইতে পারিত 


'না, তাহারা এইবূপ যে আশঙ্কা করিয়াছেন, তাহার উত্তরে ইহ! বলা যাইতে 


পারে যে, প্রকৃতি যখন এক, তখন প্রত্যেক জীবেরই সংকল্পে সমগ্র প্রকৃঠি 
প্রিণমিত ও নিয়মিত কেন না হইবে? 

দ্বিতীয় কথা--সংকল্প আত্মার ধন্ম নহে । সংকল্প প্রাকৃতিক ধর্ম । প্রকৃতি স্বীয় 
সংকল্পবশে আপনাকে দিক্‌ ও কাল কল্পনায় কল্পিত করিলে, উহা! আপনাকে 


' খণ্ডিত, সীমাবদ্ধ ও বিভিন্ন বিভিন্ন উপাধিতে বিভক্ত করিবার অবসর পায়; স্থতরাং 


একই আতা (বিভিন্ন বিভিন্ন উপাধিতে বিভিন্ন বিভিন্নরূপে প্রতিফলিত হয় মাত্র। 
আদ্মার বন্ুত্ব কল্পনা এইরুূপে নিরাকৃত করা ঘাঁয়। 
অধৈতবাদের মতে ত্রদ্ধের ছুই প্রকার লক্ষণ--স্বরূপ ও তটস্থ। তটগ্ লক্ষণ ও 


গুণ ত্রদ্ধ একই কথা। 


 উপনিষদ্রহন্ত বা গ্লীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। ৬৫ 


এই তটস্থু লক্ষণ লইয়া বিশিষ্টাদৈতবাদ নামে আর একটা মত প্রচলিত দেখিতে 
পাওয়! যায়। উহাদিগের মতে জীব ও ব্রহ্ম এক নহে--জগৎ মায়। নহে । নিণ 
অদৈতবাদে জীবকে যেমন ব্রহ্ম বল! হয়, বিশিষ্ট অদ্বৈতবাদে তেমনই জীবকে 
অণুমাত্র বল! হয়; এবং সেই জন্ত তাহারা বলেন, জীব যখন অণু, তখন বসু 
এবং প্রতি শরীরে ভিন্ন ভিন্ন । দেহী ও দেহে যেরপ প্রভেদ, ব্রহ্ম ও জীবে 
তদ্রপ প্রভেদ। ণ 

যাহ! হউক, এই বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ যে সাংখ) ও মায়াবাদের মধ্যস্থ একটি স্তর 
বা উপলব্ধি মাত্র, তাহ! স্পষ্ট বুঝিতে পারা যায়। আমরা স্ুুলতঃ এইমাত্র বুবিব 
যে; বেদান্ত গ্রচার করিতে গিয়। মহাআ! শঙ্করাচাধ্য যদি সগ্তণ ত্রক্দকে উপেক্গা 
করিয়া থাকেন, এবং কেবলমাত্র নিগ্ু“ণের দিকে পক্ষপাতিত্ব দেখাইয়া থাকেন, 
তাহা হইলে তিনি উহা শুধু সন্্যাসবাদের দিকে লক্ষ্য রাখিয়া করিয়া গিয়াছেন। 
এবং রামাহুজ যদি অগ্চণত্বই চরম সিদ্ধান্ত বুঝিয়া থাকেন, ভাহা হইলে তিনি শুধু 
সষ্টি ও স্থিতিতত্বের দ্রেকে লক্ষ্য রাখিয়া ভক্তিতত্ব প্রচার করিতে এরূপ মত স্থাপন 
করিয়াছেন । 

আমরা শঙ্কর ও রামানুজকে দেখিব না । আমরা বেদাস্ত-ম্বীকৃত অদৈতবাদের 
উভয় দিক্‌ দেখিলাম, কিন্তু যথার্থ অদৈতবাদ বা ত্রহ্মবাদ কি এবং জ্ঞান কিরুপে 
ক্রমশঃ সেই অদ্বৈতবাদে আসিয়া উপস্থিত হয়, তাহারই আলোচনা করিব। 

জীব যখন সাংখ্যস্তরে আসিয়া উপস্থিত হয়--যখন আত্মা ও প্রকৃতি ছুইটি 
বিভিন্ন পদার্থ বলিয়া অনুমিত হয় এবং এ আত্মাকে বহু বলিয়া ধারণা জন্মে, 
তখন সেই আত্মদর্শনের জন্ত জীব-ঞরকৃতি ধাবিত হয়। এবং ক্রমশ; পাতঞ্জল- 
প্রদর্শিত পশ্থাবলম্বনে নিবৃত্তি ও কৈবলোর দিকে জীবের গতি অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু 
এরপর ব)ছি প্রকৃতি হইতে ব্যষ্টি পুরুষকে বিচ্ছিন্ন করিতে গিয়! সমষ্টি প্রন্কৃতি ও 
পুরুষত্বে লক্ষা ফেলিতে বাধ্য হয়। এবং সেই বিরাট প্রক্কৃতি-পুরুষ ব৷ ঈশ্বরভাব 
প্রাণের উপর আধিপত্য করিতে থাকে । অর্থাৎ তখন প্রতীতি হয়, ব্যষ্টিদেহে 
যেমন প্রকৃতি ও পুরুষ-সংযোগে স্থত্টি ও স্থিতি সংঘটিত হয়, সমগ্র ত্রক্ষাণ্ডও' 
তদ্রেপ বিরাট্‌ প্রকৃতি ও পরমাত্মার সংযোগে হ্থ্ট ও স্থিত হইতেছে। 

. আত্মা অসীম, অর্ব্বব্যাপী ও অবিচ্ছিন্ন, এইরূপ ধারণ! হইতে ক্রমশঃ সে জ্ঞান 

অদ্বৈতবাদে আসিয়া উপস্থিত হয়। আত্মা অখণ্ড অসীম, প্রক্কৃতিও অনস্ত। ছুই 


অনস্তের স্থান হইতে পারে না--জ্ঞান ছুই অনস্ত পদার্থের ধারণ। করিতে পারে না 
ৰ 


৬৬ উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাধ্যা। 


অনন্ত বলিলেই এক বুঝায় ॥ তখন আর সর্বব্যাপী ও সবর্ব বলিয়া ছুইটি জিনিষ 
কল্পনায় আইসে না। সর্বব্যাপী বলিলেই সর্ব বলিয়া বিভিন্ন পদার্থ কিরূপে 
থাকিত্তে পারে, সর্ব্ব বলিয়া কোন ভিন্ন বস্তুর অস্তিত্ব স্বীকার করিলে সর্ববব্যাপিত্বের 
অপঙ্াপ হয়। আবার সর্ধ্ব বলিয় পদার্থ অন্বীকার করিলে সর্বব্যাপিত্বের লোপ 
হইয়। যায়। ন্ুতরাং দুইটি সাপ পরম্পরকে লেজের দিক হইতে গ্রাস করিতে 
থাকিলে কপ্টনায় ষেমন কোনটিরই অস্তিত্ব থাকে না, তদ্দেপ সব্ধব ও সর্ববব্যাপী, এই 
উভয় গুণই পরস্পরকে পরাভূত করিয়া! ফেলে ও এক অবর্ণনীয় অদ্বৈততন্ব স্বীকৃত 
হইয়া যায়। 

এইফপে জ্ঞান, ম্ঠায়ের বিচার হইতে আরন্ত করিয়া বেদাস্তে আসিয়া পৌছায়। 
নিগ্ু৭ ব্রহ্মচৈতন্যের আভাম এইরূপে প্রাণের ভিতর ফুটিয়া উঠে। কিন্তু তবে 
সগণ স্থষ্টি কোথা হইতে আমিল? জ্ঞান তখন বলে হ্ষষ্থ্ি বলিয়া নূতন কোন 
অস্তিত্ব নাই। সেই বিরাট ব্রদ্ধ অস্তিত্বই ব্রন্মাগুরূপে দৃষ্ট হয় মাত্র। তবে আর 
তাহাকে শুধু নিগুণ বলিয়া বর্ণনা! করা যায় না। নিগুণত্বের উপর নিশ্চয়ই আর 
একটি কিছু আছে, যাহা দ্বারা উহ! এত নিতিন্নরূপে প্রতীয়মান হয়। জ্ঞান বলে, 
উহা! কি মায়া মাত্র? কিন্ত মায় কি? মায়া বলিয়া কোন স্বতন্ত্র পদার্থের অস্তিত্ব 
স্বীকার করা যায় না । মায়াকে স্বতন্ত্র বলিয়৷ স্বীকার করিলে, কথাটি অসম্ভব 
হইয়া উঠে। অবিচ্ছিন্ন অক্মপদার্থ মায়ার দ্বারা বিচ্ছিন্ন কি প্রকারে হইবে 1 অবি- 
চ্ছিন্ন পদার্থ বিচ্ছিন্ন হইতে পারে না। মাঁয়াবাঁদীর। মায়াকে আবরণম্বরূপ বলেন ; 
কিন্তু ওরূপ বলাও সমীচীন নহে। আবরণের দ্বারা যাহা! আবৃত হইতে পারে, তাহা 
সসীম । তাহা হইলে হন্দে দোষ আনিয়া পড়ে । নিগুণ পদার্থ আবার আচ্ছন্ন 
হইবে কি প্রকারে? ন্মুতরাং মায়া ও ব্রহ্ম একই পদার্থ । ব্রচ্মই মায়া বা ব্রঙ্গশক্তি। 
নিগুপত্ব সপ্তণত্, এ উভয়ই মায়া। নিগুণ সগুণ ইত্যাদি কেবল ভাবের গুভেদ 
মাত্র । মায়া--ওন্ধের শক্তি, মায়াও ব্রন্ম। যতক্ষণ জীব ব্রহ্মত্বের নিম্বস্তরে থাকে, 
ততক্ষণই ব্রক্ধ মায়ারপে পরিনুষ্ট হন। ব্রন্মে পৌছাইলে স্বরূপ ফুটিয়! উঠে! 
অর্থাৎ জ্ঞানের দ্বার! জীবরপী ব্রহ্ম এই পর্যন্ত দর্শন করিতে সক্ষম হয় । তারপর 
জীবরূগী ব্রন্মের এ জ্ঞানশক্তিরপ ব্রক্ষমাংশ ঘনীভূত হইয়া কেন্দ্রস্থ হইয়া পড়ে। 
এবং তখন আপনাকে মায়! বলিয়! না চিনিয়া মায়িক বলিয় চিনিয়া ফেলে । তখন 
সং ও অসৎ ভেদ থাকে না--তরঙ্গ ও সমুদ্র ভেদ থাকে না--মায়া ও মায়িক 
তেদ থাকে না । তখন নিগু৭ণ অথচ সগুণ--নিবির্বশেষ অথচ সবিশেষরূপে সমস্ত 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক বাখ্া! | ৬৭ 


প্রতিফলিত হইয়া" উঠে । ইহাই গীতার, উপনিষদের এবং ত্রক্গবাদের সিদ্ধান্ত । 
গীতারূপ চরম সিদ্ধান্ত ফুটিয়া উঠতে এইরূপে গায়ের বিচার হইতে আরন্ত করিয়া 
বেদান্ত পর্য্যন্ত অতিক্রম করিতে হয়। জ্ঞান এইরূপে ক্রমশঃ স্তরে স্তরে ঘনীভূত 
হইয়া আমিতে থাকে ও শেষ গীতায় পরিসমাপ্ত হয়। নিগুণ ও সগুণ সম্মিলিত 
ও একীভূত হইয়া এইরূপে প্রত্যক্ষীভূত হয়। দর্শনশান্ত্র লইয়া! গীতা নহে; 
গীতাকে লইয়াই দর্শনশান্ত্র। উপনিষুদ্‌ বা বেদ যেন প্রলয়ের সাম্যাবস্থা। দর্শন- 
শান্ত্রগুলি যেন সব্বভূত এবং গীতা যেন সর্ব্বভৃতস্থিত মহেশ্বর | 

সমস্ত দর্শনের এঁক্য সম্পাননের জন্য গীতারূপ মতটা প্রবর্তিত হয় নাই। ক্রহ্ষ- 
বিজ্ঞান দর্শনশাপ্্রের ভিতর দিয়া ঘনী ভুত হইয়া গীতারূপে প্রকাশিত হইয়াছে। 

বেদান্তজ্ঞান-চরম জ্ঞান, ইহা সত্য ; বেদাস্তদর্শনে সে জ্ঞান-জ্ঞানমাত্বেই 
পর্ম/বসিত হইয়াছে । একমাত্র গীতানেই সে জ্ঞান মৃত্তি পরিগ্রহণ করিয়াছে। 
বেদাস্তদর্শনে অদ্বৈতবাদ শ্রুতি ও যুক্তির দ্বার! প্রতিষ্ঠিত হইলেও গীতায় মে 
অদ্বৈতবাদ মহিমময় ও মূর্ত । শৃগ্তন্ব যে পূর্ণত্ব ছাড়া আর কিছুই নহে, শৃন্তত্ব ও 
পুর্ণস্ব যে একই পদার্থের ছুই প্রকার উপলব্ি, সগ্ডণ নিগুণ এক করিয়া ইহা 
গীতাতেই স্পষ্টরূপে অভিব্যক্ত হইয়াছে । 

স্পষ্ট করিয়া বলি, শঙ্করের অদ্বৈতবাঁদ ব৷ ব্রঞ্গের নি উপাধির দিকে 
চাহিলে জগতের যথার্থ অস্তিন্র খুঁজিয় পাওয়া যায় না। জগত মায়াম ত্র, এরূপ 
ধারণাই হয়। আবার বিশিন্টাদ্বৈতবাদ ব! বর্গের মগ্জণ উপাধির দিকে চাহিলে 
জগৎ কন্পনামাত্র মনে না হইয়। ব্রদ্মেরই প্রকৃতি অংশের পরিণাম বলিয়া মনে হয়। 
কিন্তু বিশিষ্টাদ্বৈতবাদীর এই পরিণামবাদ এবং অদ্বৈতের বিবর্তবাদ, এ উভয়ই এক 
কেন্দ্রে গীতায় সামপ্রস্ত লাভ করিয়াছে । মায়! সত্যও নহে, মিথ্যাও নহে, অথবা! 
সৎ ও অসৎ উভয়ই-_মীয়া যে দৃষ্টির তারতম্যে কখনও সং এবং কখনও অমং 
বলিয়া বিবেচিত হয় ইহার সম/ক্‌ কারণ ত্রদ্ষন্ব লাভ ন। করিলে কেহ কখনও 
বুঝিতে পারে না। ন্ুুতরাং একদেশদরশী বিচারের দ্বারা বুঝিতে চেষ্টা করা বৃথা । 
প্বীঙ্ায় ভগবান্‌ তাই বলিয়া গিয়াছেন,__ 


দৈবী হোষা গুণময়ী মম মায়। ছুরতায়]। 
মামেব যে প্রপদ্যন্তে মায়ামেতাঁং তরম্তি তে ॥ ৭১৪ 


আমাকে না পাইলে, আমার এই ছুস্তরা মায়াকে কেহই অতিক্রম করিতে 


৬৮ উপনিষদ্রহস্থ বা! গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । 


পারে না। এইটুকুই বেদান্ত হইতে সারাংশরূপে গ্রহণ করিয়ী গীতা পরিস্ফুট 
করিয়াছেন। 

বেদান্তস্তরে প্রবেশ করিলে জীব, ব্রদ্ধ না হইলে ব্রহ্ম বুঝ! যায় না, এ কথা 
স্বীকার করিয়াও জীবভাবাপন্নবশতঃ বিচারে প্রবৃত্ত হয় এবং সগুণ ও নিগু শ্রদ্মোর 
এই উভয় দিক্‌ সম্যকৃরূপে বিচারের দ্বারা দর্শন করিতে প্রয়াস পায়। অবশেষে 
গীতাস্তরে উঠিলে জীব বোঝে, জ্ঞান ভগবানের চরম মৃত্তি হইলেও উহা! বিচারের 
দ্বারা প্রাপ্য নহে । ব্রহ্মকে পাইলে তবে কাহার যথার্থ স্বরূপ প্রত্যক্ষ উপলব্ধ হইতে 
পারে। এবং তাহাকে পাইতে হইলে, বিচারের পরিসমাপ্তি করিয়া, বিচারকে 
বিসর্জন দিয়া একমাত্র তাহারই শরণাপন্ন হইতে হয়। ইহাই গীতার স্থাতন্ধ্য | 

বিচারের দ্বার! ত্রহ্গজ্ঞানের আভাস পাইলেও উহা একাস্তিক লাভ নহে, গীতা 
এইরূপ শিক্ষা দিয়াছেন। বিচারের ছুর্গম পথে ঘুরিয়া ঘুরিয়া, অবশেষে জীবের 
প্রাণে ভগবচ্চরণশরণই একমাত্র গতি, এই ধারণ। প্রতিষ্ঠিত হইয়া পড়ে । পুর্ববা- 
বস্থায় অর্থাৎ বিচার আরস্তের পৃরেরধ বা দর্শনশান্ত্রোক্ত স্তরস্কল অতিক্রম করিবার 
পূর্ববাবস্থায় ভগবদাশ্রয়ের জন্ত যে একটু মুল আকুলতা জীবের প্রাণে থাকে, 
দর্শনশাস্্রোক্ত স্তরগুলি অতিক্রম করিয়া করিয়া, সেই আকুলতাটুকু মাঁজ্জিত ও 
পরিফৃত হইয়া, গীতা স্তরে আসিয়া! নির্মল, প্রশান্ত, অনস্ত আকারে বা পিয়া পড়ে । 
চন্দ্ালোক যেমন সূর্যোরই রশ্িমাত্র ও যতক্ষণ হৃর্ধোদয় না হয়, ততক্ষণ মাত্র 
কার্যকারী হয়; প্রভাতে স্র্যযোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে চন্দ্র যেমন বিলীন্‌ হইয়া যায়, 
তদ্রুপ গীতাজ্ছানই দর্শনশান্ত্রপে হদয়ে আলোকরাশি ঢালিয়! দ্দিলেও জীব এই 
গীতান্তরে প্রবেশ করিলে আর উহা'র কার্যকারিতা থাকে ন।। 

দর্শনশান্ত্ে জ্ঞান ও কর্দমসকল পুঙ্থানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষিত হইয়াছে ও কেহ 
জ্ঞানকে, কেহ কর্মাকে শ্রেগাসন দিতে প্রয়াস পাইয়াছেন। গীতায় কর্ম ও জ্ঞান 
বিভিম্ন জিনিষ নহে, ভক্তির রূপান্তর মাত্র, ইহাই দেখান হইয়ীছে। জ্ঞান, ভক্তি, 
কর্্ম,একই শক্তির বিভিন্ন ক্রমের বিকাশ মাত্র । যেমন আত্মা,সুক্মদেহ ও স্থুলদেহ, 
--জ্ঞান, ভক্তি ও কর্্মকে তন্রপ বুঝিতে গীতা উপদেশ দিয়াছেন। এবং তাহা 
হইতে গীতা অন্ত এক 'ন্ুন্দর সিদ্ধান্তে আসিয়াছেন যে, কর্শের অভ্যন্তরে যে 
প্রকারের ভক্তি ও জ্ঞান লুকায়িত থাকে, কর্ম সেই প্রকারের ফলই প্রসব করে, 
কর্ম নিজের আকৃতি অনুযায়ী ফল দিতে অসমর্থ; অর্থাৎ কর্মের ভিতর যে দিকে 
লক্ষ্য থারিবে--যে পরিমাণে সেই লক্ষ্যের দিকে আগ্রহ থাকিবে, সেই পরিমাণে 


উপনিষদূরহস্থ বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৬৯ 


সেই কর্ম ফল প্রসূহইবে। কর্ম ফল প্রস্থ নহে, আসক্তি বা তক্তিই অথবা অনুভূতিই 
ফলপ্রস্ এবং জ্ঞানই সেই ফল। একটা বীজের অভ্যন্তরে যেমন শ্য ও একটী 
ভদনুঘায়ী বৃক্ষ লুক্কায়িত থাকে, কর্মের অভ্যন্তরে তদ্রুপ ভক্তি বা আসক্তি এবং 
জ্ঞান গ্রচ্ছন্নভাবে অবস্থান করে । জ্ঞান ও ভক্তিহীন কন্ম্ম-_শশ্যহীন বীঞ্জ মাত্র । 
গীতা এইরূপে সম্যক্দর্শন করিয়াছেন । দর্শনশান্ত্রগুলিতে যেন এক একটা অঙ্গ 
বিশ্লেষিত ; গীতা সেই সমস্ত স্তর একত্রে লইয়। পূর্ণকে দর্শন করিয়াছে, শ্বৃতরাং 
আত্মদর্শন গীতাতেই হইয়াছে । বেদাস্ত ভিন্ন অন্ত দর্শনশাস্গুলি ক্রমশঃ যেন 
সমস্ত তত্বকে ব)বচ্ছেদ করিয়া “অণোরণীয়ান্” এই ভন্থে আসিয়া পৌছিয়াছে, 
গীতাঁয় সেই “অণারণীয়ান্” “মহতে। মহীয়ান্*তবে পূর্ণ বিকাশ পাইয়াছে। সকল 
দর্শনশান্্ব যুক্তি লইয়াই বাস্ত ও মস্তিক্ষধর্্ের মহিম! মাত্র। গীতা আত্মদর্শ, 
ইহার প্রত্যেক নিশ্বাসের গতি কেন্দ্রের দিকে এবং ইহার সঠিত মস্তিষ্ক ধর্মের 
সম্পর্ক থাকিলেও ইহ! প্রীণ-ধর্ম্মের অপূর্ব বিকাশ । খনির অভ্যন্তরে মণি লুক- 
য়িত, অনেক কষ্টে সে মণি খুঁজিয়া বাহির করিতে হয়; অশেষ কৌশল ও শক্তির 
প্রয়োজন, এই ভাবই বেদান্ত ছাড়া অন্ত দর্শনে যেন দেখিতে পাওয়। যাঁয়। বেদান্ত 
যেন সে মণিকে জগতময় ছড়াঁন ঝলিয়। প্রচার করিয়াছেন, কিন্তু উহ! যেন জ্ঞানে 
বেদান্তে সে জ্ঞান যেন স্থুলদেহ অভাবে অনুভূতিযোগ্য হইয়া উঠে নাই। বেদান্ত 
সমস্ত ব্রদ্ধ বলিলেও যেন বিচ্ছিন্ন অঙগসকল একত্রীভূত করিয়াছেন মাত্র, তাহাতে 
প্রাণ সঞ্চার করিয়া, তাঁহাকে ভোগ্য করিয়া তুলিতে পারেন নাই । গীতা বেদাস্তের 
সেই সংযুক্ত অঙ্গে প্রাণ ঢালিয়। দিয়ীছেন। বেদান্ত দেবতার সন্ধান বূলির। দিয়াছেন; 
কিন্ত তাহাকে প্রতিমায় ঢুকাইতে পারেন নাই, যেন কেবলমাত্র জ্ঞানী, শক্তিমানের 
পক্ষে উহ! স্বুলভ, এইরূপ আভাস দিয়াছেন। কিন্তুগতা দেবতাকে প্রতিমায় 
আনিয়া মূর্খাদপি মূর্খের অন্ুভূতিষোগ্য করিয়াছেন। গীতা তত্ব-সকলের আত্মা__ 
গাঁণ, দর্শনা দিশান্ত্র অন্ধমান্র । এ হিসাবে গীতায় ও দর্শনে আকশ পাতাল প্রভেদ। 
সমস্ত দর্শনশীন্সেরই মূল ছুঃখবাদ। ছুঃখ লইয়াই সমস্ত দর্শনশীস্ত ব্যস্ত; 
ছুঃখের কবল হইতে পরিভ্রাণ পাইবার জন্ত প্রত্যেক দর্শনকারই পন্থা নির্দেশ 
করিতে প্রয়াস পাইয়াছেন। এই ছুঃখের হাত হইতে পরিত্রাণ পাইতে হইলে 
জ্ঞান বা কর্মের আবশুক। সংসার ছুঃখের আলয়, ইহাতে সুখের লেশমাত্র নাই ; 
তত্বজ্ঞান না হইলে মুখ হইতে পারে না, ইহাই দর্শনশান্ত্রগুলির প্রায় সাধারণ 
সিদ্ধান্ত । কেহ বা কর্মের দ্বারা! ম্বুখলাভ হইতে পারে, ইহাও বলিয়া গিয়াছেন। 


৭০ উপনিষদ্রহস্ত বা! গীতার যৌগিক বাখ্যা। 


যাহা হউক, সকলেই ছুঃখের বিভীষিকায় ভীত হইয়া, সংসাররূপ ছুঃখদায়ক অরির 
হাত হইতে নিষ্কৃতি পাইবার জন্ত ছুটাছুটি করিয়াছেন। 
একমাত্র শঙ্করের মায়াবাদ ভ্রাস্তির দিকে সাহস করিয়! ফিরিয়া চাহিয়াছেন। 
বীর পুরুষের মত ঘুরিয়া ছাড়াইয়া, সে ভ্রান্তিরূ্প শত্রুকে পর্ধ্যবেক্ষণ করিয়াছেন ; 
এবং তীক্ষ চক্ষুর সাহায্যে দেখিয়াছেন, যাহার ভয়ে ভীত হইয়া সকলে পলাইবার 
চেষ্টা করিয়াছে, বস্ত্রতঃ উহ! অন্য জিনিষ নহে,_-উহা! আপনারই ছায়া । আঁপনারই 
ছায়াকে পিশাচ ভাবিয়া বালকেরা যেমন ভীত হয়, তেমনই জগৎ অপনারই ছায়ার 
ভয়ে ভীত। এইরূপ দর্শন করিয়া বেদান্ত, সকলকে ফিরিয়া চাহিয়া দেখিবার 
জন্য অভয়বাশী ঘোষণা করিয়াছেন । উচ্চৈঃম্বরে মায়াবাদ বলিয়াছেন -“ভয় 
নাই--ভয় পাইও না, তোমার পশ্চাতে পশ্চাতে যে কৃষ্ণা মুর্তিকে ধাবিত দেখিয়া 
ভীত হইয়া পলাইবা'র চেষ্টা! করিতেছ, উহ! বস্তুতঃ সত্যও নহে, অসত্যও নহে । 
স্থির হইয়! টাড়াও--সাহস অবলম্বন কর--সাহদসে নির্ভর করিয়া চাহিয়। দেখ, 
ও বিভীবিকাময়ী ছায়া! তোমার পদতলে মিলাইয়া৷ যাইবে-অরি চিরদিনের জন্য 
ধ্বংস হইবে । যেখানে ছায়। দেখিতেছ, সেখানে নিজ অঙ্গ প্রতিষ্ঠিত দেখিবে। 
ভ্রান্তিকে ভয় নাই, আপনাকে আপনি ভয় পাইও না” 
মায়াবাদের এ অভয়বাণী ভীত জীব-হুদয়ে অনন্ত সাহস ঢলিয়। দিয়াছে সত্য, 
বালকের ভূতের ভয় ঘূচাইয়া দিয়াছে সত্য--অপুবর্ব জ্যোতিতে সর্দত্র প্লাবিত 
করিয়। দিয়া, ছায়ার আর ড়াইবার স্থান রাখে নাই সত্য; কিন্তু ছায়ার 
উপর শক্রভাব ছাড়িতে পারে নাই। শক্রকে মিথা। জানিয়াও মিথ্যারই 
উপর অদ্ত্রাঘাত করিয়াছে । এ হিসাবে আচার্য অন্ান্ত যোদ্ধার মত ব্যবহার 
করিয়াছেন। শক্রকে জয় করিয়াছেন, এ হিসাবে মায়াবাদ জগজ্জয়ী বীর হইলেও, 
অবিদ্যার উপর শক্রভাব প্রাণ হইতে ঘুচে নাই ; এবং অধ্ঘ্ির সহিত শক্রবৎ 
আচরণ করিতে ও কার্য্যতঃ সন্যাসের পথে পলাইতেও ছাড়েন নাই। 
গীতা এই ছায়া ভাবিয়৷ রণস্থলে অবতীর্ণ হইয়াছেন সত্য, মায়াবাদের মত 
শত্রুর দিকে সাহম করিয়! ফিরিয়। দাড়াইয়াছেন সত্য; কিন্তু ফিরিয়! দাঁড়াইয়া 
বিশিষ্টভাবে পর্যবেক্ষণ করিবার পুব্বে- সব্বপ্রথম চাহনিতেই গীতা শক্রর জন্য 
কীদিয়াছে, আপনার দুঃখে কাতর হইয়া, ছুঃখদাতার বিপক্ষে অন্ত্রধারণ করিয়া, 
অস্ত্রনিক্ষেপে উদ্যত হইয়া, সেই ছুঃখদাতা'র জন্ত--সেই অবিদ্ধার জন্থ-_ সেই মায়া 
বাছায়] বা প্রকৃতি; যাহাই হউক/তাহাঁরই জন্য কাদিয়া অধীর হইয়াছেন । আপনার 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্য] ৷ 8১ 


ছঃখ ভুলিয়া -আপনার যন্ত্রণা বিশ্বৃত হইয়।-আপনার মর্পীড়ায় জলাঞ্জলি 
দিয়া, দুঃখের হুঃখে অধীর হইয়াছেন-_অবিদ্ভার জন্য কীদিয়। ফেলিয়াছেন__ 
শক্রর জন্থ ভালবাসার অশ্রধার! সব্বপ্রথম গীতার হৃদয় পরিপ্লাবিত করিয়াছে । 
ইহাই গীতার সব »থম অপূর্ব । 

“কেন মারিব ! কাহাকে মারিব ! অবিদ্যা যে উপকাঁরী-অবিদ্াা যে গুরূ-- 
অবিষ্তা যে আত্মীয় | না, মারিব না,অবিষ্ঠায় চিরদিন রাজ্যচ্যুত হইয়া থাকি, সেও 
ভাল, যে আমার তিলমাত্র উপকার করিয়াছে, সহত্র অপরাধে অপরাধী হইলেও 
তাহাকে আমি মারিতে পারিব না!” গীতা সর্বপ্রথম এই ভাবে কখদিয়াছে। 
সকল দর্শনশাস্ত্রের লক্ষ্য আপনার দুঃখের দিকে--সকল দর্শনকারই আপনার 
দুখে সর্বপ্রথম বিভোর হইয়াছে ; গীতা আপনার দুঃ&র বুঝিতে গিয়া ছুঃখদাতার 
দুঃখে কীদিয়া অধীর হইয়াছে । বিষাদই যোৌগের সুচনা! সত্য, দুঃখ উত্তমরূপে 
হৃদয়ে অনুভূত না হইলে - দুঃখের তীব্র বৃশ্চিকদংশন গুণের ভিতর বিষের জালা 
ছড়াইয়া না দিলে, সে দুঃখের হাত হইতে নিষ্কৃতি পাইবার জন্ত প্রাণ ইট্ফই করে 
না; এবং এই জন্যই সমস্ত দর্শনশাস্ত্রেরই মুল ছুঃখবাদ বা ছঃখযোগ। গীতারও 
মূল তাই-_গীতাও ছুঃধের জালায় অধীর হইয়া - ছুঃখ সহা করিতে না পারিয়া, 
দুঃখের বিপক্ষে সংগ্রাম ঘোষণা করিয়াছে; কিন্ত হায়। গীতার সে ছুঃখযোগ 
স গ্রামস্থলে গিয়৷ আত্মছুঃখে মাত্র পর্য)বমিত হয় নাই। গীতার হৃদয়ের উদার 
ভাব, সময়ে এ অবিষ্তা হইতে উপকৃত হইয়াছে, ইহাও হদয়ঙ্গম করিয়াছে; এবং 
যথার্থ কৃতজ্ঞের মত তংক্গণাৎ আত্মছ্ঃখের সহিত পরছুঃখ বা অনাস্মহুঃখ অনুভব 
করিয়াছে । অন্ত দর্শনের ছুঃখষযোগ আত্মহ্ুখ মাত্র ; গীতার ছুঃখযোগ আত্মছখ 
নহে _ দুঃখের প্রতি অপুর্ব কৃতজ্ঞতার স্ুপ্রকাশ। ইহার নাম বিষাদযোগ | 
অন্ততঃ এই জন্যও মায়াবাদ লইয়া! গীতার ব্যাখ্যা! করা চলে ন|। 

এরূপ অমৃতময় বিষাদে গীতার সুচন! বলিয়াই গীতা৷ যেখানে গিয়া পৌছিয়াছে, 
আর কেহ সেখানে গিয়া পৌছাইতে পারে নাই। এমন অমৃতময় আরম্ভ আর 
কাহারও নাই--এমন অমৃতময় পরিণাম আর কাহারও ঘটে নাই । অবিদ্া হমনে 
মহাঁপুণ্য, ইহাই যেন সকলের স্বতুঃসিদ্ধান্ত ; কিন্ত_ 
অহো৷ বত মহৎ পাঁপং কর্তং ব্যবসিতা বয়ম্‌। 
যদ্রাজ্যন্ুখলোভেন হস্তং স্বজনমুগ্যতাঁঃ ॥ 
অর্জুনের মুখে হইলেও ইহা গীারই বাণী। 


৭২ উপনিষদ্রহস্ত বা গীতার যৌগিক বঝাখা। 


গীতার দ্বিতীয় বিশেষত্ব এই,--দর্শনশান্্, কন্ম ও জ্ঞানের ভিন্নতার দিকেই 
সম্পূর্ণ লক্ষ্য রাখিয়া গিয়াছে; কিন্ত যে জিনিষের পুর্ণ উদ্বেলিত অবস্থাই কর্ম এবং 
পূর্ণ প্রশান্ত অবস্থাই জ্ঞান, সে জিনিষটির কথ! একবারে বিস্মৃত বলিলেও অতুঃক্তি 
হয় না। যাহাকে সাধারণ কথায় অনুভূতি বলে, উহ তাহাই: ভক্তি, আসক্তি বা 
পূর্ণ আত্মান্ভূতি বা পূর্ণ ভাব,ইহ1 কাধ্যতঃএকই জিনিষ । তড়িতের যেমন চঞ্চলতা, 
কর্ম_ ভাবের তদ্রুপ অবস্থা । তড়িতের যেমুন আলোকবিকাঁশ, জ্ঞান--ভাবেরও 
তদ্রপ; দর্শনশান্ত্র এই জ্ঞান ও কর্ম্ম-_-এই চঞ্চলতা ও আলোক,এই বিকাশের দিকেই 
মুখ লক্ষ্য রাখিয়া গিয়াছে। প্রাণের দিকে, অনুভূতির দিকে তাহাদিগের লক্ষ্য না 
থাকায় এই জ্ঞান ও কম্ম উভয়ই রসহীন পাদপের অনুরূপ । একমাত্র বেদাস্তে সে 
রস আছে, কিন্ত উহা! সাধারণের ভোগ্য নহে এবং মায়াবাদে উহা! উপেক্ষিত ; কিন্ত 
গীতায় সে রস প্রধান । সেই জন্ও মায়াবাদ লইয়। গীতার ভাষ্য ভোগ] নহে। 

গীতার তৃতীয় বিশেষত্ব--মায়াবাদ সমস্তকে ব্রহ্ম বলিয়াছেন যথার্থ কেন্ত 
মায়াকে বলিয়াছেন, উহা মিথ্যা এবং স্ত) উভয়ই । মায়া মিথ্যাও বটে, 
সত্যও বটে; অথবা ইহা মিথ্যাও নহে, সত্যও নহে, ইহ1 ভাবরূপ কোন 
এক অনির্ববচনীয় পদার্থ--“জদসদ্ভ্যামনির্ধ্বচনীয়ং ত্রিগুণাত্কং জ্ঞানবিরোধি 
ভাবরূপং যকিঞিৎ।” গীতা বলেন, মিথ্যা বলিয়া কিছু নাই -ভাবও -মিথ্য। নহে, 
লব নত) লব সত্তা)মিথ)ার গন্ধ কোথাও নাই)সত্যের অপলাপ কোথাও হয় নাই। 

নাসভো! বিছ্ধতে ভাব; নাভাবে। বিগ্ভতে সত: । 

এমন জোর করিয়া সত্যবাদ প্রচার করিতে কোন দর্শনকারই পারেন নাই। 
সেই জনও মায়াবাদ লইয়া গীতার ব্যাখা চলে না । 

যেমন সূর্ধ্যরশ্মি বিশ্রেষিত করিয়া দেখিলে তাহাতে নানা বর্ণের রঞ্জনা দেখিতে 
পাওয়া যায়, কিন্ত সাধারণ ভাবে দেখিলে তাহাকে শুভ্র ব্যতীত আর কোনরূপে 
বুঝা যায় না, তদ্রপ ব্রহ্ম একরস হইলেও উহাকে খগ্ডাকারে দর্শন করিলে 
জগদাদি উহাতে প্রত্যক্ষীভৃত হয়; কেন না, সমন্তই রসম্বরূপ। সমষ্টিভাবে 
দেখিলে জগদাদি নামরূপ তিরোহিত হইয়া যায়, এক রসরূপ অস্তিত্বের 
উপপৰিমাত্র অবশিষ্ট থাকে; কিন্তু যতক্ষণ ভাবের দ্বারা হ্ষ্টি খণ্ডিত থাকে, 
ততক্ষণ উহাই সগচণ ও হ্গ্িবৈচিত্র্যময় ; সুতরাং ইহার কোনটিকেই অসত্য 
বল। যয় না। বেদান্তে এইরূপ উভয় দিক্‌ পরিরৃষ্ট হইলেও, কেহ এই বিশ্লেষিত 
দৃষ্টির উপর এবং কেহ এই সমস্তি দৃষ্টির উপর প্রথরভাবে লক্ষ্য স্থাপিত করিয়াছেন, 


উপনিষদ্রহস্য বা গীতার যৌগিক ব্যাখ্যা । ৭৩ 


এবং তাহারই ফলস্বরূপ বেদাস্তরদর্শন অবলম্বনে অদ্বৈতবাদ ও বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ 
পরস্পর বিরুদ্ধভাবে পরে একটি বৈষম্য উপস্থিত করিয়াছে । কিন্ত গাঁতায় 
এই উভয়ের অপূব্ব সামগ্রন্ত প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে--উভয়কেই গীতা, দৃষ্টির তারতম্য- 
মাত্র বলিয়া উল্লেখ করিয়াছেন । মায়া-_-এই দৃষ্টি বা ঈক্ষণ-শক্তিমাত্র । ইহাই 
ব্রদ্মের শক্তি । আপনাকে নি্ুণ ও সগুণভাবে দেখাই ্রচ্মাশক্তি। অনেকে মনে 
করেন, এই সগুণভাবে দেখাটুকুই মায়া । এই দর্শন তিরোহিত হইলেই স্বরূপ 
অবস্থা প্রকটিত হয়; এবং এই ভাবে তাহারা কেবলমাত্র নিগুণবাদেরই পক্ষপাতী 
হইয়। উঠেন; ইহারাই সাধারণতঃ শুদ্ধ অদ্বৈতবাদী বা মায়াধাদী নামে প্রসিদ্ধ । 
ইহাদের মত, যখন দৃষ্টি সম্পূর্ণ প্রসারিত হইলে এই নিগুণ অবস্থা ব্যতীত আর 
কিছুই দেখিতে পাওয়া যায় না, তখন ইহাহ খখার্থ ব্রন্গন্বরূপ -অবশিক্ট ব্রহ্গে 
মিথ্যাদর্শন মাত্র । 

আবার অন্তে মনে করেন, যখন ভ্রন্মে ক্ছষ্ট্যাি ব/াপার পরিলক্ষিত ও উপলবি 
হয়। তখন ইছাও মিথ্যাদশন মহে। হহা সত্য আ৭ং হৃহাই ৪ | তবে 
তিনি ইহাতে লিঞু খা হহার অধান নহেন এবং হু ডর অঙ্গ ঘরূপ বলিয়া, 
তাহাকে ধ ণ ধলা হ মাও গ্রলরকালে বা ভিনি পৃগ্তি আই করিয়া লইলে 
ুষ্ট্যাদি ব৷ নামরূপ ভেদনকল তিরোহিত হহয়া গিয়া প্রম্মে বিলান থাকে বলিয়া 
সেই অব্যাঞ্ত অবস্থার তিনি নিগুণপদধাচ্য। আঅখব। তিনি অশেষ কল্যাণময় 
গুণের আধার বলির়। (নঞ&ণ। ইহাই বিশঠাদৈতবাদ নামে ব্দোন্তের অন্য শাখা । 
ইহ] ক্রমশঃ এই সগ্ডণভাবের উপর তার লক্ষ্যের জগ্ত প্রায় সাংখ্যস্তবে নামিয় 
আসিয়। পডিয়াছে এব, (9 অ০২ উভরই পরমার্থতঃ স্বাকার করিয়াছে । 

এইরূপে বেদান্তের এক এক দিব দন করিয়। এক একটা সাম্প্রদায়িক ভাব 
ধন্মজগতে আবিই ত হইয়াছে, কিন্তু গীত মধ/স্থলে অথব৷ শ্বপ্ধপে দাড়াইয়া উভয় 
দিব আপন অঙ্গে অন্ুপ্রবি্ কিয়া লইয়াছেন। এবং বিচারপন্থায় ভ্রমণ করিলে 
এইরূপ একদেশদশী হইয়া পড়িতে হয় বুঝিয়া, ব্রদ্ধহ ন। পাইলে ত্রক্ম উপলঙ্ধি 
হওয়া একান্ত অপন্তব--এই মহাসগ্যকে ভিত কারয়। বিচার-পন্থ। প্রায় ছাড়িয়। 
দিয়াছেন ; এবং কেবলমাত্র তংপ্রাপ্তির উপায় নিদ্ধেশ করিয়াছেন । এবং যথার্থ 
তত্বদর্শী হইলে এই উভয়েরই অস্ত এককালীন পরিধৃষ্ট হয়, ইহা বিশেষ করিয়া 
উল্লেখ করিয়াছেন। নিগু'নবাদকে লক্ষ্য করিয়। “নাসতে। বিদ্ধতে ভাবঃ»--অসং 
ভাবের অস্তিত্ব নাই--মায়া বা জগন্তাবাদিও সত্য, এই কথা বলিয়াছেন এবং 

১ 


৭৪ উপনিষদ্রহস্ত বা গাতার যোগিক ব্যাখ্য]। 


সগুণবাদকে লক্ষ্য করিয়া “নাভাবো বিদ্ভতে সতঃ”*--নিত্য* সত্যের অপলাপ 
কোথাও হুয় নাই, এক সত)ই সবধন্র সম্পূর্ণভাবে বিরাজিত--সত্য কোথাও 
বিভিন্নতা প্রাপ্ত হয় নাই, এইরূপ তীব্র সমালোচন। করিয়াছেন । এবং এই উভয় 
তত্বই যে তৰ্বদশী হইলে সম্পূর্ণ সামপ্পগ্ত লাভ করে, তাহাও এ শ্লোকেরই দ্বিতীয় 
পাদে "উভয়োরপি দৃষ্টোহস্তস্বনয়োস্তধরশিভিঃ” বলিয়া সব্ববন্ঞানের সার সঙ্কলন 
করিয়াছেন । ইহাই গীতার আর একা বিশেষস্থ | 

আমরা এইরূপে দর্শনশাস্ত্র ও গাঁতার াভাস লইয়। তুলনা করিয়া দেখিলে 
জ্ঞানকর্মসযুচ্চয়রূপ এই প্রাণময় অপুবব মহাসত্যের আবিষ্কার গীতায় দেখিতে 
পাই । এবং উপনিষদাদিতে গ্ধানভাবে থাকা মন্ত্েও দশনশাঙ্ের চচ্চে ইছা সজীব 
ও সম্যক্রূপে প্রতিফলিত হইতে পায় নাই । গাঁতার সেইটুকুই মুখ্য ভাবে উপদিষ্ট 
এবং দর্শনশাস্ত্র যাহা প্রধানভাবে গ্রহণ করিয়াছেন, গীতায় উহা! প্রায় উপেক্ষিত। 
উহা] এই যে, বিচারপস্থীয় ত্রন্মা অগ্রাপ্য, হুদ্দ